৩৬ জুলাই ২০২৪ পার হয়েছে প্রায় দু’সপ্তাহ হলো। অথচ এখনো কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে আছি। সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হয়। আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে খারাপ যা কল্পনাযোগ্য, তাদের জন্যে সেসব কিছুই করে গেছে তাদের নেত্রী পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা।
আল্লাহর মাইর!
প্রিয়জন হারানোর পরে মানুষ ক্ষণেক কাঁদে, ক্ষণেক স্বাভাবিক থাকে। স্বল্পস্থায়ী হাসিমুখের পরে মুহূর্তেই যেমন করে কান্না এসে আচ্ছন্ন করে সমগ্র পরিবেশ, ঠিক তেমনি করে মাঝে মাঝে এখনো একাকী খুব কাঁদি, নির্জনে, লোকলজ্জার ভয়ে।
পাগলের মতো দেখতে থাকি প্রতিবাদ আন্দোলন, প্রতিরোধ, গণঅভ্যুত্থান, বিপ্লব, বিদ্রোহের সেই মুহূর্তগুলো, কারো না কারো মুঠোফোন হতে যেগুলো স্থান পেয়েছে ইতিহাসের পাতায়, নতুন বাংলাদেশের জাতিগত ইতিহাসে।
আমাদের মতো প্রবীণদের জন্য সবচেয়ে সুখের যা কিছু তার অন্যতম হলো, নজরুলের সেই বিপ্লবী গানগুলো আবার ফিরে এসছে, এটি দেখা। মেট্রিক ও ইন্টারে পড়ার সময়ে হারমোনিয়াম বাজিয়ে সব ভাই-বোনরা মিলে ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ এসব গান আমরা সমস্বরে গাইতাম।
হারমোনিয়াম আমি সবচেয়ে ভালো বাজাতে পারতাম। একই সাথে আমি ছিলাম মেইন ভোকালিস্ট।
বিপ্লব বেঁচে থাকে, ফিরে আসে বারে বারে। এই প্রজন্মের অন্তরে বিশেষ করে তরুণদের মাঝে দ্রোহের যে আগুন জ্বালিয়ে গেছে পতিত স্বৈরাচার, এটি থামবে না। নিভবে না সহসা। জ্বলবে অবিরাম।
অসত্য অন্যায় আর জুলুমের বিরুদ্ধে তারা দাঁড়াবে দ্বিধাহীন অটল। স্বতঃস্ফূর্তভাবে। সত্য আর ন্যায়ের পথে এই প্রজন্ম এগিয়ে যাবে অবিরত।
আমি আশাবাদী। অনাগত দিনগুলো আমাদের হবে সুন্দরতর।
