রাজনীতি চলবে কি চলবে না

নীতির রাজা রাজনীতি, Politics is the highest form of morality এটি চলবে না তো কী চলবে?

সাধারণ ছাত্র জনতা রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণ না করার কারণে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে সম্ভব হয় নাই স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগকে হটিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। 

আওয়ামী ধর্মেবিশ্বাসী চোর-ডাকাতগুলো ছাড়া এই বিপ্লবে দেশের মুটে, মাঝি, কৃষক, শ্রমিক, গৃহিণী, ছাত্র-ছাত্রী, আপামর জনতা শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক হয়ে উঠেছিল, এক দফার দাবি তুলেছিল, তাই তো সাফল্য এসেছে অবিশ্বাস্যভাবে, দ্রুততম সময়ে।

নিজেরা ছাড়া বাদবাকিদেরকে রাজনীতির বাইরে রাখা, উন্নয়ন আর বিনোদন দিয়ে ভুলিয়ে রাখা, এইটা আওয়ামী প্রজেক্ট। স্বৈরাচারের জন্য টিকে থাকার কৌশল।

তাই রাজনীতি চাই। সুস্থ রাজনীতি অপরিহার্য। ক্ষতিকর হলো অসুস্থ রাজনীতি। অপরাজনীতি। তাই বুঝতেই পারছেন কেন বলছি, No politics in the campus.

জাতীয় রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে দলীয় লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি চলবে না।

আমরা দেখেছি, ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন করে আওয়ামী লীগের সভাপতি, ছাত্রদলের কমিটি দেয় বিএনপির সভাপতি। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি শপথ গ্রহণ করে ফুলের তোড়া নিয়ে যান জামায়াতের আমিরের কাছে।

এসব চলবে না।

ক্যাম্পাসে চলবে অধিকারের আন্দোলন, অধিকারের রাজনীতি। ছাত্র রাজনীতিতে ছাত্রদের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। জাতীয় রাজনীতির চলমান ইস্যুগুলো সম্পর্কে তারা কনসার্ন থাকবে। এর বেশি নয়।

রাজনীতির এই ট্রানজিশানাল পিরিয়ডে ক্যাম্পাসে বন্ধ থাকা উচিত সকল ধরনের রাজনীতি। যাতে পুরাতন টক্সিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ঝেড়ে ফেলে আমরা সুস্থ রাজনীতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারি।

একই সাথে ‘৭৩ এক্ট সংশোধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরে বন্ধ হওয়া উচিত সকল ধরনের শিক্ষক রাজনীতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র মোস্ট ২০জন শিক্ষকের মধ্য থেকে সরকার একজনকে উপাচার্য নিয়োগ করবে। উপাচার্যের সুপারিশে অনধিক দুইজন উপ-উপাচার্য নিযুক্ত হবেন।

ডিন, সিন্ডিকেট মেম্বার ইত্যাদি সকল পদে নিয়োগ হবে সিনিয়রটির ভিত্তিতে, সংক্ষিপ্ত মেয়াদে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজগুলো অনেকটা নিয়মতান্ত্রিক। এখানে পলিটিক্যাল লিডারদের মতো অত যোগ্য লোকের দরকার নাই। হলে ভালো। না হলেও কোনো অসুবিধা নাই।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একমাত্র নির্বাচন হবে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন।

এছাড়া সকল ধরনের নির্বাচন অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। বর্তমান এক্টে শিক্ষকদেরকে পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ তাদেরকে দলীয় রাজনীতি করার অধিকার দেয়া হয়েছে। এটি সংশোধন করে আইনসভায় শিক্ষকদের অংশগ্রহণকে উন্মুক্ত করা উচিত। বন্ধ করা উচিত জাতীয় রাজনৈতিক দলে শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ।

শিক্ষকরা ক্ষমতার রাজনীতি করবে না। তারা আদর্শের কথা বলবে যার যার মতো করে, এতটুকুর গ্যারান্টি থাকাই যথেষ্ট।

ছাত্র শিক্ষক শুধু নয়, আমি চাই, কোনো পেশাজীবী স্বীয় পেশাগত অঙ্গনে জাতীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হবে না। প্রত্যেক নাগরিক রাজনৈতিকভাবে সচেতন হবে, রাজনীতি করবে। তবে সেটি তাকে করতে হবে তার পেশাগত অঙ্গনের বাইরে গিয়ে।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Tanvir Ahammed Romany: আপনার মতামত স্পষ্ট করুন- ছাত্র সংসদ, নাকি কোনো দলীয় রাজনীতি চান?

Mohammad Mozammel Hoque: ‘ক্যাম্পাসে চলবে অধিকারের আন্দোলন। অধিকারের রাজনীতি। ছাত্র রাজনীতিতে ছাত্রদের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। জাতীয় রাজনীতির চলমান ইস্যুগুলো সম্পর্কে তারা কনসার্ন থাকবে। এর বেশি নয়। রাজনীতির এই ট্রানজিশানাল পিরিয়ডে ক্যাম্পাসে আপাতত বন্ধ থাকা উচিত সকল ধরনের রাজনীতি। যাতে পুরাতন টক্সিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ঝেড়ে ফেলে আমরা সুস্থ রাজনীতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারি।’

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *