‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হুকুম’ পেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কেন নরপিশাচ হয়ে ওঠে?

কিছু কিছু বিপদ আমাদের ঘাড়ের উপরে এসে পড়ার আগ পর্যন্ত আমরা বুঝতে পারি না যে আমরা ঘোরতর বিপদের মধ্যে আছি। নিজেরা জেলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কারাসংস্কারের কথা জাতীয় নেতৃবৃন্দের মনে থাকে না। ডিভোর্সের সম্মুখীন হওয়ার আগ পর্যন্ত পারিবারিক আইনের ত্রুটিবিচ্যুতি আমাদের চোখে পড়ে না।

একই রকমের ঘটনা ঘটলো সম্প্রতি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ‘উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হুকুম’ এমনভাবে মেনে চললো যেন তারা এক একটা রোবট। Universal Soldier সিরিজের সিনেমাগুলোতে এই ধরনের মানবাকৃতির দানবদেরকে দেখানো হয়।

নিজেদের সন্তানতুল্য ছাত্রদের উপরে সরাসরি লাইভ এমুনিশান দিয়ে আক্রমণ করতে তারা দ্বিধাবোধ করেনি এতটুকু।

দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা, দেশের সম্মান, জনগণের ভোটাধিকার, স্বাধীন গণমাধ্যম, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাসহ বহু কিছু বরবাদ করা হচ্ছে, ধ্বংস করা হচ্ছে অব্যাহতভাবে, সে’সব নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নাই।

সর্বস্তরের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা তাদের একটা ন্যায্য দাবি নিয়ে রাস্তায় নামার পরে সরকারী দলের পেটুয়া বাহিনী যখন তাদের উপর আক্রমণ চালালো, তখন সেই ঠ্যাঙ্গারু বাহিনীকে রক্ষা করার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে তারা, মানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছাত্র-জনতার ওপর ঝাপিয়ে পড়লো! দেশ রক্ষা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা তখন তাদের অতীব জরুরী কর্তব্য হয়ে পড়লো! হুকুম পাওয়ামাত্র তারা যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে গেলো! আশ্চর্য!

সেকুলার রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মিলিটারি সিকিউরিটিসহ বৃহত্তর ল অ্যান্ড অর্ডার সিস্টেমটাই এমন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আপনাকে যা হুকুম করা হবে আপনি তাই করতে বাধ্য। অন্যথায় আপনি সম্মুখীন হবেন কোর্ট মার্শালের। নগদে পাবেন মৃত্যুদণ্ড।

এখানে মনুষ্যত্ব, বিবেক ও নীতিনৈতিকতার প্রশ্ন অবান্তর। সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

ভাবতে পারেন, একটা বাহিনী, যাদের কাছে আইনসম্মতভাবে আছে সব মারণাস্ত্র, তারা সেগুলো ব্যবহার করে কোনো প্রকারের নৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছাড়া, নিছক হুকুমের গোলাম হিসেবে?

একটা গভীর খাদের কিনারায় আপনি দাঁড়িয়ে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরে আপনি এটি ভুলে যাবেন। তাই আল্লাহর ওয়াস্তে এখনি বলে যান, কীভাবে আমরা এ’ধরনের নিরাপত্তা-ঝুঁকি থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি?

Let’s talk freely.

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Md Shoayeb Reza: ঈমান আর কুফরের সীমানা এখানেই।

Mohammad Mozammel Hoque: ইসলামিক দৃষ্টিতে কারো নিঃশর্ত আনুগত্য দাবি করা বা কারো নিঃশর্ত আনুগত্য করার সুযোগ নাই। কোনো হারাম কিংবা নাজায়েজ কাজে কেউ কাউকে হুকুম করতে পারে না। এবং এ ধরনের হুকুম কেউ করলে সেটা নালিফাইড হিসেবে গণ্য হবে।

Naeem Hasan: Md Shoayeb Reza, আমেরিকার ক্যাপিটল হীলে গণ-আক্রমণে ৬জন পুলিশ নিহত হয়েছিল, কিন্তু কেউ নিরস্ত্র নাগরিকের উপর ফায়ার করে নাই। এখন বলেন আমিরিকার পুলিশ কীভাবে এত ‘ইমানদার’ হলো?

Mohammad Mozammel Hoque: Naeem Hasan, ঈমানদারের মতো আচরণ করেছে ঈমান না থাকলেও।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *