গত পুরো জুলাই মাসজুড়ে ছত্রিশ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে যা ঘটেছে তা যে কোনো স্কেলে একটা বিপ্লব। শাসকপক্ষের বাড়াবাড়ির কারণে অকস্মাৎ ঘটে যাওয়া গণবিপ্লব। যদিও এই বিপ্লবের সম্ভাবনা ও ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছিলো অনেক আগে। বারুদ জমা হচ্ছিলো। ছিল শুধু একটা স্ফুলিঙ্গের অপেক্ষায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সেই স্ফুলিঙ্গ বা মোমেনটাম হিসেবে এসে সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। এনে দিয়েছে দেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা।
গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করে ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পলায়ন করার পরে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতাকে অক্ষুণ্ন রেখে সরকার গঠন হয়েছে। এ’কারণে বলা হচ্ছে, এটি বিপ্লব নয়, গণঅভ্যুত্থান।
বিপ্লবকে গণঅভ্যুত্থান হিসেবে ট্রিট করার মাধ্যমে এই বিপ্লব তার সাফল্যের শুরুটা করেছে নিজেকে আন্ডারমাইন করার মাধ্যমে। শ্রদ্ধেয় ফরহাদ মজহারের সাথে আমার এই মূল্যায়নের পার্থক্য হলো, আমি মনে করি সার্বিক বিবেচনায় এটি বরং ভালোই হয়েছে।
বিপ্লব প্রাথমিকভাবে সফল হওয়ার পরে ইমিডিয়েটলি যা করতে হয় তা হলো, যারা বিপ্লব করেছে তাদের প্রকৃত পরিচয়, আদর্শ ও পরিকল্পনা প্রথমেই ক্লিয়ার করা। অথরিটি ডিমান্ড করা। এবং নির্দয়ভাবে সেই অথরিটি প্রতিষ্ঠা করা। সাফল্যের জিরো আওয়ার থেকে নিজস্ব রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ করা।
বাংলদেশের জুলাই বিপ্লবে এগুলো ছিল না। থাকারও কথা না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে হয়তো এরচেয়ে বেশি কিছু করা আমাদের জন্য সম্ভব ছিল না। আল্লাহ যা করেন তা ভালোর জন্যই করেন।
যাইহোক, খুব সংক্ষেপে মূল কথা হলো, যা হয়েছে তা স্বৈরাচার উৎখাত পর্যন্ত ছিল বৈপ্লবিক চরিত্রের। যদিও তা শেষাবধি গণঅভ্যুত্থান হিসেবে রূপলাভ করেছে। যেমন করে প্রবল ঘূর্ণিঝড় উপকূলে এসে মাঝে মাঝে পরিণত হয় ঝড়ো হাওয়ায়।
মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Md Al Amin: এই ইতিহাস পরবর্তীদের কাছে কীভাবে পৌঁছানো হবে? যেভাবে আমরা আমাদের পাঠ্যবইগুলোতে পড়ে এসেছি সেইভাবে?
Mohammad Mozammel Hoque: স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। স্বাধীনতা রক্ষা করার সবচেয়ে বড় উপায় হলো স্বাধীনতার পক্ষে নেরেটিভ বা বয়ান তৈরি করা। এমন কাহিনী তৈরি করা যেটা মানুষের মুখোমুখে ফিরবে। সেটি করার জন্য যে ধরনের ব্যাপক উৎসব আয়োজন দরকার সেগুলো করে যেতে হবে। এবং কাউন্টার নেরেটিভকে গিলোটিন করতে হবে।
Feroz Ahmed: সম্পূর্ণ একমত। বৈপ্লবিক চরিত্র ধরে রাখতে গেলে আরও যা লাগতো:
১. আমরা মনে করেছিলাম পতিত আওয়ামী সরকার শুধুই একটা লুটপাটকারী দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার, কিন্তু সবকিছু ভেঙ্গে পড়ার পর যা দেখা গেল এটি ছিল পুরোদস্তুর একটি মাফিয়া সরকার। একটি মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের বৈপ্লবিক চরিত্র ধরে রাখা কঠিন ছিল। সেক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি রক্তক্ষয় দরকার ছিল। সেরকম হলে, মধ্যবিত্ত শ্রেণি থেকে নিয়ে অনেকেই আন্দোলনকারীদেরকে দোষারোপ করতে শুরু করতো।
২. পাশের অবিবেচক ও মাফিয়ার দোসর প্রতিবেশি রাষ্ট্র আরও নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করতো।
৩. গত দশকে তথ্য প্রযুক্তির বিকাশগত কারণে যে তথ্য-প্রযুক্তির লজিস্টিক সুবিধা (পেগাসাসের মত প্রযুক্তি) সেটার পুরোটাই মাফিয়া সরকারের নিয়ন্ত্রণে। কাজেই মাফিয়া সরকার সেটির পূর্ণ ব্যবহারে কার্পণ্য করতো না।
৪. দেশের নাজুক অর্থনীতির নিরিখে দেখলে প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা মাফিয়ার সাঙ্গাতদেরকে রয়ে সয়ে উৎখাত করার সুযোগ তৈরি হলো। এটিই বরং সবার জন্য ভালো হলো। জনাব ফরহাদ মজহার শুধুই স্টাডিরুমের তাত্ত্বিকের মতো চিন্তা করেছেন বলেই মনে হয়।
Mohammad Mozammel Hoque: সবগুলো পয়েন্টের সাথে একমত। কাঁঠাল স্বাভাবিকভাবে পাকাই ভালো। কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানো ঠিক না।
Tushar Rashed: এটা বিপ্লব। আগ্রাসনকে পরাজিত করার বিপ্লব। আল্লাহর সিদ্ধান্তে আমাদের সফল বিপ্লব এটি।
Mohammad Mozammel Hoque: বিপ্লবের দুইটা অংশ: প্রাথমিক সাফল্যের পূর্ব পর্যায় এবং প্রাথমিক সাফল্যের পরবর্তী পর্যায়। প্রথম পর্যায়ে এটি বিপ্লব। দ্বিতীয় পর্যায়ে এটি বিপ্লব নয়, বরং গণঅভ্যুত্থান। বিপ্লবের পরিকল্পনা ছাড়া বিপ্লবকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া ভুল কাজ। এর মাধ্যমে অনেক সময়ে প্রতিবিপ্লব শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করে।
