বিএনপিভীতি

একটা বিষয়ে বিএনপি বাদে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী বাদবাকি সব দলগুলোর সাথে শেখ হাসিনার বিরাট মিল। সেটি হলো, বিএনপিভীতি।

শেখ হাসিনার দল মনে করতো, তারা এত উন্নয়ন করছে, আরো প্রভূত উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে, অথচ জনগণ এতটাই অবুঝ, তারা ফেয়ার ইলেকশন দিলে গণহারে বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসার মত বোকামি করার সমূহ সম্ভাবনা। তাই, তাদের প্রতিজ্ঞা ছিল, ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন দেয়া যাবে না।

একই রকমভাবে, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমানে ক্ষমতায় যাওয়া পক্ষ এবং ‘প্রথম আলো মন মানসিকতা’ নিয়ে গড়ে ওঠা সুশীল সমাজ, বিএনপি’র বাইরে থাকা ছোট দলগুলো, তারা মনে করে, তারা এত এত সংস্কার কার্যক্রম করছেন এবং করবেন, সেগুলো বিএনপি ক্ষমতায় চলে আসলে আর হবে না।

বিএনপিকে তারা আওয়ামী লীগের ছোট সহোদর তথা ফ্যাসিবাদী দল বলে মনে করেন। তারা মারাত্মকভাবে বিএনপিভীতিতে ভুগছেন। এই ভীতি, আমার ধারণা, জনগণের অবাধ ভোটাধিকারের ব্যাপারে সন্দেহ ও অনীহা থেকে উদ্ভূত।

ঠিক শেখ হাসিনার মতো তারাও মনে করেন, ভোট দিতে দিলে জনগণ না বুঝেই বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে। আর ক্ষমতায় বসামাত্রই বিএনপি আওয়ামী লীগ হয়ে উঠবে। ‘বিএনপিকে পাশ কাটিয়ে করা আন্দোলনের’ (?) ফসল সব নষ্ট হয়ে যাবে।

আমি রাজনীতিকে নির্মোহ দৃষ্টিতে দেখি। তাই বিএনপি না করলেও মনে করি, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বাধীনতার গ্যারান্টি হলো বিএনপি’র কিংবা বিএনপি-টাইপের রাজনীতি। বিএনপি শক্তিশালী পজিশনে থাকলে শক্তিশালী হবে জামায়াতসহ বাংলাদেশপন্থী সব রাজনৈতিক দল।

রাজনীতির খেলায় প্লেয়ার পরিবর্তন হয়, ক্লাবগুলো ঠিক থাকে। একসময় বিএনপি ছিল না। ডানপন্থী রাজনীতির নেতৃত্ব দিয়েছিল মুসলিম লীগ। এমনকি, তৎকালীন আওয়ামী লীগও এক সময়ে ডানপন্থী রাজনীতির কর্ণধার ছিল। ভবিষ্যতে বিএনপি না থাকলে সেই স্থানে অন্য কেউ আসবে। এই পরিবর্তনকে অর্গানিক্যালি হতে দেওয়াই ভালো। কোনো kings পার্টি এখানে শেষ পর্যন্ত সুবিধা করতে পারবে না।

যারা বিএনপিকে এখনই রিপ্লেস করতে চান তাদের জন্য সমস্যা হলো, আমাদের মত অনুন্নত দেশে আইকনিক বা টাওয়ারিং ফিগার ছাড়া রাজনীতিতে কেউ ভালো করতে পারে না। তাই বিএনপিবিরোধীদের কাছে আমার প্রশ্ন, কোথায় আপনাদের একজন প্রেসিডেন্ট জিয়া? কিংবা, একজন খালেদা জিয়া?

রাজনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে আপনাদের একজন অনুরূপ ক্যারিসম্যাটিক লিডার সামনে আসার আগ পর্যন্ত আপনাদের উচিত, বিএনপির সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করে চলা। বিএনপিকে শক্তিশালী করা। বিএনপি দুর্বল হওয়া মানে, বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি দুর্বল হওয়া।

জুলাই আন্দোলনের সকল অভিমানী সহযোদ্ধাদের জন্য এটি আমার পরামর্শ।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Nasir Uddin Milon: জিয়া পরিবারের বাহিরে বিএনপিকে বিশ্বাস করা কঠিন। তাদের বয়োজ্যেষ্ঠ বামপন্থী নেতাদের বক্তব্য শুনলে এই অবিশ্বাসটা আরো প্রখর হয়।

Mohammad Mozammel Hoque: এখনকার সময়ে একজন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতো …!

Nasir Uddin Milon: জ্বী, স্যার। তারেক রহমান দেশে এসে বিএনপির পুরো কন্ট্রোল নিতে পারলে হতাশ করবে না আশা করি।

Mohammad Mozammel Hoque: তারেক রহমান সম্পর্কে আমার ভালো জানাশোনা নেই।

Jobaer Hussain Sohag: জনাব জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার পর বিএনপিকে আস্থা রাখার মত যথেষ্ট tools নেই আমার মতে। অতীতের দুই পিরিয়ডের অভিজ্ঞতাও সুখকর নয় শেষাবধি। তারাও অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করেছে। আওয়ামীলীগের মতো যথেষ্ট শক্তিশালী ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারায়। শেষবেশ বাধ্য হয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছে।

Mohammad Mozammel Hoque:  বিএনপিকে সমর্থন না করার অনিবার্য পরিণতি হলো একটা কিংস পার্টি গঠন করা এবং সেটাকে ক্ষমতা আনার চেষ্টা করা। আমার ধারণা, একটা ফ্রী অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনের জোয়ারে এইসব পরিকল্পনা ভেসে যাবে, এ’দেশে কোনো একদিন যদি ফ্রী অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হয়।

Jobaer Hussain Sohag: অবশ্যই আমি মনে করি সেই ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশের জন্যই জুলাইয়ের গণ অভ্যুত্থান। কিংস পার্টি গঠনের পক্ষে এই অভুথানকারীরাও স্বয়ং নেই গুটিকয়েক শহুরে এলিট বর্গ ব্যতীত। কিন্তু আমি মনে করি একটা স্থিতিশীল সোসিওলেগাল ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির আগ অব্দি নির্বাচন আয়োজন করা নিরাপদ হবে না। সেই ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির কাজটা এইজন্যই জরুরি যাতে করে অদূর ভবিষ্যতে এদেশে আর কোনো মুজিব বা হাসিনা তৈরি না হতে পারে।

৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি যে অবাধ চাঁদাবাজি নৈরাজ্য শুরু করেছে তাতে তাদের উপর ভালোবাসা ম্লান হয়ে গেছে আমজনতার।

Mohammad Mozammel Hoque: সাধারণ জনগণের যদি সমর্থন চলে যায় তাহলে তারা ভোটের রাজনীতিতে মার খাবে। কিছু করার নাই। কিন্তু ব্যাপারটা আসলেই কেমন, সেটা একটা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন দেয়ার আগে কীভাবে আমরা বুঝব?

Jobaer Hussain Sohag: সেটাই। কিন্তু প্রচলিত গণতন্ত্র আর সংবিধানকে হাসিনা যে হাল করে দিয়ে গেছে তাতে ওই সিস্টেম অব্যাহত রেখে নির্বাচন হলে বড় দলের পক্ষে যেভাবে হোক নির্বাচনকে হাইজ্যাক করা সম্ভব। এটাই শঙ্কার বিষয়। তবে যদি সিস্টেম সংস্কার হওয়ার ভরসা না থাকে তবে দ্রুত নির্বাচন দেওয়াই সমাধান মনে করি।

Mohammad Mozammel Hoque: নির্বাচন কমিশনকে ভালো করে সংস্কার করার পরে নির্বাচন হলে ‘বড় দলের পক্ষে নির্বাচনকে হাইজ্যাক করা’ কীভাবে সম্ভব? নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কার করাই তো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কাজ।

Mahmudul Kabir Anik: বিএনপিভীতি দূর করানোর দায়িত্ব তো বিএনপির। জনগণ আগ বাড়িয়ে কেন বিএনপিকে শক্তিশালী করতে যাবে? ৫ আগষ্টের পর বিএনপি জনগণের কাতারে না এসে বিপক্ষে চলে গিয়েছে।

Mohammad Mozammel Hoque: জামায়াত আর সুশীলদের বিএনপিভীতি দূর হবে না কোনোদিনও। সেটা সমস্যা না সমস্যা হলো, তারা যে বিএনপিভীতিতে ভুগছেন, সেটা তারা স্বীকার করতে নারাজ।

রাজনীতি হলো খেলার মত ব্যাপার। Game theory is the perfect example of politics. সুতরাং উপযুক্ত কৌশল নিয়ে যার যার রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই ভালো।

রাজনীতির ফর্মুলা না বুঝে যারা রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করেন কিংবা অবস্থান গ্রহণ করেন, তাদেরকে হেল্প করা হলো আমার উদ্দেশ্য। আমি চাইলেই কারো এগোস্টিক পজিশন চেঞ্জ করাতে পারবো না।

Mohammad Tausif Rafi: বিএনপি সংস্কার করবে এর কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? আমার ধারণা প্রশ্নটা বিএনপি বিরোধিতার না, সংস্কারের নিশ্চয়তার। সংস্কারের পরে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে না এইরকম তো না।

Mohammad Mozammel Hoque: তুমি নিজেই ভেবে দেখো, তোমার এই অবস্থানটা মূলত দেশের জনগণের প্রতি অনাস্থা। জনগণ যদি সংস্কার চায়, তাহলে যারা সংস্কার চায় না তাদেরকে জনগণ ভোট দিবে না। যারা চায় তাদেরকে ভোট দিবে। ব্যাপারটা কি এভাবে হতে পারে না? কেন নয়?

Mohammad Tausif Rafi: আমার অনাস্থা রাজনৈতিক দল সংস্কার করবে এই ব্যাপারে, আমার ধারণা জনগণ সংস্কার চাইলেও যে কোনো দল ক্ষমতায় আসার পরে সংস্কার করবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই, অন্তত দলগুলোর ইতিহাস আর সংস্কার বিরোধী প্রচারণায় বিবেচনায়।

Mohammad Mozammel Hoque: ‘জনগণ সংস্কার চায়, কিন্তু বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দল সংস্কার চায় না’, আমার এই লেখার মতো একটা অনুমাননির্ভর মতামত দেওয়া ছাড়া এ ব্যাপারে সত্যিকারভাবে জানার উপায় কী? নির্বাচন ছাড়া?

বিশ্বজ্যোতি বড়ুয়া শান্ত: দেশের ভবিষ্যত কেমন হতে পারে? লিডিংয়ে কারা থাকবেন সামনে?

Mohammad Mozammel Hoque: ভবিষ্যৎ তো ভবিষ্যতেই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। এখন যতটুকু মনে হয়, হাসিনাগিরি করার সুযোগ ভবিষ্যতে কেউ পাবে না। জনগণ সচেতন হয়ে গেছে। মানুষের ভয় ভেঙে গেছে।

মানুষ কী চায়, কাকে চায় সেটা জানার জন্য একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার। সংবিধান সংশোধন হবেই হবে। এবং সেটার জন্য পার্লামেন্ট লাগবে। সেই সংসদ গঠন করার জন্য নির্বাচন লাগবে।

অতএব কাজের কাজ হলো, একটা সুন্দর নির্বাচন করার জন্য যা করা দরকার সেটা করা।

বিশ্বজ্যোতি বড়ুয়া শান্ত: কিন্তু নির্বাচনে যাওয়ার মতো রাজনৈতিক দলগুলো গুছিয়ে উঠতে পেরেছে কিনা? এখনো বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতেই সময় চলে যাচ্ছে। জনগণ শিখেছে কীভাবে সংগ্রাম করে অধিকার আদায় করতে হয় ১৫ বছর পর মানুষ নতুন করে বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিচ্ছে, ফ্যাসিবাদ থেকে বাঁচার চেষ্টা করতেছে (ভালো দিক) । এদিকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো অনেক অপরাধীর শাস্তি হয়নি, তাদের বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ক্লিয়ার না।

Mohammad Mozammel Hoque: ১৫ বছর নির্বাচন হয়নি। তাই এখন নির্বাচনের জন্য অন্ততপক্ষে ১৫ মাসের প্রস্তুতি দরকার। এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত।

Zayed Habib: ৫ই আগষ্টের পর সবাই যেভাবে বিএনপির পিছনে লেগেছে তা সত্যি হতাশাজনক। বিএনপি খুব সতর্ক ভাবে সব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক ভাষা না বুঝে অনেকে স্রোতে গা ভাসাচ্ছে! বিএনপি চায় এই সরকার যেন ব্যর্থ না হয়। একটি অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। সংস্কারের দোহাই দিয়ে নির্বাচন বিলম্বিত করা কি জাতির জন্য ভালো হবে?

Mohammad Mozammel Hoque: যারা ইলেকশনে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারবে না, এ ধরনের একটা কায়দাকানুন করে ক্ষমতায় থাকা তাদের জন্য বেশ সুবিধাজনক, তাই না?

Rezaul Karim Reza: এই বাংলাদেশে বার বার জীবন দিয়ে স্বৈরশাসক পরিবর্তন করার চেয়ে, পুরো শাসন ব্যবস্থা এমনভাবে পরিবর্তন করা প্রয়োজন, যাতে করে আর কোনো স্বৈরশাসক/ফ্যাসিবাদের তৈরিই না হয়।

Mohammad Mozammel Hoque: তাহলে আপনারা এমন একটা সংবিধান করতে চান, যে সংবিধান আর পরিবর্তন করা যাবে না? যুগে যুগে সব স্বৈরাচারী, সর্বশেষ শেখ হাসিনা তো তাই করার চেষ্টা করেছে।

আপনারা কেন জনগণের উপর নির্ভর করছেন না? কেউ যদি জুলুম করে পরবর্তী ইলেকশনে সে হারবে। আর যদি বেশি জুলুম করে তাহলে ইলেকশনের আগেই আন্দোলন করে তাকে নামানো হবে। আগাম ইলেকশন দিতে বাধ্য করা হবে। এই ধরনের একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে আসার সমস্যা কী? আসমানের ফেরেশতাদের সরকার হলেও আমি অনির্বাচিত যে কোনো সরকারের চেয়ে নির্বাচিত সরকারের উপরে বেশি আস্থা রাখি।

Mohon Bhuiyan: উপরে যত কিছু লিখেছেন একটি কথা ছাড়া বাকি সবই মোটামুটি সঠিক। বলেছেন জামায়াত বাংলাদেশপন্থী দল বাংলাদেশের বেশিরভাগ জনগণ এটা মানেও না, বিশ্বাসও করে না। যার প্রতিফলন জাতীয় নির্বাচনগুলোতে প্রতিলক্ষিত হয়।

Mohammad Mozammel Hoque: আমরা যখন কোনো কথা বলি তখন সেটা কোনো একটা বিষয়কে সামনে রেখে বলি। যেমন আমরা যখন বলি বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি তখন আমরা বুঝাই, যারা ভারতপন্থী রাজনীতি করে না তারা বাংলাদেশপন্থী। এই দৃষ্টিতে জামায়াতে ইসলামী অবশ্যই বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির অন্যতম ধারকবাহক। ইলেকশনে তারা প্রত্যাশা তুলনায় খারাপ করে, সেটা ভিন্ন কারণ।

Jahangir Alam: অতীত ইতিহাসই বলে বিএনপি মাঝারি দুর্নীতিবাজ (আওয়ামী লীগের তুলনায়)। সাধারণ যত মানুষের সাথে কথা বলেছি সবার একই মত; আওয়ামী লীগ আর বিএনপি হলো একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাই আমরা মনে করি সংবিধান নতুন করে রচনা করা ছাড়া কোনো নির্বাচন দেয়া উচিৎ হবে না।

Mohammad Mozammel Hoque: যত সংস্কারই করেন, শেষ পর্যন্ত তো নির্বাচন দিতে হবে। তখন সক্রিয় হয়ে উঠবে সাধারণ জনগণ। এরা, মানে ‘অশিক্ষিত’ সাধারণ লোকেরা, শেষ পর্যন্ত আস্থা রাখবে তাদের মতো করে। ‘আওয়ামী লীগ আর বিএনপি হলো একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’ – এটাই ছিল ফ্যাসিস্ট এনাবলার প্রথম আলো পাঠক গোষ্ঠীর মূল বয়ান।

Muhammad T Sobhan: স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির ভূমিকা প্রশংসনীয়। কিন্তু ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। শক্তিশালী মিডিয়া নেই, প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক সংগঠন নেই, নিজস্ব বয়ান তৈরির মতো বুদ্ধিজীবি নেই, একাত্তরের বিকৃত ও আওয়ামী বয়ানের ইতিহাস খণ্ডন করার কোনো ইচ্ছা নেই। এই দূর্বলতাগুলি কাটাইতে না পারলে বিএনপিকে ভোট দিয়ে লাভ কি?

Mohammad Mozammel Hoque: রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় সামগ্রিক বিবেচনায়। কেন সমর্থন করবেন, সেটা নয়; বরং সমর্থন না করলে কী হবে সেই বিবেচনাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়।

তৎকালীন আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমর্থন করেছিলেন রোমান সাম্রাজ্যকে। কোরআনে রীতিমতো একটা সূরা আছে, সূরা রুম, এই নামে। বোঝার চেষ্টা করেন।

Musaddeque Hashemi: বিএনপির দায়:

১) ৯০ এ যে তিন-জোটের রূপরেখা ছিলো তা ব্যর্থ হওয়ার প্রথম দায় ।

২) ৯৬ এর ইলেকশন যার ফলে ভঙ্গুর এক তত্ত্বাবধায়ক সিস্টেমের আবির্ভাব।

৩) ১/১১ এর পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে চরম অবস্থায় ঠেলে দেয়া।

আর বর্তমানে চাঁদাবাজি আর দখলদারি রাজনীতি। মানুষকে আর কত বোকা বানাবেন।

বাংলাদেশের রাজনীতি শক্তিশালী করার জন্য এখন দরকার ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে জয়যুক্ত করার জন্য ছাত্র নেতৃত্বের সাথে একযোগে কাজ করে একটা মজবুত ব্যবস্থা তৈরি করা।

Mohammad Mozammel Hoque: হ্যাঁ, মানুষজন তো খুব বোকা। শেখ হাসিনার দৃষ্টিতেও বোকা, আপনাদের দৃষ্টিতেও বোকা। মানুষদেরকে এডুকেটেড করেন, অসুবিধা নাই। তবে অবাধ ভোটাধিকার তারা পাবে কিনা সেটিই হলো মিলিয়ন ডলার কোয়েশ্চেন!

যদি অবাধ ভোটাধিকার পায়, তাহলে তারা নির্ঘাত আবারও বিএনপিকে ভোট দেওয়ার মতো ‘বেকুবি’ করবে, আমি বাজি ধরতে পারি।

Ariful Arif: প্রেসিডেন্ট জিয়া সত্যিকারের দেশপ্রেমিক প্রেসিডেন্ট ছিলেন। খালেদা জিয়ার পার্সোনালিটিও ব্যতিক্রম। কিন্তু বিএনপির একটা অংশের আওয়ামী প্রীতি সবাইকে বিস্মিত করেছে।

Mohammad Mozammel Hoque: বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভালো করতে হলে আইকনিক ফিগার লাগবে। এবং রাজনীতি হতে হবে পিউর পাওয়ার পলিটিক্স। কেতাবী ভাষায়, সেন্ট্রিস্ট পলিটিক্স। আদর্শের রাজনীতির মাধ্যমে দাওয়াতি কাজ হতে পারে, ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনা দুরূহ ব্যাপার।

Ariful Arif: জামায়াতে ইসলামী সেই দাওয়াতী কাজ করছে। তবে পলিটিক্সে হয়তো আইকনিক নাও হতে পারে কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে আল্লামা সাঈদী সাহেবের দুই ছেলে পিরোজপুর ১ ও ২ থেকে নির্বাচন করলে ইলেক্টেড হওয়ার পসিবলিটি খুব বেশী। বিএনপির আইকনিক ব্যক্তিও আছে পাওয়ার পলিটিক্স করার সক্ষমতা আছে। তবে দিন যতই বাড়বে বিএনপির সিট তত কমবে।

Mohammad Mozammel Hoque: দেশে যদি প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির শাসন ফিরে আসে, যেটার সম্ভাবনা খুব কম, সেক্ষেত্রে যদি তেমন আইকনিক ফিগার ইলেকশনে দাঁড়ায় তাহলে ভালো করতে পারে। কিন্তু আমার ধারণায়, দেশে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা আর ফিরবে না

জামায়াতে ইসলামী নাচতে নাচতে আওয়ামী লীগের সাথে মিলে আমাদের দেশের জন্য উপযোগী এই প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেমকে চেইঞ্জ করতে বিএনপিকে বাধ্য করেছে।

তখনকার সময়ে যদি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে দাঁড় করানো যাইতো তাহলে তিনি জিতে যেতেন। আমার ধারনা, এখনকার ডাক্তার শফিকুর রহমান সাহেবও ভালো করতেন যদি সেই ধরনের ব্যবস্থা থাকত। নিজেরা ১০ সিট পাওয়ার জন্য তারা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে, একই সাথে নিজেদের ভবিষ্যৎকে নষ্ট করেছেন।

Ariful Arif: চমৎকার বলেছেন। এই নির্বাচনী ব্যবস্থায় জামায়াতে ইসলামী কিছু সিট পাবে। কিন্তু সুবিধাজনক কিছু করতে পারবে না। জামায়তে ইসলামীকে অনেকেই ভয় করে কিন্ত আওয়ামীলীগ ঠিকই চিনে ফেলেছিলো। জামায়াতে ইসলামী ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর মার খেয়েছে মরে গেছে লীগের হাতে। আবার জামায়াতের শীর্ষ সব নেতা লীগ ফাঁসি দিয়ে মেরে ফেলেছে। কিছুই করতে পারেনি। হাসিনা জামায়েতের দুর্বলতা চিনে ফেলেছিলো। এদের ডিসিশন মেকিং কিভাবে হয় কে জানে।

Joynal Abedin: “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগ হয়ে উঠবে” কথাটা আমার মনে হয় বিএনপিরই কিছু নেতা আন্তরিক ভাবে বিশ্বাস করে। তাইতো ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার সাথে সাথেই তারা ছাত্রদল নিষিদ্ধের গন্ধ পায়।

Mohammad Mozammel Hoque: বিএনপি অপারেশন ক্লিন হার্ট করেছিল বলেই ক্ষমতা হারিয়েছিল। বোঝার চেষ্টা করেন। এটি বাংলাদেশ। ইউরোপ কিংবা আমেরিকা নয়। রাজনীতি একটা চরম বাস্তবতার জিনিস। মতাদর্শগত ভাবালুতা দিয়ে রাজনীতির গাড়ি চলে না।

শাওন শাহরিয়ার: বিএনপির অন্যতম প্রধান দুর্বলতা হলো আরবান মিডল ক্লাসের সাথে কানেক্ট করতে না পারা। নতুন প্রজন্মের ভাষা না বোঝা। ভোট টানার ক্ষমতা তাদের থাকলেও ন্যারেটিভ তৈরিতে আবার তীব্র অনীহা। তাদের ন্যারেটিভটা যে কী সেটা একেবারেই অস্পষ্ট।

Mohammad Mozammel Hoque: যাদের নেরেটিভ নাই, নেরেটিভ তৈরির যোগ্যতা নাই, তারা কীভাবে ভোট টানে, এটা নিয়ে একটা সিরিয়াস ডিসকার্সিভ এনালাইসিস হতে পারে। তাই না?

Abdullah Morshed: যে বিএনপির পক্ষে এতো এডভোক্যাসি করলেন, এ দলটাই তো কিংস পার্টি ছিলো। বিএনপির টা হালাল, বাকিরা করলে হারাম। এমনটা?

Mohammad Mozammel Hoque: বিএনপির ছিল সত্যিকারের একজন কিং। জিয়াউর রহমান। এখনকার সম্ভাব্য কিং কে? ইউনুস স্যার বড়জোর একজন political arbitrator। He is not that level of political figure.

কথায় কথা হিসেবে তুচ্ছ একটা উদাহরণ দিয়ে বলি, এখন যদি ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস স্যার বা উনার কোনো লোক এলজিবিটিকিউ এর অধিকারের পক্ষে বলেন, বুঝতে পারছেন, কী হবে? রাজনীতি রাজনীতিবিদদেরই মানায়।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *