তোমাদের জন্য বিস্তীর্ণ হয়ে উঠুক জমিন, নিরাপদ হোক আকাশ। আমরা অসহায়। বয়সের ভার আর গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে থেকে তোমাদের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু করতে না পারার হতাশায়।
তোমরা ইতিহাস তৈরি করেছো। জীবনজয়ী অগ্রনায়ক নির্ভীক সৈনিক তোমরা। দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সেনানী। আমরা তোমাদের অনুসারী। তোমাদের সাথে এই অপশক্তিবিনাশ যাত্রায় না থাকলেও, বিশ্বাস করো আল্লাহর কসম, আমাদের অশ্রু, আমাদের হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন, আমাদের দোয়া, আমাদের অন্তরের সবটুকু তোমাদের সাথে।
তোমরা বেঁচে থাকো। ফিরে এসো বিজয়ী বীর হিসেবে। তোমরা এগিয়ে যাও আগামীর পথে, সূর্যের মতো জ্বলে উঠো, অনুভবের বিস্ফোরণে অবিরত ছড়াও আলো। সত্য হোক তোমাদের সব স্বপ্ন। একটা ন্যায়পূর্ণ স্বদেশ গড়ার স্বপ্ন।
আজকের বাংলাদেশের প্রতিটি যুবক আবু সাঈদ। প্রতিটি ছাত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই মেয়েটির মত, পরিপূর্ণ পর্দা করা সেই মেয়েটি পুলিশের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অপরিচিত এক ছেলেকে জড়িয়ে ধরে প্রাণপণ চিৎকার করে বলছিল, ‘আমার ভাইকে আমি ছাড়বো না, না আমার ভাইকে আমি কোনোমতেই ছাড়বো না।’
তোমাদের গৌরব গাঁথা, ত্যাগের ইতিহাস, সাহসের নজির, সততার পরিমাপ লিখে শেষ করা যাবে না। তোমাদের সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে খোদার দরবারে। তোমরা মুজাহিদ, ইতিহাস নির্মাতা।
আজকের বাংলাদেশ সেই বাংলাদেশ যেখানে মৃত্যুপথযাত্রী গুলিবিদ্ধ ছেলেটি শুধু এতটুকু বলেছে, ‘আমার একটা বোন আছে। পারলে কেউ তাকে একটু দেখবেন!’
আমাদের কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, যুবক-যুবমহিলা, আজ থেকে আমার সন্তান দুজন মাত্র নয়। তোমরা সবাই আমার সন্তান। আমার উত্তরাধিকার।
দেশের দক্ষিণ-পূর্বকোণে এক পাহাড়ঘেরা ক্যাম্পাসে বসে আজকের শ্রাবণ দিনে আমি এটি লিখছি, বিশ্বাস করো অশ্রুতে আমার বুকে ভেসে যাচ্ছে। আমার বাবা-মায়ের মৃত্যুর পরে আমি এমন কেঁদেছিলাম।
ও আল্লাহ, আরশের মালিক, প্রভু দয়াময়, রহম কর, রহম কর, রহম কর, বাঁচাও আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে অত্যাচারীর ঘাতক বুলেট হতে।
সকাল সাড়ে ন’টা
৩৬ জুলাই ২০২৪
