শান্তি কমিটি গঠনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরকে ডিমোনাইজ করে যাচ্ছেতাই করা হচ্ছে। প্রতিটি প্রশ্নবিদ্ধ রায় প্রদানের পরক্ষণ হতেই এসবের ঐতিহাসিক পর্যালোচনা শুরু হয়ে গেছে। এটি হয়তো ‘ইতিহাসের দায় শোধের আনন্দে’ বিভোরদের খেয়ালের মধ্যে নাই।
চট্টগ্রামের কাটিরহাট এলাকার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানের বড় মেয়ের ঘরের নাতি হিসাবে নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করি। গুলি, বোমা থেকে শুরু করে সর্বপ্রকার জীবনের ঝুঁকি পার হয়ে আজ আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক – এটি, আমি বিশ্বাস করি, আমার নানা মাওলানা আহমদের দোয়ার ফসল। মৃত্যুর আগে চট্টগ্রাম শহরে ওবায়দুল হক মামার বাসায় আমার মায়ের অনুরোধে তাঁর সবচেয়ে দুরন্ত এই নাতির জন্য মাথায় হাত রেখে চোখের পানি ফেলে তিনি দোয়া করেছিলেন।
হ্যাঁ, মাওলানা আহমদের নাতি পরিচয় দিতে আমি নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। বিভিন্ন স্ট্যাটাসে আমি আগেই বলেছি, তিনি ছিলেন তৎকালীন শ্রেষ্ঠ ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী, চেহারা ও চরিত্রে ফেরেশতার মতো মানুষ। আল আযহারে পড়েছেন, কলকাতা আলীয়ার কামিল, দারুল উলুম দেওবন্দ হতে মমতাজুল মুহাদ্দীসিন, আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমএ।
মাওলানা আহমদের বড় ভাই ইব্রাহীম সওদাগরের ছেলের ঘরের নাতি জেনারেল (অব.) হারুন ভাইয়ের কাছে প্রশ্ন করার ইচ্ছা ছিল, তাঁর ‘ছোট দাদা’ যুদ্ধাপরাধী ছিলেন কিনা? ‘ইচ্ছা ছিল’ কথাটা এজন্য বলছি, আমার বড় বোন প্রফেসর ডা. ফাতিমা খানম ইতোমধ্যে মাস তিনেক আগে এক পারিবারিক সাক্ষাতে উনাকে এই প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেন নাই।
যদি আমার নানা শান্তি কমিটি করেও যুদ্ধাপরাধী না হোন, যদি সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমদের নানা ও মামা শান্তি কমিটি করা সত্ত্বেও যুদ্ধাপরাধী না হয়ে থাকেন, যদি শেখ হাসিনার বেয়াই শান্তি কমিটি করা সত্ত্বেও যুদ্ধাপরাধী না হয়ে থাকেন, যদি প্রতিটি এলাকার তৎকালীন শিক্ষিত গণ্যমান্য ইসলামপন্থী ব্যক্তিবর্গ পাকিস্তান রক্ষার জন্য শান্তি কমিটি করে থাকেন, অথচ তাঁরা কোনো ক্রিমানাল অফেন্স না করে থাকেন – তাহলে কেন এ ‘যুদ্ধাপরাধ নাটক’?
আমার বাবা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ছিলেন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত নন-কমিশন্ড অফিসার। তিনি যুদ্ধ করেন নাই। আমার চাচা বিমানবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেন নাই। আমার মামারা কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেন নাই। মামাতো ভাই জেনারেল (অব.) হারুন ভাইরা যুদ্ধ করেছেন। কারণ, বাঙালী অফিসার হিসাবে তাঁদের বাঁচার এছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। আমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যকার যারা মুক্তিযোদ্ধা তাঁরা এসব মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায় নাই। কেউ কেউ চরমভাবে আওয়ামী বিরোধী।
বাপের বেটা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো বলতে ইচ্ছে করে, রাজাকারের তালিকা করুন। খেয়াল রাখবেন, না জানি, সে তালিকা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হতে বড় হয়ে যায়…!!!
আওয়ামী লীগের এই ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ব্যবসা এক প্রকার ধর্মীয়রূপ লাভ করেছে দেখছি। কারণ, শিক্ষিত লোকেরাও এ নিয়ে কোনো যুক্তি বা কথা শুনতে বা জানতে প্রস্তুত নয়। তারা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিষাদসিন্ধুসুলভ সাহিত্য ভাণ্ডার হতে যা পড়েছে, নাটক-সিনেমায় যা দেখেছে, তাই যেন তাদের কাছে এক প্রকার ঐশীবাণী!
আপনার এলাকায় ১৯৭১ সালে কারা কী করতো, কারা কখন কতজন কাদের হাতে কীভাবে মারা গেছে খোঁজ নেন। প্রায় দু’লক্ষ বিহারী হত্যার উপর তানভীর মোকাম্মেলের ‘স্বপ্নভূমি’ নামের ডকুমেন্টারিটা অঘোষিতভাবে মার্কেট আউট করা হয়েছে কেন জানেন?
মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Nazmuddin Arbakan: At present, especially in our country Islamic movement are facing a critical time. The whole media is totally out of control from Islamist think, it’s their main weakness.
Mohammad Mozammel Hoque: আপনারা, ইসলামিস্টরা ৯০% মুসলিম মেজরিটির জোরে মেইনস্ট্রীমে বগল দাবিয়েছেন। আর ‘সমাজচ্যুত’ ‘কমিউনিস্টরা’ নীরবে মিডিয়া আর কালচারের আশ্রয় নিয়েছে। ওদের মিডিয়া আপনাদের কথা বলবে কেন? আপনারা মেজরিটি নিয়ে আছেন। তাই ধুয়ে ধুয়ে চলুন, যদি পারেন…
Tanvir M H Arif: Dear sir, Reality is complex under current conspiracy. There are lots of logic behind your write-up, but what’s the ultimate outcome? Who told them to start politics under Jamaat-e-Islami instead joining Awami League? All members of Shanti Committee, Rajhakar, Al-Badar must join Awami League.
Mohammad Mozammel Hoque: আওয়ামী লীগ নামক মেশিনের একদিকে রাজাকার ঢুকিয়ে দিলে অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তিনি স্নাতক হয়ে বের হোন। বাপের বেটা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী কর্তৃক সংসদে করা এই মন্তব্যটা মনে পড়ে গেল! ১৯৮৬ সালে মুক্তিযোদ্ধা ছিল এক লক্ষ প্লাস। বর্তমানে তা দুই লক্ষ প্লাস! পুরো বিষয়টা নিয়ে একটা জাতীয় পরিসংখ্যান হওয়া খুব জরুরি। যে কেউ সেটি করতে পারে। বস্তুনিষ্ঠ হলে সেটি অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ, ট্রুথ ইজ ইনাফ ফর ইটসেলফ, আই থিঙ্ক। থ্যাঙ্কস, তানভির।
এম এন হাসান: This verdict (results) is not for the crime they did, but to keep hidden the actual role they played. In absence of real information, stories filled the gap that has been used as evidence. So, we have evidence, we have stories, we have also emotion… so what else need? criminal…. here we got some.
Mohammad Mozammel Hoque: মায়ের মুখে শুনেছি, নানা বলতেন, তোমরা পাঞ্জাবীদের মার দেখেছো, হিন্দুদের মার দেখো নাই! নানার বাবা মাওলানা এয়ার মোহাম্মদ ছিলেন কাজেম আলী স্কুলের হেড মৌলভী। কলকাতায় দাঙ্গার সময় কাপড়ের ব্যবসা ফেলে এখানে চলে আসেন। সব ইসলামপন্থীদের সাথে জামায়াতও সর্বোতভাবে পাকিস্তান রক্ষা করতে চেয়েছিল। এই সত্যটা জামায়াত লুকাতে চেয়েছে কেন – আমার তা বুঝে আসে না। এই লুকোচুরির ফাঁকতালে তাদেরকে এমন কলের মধ্যে আটকানো হয়েছে যে কাউকে অভিযুক্ত করলে তার আর বাঁচার কোনো পথ নাই, এমনই যুদ্ধাপরাধ আইন। যেখানে কোনো সাক্ষ্য লাগে না। বিচারকের ‘বিবেচনা’ই যথেষ্ট।
Salamat Ullah: যতটুকু জানি, তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ/অপরাধীদের জন্য ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করেছিলো। ওটা কি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ছিলো? ধরুন, আজকে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি বাহিনীদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করার পরে, শান্তি বাহিনীর সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পরে, আজ থেকে ৩০/৪০ বছর পরে তাদের কৃতকর্মের বিচার করা/চাওয়া কি ঠিক হবে?
‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করার পরে বিচারের আয়োজন ইতিহাসে কোথাও থাকলে দয়া করে একটু জানান!
Mohammad Mozammel Hoque: ক্ষমার প্রসঙ্গ আসে অপরাধ প্রমাণিত হবার পর। ক্ষমা করে দেয়ার পর আবার বিচার কেন—এসব পকেটমারসুলভ কথাবার্তা। সব বাদ দেন। আপনার এলাকা ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে আজ ২০১৩ সালের জুলাই মাসের ১৮ তারিখ হতে ১৯৭১ সালকে দেখার ও জানার চেষ্টা করুন। দেখবেন, যাদের দানব ভাবমূর্তি দেয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে, মূলত তারাই ছিল তখনকার প্রতিটি এলাকার শিক্ষিত, সজ্জন, শ্রদ্ধেয় ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব।
Md Golam Nabi: স্যার, খুব সম্মানের সাথে বলছি, এগুলো আপনার আবেগের কথা। কিন্তু আপনি মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করবেন কীভাবে? আর এর বিরোধীদের কীভাবে নিবেন এই স্বাধীন বাংলাদেশে?
Mohammad Mozammel Hoque: মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার কোনো কথা কি আমি বলেছি? মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুক্তিযুদ্ধনির্ভর সাহিত্য হতে আলাদা করে পাঠ করতে বলছি। সাহিত্য হিসাবে যা চলে, ইতিহাস হতে হলে তা যথেষ্ট নয়। যেমন করে ঘটনার বর্ণনা যা আমরা সীরাত হিসাবে জানি তা এবং হাদীস এক নয়।
Md Golam Nabi: আমি আপনার ছাত্র। ক্ষমার কথা না, বলছি স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে যারা আর বিপক্ষে যারা ছিলো, তাদের আপনি বর্তমানে কীভাবে নেবেন? দুই অংশকে যদি স্বীকার করেন তাহলে বাংলাদেশ নামে কিছু থাকে কি?
আমি সব যুদ্ধাপরাধীর শাস্তি চাই। সে গোলাম আযম হোক বা শেখ হাসিনার বেয়াই হোক। কিন্তু তাদের শাস্তি হতে হবে। এই দেশ আমার মা। আমরা মাকে পেয়েছি ‘রক্তের’ বিনিময়ে। যারা মাকে লাঞ্ছিত করেছিলো তাদের বিচার তো শুধু আল্লাহর কাছে চাইবো না।
Mohammad Mozammel Hoque: বাংলাদেশ নামক এই বাস্তবতাটা এসেছে, পাকিস্তান নামক বাস্তবতা হতে। প্রফেসর ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আর বদরুদ্দীন উমরের মতো সৎ সাহস নিয়ে আমাদের স্বীকার করতে হবে, এ দেশ দু’বার স্বাধীনতা লাভ করেছে। একবার ১৯৪৭ সালে, আরেকবার ১৯৭১ সালে। ১৯৭১ সালে যা হয়েছে তা যদি ৪৭ সালে হতো, তাহলে সবচেয়ে ভালো হতো। ৭১-কে অস্বীকার করা নিজের পিতাকে অস্বীকার করার মতো, আর ৪৭-কে অস্বীকার করা নিজের দাদাকে অস্বীকার করার মতো।
বনু কুরাইজা অবরোধের সময় কিছু সাহাবী ইহুদীদের ফলসমেত খেজুর গাছগুলো কাটছিলেন, আর কিছু সাহাবী ফলন্ত গাছ না কাটাকেই ভালো মনে করেছেন। কোরআনের আয়াতে উভয় দলের কাজকে সঠিক হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ইসলামপন্থীরা ৪৭-এর স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে চেয়েছেন। অন্যরা ৪৭-এর চেতনার আলোকে ৪৭-এর ভুলগুলোকে নিজেদের মতো করে শুধরে নিতে চেয়েছিলেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধের যে ক্ষয়ক্ষতি তা যে কোনো যুদ্ধের একটা কমন ফেনোমেনন। যদি পারেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধের উপর নির্মিত The Golden Triangle সিনেমাটি অথবা তানভীর মোকাম্মেলের The Promise Land (স্বপ্নভূমি) ডকুমেন্টারিটা দেখবেন। ধন্যবাদ, জনাব গোলাম নবি। আপনার মন্তব্যের বিস্তারিত উত্তর দিলাম। ভালো থাকুন।
Md Golam Nabi: আপনি ১৯৪৭ দিয়ে ১৯৭১-কে ঢাকতে পারবেন না। ধর্মভিত্তিক বিভাজিত পাকিস্তান আমাদেরকে কী দিয়েছে? ১৯৭১-এ আমরা কি মাকে (দেশ) ছিন্নভিন্ন হতে দেখিনি? কারা করেছিল? কেন করেছিল? ধর্ম ব্যবসায়ীদের ইসলাম তখন কোথায় ছিল? যে মানবতার ধর্ম ইসলাম তার কি কোনো সম্মান রেখেছে আপনার জামায়াতী ও পাকি ভাইয়েরা?
স্যার, আমি আমার প্রথম পরিচয় দিই বাঙ্গালী হিসেবে। ধর্ম আসে পরে। আর পাকিরা আমার পরিচয় কেড়ে নিতে চেয়েছিল, কেড়ে নিতে চেয়েছিল দু’বেলা দু’মুঠো ভাত। আর সে পাকি-দোসর ইসলাম নামধারীরা আমার পিতাও যদি হতো, তার পরিচয় দিতাম না। আমি সব রাজাকারের বিচার চাই। সে হাসিনার বেয়াই হোক আর মইত্যা রাজাকার হোক। ধন্যবাদ।
Mohammad Mozammel Hoque: ৪৭ দিয়ে ৭১-কে ঢাকার তো প্রশ্নই উঠে না। তবে সাতচল্লিশের মাধ্যমে আলাদা না হলে স্বাধীন বাংলাদেশ হতো কি? ৭১ হলো পিতা, ৪৭ হলো পিতামহ।
Lobib Anwer: শুধু মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা নিয়েই নয়, মাওলানা আব্দুর রহিম, ৮২ – এসব প্রসঙ্গেও জামায়াতের লুকোচুরি এবং ধামাচাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা এখনো কেন করা হয় আমার বুঝে আসে না। স্পষ্টবাদী না হলে আমাদের কপালে আরো খারাবিই আছে নিশ্চিত। ভালো থাকুন।
Mohammad Mozammel Hoque: জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি হতে যদি ব্যাপারগুলো দেখা হয়, তাহলে, অতীব দুঃখের সাথে বলতে হয় যে জামায়াত তা-ই পাচ্ছে যা পাওয়ার জন্য তারা ‘চেষ্টা’ করেছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জামায়াত কখনো স্বচ্ছতার পরিচয় দেয়নি। আত্মম্ভরিতাই জামায়াতের জন্য কাল হয়েছে।
রাসূল (সা) এক রাতে তাঁর একজন স্ত্রীকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছু সাহাবীর সাথে সালাম বিনিময় করে কতটুকু যাওয়ার পরে তিনি আবার ফিরে এসে বললেন, আমার সাথের মহিলাটি আমার অমুক স্ত্রী। সাহাবীরা বললেন, সুবহানাল্লাহ, ইয়া রাসুলূল্লাহ। তিনি বললেন, শয়তান মানুষের রগে রগে চলে। অর্থাৎ ভুল বুঝাবুঝির সম্ভাবনা থাকলে সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ক্লারিফিকেশান দেয়া জরুরি। রাজনীতি না বুঝুক, জামায়াত তো এই সুন্নতটা অন্তত পালন করতে পারতো।
Nusrat Fatima: ৭১ পরবর্তী জন্ম নেয়া অনেক লোককে জিজ্ঞাসা করেছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ কি মন থেকে সমর্থন করেন? – অবশ্যই করি, এই এই অফারগুলো পেয়েও দেশে আছি একমাত্র দেশের কল্যাণের জন্য। – আচ্ছা, যদি ৭১-এর সময় যুবক থাকতেন তাহলে পাকিস্তান না বাংলাদেশ সমর্থন করতেন? – (কিছুক্ষণ ভেবে) মনে হয় পাকিস্তানকেই সমর্থন করতাম। – কেন? – এটা তো ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হতো। – তাহলে, মুক্তিযুদ্ধ সমর্থন করছেন কেন? – দেশ যখন দুই ভাগ হয়ে গেছে; তাহলে উচিত নিজ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
বাস্তবতা হলো, এটা কিছু মানুষের বক্তব্য নয়, ধার্মিক যেকোনো মানুষের বক্তব্যই হচ্ছে এটা। বাস্তবতা না বুঝে শুধু চিল্লাপাল্লা করাটা বোকামী।
Mohammad Mozammel Hoque: আমাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন আমাদের কয়েকজন কাজিন। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছেন কয়েকজন চাচা-মামা। এ ছাড়া বাদবাকি শতকরা ৯০ জন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা হতে বিরত ছিলেন। রাজাকার ছিল না কেউই। মুরুব্বী শ্রেণী শান্তি কমিটির সাথে যুক্ত ছিলেন। পক্ষ-বিপক্ষ নির্বিশেষে সবাই পাঞ্জাবীদের বিপক্ষে ছিলেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানীরা শোষণ-নির্যাতন করছে না – এমনটা একজনও মনে করেননি।
১০-এর মান কত? – এটি কোনো প্রশ্নই নয়। ১০-কে কত দিয়ে ভাগ করা হচ্ছে, তাই বিবেচ্য। ২ দিয়ে ভাগ করলে ১০-এর মান ৫, আর ৫ দিয়ে ভাগ করলে হবে ২। তাই, স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ নির্ধারণের ডিনোমিনেটার কী, কোনটিকে মানদণ্ড ধরা হচ্ছে – এসব ফ্যক্টর। যদি পশ্চিম পাকিস্তানী, বিশেষ করে পাঞ্জাবীদের বিপক্ষ ধরা হয়, তাহলে এ দেশের আপামর জনসাধারণ শতকরা ৯৯.৯৯ ভাগ ছিল স্বাধীনতার পক্ষশক্তি। আর যদি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করাকে মানদণ্ড ধরা হয় তাহলে শতকরা ৯৮ ভাগ জনগণ ছিলেন স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি।
যদি মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করা, নিরীহ জনগণের জানমাল রক্ষা করাকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে হওয়ার মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়, তাহলে, এমনকি শান্তি কমিটি ও বিভিন্ন প্যারা-মিলিশিয়াদের বৃহদাংশকে সরাসরি মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বা খেতাব দেয়া উচিত। আমার নানা মাওলানা আহমদের কারণে কাটিরহাট এলাকায় পাক বাহিনী কোনো হত্যা-নির্যাতন চালাতে পারেনি। এসব হলো ফ্যাক্টস। ম্যালাফাইড ফ্যান্টাসি ছাড়া যাদের মুখে কিছু রোচে না, তাদের এসব ফ্যাক্টস নিয়ে ভাববার সময় কোথায়?
Abm Mosleh Uddin: This makes a lot of sense. Plus, I would request anyone to read ‘Amar Dekha Rajnitir Ponchash Bochor’ by Abul Monsur Ahmad (father of the Daily Star editor Mahfuz Anam and a Minister during Sheikh Mujib) to know real history of our independence war. I call it the ‘Bible’ for knowing Independence War of Bangladesh. Available at CU central library as well. Thanks for the thoughtful write-up.
Shah Mahbubur Rahman: With full of respect, I wanna say, you that today you are university teacher because of the independence of Bangladesh.
Mohammad Mozammel Hoque: বাংলাদেশ হয়েছে বলে আমি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হতে পেরেছি – এ কথাটা সত্যি, কিন্তু ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। পাকিস্তান বা ভারতে কি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নাই? যদি বোঝানো হয় যে পূর্ব পাকিস্তান না হলে আমার মতো নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণী হতে উঠে আসা ব্যক্তির বিশ্ববিদ্যালয শিক্ষক হওয়া সম্ভব হতো না – সে অর্থে এটি ঠিক।
বাংলাদেশ না হলে আমার মতো গরীব মেধাবীদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হওয়া দুরূহ হতো– এটি যতটুকু সঠিক, তার সমপরিমাণে বা অধিকতর অথচ অনু্চ্চারিত-অপ্রিয় সত্য হলো যদি পাকিস্তান না হতো তাহলে এই মুসলমান গরীবের সন্তান হয়তো আদৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ারই সুযোগ পেত না!
পাকিস্তান হওয়ার সময়ে তা ম্যালাফাইড স্ট্রাকচারে হয়েছে। আমি মনে করি, পাকিস্তান সৃষ্টিতে গঠনগত যে মৌলিক ভুল ছিল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে তা সংশোধন হয়েছে। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবই সঠিক ছিল। তাই না?
Shahjahan Mohammad: গোলাম আযম, মুজাহিদ, শান্তি কমিটির শান্তিপ্রিয় নেতা ছিলেন না। তারা ছিলো হত্যার নির্দেশদাতা ও হত্যাকারী। শেখ হাসিনার বেয়াই, হুমায়ূন আহমেদ ও জাফর ইকবালের নানা, মামা, আপনার নানা যদি হত্যার নির্দেশ দেয়, তাহলে তারাও যুদ্ধাপরাধী। অখণ্ড পাকিস্তান চাওয়া অপরাধ নয়, অপরাধ হচ্ছে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ইত্যাদি।
২ লাখ বিহারীর জন্য আপনার অনেক দয়া, ৩০ লাখ বাঙালীর জন্য কোনো দয়া নাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সাহিত্য থেকে নয়, ইতিহাস থেকে আসে।
আপনি শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানের নাতি হিসেবে গর্ব করেন, আমি গর্ব করি মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডারের ভাগিনা হিসেবে। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করলে যদি ব্যবসা না হয়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে রাজনীতি করলে ব্যবসা হবে কেন?
Mohammad Mozammel Hoque: সৈনিকদের মধ্যকার সশস্ত্র যুদ্ধের ময়দান ব্যতিরেকে যে কোনো যুদ্ধ সম্পর্কিত হত্যাকাণ্ড বা নির্যাতনই যুদ্ধাপরাধ। তাই, ৩০ লাখের জন্য মায়া নাই ইত্যাদি ঠিক নয়। যা আমি বলিনি, তা আমার উপর আরোপ করবেন না। সোশ্যাল মিডিয়াতে যখন আমি কোনো কিছু বলি, তখন দায়দায়িত্ব নিয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলি। তাই, আশা করি এই এথিক্সটা মানবেন।
Mohammad Mozammel Hoque: ‘যাদেরকে আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি তারা ভালো, আর যাদেরকে চিনি না তারা খারাপ’ – এ ধরনের ক্লেইম করা হচ্ছে এক ধরনের ফ্যালাসিতে ভোগা। আমার জানা মোতাবেক শান্তি কমিটির লোকদেরকে যুদ্ধাপরাধী হিসাবে দেখি নাই। মুক্তিযুদ্ধের মতো একটা জাতীয় ইস্যুতে কোনো পরিসংখ্যান নাই! ভীষণ অবাক করার মতো ব্যাপার!
বস্তুনিষ্ঠতা না থাকলে নামে ইতিহাস দাবি করা হলেও তা সাহিত্য বৈ কিছু নয়। তাই না? মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো ‘পক্ষ’ই ন্যূনতম বস্তুনিষ্ঠ থাকতে পারেনি!
Shahjahan Mohammad: 100% perfection impossible. but it is not fair to deny genocide in 1971 by Pak army and their collaborator.
Mohammad Mozammel Hoque: কোনো কিছুকে own না করে কাজে লাগানো হলো ব্যবসা করা। এখন যে যার মতো করে বুঝুন– কে, কী নিয়ে, কীভাবে ‘ব্যবসা’ করছেন। ধর্ম আর রাজনীতি – দুটি ভিন্ন আলোচ্য বিষয়। ‘ইসলাম: ধর্ম ও রাজনীতি’ এ ধরনের একটা শিরোনামে পরবর্তীতে আলোচনা হতে পারে।
এই লেখার শিরোনামেই বলেছি, প্রসঙ্গ চলমান যুদ্ধাপরাধ ইস্যু হলেও এর ফোকাস আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ১৯৭১ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ন্যারেটিভ এবং ফ্যাক্টস – এতদুভয়ে বেশ ফারাক। তাই, তুলে ধরেছি। আপনার অভিজ্ঞতা ভিন্ন রকমের হলে আপনি তা আলাদা নোট/স্ট্যাটাসে তুলে ধরুন।
Mohammad Mozammel Hoque: কোনো কিছুকে মূল্যায়ন করার দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হচ্ছে, একটা শ্রেণীর যেসব নমুনা আপনার পক্ষে নির্ভুলভাবে জানা গেছে তার ভিত্তিতে বাদবাকিদের সম্পর্কে ও পুরো শ্রেণীটা সম্পর্কে মতামত গঠন করা। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় যাদেরকে জেনেছি, তাদেরকে সেভাবে পাই নাই যেরকম কদর্যভাবে তাঁদের চিত্রিত করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ডমিন্যান্ট ন্যারেটিভের বিরুদ্ধে কথা বলা ধর্মের বিরুদ্ধে বলার মতো ‘অমার্জনীয়’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, দেখতে পাচ্ছি।
Shahjahan Mohammad: you personally know Gulam Azam, Mujahid from 1971? shahid family’s members testify against war criminals at ICT Mujahid and others from their personal experience. You call it drama. why I entertain your personal experience.
Mohammad Mozammel Hoque: আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আমার কাছে কোনো আদালতে কারো স্ববিরোধী সাক্ষ্যের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যাদের বিচার হচ্ছে তাদেরকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না, জানি না, আপনিও হয়তোবা তাদের জানেন না, চিনেন না। শুনেছেন। যেভাবে আমরা প্রতিনিয়ত শুনছি।
১৯৮৪ হতে ১৯৮৫ সালে এসব বিষয়ে আমি নিজ থেকে জানা ও বুঝার চেষ্টা করেছিলাম। দেখলাম, যা কিছুকে ঐতিহাসিক সত্য হিসাবে চালানো হচ্ছে তা অনেকখানি মিথ্যা, সাজানো নাটকের মতো। কিছু সত্যকে অনেকখানি মিথ্যার সাথে মাখিয়ে একটা প্যাকেজ নাটক বানানো হয়েছে।
আপনার এলাকা, পরিচিত মহল – এসব দিয়ে শুরু করু করতে পারেন।
Shahjahan Mohammad: I have little bit experience from my late freedom fighter ‘boro mama’, others freedom fighter. you can’t say drama the testimony’s of shahid family’s, who lost their fathers, brothers and other relatives in 1971.
‘Truth shall prevail’. BD proved it after 42 years of liberation war.
Masud Chowdhury: বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে জামায়াতে ইসলামী নামক রাজনৈতিক দলটির ভূমিকা সেই কুকুর, শেয়াল, হায়েনাদের মতো যারা রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস্ বেশে একাত্তরে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীকে পথ দেখিয়ে এনেছিল মুক্তিবাহিনী ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করতে। একাত্তরে পাকিস্তানী বাহিনী পরাজিত হয় ঠিকই, কিন্তু কুচক্রী, মেরুদণ্ডহীন রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস্রা আগাছা হিসেবে থেকে যায় এই মাটির বুকেই। স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবর রহমান দেশের লাখো নারী-পুরুষ, মেধাবী সন্তানদের মৃত্যুর জন্য দায়ী রাজাকারদের তাৎক্ষণিক ও উপযুক্ত বিচারে ব্যর্থ হন। আর এই লুণ্ঠন ও হত্যাকারীরা জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নামক রাজনৈতিক দল গঠন করে বাংলাদেশের মাটিতে পুর্নবাসিত হয়।
জামায়াতের শীর্ষ নেতারা আজ পর্যন্ত তাদের কৃতকর্মের জন্য বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত হয়নি, ক্ষমা প্রার্থনা তো দূরের কথা। এমনকি তারা স্বীকারই করে না যে একাত্তরে তারা কোনো ভুল করেছে। বরং প্রায়ই তারা দম্ভোক্তি করে, যা করেছে ঠিকই করেছে, পাকিস্তান ভাঙ্গা উচিত হয়নি ইত্যাদি। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে নাবালক কর্মী পর্যন্ত একাত্তর সম্পর্কে, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। এমন একটি গোষ্ঠী এখনও স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে বিচরণ করে একটাই কারণে— সেটি হলো এরা এদেশের অশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত কিন্তু ধর্মপ্রাণ বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে ইসলামের রক্ষকের ভূমিকায় অবর্তীণ হয়ে আছে। অথচ আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ যদি যথেষ্ঠ শিক্ষিত হতো, একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখতো- তাহলে দেখতে পেতো এই জামায়াতে ইসলামী আসলে কোনো ইসলামী দল নয় । এদের একটাই উদ্দেশ্য— দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে একাত্তরে হারের প্রতিশোধ নেয়া।
Mohammad Mozammel Hoque: আমার গ্রামের বাড়ী নাজিরহাটের পূর্বে দৌলতপুর গ্রামে। আজম ক্লাবের পাশে। আজম ক্লাব নামটি এসেছে তৎকালীন পাকিস্তানের চিফ সেক্রেটারি এস এম শফিউল আজমের নামে, যিনি আমার জ্যাঠা ছিলেন। যুদ্ধ চলাকালীন সরকারী চাকুরীতে নিয়োজিত থাকার কারণে তাঁকে মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ীদের ভাষায় ‘রাজাকার’ও বলতে পারেন।
আমাদের পুরো গ্রামে জামায়াত করতেন আমাদের দুই চাচা: আবদুল্লাহ খান ও হামিদুল্লাহ খান। তাঁরা কোনো ক্রিমিনাল অফেন্স করেছেন, এমনটা শুনি নাই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আবদুল্লাহ খান চাচা নিখোঁজ হন।
সাহিত্য আর মিডিয়াকে আপাতত পাশে রেখে, আসুন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলো খুঁজে নেই, যার যার ওয়ালে শেয়ার করি। ধন্যবাদ।
Bidhan Chowdhury: একটু ইতিহাস মনে করায়ে দিই। শেরে বাংলার লাহোর প্রস্তাবেই প্রথম ভারত থেকে পাকিস্তান আলাদা হওয়ার কথাটি আসে। বাঙালি মুসলিম ৪৭-এ নিরঙ্কুশভাবে পাকিস্তানের স্বাধীনতাকে সমর্থন দিয়েছে। শুরুতেই সমর্থন দেয়নি জামায়াতে ইসলামীর গুরু মওদুদী, যদিও পরে সে মেনে নিয়েছিল। এখন আসি ৪৭ থেকে ৭০-এর নির্বাচন পর্যন্ত। এর মধ্যেই পশ্চিম পাকিস্তানীদের শোষণ-নির্যাতনের কারণে পূর্ব পাকিস্তানীরা শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ৬ দফার মাধ্যমে দিলো পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবি। ৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এই ৬ দফা ইস্যুকে সামনে রেখেই প্রায় ৭৫ ভাগ জনগণের ভোট আদায় করলো। ৭১-এর ২৫ শে মার্চের রাত্রির মাধ্যমে যে যুদ্ধ পশ্চিম পাকিস্তানীরা পূর্ব বাংলার নিরীহ জনগনের উপর চাপিয়ে দিল, এর প্রতিবাদে সারা বাংলার সব জনগণই বাংলার স্বাধীনতার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেল। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম সবাই বাংলার স্বাধীনতা চায় নাই, তাও তো কমপক্ষে ঐ ৭৫ ভাগ জনগণ যারা পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রশ্নে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল, তারা অবশ্যই স্বাধীনতা চেয়েছিল ধরে নিতে হবে। জামায়াতে ইসলামী এই পূর্ব বাংলায় দাঁড়িয়ে গেল সেই স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে, দাঁড়িয়ে গেল মুক্তিযুদ্ধের সেইসব সূর্যসন্তানদের বিরুদ্ধে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামী যে অপরাধ করলো, অপরাধ করলো রাজনৈতিক কারণে, পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতা করার কারণে, আর আজকে সেই কারণে জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমা চাওয়াটাকে কেউ কেউ ২০১৩-তে এসেও অনর্থক মনে করে। হায়রে শিক্ষা!
Mohammad Mozammel Hoque: জামায়াতকে ডিফেন্ড করে কথা বলতে চাচ্ছি না। জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের আগে-পরে কোনো ডমিন্যান্ট ফ্যাক্টর ছিল না । এখনকার বাংলাদেশে তারা ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে, তাই এ প্রসঙ্গ এখন বারে বারে উঠে আসে। সময় পেরিয়ে গেলে ক্ষমা ১০০ বার চাইলেও তা ইমম্যাটেরিয়্যাল হয়ে দাঁড়ায়, যেমনটা হয়েছে বর্তমান জামায়াতের! বৈপ্লবিক শক্তি হিসাবে ‘জামায়াত ইজ এগজস্টেড’। তৎসত্ত্বেও বাংলাদেশের ‘ইসলামপন্থা’র কারণে তারা গুরুত্বপূর্ণ থেকে যাবে।
Bidhan Chowdhury: আপনারই মন্তব্য: “ক্ষমার প্রসঙ্গ আসে অপরাধ প্রমাণিত হবার পর। ক্ষমা করে দেয়ার পর আবার বিচার কেন—এসব পকেটমারসুলভ কথাবার্তা। সব বাদ দেন। আপনার এলাকা ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে আজ ২০১৩ সালের জুলাই মাসের ১৮ তারিখ হতে ১৯৭১ সালকে দেখার ও জানার চেষ্টা করুন। দেখবেন, যাদের দানব ভাবমূর্তি দেয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে, মূলত তারাই ছিল তখনকার প্রতিটি এলাকার শিক্ষিত, সজ্জন, শ্রদ্ধেয় ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব।”
জামায়াত এবং জামায়াতী নেতারাই দানব ছিল, সেটাই এই ৪২ বছরে বারবার উঠে আসছে। এই মন্তব্য দেওয়ার পরেও আপনি জামায়াতকে ডিফেন্ড করে কথা বলতে চাচ্ছেন না।
“সময় পেরিয়ে গেলে ক্ষমা ১০০ বার চাইলেও তা ইমম্যাটেরিয়্যাল হয়ে দাঁড়ায়, যেমনটা হয়েছে বর্তমান জামায়াতের!”
একবারই যেখানে ক্ষমা চায় না, সেখানে ১০০ বার ক্ষমা চাওয়াটা উপলব্ধির ব্যাপার। ম্যাটেরিয়াল না ইমম্যাটেরিয়্যাল সে চিন্তা করাটা হাস্যকর এবং কুযুক্তিও বটে। একজন অধ্যাপকের চিন্তাভাবনা!
Mohammad Mozammel Hoque: ক্ষমা করে দেয়ার পরে বিচার করা হচ্ছে কেন? জামায়াতপন্থীদের এই ধরনের কথাবার্তাকে পকেটমারদের ধরা পড়ার পরে বলা কথাবার্তার মতো ঠুনকো মনে হয়েছে– এটুকু বলেছি।
আর জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া না চাওয়াটা এখন অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটি বলেছি। জামায়াতের পক্ষ হতে ৭১-এর ব্যাপারে ক্ষমা না চাওয়াকে লেজিটিমেট করার কোনো প্রসঙ্গ তো এখানে আসেনি।
আপনি এখানে স্ববিরোধের কী দেখলেন?
Mohammad Mozammel Hoque: আরটিভি’র একটা টকশো এ মুহূর্তে আমার আইপ্যাড মিনি’র পর্দায় চলছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, টাংগাইলের ভূয়াপুরের ছাব্বিশা গ্রামে কয়েকজন রেপ ভিকটিম আছে বলে যুদ্ধাপরাধ মামলার সরকারী উকিল মালুম সাহেব বক্তব্য রাখলেন। যুদ্ধাপরাধ বিশেষজ্ঞ ডা. হাসান সেটিকে সমর্থন করলেন। এরপর কাদের সিদ্দিকী এই তথ্যটিকে এমনভাবে খণ্ডন করলেন যে উপস্থাপকসহ তারা দু’জন রীতিমত হেনস্থা হলেন।
সাঈদীর প্রসঙ্গেও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর এমনটাই বলেছেন। তারপরেও তাঁর ফাঁসির আদেশ হয়েছে! সুখরঞ্জন বালি’র কথা না হয় না-ই বললাম।
সত্য সত্যই থাকে, তবে সেটি কালের বিবর্তনে আবর্তিত হয়। আজ যাদের ডিমোনাইজড করা হচ্ছে এক সময় হয়তো এদের বিচারকারীরাই ডিমন হিসাবে চিহ্নিত হবেন। যে শেখ মুজিবকে মারার পরে একটা লোকও প্রতিবাদ করেনি, সেই হত্যাকারীদেরকে শেখ মুজিবের মেয়ে সরকারপ্রধান হিসাবে বিচারের মাধ্যমে হত্যা করেননি?
Shahjahan Mohammad: see what Kader Siddique says in 2007 dialogue with EC and before. Now Kader Siddique become defender of rajakar due to money, politics.
Masud Chowdhury: ডিমন হিসাবে তখনই চিহ্নিত হবে যখন পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক কোনো দেশ থাকবে না, বরং থাকবে পূর্ব পাকিস্তান, এবং থাকবে না কোনো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বরং থাকবে রাজাকারদের পুনরুত্থান। আর যারা এটা হওয়ার চিন্তা করে তাদের জন্য সত্যিই আমার দুঃখ হয়। শেখ মুজিব এবং গোলাম আযম এক বিষয় নয়। একজন ইতিহাসের পাতায় আপন মহিমায় উদ্ভাসিত, আরেকজন ইতিহাসে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
Shahjahan Mohammad: once Jamaat supporters demand justice of Kader Siddique. Now …
Masud Chowdhury: দুই-একজন ভাড়াটে মুক্তিযোদ্ধাকে দিয়ে জামায়াত কখনও প্রমাণ করতে পারবে না যে তারা ৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধী ছিল না ।
Rukan Uddin: বাংলাদেশে এখন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ইতিহাস যেভাবে চর্চা হচ্ছে তাতে পাঠকমাত্রই এক প্রগাঢ় কুহেলিকায় আবর্তিত হতে বাধ্য। তার প্রথম কারণ হচ্ছে শাসকশ্রেণি; সে যে দলেরই হোক, তার পছন্দের ইতিহাসকে জাতির ইতিহাস বলে চাপিয়ে দিতে চায়। মনে রাখতে হবে, চেপে যাওয়া ইতিহাস আর চাপিয়ে দেয়া ইতিহাস এক নয়। চেপে যাওয়া ইতিহাসের বুদবুদে চাপিয়ে দেয়া ইতিহাস অনেকটা তীব্র আগুনে পাত্রের ঢাকনার মতো ধরপড় করে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গোড়ায় কিন্তু পলাশীর ট্রাজেডির একটা সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তার সাথে জড়িত বঙ্গভঙ্গ, তৎপরবর্তী হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক, আর ভারত-পাকিস্তান সৃষ্টি। এই ব্যাপারগুলো না বুঝতে পারলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধজ্ঞান অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। ইতিহাস সবসময় বিজয়ীদের কথাই বলে, বিজিতদের সে মনে রাখে না। আমেরিকার ইতিহাস অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য। রেড ইন্ডিয়ানদের কথা ক’জন মনে রেখেছে? এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে-বিপক্ষে যে ডিসকোর্স হাজির হয়েছে তা অনেকটা শাসকশ্রেণি কর্তৃক স্পন্সর্ড। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তারা নিজেদের মতো করে ইতিহাস রচনা করবে। আর ঐ ইতিহাসকে মাথায় তুলে নাচার শিক্ষাবিদের অভাব হবে না। তাহলে প্রশ্ন, আমরা কি সত্য ইতিহাস জানবো না? কখনো? উত্তর– জানবো, তবে আরো অন্তত ৫০ বছর পর। সে পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
Moztaba Hossain: Thanks Mohammad Mozammel Hoque, would like to know you as I am also a son of Supposed Rajakar, my father, ex T/I in Port Trust (Bandar), along with a Madrasa Degree did support combined Pakistan, also a distant relative of Mr. Lutfur Rahman, Capt. (Ship) from Mr. Gen Harun’s area… quite in dilemma seeing 2 rogues (one chaca, one cousin) from our family are Muktijudda, Chaca is now leading a Muktijodda Shanshad…Mani……
Mohammad Mozammel Hoque: We must say, what we see. Isn’t it? I saw the persons who politically supported united Pakistan, were highly educated and Islamist people. It doesn’t mean that, the freedom fighters were non-educated or anti-Islamic ones.
Razakar force was a non-military government para-militia. Peace committee was a political forum, not an armed force.
Muslehuddin Shahed: অখণ্ড পাকিস্তান চাওয়ার কারণে কেউ অপরাধী হতে পারে না; কেউ ফৌজদারী অপরাধ করে থাকলে সে অন্য কথা। চীনপন্থী কম্যুনিস্টরাও স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের কারণে সমালোচকরা তাদের কথা বলে না। যে মরহুম শেখ মুজিবকে আওয়ামীরা দেবতাজ্ঞান করে (তবে ৭৫-এর ১৫ অগাস্টের ক্যুয়ের বেনিফিশারী তারাই ছিল!), সেই তিনিই এই ইস্যুটি লোপ করতে সচেষ্ট ছিলেন সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। শেখ মুজিবের অনেক হঠকারিতামূলক কাজ থাকলেও তাঁর এই কাজটি ছিল প্রকৃতই দূরদর্শিতার পরিচায়ক এবং রাষ্ট্রনায়কসুলভ। জাতিকে বিভক্ত করে কখনও একটা জাতি আগাতে পারে না, যে কাজ আজকের আওয়ামী আর বামপন্থীরা করছে।
