ঘটনা পুরাই নাটকীয়। বাহাত্তর দিনের ব্যবধানে নিষিদ্ধ হলো বাংলাদেশের প্রধানতম তিনটি ছাত্রসংগঠনের দু’টি। ১লা আগস্ট শিবির। ২২শে অক্টোবর ছাত্রলীগ। স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি শক্তি নিয়ে শিবির ব্যাক করেছে ইমিডিয়েটলি। আমার গাট ফিলিংস বলে, ছাত্রলীগ ব্যাক করবে না আর। কয়েক টার্ম পরেও না।
ইসলামী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা না হয় ‘তওবাতিল্লা’ করে তাদের মূল সংগঠন শিবির বা জামায়াতে ব্যাক করবে। ঢাবি কমিটির মতো ওপেন হবে। কিন্তু ছাত্রলীগের ছেলে-মেয়েরা কী করবে?
আমার ধারনা, তাদের বিরাট অংশ রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে। অনেকেই নানান দল ও সংগঠনে ছড়িয়ে পড়বে। একটা বৃহদাংশ বামদের দলে ভিড়ে যাবে।
শিবিরের ছেলেরা যেভাবে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করেও ‘শিবির হিসেবে’ টিকে ছিল, সে ধরনের আদর্শগত কমিটিমেন্ট না থাকায় ছাত্রলীগের ছেলেরা শিবিরের ভিতরে টিকে থাকতে পারবে না।
শিবিরের ছয় স্তরের সাংগঠনিক কাঠামোর ভিতরে একজন ছাত্রলীগ নেতা/কর্মীর অনুপ্রবেশকারী ছাত্রলীগ হিসেবে শিবিরের ক্যাডার হয়ে উঠা যথেষ্ট কঠিন। অবশ্য, ইদানীং শিবিরের সাংগঠনিক কঠোর শৃঙ্খলা যেভাবে শিথিল হয়ে পড়েছে, যেভাবে তারা জাতে উঠার জন্য হরে-দরে ইনক্লুসিভ হয়ে উঠছে, তাতে করে অতীতে সম্ভব না হলেও বর্তমানে কারো পক্ষে শিবিরের ভিতরে শিবিরলীগ হয়ে টিকে থাকা ততটা কঠিন বা অসম্ভব কিছু নয়।
সে যাই হোক, ছাত্রলীগের ‘উজ্বল ভবিষ্যত’ হলো বামপন্থায় মিশে যাওয়া। ছাত্রলীগের জয়বাংলা ন্যারেটিভ আগাগোড়া বামপন্থীদেরই প্রডাক্ট। বামরা এই ন্যারেটিভ-ট্যাবলেট তৈরী করে আওয়ামী লীগকে খাইয়েছে সেই পাকিস্তান আমলে। তখন থেকেই আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রিত হয়েছে, ব্যবহৃত হয়েছে বামপন্থীদের দ্বারা।
রাজনীতিতে মাঠ খালি থাকে না।
তাই আওয়ামী লীগ থাকুক বা না থাকুক, সেন্টার-লেফট পলিটিক্স রাজনীতির ছক থেকে নাই হয়ে যাবে না। এ’দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ লোক আওয়ামী মন-মানসিকতার। মুজিব-হাসিনার মতো স্বৈরাচারই তাদের দৃষ্টিতে উপযুক্ত নেতা। বামদলগুলোই আওয়ামী লীগের আপন। তাই, সামনের দিনগুলোতে বামদলগুলোর নানা শাখাপ্রশাখা ও প্ল্যাটফর্মগুলোই হয়ে উঠবে বিপুল আওয়ামী জনশক্তির সম্ভাব্য গন্তব্য ও ঠিকানা।
তত্ত্ব আর আদর্শের ওপর সংগঠন গড়ে তোলার পরিবর্তে সংস্কৃতি ও বয়াননির্ভর হয়ে ওঠার মাধ্যমে বামাপন্থীরা ইতোমধ্যেই নিজেদেরকে আওয়ামীবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলেছে। এতদিন চলেছে আওয়ামী লীগের বামায়ন। এখন থেকে চলবে বামের লীগায়ন।
লং স্টোরি শর্ট, সুবিধাবাদী আওয়ামী লীগেরা যে কোনোদিকে ছুটবে। যেভাবে পারবে সেভাবে আত্মরক্ষা করবে। তাদের বিরাট অংশ বিএনপিতে বিলীন হবে। আর খাঁটি মুজিববাদীরা ক্রমান্বয়ে বামপন্থায় মিশে যাবে।
হাসিনাগিরিকে অস্বীকার করে কেউ শেখ ডাইন্যাস্টিকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারবে না। আবার হাসিনার লিগ্যাসিকে ডিফেন্ড করে বাংলাদেশে কেউ রাজনীতির মাঠে দাঁড়াতে পারবে না, ভালো করা তো দূরের কথা। অর্থ্যাৎ This is the end of Sheikh dynasty. Let’s see.
মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Saifullah Raihan: শিবির এখন আবার তাদের নিয়মগুলোতে কঠোরতা আনবে।
Mohammad Mozammel Hoque: মনে হয় না। যেটা একসময় ছুটে যায় সেটাকে ফিরিয়ে আনা মুশকিল, যদি সেটা হয় সহজতা থেকে কঠোরতার দিকে।
Saifullah Raihan: না, কঠোর করবে শুনতেছি। পুরো সিলেবাস পড়া ছাড়া কাউকে আর সাথী শপথ দিবেনা এখন। রাজনৈতিক ঝামেলার কারণে কয়েক বছর নোট পড়িয়ে শপথ দিয়ে দিতো।
Mohammad Mozammel Hoque: সাম্প্রতিক সময়ে যাদেরকে সাথী করা হয়েছে আমাদের সময়কার মানের সাথে তুলনা করলে তারা সাধারণ কর্মী হওয়ার যোগ্য ছিল বলে আমার মনে হয় না। নোট পড়িয়ে সিলেবাস কমপ্লিট করা হয়, এটা আমরা দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করি নাই।
Mohammed A. Bashar: সব বিএনপির ছাতার নিচে যাবে।
Mohammad Mozammel Hoque: সেটা খারাপ না, যদি তাদেরকে ছাতার ডাঁট ধরে দাঁড়ানোর সুযোগ না দেয়া হয়।
Khondoker Ahmed Zakaria: আপনার সাথে প্রায় একমত। তবে শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। বর্তমান সরকারের মেয়াদকাল, নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কার্যক্রম দেখতে হবে। অনেকের ভাবনাকে মিথ্যা বানিয়ে ইউনুস সরকার দীর্ঘদিন (২ বছরেরও বেশী) থাকার সম্ভাবনা আছে।
সংবিধান স্থগিত করে নতুন সংবিধান না আসা পর্যন্ত সরকার প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতিতে চলে যেতে পারে। তখন ছাত্রলীগের অবস্থা কেমন হবে তা এই মুহূর্তে বলা কঠিন। শিবির যা পারে ছাত্রলীগ তা পারবে না। আগের মতো বামদের সাথে থাকাও তাদের জন্য সহজ নয়। তবে আওয়ামী লীগ থাকলে ছাত্রলীগও থাকবে।
Mohammad Mozammel Hoque: প্রেসিডেন্ট পদ্ধতি এবং আনুপাতিক হারে সংসদীয় আসন লাভের পদ্ধতি, এগুলো খুবই ভালো। এগুলো হলে খুব ভালো হবে। দেশের জন্য অনেক ভালো হবে, যারাই করুক।
Mohammad Mozammel Hoque: আওয়ামী লীগ থাকলে ছাত্রলীগও থাকবে, আপনার এই কথার সাথে আমি একমত। তবে, আওয়ামী লীগের ব্যাকবোন হিসেবে ছিল যে ছাত্রলীগ, সেইভাবে তারা আর থাকতে পারবে না। থাকবে, আওয়ামী লীগের পরিশিষ্ট হিসেবে।
আওয়ামী লীগের নতুন রাজনীতিতে নতুন ছাত্রলীগের আবির্ভাব ঘটবে, এই নামে কিংবা অন্য নামে। তবে, কোনো অবস্থাতেই ভবিষ্যতের আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ হাসিনার লিগ্যাসিকে ঔন করবে না।
তখন তারা চেষ্টা করবে হাসিনার পরিবর্তে মুজিবকে ফোকাস করতে। সাম্প্রতিক অতীতে যেভাবে হাসিনার ইমেজ বিল্ডআপের জন্য মুজিবের ইমেজকে ব্যবহার করা হয়েছে, সেই কাজটা আর হবে না।
ভবিষ্যতে একটা পিউর সেন্টার-লেফট পলিটিক্স আওয়ামী লীগের শূন্য জায়গায় গড়ে উঠবে। খুব সম্ভবত এই কাজে প্রাক্তন বামপন্থীরা নেতৃত্ব দিবে।
Mohammad Tausif Rafi: ফ্যাসিজম তো ফার রাইট, সেন্টার লেফট না।
Mohammad Mozammel Hoque: ফ্যাসিজম ফার রাইট। আওয়ামী লীগ ফার রাইট না, সেন্টার লেফট। তাদের কাঁধে ভর হয়েছিল, ফার লেফট। সুবিধাবাদিতার সম্মিলনে তাদের মধ্য থেকে জন্ম নিয়েছে ফ্যাসিজম।
বলা যায়, এটি ফ্যাসিজমের বিবর্তন। এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন একটা সেন্টার রাইট দলের দীর্ঘমেয়াদী পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, পরবর্তী ইতিহাস এটাকে একটা টেক্সটবুক উদাহরণ হিসেবে বলবে।
Naim S: ফ্যাসিস্টদের মতো আপনারাও নেগেটিভ বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করছেন শিবির সম্পর্কে। ফ্যাসিস্টরা এখন ডাস্টবিনে। মিথ্যা প্রতিষ্ঠাকারীদের অবস্থা কোথায় হয় আপনাদের বুঝা উচিত।
Mohammad Mozammel Hoque: শিবির বা যে কোনো সংগঠনের পক্ষে থাকার উত্তম উপায় হলো শিবির বা সংশ্লিষ্ট সংগঠন যে সব অন্যায়, জুলুম ও অবিচার করেছে, ভুল করেছে তা ঢাকার চেষ্টা না করে অকপটে স্বীকার করা। এর পাশাপাশি তাদের যেসব কৃতিত্ব ও অবদান আছে তা ক্লেইম করা। যে পক্ষেই হোক, একদেশদর্শীতা কোনোক্রমেই সুফল বয়ে আনে না।
Habibur Rahman Habib: গাঁজা খেয়ে লিখেছেন নাকি স্যার।
Mohammad Mozammel Hoque: দেখো, অনেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সামাজিক মূল্যবোধগত দিক থেকে আমার কাজের স্ট্রং সাপোর্টার। খুব সম্ভবত তুমিও তাদের একজন। আমি সোশ্যাল ভেলু নিয়ে কাজ করি। সেই দৃষ্টিতে আমার কাছে ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, ছাত্রলীগ সবাই সমান। আমি যা লিখেছি তা লীগবিদ্বেষ থেকে লিখি নাই। এটি সত্য।
রাজনীতির দর্শন বা পলিটিক্যাল ফিলসফি বলে যে সাবজেক্ট আছে, আমি সেটার একজন ছোটমাপের বিশেষজ্ঞ। আমার অল্পসংখ্যক প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের কয়েকটি পলিটিক্যাল ফিলসফির ওপরে। আমি বহু বছর পলিটিক্যাল ফিলসফি পড়িয়েছি।
কোটা সংস্কার করে রায় দেয়ার পরে আমি লিখেছিলাম, ছাত্রদের আন্দোলনে সরকারের পতন হবে না। এই কাজ রাজনৈতিক দলগুলোর। পারলে তারা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করুক।
অথচ, আমার প্রেডিকশান ভুল প্রমাণিত হলো। ঘটলো নজিরবিহীন ঘটনা। তাই, আমি যা লিখেছি তা রাজনীতির সূত্রানুসারে লিখলেও কী হবে, তা একমাত্র আল্লাহ ভালো জানেন।
সেজন্য আমার লেখার শেষ বাক্যটা হলো, ‘লেটস সি…’ সো, নেভার মাইন্ড এন্ড মিসআন্ডারস্ট্যান্ড। আর হ্যাঁ গাঁজা কখনো খাই নাই। খেলে কী হয় তার কোনো অভিজ্ঞতা নাই।
Habibur Rahman Habib: সরি স্যার মাফ করবেন। আমি আপনাকে ভালবাসতাম স্যার হিসাবে।
Mohammad Mozammel Hoque: ব্যক্তিগতভাবে পরিচয় না থাকলে আমি সেটা বুঝতে পারি। তাই রিএক্ট না করে রেসপন্স করেছি। বাংলাদেশে একসময়ে তো প্রায় সবাই ছাত্রলীগ করতো। সো, ছাত্রলীগ করা ইটসেল্ফ কোনো সমস্যা না।
ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের রাজনীতির যে জায়গা, সেন্টার ফেফট পলিটিক্স, আমি তো সেটার ব্যাপার সহনশীল। যারা বাড়াবাড়ি করেছে তাদেরকে ডিজঔন করা উচিত বলে মনে করি।
বুদ্ধিবৃত্তিক সামাজিক কাজ করি। তাই চাই না, কারো প্রতি আমার মধ্যে বিদ্বেষ থাকুক। যদিও আমার নানা বিষয়ে শক্ত মতামত ও অবস্থান আছে। unity within diversity এটাই হোক আমাদের পলিসি।
Ave Raafat: কমেন্ট করে রাখলাম। ভবিষ্যতে এই পোস্ট দেখে মূল্যায়ন করবো আমার কমেন্টের।
এসাম্মশান কমপ্লিটলি রঙ। আওয়ামীলীগ তথা ছাত্রলীগ ব্যাক করবে এবং সেটা বিএনপি করাতে হেল্প করবে৷ সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে সেক্যুলারিজম এর ট্রেডমার্ক আওয়ামীলীগ। বুঝতে হবে, এই দেশে লোকজন ইসলামকে ধর্ম হিসেবে ভালোবাসে, জীবনাচার হিসেবে চায় না। এই জায়গাটা আওয়ামীলীগের। আর আওয়ামীলীগ ব্যাক করা মানে ছাত্রলীগ ব্যাক করতেছে।। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ছাড়া কোথাও যাবে না। কারণ একমাত্র ইনফ্লুয়েনশিয়াল ট্রাডিশনাল রাজনীতি তারাই করে।
বামেরা এই দেশে ভোটের রাজনীতি’তে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত পুরুষ আসন দিলেও জামানত ফেরত আসবে না। বাকপটু হিসেবে তাদের প্রতি সমীহ থাকবে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতায় উপরের দুই লাইন।
Mohammad Mozammel Hoque: কথাটা আমি এখানে এবং অন্যত্র বারে বারে বলেছি, সেন্টার লেফট পলিটিক্স থাকবে। সেটার প্রতিনিধিত্ব কে করবে, কীভাবে করবে, সেটা হচ্ছে দেখার বিষয়। আমার ধারনা, বর্তমান সব এলিমেন্ট replaced হবে।
Puspita: পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ছাত্রশিবির আগের মতো কঠোরতার পথে ফিরে যাক, তবে জামায়াতে ইসলামী আরো লিবারেল হোক।
Mohammad Mozammel Hoque: জামায়াতে ইসলামী লিবারাল হলে হোক। কিন্তু এটার মূল্য হচ্ছে তাকে আদর্শের রাজনীতি এবং ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন বাদ দিয়ে গণমুখী তথা প্রো-পিপল তথা ক্ষমতার রাজনীতি করতে হবে। আমি করার জন্য বলছি না। কিন্তু ইনক্লুসিভনেসের যে পথে তারা আগাচ্ছে, মনে হচ্ছে তারা সেদিকেই আগাচ্ছে। যা কিছুই করুক, তা বুঝে শুনে স্বচ্ছতার সাথে করা উচিত বলে মনে করি।
Rahat Saiful Ashraf: এরকমটা ঘটবে না। আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে ফিরবে। এতো বছর ধরে লুট করা প্রচুর অবৈধ টাকা পয়সা ব্যবহার করে তারা রাজনীতিতে টিকে থাকবে। যদি বাংলাদেশের মানুষের স্বভাবগত পরিবর্তন আসে তারা স্বল্পমেয়াদী লোভ ছেড়ে দীর্ঘমেয়াদি লাভের আশায় ডিসিপ্লিনড হতে পারে তবেই কেবল আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে ফেরা কঠিন।
Mohammad Mozammel Hoque: আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরবে হয়তো। দাঁড়াবে কিংবা দাঁড়াতে পারবে না। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার যে জায়গা সেটা তো আছে। সেটার পক্ষে কেউ না কেউ থাকবে ব্যাপার হলো, হাসিনার রাজনীতি বা হাসিনার আওয়ামী লীগ, এগুলো আর থাকবে না।
Didar Hasib: খাঁটি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ক্রমান্বয়ে বাম হয়ে যাবে। আর সাধারণ ছাত্রলীগরা ছাত্রদলে মিশে যাবে।
Mohammad Mozammel Hoque: কেউ কেউ তাবলীগ জামাতে যোগ দিবে। একটা অংশ চরমোনাই ইত্যাদি ইসলামী দলে যোগ দিবে। কেউ কেউ ফেইসবুক লীগে থেকে যাবে।
Shahrian Ahmed Anim: স্যার, আমার জানা মতে শেখ মুজিব বাম দের প্রধান শত্রু মনে করতো।বিভিন্ন ইন্টারেকশনে সে বাম নক্সাল কমিউনিস্ট দের শেষ ও পরাস্ত করার আশা কিংবা কথা বলেছে। তবে কিভাবে কালের বিবর্তণে বামরা তাদের আপন হলো। এটা একদিন যদি তুলে ধরতেন সকলের জন্য উপকার হতো।
Mohammad Mozammel Hoque: শেখ মুজিব বামপন্থী ছিলেন না। শেখ হাসিনাও বামপন্থী ছিলেন না। মুজিব তাজউদ্দীন দ্বন্দ্ব নিয়ে আপনি পড়াশোনা করলে বুঝতে পারবেন, কীভাবে বামবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও শেখ মুজিব বামপন্থীদের দ্বারা সময়ে সময়ে (নট অলওয়েজ) নিয়ন্ত্রিত এবং ব্যবহৃত হয়েছেন।
শেখ মুজিব ছিলেন ডানপন্থী। ভুট্টোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বলা যায়, পাকিস্তানপন্থী।
শেখ মুজিবের অপশাসনের পাশাপাশি ঐতিহাসিক অবদান হলো, ভারতের সাথে ২৫ সালা মৈত্রী চুক্তি অকার্যকর করা, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ফেরত পাঠানো, দালাল আইন বাতিল করা, ওআইসি সম্মেলনে যোগদান করা, মাদ্রাসাগুলো খুলে দিয়ে ইসলামিক একাডেমিকে ফাউন্ডেশনে উন্নীত করা, ইত্যাদি।
যা ঘটেছে তা বদলানো যায় না। বয়ান তৈরীর মাধ্যমে হয়তো ডিসটর্ট করা যায়। তবুও, ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে নির্মোহভাবে বিবেচনা এবং গ্রহণ করাই হলো নৈতিকতা ও সততার দাবি।
Shahed Z. Khan: কিন্তু আমার কেন যেন মনে হয়, ছাত্রলীগের ৮০% সদস্য ছাত্রদলে যোগ দেবে।
Mohammad Mozammel Hoque: ছাত্রলীগের বেশিরভাগ লোক নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। কিছু কিছু ছাত্রদলে যোগ দিবে। কিছু কিছু বামদলগুলোতে যোগ দিবে। কিছু কিছু লোকজন তাবলীগ করা শুরু করবে। একটা ক্ষুদ্র অংশ গণমুখী বা পীরপন্থী ইসলামী দলগুলোতে যোগ দিবে। কিন্তু কোথাও তাদের কোনো স্বতন্ত্র এনটিটি থাকবে না।
Sakib Mahmud Rume: স্যার, শেখ ডাইন্যাস্টি শেষ হতে পারে– তবে আওয়ামী রাজনীতি পুরোপুরি ঘুচে যাবে বলে আমার মনে হচ্ছে না।
Mohammad Mozammel Hoque: মধ্যবাম (সেন্টার লেফট) রাজনীতির জায়গাটা থাকবে। সেটাতে নেতৃত্ব দেওয়ার কিছু লোকও থাকবে। সেটা নতুন আওয়ামী লীগ কিংবা নতুন কোনো দল হতে পারে। যেমন করে, মুসলিম লীগের জায়গায় এসেছে বিএনপি। বিএনপি না থাকলে সে জায়গায় অন্য কোনো দল মধ্যডান (সেন্টার রাইট) রাজনীতিকে প্রতিনিধিত্ব করবে। আমার রাজনৈতিক জ্ঞান এবং রাজনীতির সূত্র, এটাই বলে।
