কে দায়ী? অথবা, কার দায় কতটুকু?

একটা জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল একদিনে তো আর এমন স্বৈরাচারী হয়ে ওঠেনি। কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সবাই অংশগ্রহণ করেছে। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের অনেকে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছ। আহত হয়েছে, নিহত হয়েছে। এইবার আন্দোলনের সবচেয়ে সিগনিফিক্যান্ট দিক হলো, প্রগতিশীল ঘরানার লোকজন তাদের আশ্রয়দাতাদের হাতে মার খেয়েছে ব্যাপকভাবে।

বছর দশেক আগে যখন নাস্তিকতাবিরোধী আন্দোলনে নেমেছিল দেশের আলেম-ওলামাগণ, সেই আন্দোলনকে যখন একটা নির্বিচার গণহত্যার মাধ্যমে দমন করা হলো নির্মমভাবে, তখন সরকারকে অকুন্ঠভাবে সমর্থন করেছে বামপন্থী প্রগতিশীলরা।

এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বৃহত্তম ইসলামিক রাজনৈতিক দলের উপরে যখন সর্বাত্মক জুলুম-নিপীড়ন শুরু হলো তখন, বিশেষ করে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত, বৃহত্তর আলেম সমাজ নিরপেক্ষতার নীতি অবলম্বন করেছিলেন।

যেন, মরছে মরুক, ওরা। আমাদের তো কোনো সমস্যা না।

সেই ‘ফাঁসি চাই’ উন্মাদনার সময়ে দেশের প্রধান বিরোধী দলও ছিল কার্যত নিষ্ক্রিয়। যেন তারা গ্যালারির দর্শক।

চাইলেই কোনো ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করা যায় না। তেমনি এক তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো, সেই সময়ে সরকার প্রধান চায় নি যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে। তারা চেয়েছে এর রাজনৈতিক সুবিধা নিতে। ইলেকশনের জেতার পরে মোসাহেব সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে সরকার প্রধান বলেছিল, ‘জনগণ তো বিচারের রায় দিয়ে দিয়েছে। আমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।

এই বামপন্থীরাই তাদের সকল মেকানিজমকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে বাধ্য করেছিল এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে। বিচার প্রক্রিয়া যখন শুরু হলো তখন অভিযুক্তপক্ষ আদৌ বিশ্বাস করে নাই, তাদেরকে এভাবে লাইন ধরে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে। শুরুতেই যদি তারা সর্বশক্তি দিয়ে একে ঠেকানোর চেষ্টা করতো, শক্ত প্রতিক্রিয়ার পথে যেত, আমার অনুমান, তাহলে তারা বেঁচে যেত। বেঁচে যেত দেশ ও জাতি। সরকারও হয়ে উঠতো না এতটা দুঃসাহসী।

আমার স্পষ্ট মনে আছে, মজলুমপক্ষের দলীয় আমীর জেলখানা থেকে বারবার করে নির্দেশ জারি করছিলেন, ‘নো রেসিসস্টেন্স, জিরো রেসিসটেন্স’। আমি এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের মোজেজা আজ পর্যন্ত বুঝতে পারি নি।

এ যেন হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতের ঘটনা। সেই যে একটা রক্তের বন্যা শুরু হল, একটা অপ্রতিরোধ্য ডমিনো ইফেক্ট তৈরি হলো, সেটা কখন কোথায় গিয়ে থামবে, কেউ জানে না।

আমার ধারণা, সরকার রিকনসিলেয়েশনের পথে না গিয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে। শহীদ আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডের মতো কোনো মারাত্মক স্পর্শকাতর ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আবারো একটা গণবিস্ফোরণ ঘটবে।

আমি খুব ভয়ের মধ্যে আছি। না, আমার নিজের জন্য নয়। বরং পরবর্তী গণহত্যা এবং সেটার পাল্টাপ্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে।

ভাবছি, কবে ভোর হবে?

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Sharmin Rima: বামপন্থীদের মধ্যে কয়েকটা শ্রেণী আছে। একটি শ্রেণী এখনও নানাভাবে ইনিয়ে বিনিয়ে সরকারি সমস্ত কাজের জাস্টিফিকেশান দিয়ে যাচ্ছে। আর একটি শ্রেণী ঘাপটি মেরে বসে আছে, অথচ এরা শাহবাগ আন্দোলনের সময় নানা কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে সরব ছিলো। এই ঘাপটি মারা বামরা মানুষের চাপের মুখে পড়ে মাঝে মাঝে একটু সহানুভূতিমূলক পোস্ট করছে— ধরি মাছ, না ছুঁই পানি স্টাইলে।

বামপন্থীদের মধ্যে আরও একটা শ্রেণী যারা এখন আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ণ সহমত জানাচ্ছে এবং প্রকাশ্যে সরকারের নিন্দা করছে৷ এরা আমার ধারণামতে ইতিপূর্বেও সরকারের নানা অপকর্মের বিরোধিতা করেছিল। যদিও এই শ্রেণীটা সংখ্যায় অতি অল্প।

Mohammad Mozammel Hoque: যারা তাত্ত্বিক বাম, তারা আন্দোলনের সাথে আছে।

Sazzatul Mowla Shanto: চরম বাস্তব কথা। এই বিষয়গুলো এখনো অনেককে বুঝানো যায় না। আমাদের নিরবতা, আমাদের স্বার্থপরতাই এই স্বৈরাচার তৈরি করেছে।

আর আলেম সমাজের কথা কি বলবো! আজও তারা মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে। একদল শাসকের অনুগত্য করার হাদিস দিয়ে গণহত্যাকে জাস্টিফাই করবে যদি প্রশ্ন করেন আপনারা কেন চুপ। আরেকদল তো কিছু হলেই সরকারের সাথে বৈঠক করে। এইতো কদিন আগেও করে এসেছে।

সব সময় দেখি তারাই লড়ে যায় যারা আগে লড়েছে! তারাই সকল যুলুম নির্যাতনের স্বীকার হয়। এখন তো সাধারণ মানুষও রেহাই পাচ্ছে না।

Abdullah Al Jobair: আপনার সেইম কথাগুলো বিজ্ঞজনরা দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছিলেন। শুরু থেকে যদি দল মত নির্বেশেষে সরকারের অন্যায় কাজগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করতেন, কিংবা প্রতিরোধ গড়ে তুলতেন। তাহলে একজন ফ্যাসিস্ট কোনোদিনও এরকম অন্যায় কাজ করতে দুঃসাহস দেখাতো না।

Mohammad Mozammel Hoque: একটা গণতান্ত্রিক সরকার ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠার ব্যাপারে জনগণের দায় আছে। দায় আছে বিরোধীদলেরও।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *