এক অর্থে আমি চরমপন্থার পক্ষে

আমাদের সমাজে চরমপন্থী ও রেডিক্যাল ফোর্সগুলো পরস্পর পরস্পরকে নিউট্রলাইজ করে, দমন করে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে নাস্তিক মনোভাবাপন্ন বামপন্থী কালচারাল হিন্দুদের ব্যাপক তৎপরতা এবং বৃহত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রে তাদের যথেষ্ট প্রভাব যদি না থাকতো তাহলে ডগম্যাটিক ধ্যান-ধারণা পোষণকারী মাদ্রাসা ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো সহসাই এক একটা বঙ্গদেশীয় তালিবান কেন্দ্র বা আইএসআইএস ফোর্স হিসেবে আবির্ভূত হতো।

এখন তারা মিনমিন করে ‘সালাফরা ফিলোসফির চর্চাকে অনুমোদন করেনি’ বলে চুপ করে যায়। ক্ষমতা পেলে তারা এই সাবজেক্টটাকেই বন্ধ করে দিতো।

আমাদের মতো মডারেটদেরকে প্রকাশ্যে তাকফির করা তথা কাফের সাব্যস্ত করাকে ঈমানী দায়িত্ব মনে করে মুরতাদ-কাফেরদেরকে যা করা তাদের মতে শরীয়ত মোতাবেক ওয়াজিব, সওয়াবের নিয়তে নির্দ্বিধায় তখন তারা তাই করতো।

এমতাবস্থায়, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার দিক থেকে এ দেশটা হত একটা মিনি-পাকিস্তান বা নব্য-সৌদি আরব। ‘আহমদিয়াদেরও মানবাধিকার আছে’– এমন ধরনের কথা বলার কারণে পাকিস্তানের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের এক সিনিয়র অধ্যাপককে স্টুডেন্টদের কাছে অন রেকর্ড ক্ষমা চাইতে হয়েছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা।

অপরদিকে, বৃহত্তর সমাজে মসজিদ-মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রিত ধর্মীয় তৎপরতা যদি জোরালো না থাকতো, সমাজে যদি ধর্মের শেকড় গভীরে প্রোথিত না হতো, ওয়াজ মাহফিলকেন্দ্রিক শক্তিশালী কাউন্টার-প্রেসার যদি মাঠে না থাকতো তাহলে আমাদেরই সুশীল-প্রগতিশীল সেক্যুলার সহকর্মীদের পৌরহিত্যে, উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে আমরা যারা ধর্মের পক্ষে কথা বলছি তাদেরকে, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ‘ক্ষতিকর মতাদর্শ’ লালন করা ও প্রচারের ‘অপরাধে’ ফাঁসিতে ঝোলানোর ব্যবস্থা করা হতো।

সন্দেহমাত্র চাকরিচ্যুতি তো হতো মামুলি ব্যাপার। তুরস্কে একসময়ে যেমনটা হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে অহরহ যা হয়েছে।

ফিলোসফির মতো সাবজেক্টকে তখন একতরফাভাবে নাস্তিকতা প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। নাস্তিক নয় এমন কারো পক্ষে এ ধরনের তাত্ত্বিক বিষয়ে শিক্ষকতার চাকরি পাওয়া হতো অসম্ভব ব্যাপার।

ইসলামপন্থীদের দিক থেকে প্রবল প্রতিরোধ না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লিভিং টুগেদার ইতিমধ্যে সামাজিক ও প্রশাসনিক স্বীকৃতি পেয়ে যেতো। অপরদিকে, বামপন্থীরা নারী অধিকারের ব্যাপারে সিরিয়াস ও সোচ্চার না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হতো ছাত্রীশূন্য। এর পরিণতি কী হতো তা সহজেই অনুমেয়।

বিপরীত অবস্থানের চরমপন্থী শক্তিগুলো পরস্পর পরস্পরকে মোকাবেলা করার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে এক ধরনের সামাজিক উপযোগিতা তৈরি করে। এক একটা ইস্যু ধরে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে এটি আমরা সহজে বুঝতে পারি।

এই দৃষ্টিতে দেখলে আমরা বুঝতে পারি, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ ও শাপলা চত্বরের হেফাজতে ইসলামী, দু’টারই দরকার ছিল।

৪৭’র স্বাধীনতা ছিল প্রকৃতপক্ষে ভারতের বিরুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতা। ৭১’র স্বাধীনতা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানী, বিশেষ করে পাঞ্জাবীদের বিরুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতা। প্রথমটি না হলে দ্বিতীয়টি হতো অসম্ভব এবং দ্বিতীয়টি না হলে প্রথমটি হয়ে পড়তো অর্থহীন।

বিপরীতমুখী এই দুই স্বাধীনতা যদি আমরা অর্জন না করতাম তাহলে আমাদের অবস্থা হতো কাশ্মিরিদের মতো; পাকিস্তান অথবা ভারতের, অথবা একই সাথে উভয় দেশের গোলামী করা ছাড়া আমাদের আর কোনো গত্যন্তর থাকতো না। হয়তোবা।

কোনো পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবো, আমাদের জন্য যেটা সঠিক মনে করি সেটা করার চেষ্টা করবো এবং আমার অবস্থান থেকে যা ভুল মনে করছি সেটাকে উপেক্ষা করা কিংবা মোকাবেলা করার চেষ্টা করবো; কিন্তু মনে রাখতে হবে, দিন শেষে আল্লাহ যা করেন তা ভালোর জন্যই করেন।

হেগেল দ্বান্দ্বিকতার তিনটি সূত্রের কথা বলেছেন। তারমধ্যে দ্বিতীয়টি হলো বিপরীতের ঐক্য। এই সূত্রানুসারে, নিকট-অতীত ও বর্তমানের মতো ভবিষ্যতেও চরমপন্থী শক্তিগুলোর এক পক্ষ অপর পক্ষকে দমিয়ে রাখবে; এবং এর মাধ্যমে আমার ধারণায় অদূর ভবিষ্যতের বাংলাদেশে একটা সেন্ট্রিস্ট, মডারেট ও ইনক্লুসিভ ধারার পলিটিকাল ডিসকোর্স ও সোশ্যাল ট্রেন্ড ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

ওয়ান্স এগেইন, সমাজের মধ্যে এক্সট্রিম ফোর্স থাকাটা স্বয়ং খারাপ কিছু নয়। বরং, এক্সট্রিম ফোর্সগুলোর কোনো একটা এককভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠাটা হচ্ছে বিপদজনক।

‘আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র মানে এমন একটা কিছু, যেখানে ভুল চিন্তার অনুসারী চরমপন্থী কোনো দল বা গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না’ – আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে এমন যারা মনে করেন তাদের ধারণা ভুল।

কোনো আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্রে এক্সট্রিম ফোর্সেস থাকতেই পারে। সেগুলো বরং সামাজিক কাঠামোতে আল্টিমেটলি পজিটিভ রোল প্লে করে; কিছু উদাহরণের মাধ্যমে উপরে যা আমি বিশ্লেষণ করে দেখালাম।

এ ধরনের বিপরীতের ঐক্য অর্জনের শর্ত হলো, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যবর্তী চিন্তার অনুসারীরা হবে উক্ত সমাজ ও রাষ্ট্রের লিডিং ফোর্স; একমোডেইটিভ চিন্তাধারা হবে ওই সমাজের ডমিনেন্ট ট্রেন্ড।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Abdullah Maroof: স্যার, সেন্ট্রিস্ট জিনিসটা উদাহরণসহ বুঝিয়ে বলেন।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: ১। মতাদর্শগত দিক থেকে রাজনীতির ছক, কর্মকৌশল, মডেল বা ফর্মূলা

২। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আদর্শবাদী রাজনীতির কৌশল কেমন হওয়া উচিত?

আক্কাস আলী: স্যার, ঠিক এসব কারণেই আমি মনে করি ইসলামপন্থার ভবিষ্যৎ যদি প্রচলিত কোনো ইসলামিক দল বা ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা ভিত্তিক (কওমি-টওমি) দলের হাতে যায়, তাহলে সেটা হবে চরম দুঃখজনক ব্যাপার। ইসলামপন্থার প্রয়োজন উন্নত, প্রগতিশীল, শিক্ষিত, মেধাবী, ও rational চিন্তাধারার অধিকারী তরুণদের। এখন, ইসলামপন্থার অবশ্যই যাদের প্রয়োজন নাই তারা হলেন কওমি পাশ, খেলাফত নিয়ে দিবাস্বপ্ন দেখা গোষ্ঠী এবং ডগমাটিস্ট ও ইগ্নোরেন্ট গোষ্ঠী।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: আপনার বক্তব্যের সাথে জোরালোভাবে একমত। এক সময়ে আমিও তারিক রমাদানের text-context ফর্মূলাকে সঠিক মনে করতাম।

উল্লেখ্য, রমাদানের মতে, টেক্সট জানা আলেম ও কনটেক্সট জানা সেক্যুলার শিক্ষিতদের সমন্বয়ে একটা ভারসাম্য কেন্দ্র বা সেন্টার অব গ্রাভিটি গড়ে তুলতে হবে। তাহলে কাজের কাজ হবে।

এখন আমি একে বাস্তবসম্মত বলে মনে করি না। যদিও টেক্সট এবং কনটেক্সট দুটোই লাগবে। তবে, দুটোই আসবে বা আসতে হবে সেক্যুলার শিবির থেকে। আলেম-উলামাদেরকে যথাযোগ্য মর্যাদা সহকারে সাথে রাখতে হবে। সামনে রাখলে বিপদ আছে। তারা না বুঝে পিছন দিকে ছুটতে থাকবে। অথবা, অগ্রসরমানদেরকে পিছন হতে টেনে ধরে রাখবে।

আপনার মন্তব্যের ভাষাটা একটু মার্জিত করে নিলে খুশি হবো। যদি মাইন্ড না করেন। আমি সবাইকে নিয়ে চলতে চাই। সেজন্য।

কারো লিমিটেশন নিয়ে কথা বলাই যায়; বা বলা উচিত। কিন্তু ভাষাটা হতে হয় যথাসম্ভব মোলায়েম ও সুন্দর। আমাদের উদ্দেশ্য সংশোধন করা। কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করে লাভ নাই।

আক্কাস আলী: সরি স্যার, ভাষার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরো সতর্ক থাকবো আপনার পোস্টে। আপনার কথার সাথে সম্পূর্ণ একমত। I think প্রগতিশীলতা (Progressiveness) is the only way forward.

নূরে এলাহী শাফাত: টেক্সট-কনটেক্সট সেক্যুলার পক্ষ থেকে আসলে ইসলামোফোবিয়া আরো বেশি ইন্সটিটিউশনালাইজড হবে, মুসলিম এজেন্সি প্রান্তিক হবে ঢের। ইসলামিজম, সেক্যুলারিজমের দ্বন্দ্বে সৃষ্ট বিঁষফোড়া কালচার কখনো দুর্বল/রিডিউস হবে না, যদি না ডান বনাম বাম, ইসলাম বনাম সেক্যুলারিজম এসব অর্থহীন উন্মাদনার হেজিমনিটা হ্রাস হয়।

আক্কাস আলী: মোহাম্মদের (সা) ইসলাম নিজেই সেক্যুলারিজমের ধারক ও বাহক। মদীনা সনদটা পড়ে নিলে এই বিষয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ থাকবে না। ধন্যবাদ।

নূরে এলাহী শাফাত: না। সকলের হকের পক্ষে কথা বলাকে সেক্যুলারিজম দ্বারা ডিফাইন করা ভুল এপ্রোচ। হিস্টরিতে সেক্যুলারিজমের গতিপ্রকৃতি খেয়াল না করে হকের সার্বজনীনত্বকে সেক্যুলারিজম কওয়া আহিস্টরিকাল।

Jahid Hasan Milu: স্যার, সময়োপযোগী বুদ্ধিবৃত্তিক মানসিকতা ও মার্জিত ভাষাসম্পন্ন কিছু মানুষকে একত্র করার ব্যাপারে আপনি একটা উদ্যোগ গ্রহণ করলে উপকার হতো। অল্প হোক, কিছু মানুষ এক হয়ে মান্থলি বা নির্দিষ্ট কোনো সময় একটা মিটিং হবে, কাজ নিয়ে আলোচনা হতে পারে এতে। সংস্কারমূলক চিন্তা-চেতনাকে কার্যকরী উপায়ে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সে অনুযায়ী কাজ করা এঁদের মূল লক্ষ্য হবে। টিম হয়ে কাজ করলে বোধহয় ব্যাপারটা ফলপ্রসূ হতো।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: দেখা যাক, ইনশাআল্লাহ। দোয়া করবেন।

Jahid Hasan Milu: ফি আমানিল্লাহ!

নূরে এলাহী শাফাত: আপনি চরমপন্থার পক্ষে নন, চরমপন্থার ব্যালেন্সের পক্ষে আছেন। রেডিক্যাল ফোর্সে মূল্যবোধ না থাকার কারণে বাঙলাদেশ রাষ্ট্র, রাষ্ট্রে থাকা সমস্ত প্রতিষ্ঠান, সামাজিক নেতৃত্ব দীর্ঘমেয়াদী ফ্যাসিবাদী ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। ফলে ইসলামী ও সেক্যুলার ডগম্যাটিক উন্মাদনাকে মানবিক মূল্যবোধ দ্বারা রিপ্লেস করতে না পারলে সেই ন্যুড স্কোপকে কাজে লাগিয়ে গভার্নমেন্ট ও স্টেট মুলা ঝুলিয়ে সমাজকে আনফ্রিডম-সেবাদাস করে রাখবে।

Farhan Rahman: স‍্যার, আপনার লেখা পড়ে মনে হয়েছে, আপনি চরমপন্থার পক্ষে নন, আপনি দুইটা বিপরীতমুখী চরমপন্থা আলাদা আলাদাভাবে চান, যাতে একটা আরেকটাকে প্রশমিত করতে পারে, আবার এদেরকে চান সমাজের কিছু কিছু জায়গায়, রাষ্ট্রীয় বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নয়!

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: লেখার মধ্যে তো আমি প্রসঙ্গক্রমে বলেছি, আমি হলাম মডারেট। নিজেকে মডারেট পরিচয় দিতে আমার ভালো লাগছে না; কিন্তু, যেহেতু চরমপন্থী নই সে হিসাবে মডারেট বা মধ্যপন্থী ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে?

Farhan Rahman: এখন কেউ কেউ তো ‘মডারেট মুসলিম’ গালি হিসেবে ইউজ করছে, অনেকে ‘মডারেট মুসলিম’ বলে কিছু নেই বলে নাকচ করছে, বলছে সবাই মুসলিম। এখন আপনার এই আত্মস্বীকৃত মডারেট শব্দটা তাদের কাছে উদাহরণ হয়ে যাবে না!!??

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমি কোন প্রেক্ষাপটে এটি বলেছি, তা যদি বিবেচনা করা না হয় তাহলে ভুল হবে। এখন প্রেক্ষাপট বিযুক্ত করে কাউকে অভিযুক্ত করার যে রোগ বিভিন্ন লোকদের মধ্যে আছে, তাদের ভয়ে কথা বলা হতে বিরত থাকার উদাহরণ হলো রোগ-জীবাণুর ভয়ে খাবার নিয়ে বাছাবাছি করার মতো।

জীবাণুমুক্ত থাকা দরকার। কিন্তু তারচেয়েও বেশি দরকার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করা।

Farhan Rahman: একমত।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: আমার মতে, লোকজনের মধ্যে term sensitivity যথাসম্ভব কমাতে হবে। এই টার্ম নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি হবে, ওই টার্ম দিয়ে অমুক খারাপ লোকেরা নিজেদের পরিচয় দেয়, এসব বাছাবাছি করতে গিয়ে আমরা ওভারঅল টার্ম সংকটে ভুগছি। এর সুবিধা নিয়ে বিরোধী পক্ষ আমাদেরকে রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলেছে।

আমরা মানবতাবাদী হিসেবে পরিচয় দিতে সংকোচবোধ করি। আমরা মুক্তমনা ও প্রগতিশীল হতে পারি না। কারণ, নাস্তিকেরা নিজেদেরকে এসব কথা দিয়ে পরিচয় দেয়। এভাবে দেখলে দেখা যাবে, পরিভাষাগত দিক থেকে আমরা এক ধরনের আত্মসৃষ্ট সংকটে ভুগছি।

মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী শুভ: স্যার, আমি যতটুকু জানি, এই দ্বন্দ্ববাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন কার্ল মার্কস। মার্কস বিশ্বাস করতেন চিন্তা বা ভাব যে বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন সেই বাস্তব অবস্থার দ্বারাই চিন্তা বা ভাবের প্রকৃতি নির্ধারিত হয়।

মার্কস তার দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে Thesis, Anti-thesis এবং Synthesis এই তিনটি নতুন ধারণার অবতারণা করেন। তাঁর মতে Thesis এবং Anti-thesis এ দুটি অবস্থার মধ্যে বিরাজমান দ্বন্দ্বের ফলে নতুন একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়, যাকে Synthesis নামে মার্কস আখ্যায়িত করেন। এই Synthesis সময়ের পরিক্রমায় thesis-এ পরিণত হয় এবং বিরাজমান বিপরীত অবস্থা সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে পুনরায় আরো একটি Synthesis এর সৃষ্টি করে।

বিষয়টি কি এরকম??

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: আমি হেগেলের দ্বান্দ্বিকতার সূত্র এই লেখার মধ্যে ইনক্লুড করেছি পরে। এডিট করে। যখন আমি লেখাটি এডিট করছিলাম তখন আমি ভাবছিলাম, লোকেরা এই নিয়মগুলোকে মার্ক্সের বলে মনে করে, অথচ তা ভুল। এগুলো মূলত মার্ক্সের সরাসরি শিক্ষক ফেডারিক হেগেলের। দ্বান্দ্বিকতার নিয়মত্রয়, যা তিনি তার দ্বান্দ্বিক ভাববাদের তত্ত্বে প্রয়োগ করেছিলেন, সে সম্পর্কে আমি বলব কিনা, এ ব্যাপারে আমি পুরোপুরি সেঙ্গুইন ছিলাম না।

তো, আমার আশঙ্কা সঠিক ছিল বলে এখন বুঝতে পারছি। আসলে দ্বান্দ্বিকতার এই নিয়মগুলো, যেমনটা একটু আগেই বলেছি, হেগেলের; মার্ক্সের নয়।

মার্ক্স হেগেলের কাছ থেকে নিয়েছেন দ্বান্দ্বিকতা, আর ফয়েরবাকের কাছ থেকে নিয়েছেন বস্তুবাদ। এর সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন উনার দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ। হেগেলের দর্শন হলো দ্বান্দ্বিক ভাববাদ। আর, কার্ল মার্ক্সের সমসাময়িক ফয়েরবাক বিশ্বাস ও প্রচার করতেন যান্ত্রিক বস্তুবাদ।

মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী শুভ: জি স্যার বুঝতে পারছি। আসলে মার্কস দ্বন্দ্ববাদের প্রেরণা মূলত হেগেলের দ্বন্দ্ববাদ থেকে গ্রহণ করেছেন সেটা জানতাম। কিন্তু আমি এই বিষয়টি এভাবে পড়েছি তাই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলাম। যতটুকু জানি, মার্কস হেগেলীয় ভাববাদী দর্শন ও ফায়ারবাখের বস্তুবাদী দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। ধন্যবাদ।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: দ্বান্দ্বিকতার সূত্রগুলো যে মার্ক্সের নয়, হেগেলের; এটি কোনো মার্ক্সবাদীকে আজ পর্যন্ত বলতে বা স্বীকার করতে শুনি নাই। আমি জানি না, তারা কি আসলে জানে না; নাকি, জেনেশুনে সত্যটাকে গোপন করে যাচ্ছেন।

মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী শুভ: তাদের মাঝে হয়তো কাল মার্কসকে বড় করে দেখানোর একটি সুপ্ত বাসনা কাজ করে।

আরেকটি বিষয়। পৃথিবীতে সংঘটিত সবচেয়ে বড় কমিউনিস্ট বিপ্লব বলশেভিক বিপ্লব। এর পেছনে কমিউনিস্টরা একমাত্র দার্শনিক কার্ল মার্কসের চিন্তাভাবনাগুলো প্রভাব বিস্তার করেছে বলে মনে করেন। তারা কৌশলে অন্যান্য দার্শনিকদের এড়িয়ে যেতে চান‌। বলশেভিক বিপ্লবের দার্শনিক তত্ত্বের পেছনে একমাত্র কাল মার্কসকেই তারা সমস্ত কৃতিত্ব দিতে চায়।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: কী জানি! আমি তো মার্ক্সিস্ট নই। আজ পর্যন্ত কোনো মার্ক্সবাদীর সাথে মার্ক্সবাদ নিয়ে খোলামেলা কথাবার্তা বলার জন্য বসতে পারি নাই। এটি আমার দুর্ভাগ্য। যা জেনেছি তা রাষ্ট্রদর্শন পড়াশোনা করতে গিয়ে জেনেছি। সত্যিকারের মার্ক্সবাদীদের সাথে যদি বসতে পারতাম, তাহলে আমার ধারণাগুলোকে ক্রসচেক বা যাছাই করে নিতে পারতাম।

মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী শুভ: তাদের সাথে বসুন। আমরাও উপকৃত হবো। আপনার প্রতি দোয়া ও ভালোবাসা।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: বসার জন্য তাদেরকে পাইতে হবে তো! তারা তো কেউ আমার সাথে বসতে রাজি নয়। যে কজনকে বলছি, সবাই এড়িয়ে গেছেন।

Ohidul Alam: বুয়েটের রেজাল্ট ভালো করার প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাদ্রাসা এবং ইংরেজি শিক্ষিতদের মিশ্রিত করা ছিল আমার মিশন। হুজুরদের সভাপতি আর ইংরেজি শিক্ষিতদের সেক্রেটারি করে, মনে করেছিলাম ভাল মিশ্রণ হবে।

কিন্তু বড় বড় হুজুরদের পিছনে বড় বড় শয়তান কাজ করে। ধর্মীয় ফেরকাবাজীর মাধ্যমে অন্যদের কাফির বানানোর রোগে আক্রান্ত হুজুররা রাজনৈতিক নেতা হবার প্রতিযোগিতায় শুধু বিভক্ত হতে থাকে!

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: আপনার কথার সাথে একমত। তবে, ওই যে ভাষা…। কেউ মাইন্ড করতে পারে, এমন ভাষায় অস্বস্তিবোধ করি, যদিও সেটার কারণ থাকে।

Ohidul Alam: thanks for reminding! I need more practice to mild my expression. But here, without that wording how I would express the real scenario…. need to think again inshaaAllah.

I now keep distance from all different groups, but attached with multiple individual “dhaaii” alhamdulillah and concentrated with children’s upbringing.

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: আমি তো সবাইকে নিয়ে চলতে চাই। সত্যিকার অর্থেই একটা ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই। সেজন্য চাই না কারো মধ্যে কোনো প্রকারের ‘গিলাজ’ বা কুণ্ঠাবোধ সৃষ্টি হোক। অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এক সময়ে না বোঝার কারণে কিংবা ভুল বোঝার কারণে আমার কাছ থেকে দূরে ছিল অথবা আমার খানিকটা নিন্দা করতো, এমন লোকেরা ক্রমে ক্রমে আমার কাছাকাছি চলে এসেছে; আমাকে সমর্থন করেছে। ফিরে আসার এই দুয়ারটা আমি খোলা রাখতে চাই। সেজন্য আমি নিজে যথাসম্ভব সতর্ক থাকি এবং আমার কাছের লোকদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেই। সে হিসাবে আপনাকে এ বিষয়ে কথা বললাম।

Ohidul Alam: mashaAllah. I appreciate and do dowa for you.

Al Amin: মধ্যপন্থা সবচেয়ে ভালো পন্থা যা ইসলামেরও শিক্ষা। দুই বা ততোধিক প্রান্তিকের চরমপন্থা সমাজে বিরাজ করলে নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে থাকবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রদেহে ক্ষত গভীরতর হতে থাকবে। সরকারকে সাধারণত মধ্যমপন্থী ভূমিকায় দেখা যায় বিভিন্ন দেশে সমাজে ভারসাম্য রক্ষা করার খাতিরে।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: আল ওয়াসাতিয়া।

 

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Leave a Reply