দ্বিতীয় স্বাধীনতার পরে হাসিনাউত্তর বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চান?
প্রগতিশীল বাংলাদেশ চান? নাকি, প্রতিক্রিয়াশীল বাংলাদেশ? হায় হায়, প্রতিক্রিয়াশীল বাংলাদেশের পক্ষে আপনারা কেউ নাই। আমিও নাই। সমস্যা হলো, প্রগতিশীল বাংলাদেশে তো আমার জায়গা নাই। তাহলে আমি যাব কোথায়?
আমার মতো কোটি কোটি ধার্মিক লোকেরা যাবে কোথায়?
প্রগতিশীলদের দৃষ্টিতে আমার মতো ইসলামপন্থীরা প্রতিক্রিয়াশীল। প্রাক্তন কিংবা বর্তমান, জামায়াত-শিবির হলেই তো সে খাঁটি মৌলবাদী। সুশীলরা একটা মৌলবাদমুক্ত প্রগতিশীল বাংলাদেশ গঠন করতে চায়।
ধর্মবিদ্বেষী এই প্রগতিশীলদের বাংলাদেশে আমাদের মতো মৌলবাদীরা তো বটেই, বিএনপি করা মডারেটদেরও ঠাঁই নাই। তাদের ভাবসাব, কথাবার্তা ও কাজে এটি বোঝা যায়।
ইলেকশনে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে এমন লোকেরা এখনই বলাবলি করছে, অমুক ইলেকশন করতে পারবে না, তমুক ইলেকশন করতে পারবে না। একে এই পদে চাই না, ওকে ঐ পদে চাই না।
হাসিনাও তো ঠিক এ’ধরনের কথাই বলতো।
নতুন সংবিধান করার জন্যে তো আপনাদেরকে একটা constituent assembly গঠন করতে হবে। খুব সম্ভবত গণভোট বা রেফারেন্ডামও লাগবে। তো, যখনই হোক সেই নির্বাচনে আপনারা কসাইয়া কসাইয়া মিষ্টি মিষ্টি কথা বলা বুদ্ধিজীবীরা, আপনাদের সবগুলো দল মিলে কয় সিট পাবেন? নাচ, গান আর প্রমিত উচ্চারণের কথাবার্তা দিয়ে বিনোদন-সংস্কৃতিতে ঢেউ তোলা যায়, টকশো জমানো যায়, মিডিয়াবিপ্লব করা যায়, ভোটের ময়দানে টেকা যায় না।
স্বচ্ছ নির্বাচনে জিততে হলে জনগণের মনের ভাষা বুঝতে হয়। তাদের একজন হতে হয়। আমার ক্ষোভের কারণ আছে। ছবিতেই দেখুন, তারা এতগুলো মূর্তি বানিয়েছে, হরেক রকম ক্রাইটেরিয়া সেখানে ফুলফিল করা হয়েছে, রিপ্রেজেন্ট করা হয়েছে, নাই শুধু বোরকা পরা কোনো নারী, দাঁড়ি-টুপি-পাঞ্জাবি পরা কোনো পুরুষ।

আওয়ামী লীগকে এই পর্যায়ে এনেছে, হাসিনাকে হাসিনাগিরি করার পথ সুগম করেছে এইসব ধর্মবিদ্বেষী বামপন্থীরা। ২০১২/১৩ সালের দিকে প্রফেসর এম এম আকাশ ‘প্রথম আলোতে’ লিখেছিলেন, যেই ফেয়ার ইলেকশনে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় আসবে সেই ইলেকশনের দরকার নেই। ‘মৌলবাদ নিধনের’ জন্য আওয়ামী লীগকে তারা ব্ল্যাংক চেক দিয়েছিল।
এখনো তাদের মনোভাব ঠিক সে রকম। জনগণের স্বাধীন গণতান্ত্রিক মতামতকে তারা খুব ভয় পায়। তারা মনে করে, জনগণ বোঝে না। তারা মনে করে, জনগণের ভালো কী হবে সেটা জনগণের চেয়ে তারাই বেশি ভালো বোঝে।
তাদের ধারণা, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল, অন্ততপক্ষে আওয়ামী লীগের প্যারালাল রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপি, বৃহত্তম ইসলামী দল জামায়াত ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলামী, এরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বসে বসে মোবাইল আর টিভিতে হাসিনার নাটক দেখছিল। সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলনে ডানপন্থী ইসলামপন্থীরা ছিলো না।
তাদের এই মনোভাবের প্রমাণ হলো, তারা প্রশ্ন তুলে, আন্দোলন করেছে সাধারণ ছাত্ররা। এখন এরা এখানে কেন? ওরা ওখানে কেন? শপথ অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি গীতা, বাইবেল, ত্রিপিটক পাঠ হয়নি কেন? প্রগতিশীলতার ধ্বজাধারীদের এই হিপোক্রেসির শেষ কোথায়? নতুন বাংলাদেশ আসলে কার?
মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Ahsan Kabir: এই তো চিন্তায় ফেলে দিলেন। আসলে কয়জন জনসাধারণের কথা ভাবে? আমরা করেছি, কাজেই দেশ আমাদের। অথচ দেশ আমাদের সকলের। এই যে আন্দোলনটা হলো, এখানে সরাসরি বিরোধী পক্ষ ছাড়া এটা সকলেরই আন্দোলন। যেমন ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, কেউ মাঠে ছিল, আর কেউ সমর্থন করেছে।
Mohammad Mozammel Hoque: আমি আমার বিজয়ী বক্তব্য বলেছি, যে মহিলাটা ঘরে রান্না করে আন্দোলনকারী কাউকে খাইয়েছে সেও একজন মুক্তিযোদ্ধা।
Rakib S Reza: বাংলাদেশে কোন ধার্মিককে প্রতিক্রিয়াশীল ভাবা হয় না। যারা উগ্রবাদ-ধর্মকে নিজের মত ব্যাখ্যা করে নিজের স্বার্থসিদ্ধ করে, লালসালু-শিবির তাদেরকে বলা হয়। বাংলাদেশে এরা শিবির-হেফাজত, ভারতে BJP, আমেরিকায় রিপাবলিকান, ইংল্যান্ডে কনভারভেটিভ …
এদের মতবাদের সাথে ধর্মের-ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। এরা মুনাফেক।
Mohammad Mozammel Hoque: শিবির বলে পিটাতে গিয়ে, রাজাকার ট্যাগ দিয়ে মারপিট করতে গিয়ে শেখ হাসিনা উল্টে গেলো। এখনো আপনাদের এই ন্যারেটিভ গেলো না?
আমি তো এক্স-শিবির। আপনার যদি এতই শিবিরবিদ্বেষ, তাইলে আপনি আমাকে ব্লক করেন। অথবা এমন কিছু করেন যাতে আপনাকে আমি ব্লক করতে পারি।
তারপর আপনি যা ইচ্ছা তাই করেন, আপনার বিরুদ্ধে থাকবে দেশের আপামর তৌহিদী জনতা। দেশের ইসলামিক ফোর্সগুলো এতটা কাছাকাছি কখনো আগে ছিল না। ভালো থাকেন।
Nayeema Binte Shafique: নতুন সরকার তো বৈষম্য বিরোধী বাংলাদেশের কথা বলে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলে। সেক্ষেত্রে, নতুন বাংলাদেশে কোনো ধর্ম বিদ্বেষী থাকতে পারবে না। ধর্ম-বিদ্বেষী আচরণ করলে তাকে এরেস্ট করে বিচারের আওতায় আনতে হবে, এই আইন করা যায়না?
Mohammad Mozammel Hoque: ধর্মান্ধতা এবং ধর্মবিদ্বেষ এই দুইটাকেই রুখতে হবে।
