সরকারের উদ্দেশ্যে – সরকারবিরোধী আন্দোলন তো দৃশ্যত দমন হলো। এখন থামেন। যা হয়েছে তা নজিরবিহীন। নিজেদের রেকর্ড নিজেরা আর না ভাঙ্গাই ভালো।
যথাশীঘ্র সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দিন। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করুন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকলে আপনাদের না হোক, দেশ ও জাতির বিরাট ক্ষতি।
(সরকারি) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে – বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নূন্যতম মানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন। আপনারা যদি হল ও ডরমেটরিগুলোতে অ্যালটমেন্টই দিতে না পারেন, প্রকৃত ঠিকাদারদেরকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন কাজ করাতে না পারেন, সকল ছাত্র-ছাত্রীকে সমদৃষ্টিতে দেখা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে আপনারা আছেন কী জন্যে?
নিজেদেরকে সরকারবিশেষের জন্য নয়, বরং দেশ জাতির জন্য অপরিহার্য করে তুলুন।
হ্যাঁ, হলের আবাসিক শিক্ষক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যক্তিবর্গ, আপনাদের সবার উদ্দেশ্যে আমার এই কথাগুলো।
আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে – তোমাদেরকে অভিনন্দন! দেশের ইতিহাসে সফলতম সামাজিক আন্দোলন তোমরা সম্পন্ন করেছো। তোমাদের মূল দাবি পূরণ হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনীদের কোটা বাতিল হওয়া, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরঙ্গনাদের সন্তানদের প্রাপ্যতাকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট ৫% কোটা কার্যত প্রতীকী কোটায় পরিণত হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় নারীকোটা ও জেলাকোটা বাতিল হয়েছে। কোটাসুবিধা প্রকৃতপক্ষে যাদের পাওয়া উচিত তাদের জন্য নূন্যতম কোটা রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
তোমাদের ন্যায্য আন্দোলন দমনে সংঘটিত গণহত্যাসহ তোমাদের ত্যাগের সব গৌরব গাঁথা, এই পুরো ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ স্মরণ করবে চিরদিন। নিরীহ যেসব মানুষ এবং নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য আন্দোলনকারী যেসব স্টুডেন্ট নিহত হয়েছে, ঈমান থাকা সাপেক্ষে তারা শহীদি মর্যাদা লাভ করেছে।
কারো কোনো ত্যাগই বৃথা যায়নি।
তোমাদের আন্দোলন একটি ইস্যুভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক সামাজিক আন্দোলন। কোনোক্রমেই এটি রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। সরকারপতনের আন্দোলন হওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না।
কোটা আন্দোলনকে সরকার যেভাবে মোকাবেলা করেছে সেটার প্রতিবাদে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকার পতনের আন্দোলন করতে পারে, এটি তাদের কমিটমেন্ট এবং ক্যাপাসিটির ব্যাপার। তাদের নিজস্ব স্ট্রাটেজীর ব্যাপার। তোমরা এরমধ্যে জড়াবে না।
তোমরা বরং তোমাদের যেসব সহপাঠী সরকারের পেটুয়া বাহিনী হিসেবে তোমাদের উপরে হামলা করেছে তাদের ব্যাপারে একটা confession and reconciliation এর ব্যবস্থা করতে পারো, যদি তারা ভবিষ্যতে বাড়াবাড়ি না করে।
অপরাজনীতির সামাজিক সংস্কৃতির কারণে আমাদের দেশে পেশাজীবীদের প্রত্যক্ষভাবে রাজনৈতিক দল করা নিষিদ্ধ হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
হ্যাঁ, পেশাজীবীরা রাজনীতি করবে, যদি করতে চায়, তাদের স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রের বাইরে, সমাজের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে। পেশাজীবী পরিচয়ে, স্বীয় পেশাগত পরিমন্ডলে, জাতীয় কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের অঙ্গসংগঠন হিসেবে, এই ধরনের রাজনীতি কোনোক্রমে কারো জন্যে ভালো কিছু নয়।
এই দৃষ্টিতে, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার দাবি পূরণ হতে পারে তোমাদের পরবর্তী আন্দোলনের প্রাথমিক লক্ষ্য।
মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Naeem Hasan: এই আন্দোলন সরকার পতনের জন্য ছিল না। কিন্তু কোটার মত রাষ্ট্রীয় নীতি পরিবর্তনের আন্দোলন কি অরাজনৈতিক হতে পারে? তাহলে রাজনীতি বলতে আমরা কী বুঝব?
Mohammad Mozammel Hoque: রাজনীতির দৃষ্টিতে কোনো কিছুই রাজনীতির বাইরে নয়। অর্থনীতির দৃষ্টিতে কোনো কিছুই অর্থনীতির বাইরের কিছু নয়। যখন আমরা কোনোকিছুকে রাজনৈতিক হিসেবে বলি তখন আমরা মনে করি সেটি হচ্ছে প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। সে হিসেবে কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি অরাজনৈতিক আন্দোলন।
Shahidul Hoque: শিক্ষক হিসেবে শান্ত হওয়ার এই দাবি তোলা আপনাদের জন্য অনেক সহজ (পার্সোনালি বলছি না). কিন্তু বাস্তবতা হলো আপনারা শিক্ষক সমাজ ছাত্র-ছাত্রীদের ১০০% গ্রহনযোগ্যতা হারিয়েছেন।
আন্দোলনের মাঝে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সোস্যাল মিডিয়ায় চিত্কার করেছে – ১৭ কোটি মানুষের দেশে আমাদের একজন শামসুজ্জোহা কই?
লাশের সংখ্যা এখন ২০০+ কিন্তু একজন শামসুজ্জোহা নাই। তাই প্রমান করে, এ রাষ্ট্রযন্ত্রে ছাত্ররা শিক্ষক থেকে অনেক বড়। অনেক মহান। আশা করছি আগামীর বাংলাদেশে শিক্ষকরা সমাজে তাদের ভূমিকা পুনঃমুল্যায়ন করবেন।
Halima Akter Prova: এতগুলো মৃত্যুর দায়ভার কার?
Mohammad Mozammel Hoque: রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানসহ তার অধীনস্থ বাহিনীর।
