একটা পুরুষশূন্য কিংবা নারীশূন্য ক্যাম্পাসকে আপনি কীভাবে দেখেন?

‘আচ্ছা, কেমন হবে কোনো কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি শুধু ছেলে-স্টুডেন্ট বা শুধু মেয়ে-স্টুডেন্টই থাকে। হঠাৎ করে যদি অপজিট জেন্ডারের লোকজন সব হাওয়া হয়ে যায়। এ’রকম একটা পুরুষ-শূন্য ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের প্রতিক্রিয়া কী হবে?

একইভাবে, রাতারাতি যদি একটা অনলি-বয়েজ ইউনিভার্সিটি হয়ে যায়, সেই ইউনিভার্সিটিতে ছাত্ররা কী করবে? তাদের কেমন লাগবে? ইমিডিয়েটলি, এবং লেইটার অন?’

গতকাল ঠিক এই প্রশ্ন করেছিলাম দু’জন ভদ্র মহিলাকে। তারা দু’জনই অনেক আগে এই ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করেছেন। বর্তমানে থাকেন দক্ষিণ ক্যাম্পাসে। তাদের বক্তব্যের মূলকথা হলো:

বিশেষ করে মেয়েদের ওপরে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বেশি। কারণ, দেখানোর মানুষ না থাকলে তারা কার জন্য সাজবে? একটা উইমেন’স ইউনিভার্সিটিতে তাদের সাজুগুজু করার, ফ্ল্যার্টিং করার, ফ্ল্যার্টেড হওয়ার আনন্দটা নাই হয়ে যাবে।

ছেলেরাও একটা নারীশূন্য ক্যাম্পাসে প্রাথমিকভাবে সঙ্গহীনতায় ভুগবে। তবে, তারা দ্রুত পরস্পর পরস্পরের সাথে ব্যাপকভিত্তিক বন্ধুত্বে জড়াবে, রাজনীতি করবে, হাল্কা-পাতলা সংঘর্ষে জড়াবে, খেলাধুলা ইত্যাদিতে সময় কাটাবে। নানা ধরনের ডিবেট, গানবাজনা এ’গুলো আরো বেশি করে করবে। তাদের মধ্যে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে।

একজনের মতে, বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গবিহীন একটা ক্যাম্পাসে সমকামিতা বাড়বে। পরিবার গঠন করার চাপ ও আকাঙ্ক্ষা কমবে। সংসার করার লক্ষ্য সামনে না থাকার ফলে স্টুডেন্টরা, বিশেষ করে ছাত্ররা ক্যারিয়ারে উন্নতিলাভ করার দিকে মনোযোগী কম হবে।

‘একটা নন-কোএডুকেশন সিস্টেমে স্টুডেন্টদের ওপরে যদি লেখাপড়ার প্রচণ্ড চাপ থাকে, উইকয়েন্ড বা বন্ধের সময়ে তারা যদি নিয়মিত বাড়ি গিয়ে পরিবারের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পায়, তাহলে কেমন হবে?’ – আলোচনাকারীদের কাছে এই প্রশ্ন করার পরে তারা এগ্রি করলো, টাইট শিডিউলের একাডেমিক ফ্লো-তে থাকলে, স্টুডেন্টরা তুলনামূলকভাবে অনেক কম মাত্রায় অবসাদ ও হতাশাগ্রস্ত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান বাড়বে।

এতো গেল একজন কর্মজীবী ও একজন অধ্যাপক-গৃহিনীর কথা।

আপনার কী মনে হয়? যা চলছে তেমনটা, অর্থাৎ কো-এডুকেশন বেটার? অথবা, জেন্ডার সেগ্রিগেইটেড একটা হাইয়ার এডুকেশন সিস্টেম বেটার?

আপনার লিভড এক্সপেরিয়েন্স এবং কমনসেন্স থেকে বলুন।

প্লিজ, ফিল ফ্রি….

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Kamal Hossain: আলাদাই ভালো হবে। লেখাপড়ায় মনোযোগী হবে। এজন্যই ইরানের শিক্ষার্থীদের মেধা চোখে পড়ার মতো।

Mohammad Mozammel Hoque: আলাদা হলেই ভালো হবে কিংবা একসাথে হলেই খারাপ হবে, ব্যাপারটা ঠিক এরকম সাদাকালো না। এখানে সামাজিক পরিস্থিতি, পরিবেশসহ সামগ্রিকভাবে অনেক কিছু সম্পর্কিত।

হিলারী ক্লিনটন তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, তাঁর বাবার শর্ত ছিল, কোএডুকেশনে পড়লে তার পড়ার খরচ দিবেন না। সেজন্য বাধ্য হয়ে তিনি ননকোএডুকেশন কলেজে, আমাদের ভাষায় ইউনিভার্সিটিতে, পড়েছেন। উনার মন্তব্য হলো, ছেলেরা না থাকায় ওনারা লেখাপড়ার প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে পেরেছিলেন।

আমি নিজে উনার আত্মজীবনী গ্রন্থে এটা পড়েছি।

Md Al Amin Kauser: আমি তা’মিরুল মিল্লাত থেকে এসেছি। সেখানে আলাদা ক্যাম্পাস। তো, ঐখানে যে বন্ধুগুলো পেয়েছি, যা জীবনে একটা ক্যাম্পাসে পাবো কিনা সন্দেহ।

রুমমেট তাহাজ্জুদ পড়তো। বলতো ভাই যখন তাহাজ্জুদে উঠবেন, ডেকে দিবেন। এ বাক্যের ওজন কত আমি অনুভব করি। যেটা সারাজীবনেও পাবো না। ঐখানে যে বন্ধুত্ব হয়েছে ছেলেদের সাথে, তা এখনো অক্ষুন্ন। যেনো এখনো কথা হলে মনে হয় ঐ ক্লাসেই আছি।

কিন্তু ভার্সিটিতে এসে, সংমিশ্রণ থেকে বের হলে, এখানের কিছু মনে থাকবে কিনা সন্দেহ। গলায় কাঁটা আটকে আছে, যেন বের হলেই বাঁচি।

Mohammad Mozammel Hoque: নারীদের তুলনায় পুরুষদের যত প্রকৃতিপ্রদত্ত সুবিধা আছে তার মধ্যে একটা হলো, তারা সমলিঙ্গের মানুষদের সাথে ব্যাপক পরিসরে গভীর বন্ধুত্ব তৈরি করতে পারে।

Arif Rahman: আপনার চেয়ারটা এখানে অতিরিক্ত মনে হচ্ছে।

Mohammad Mozammel Hoque: হ্যাঁ, এটা ছিল অর্গান ডোনেশন সম্পর্কিত একটা আলোচনা। আমার যেহেতু মেরুদন্ডে একটা বড় অপারেশন হয়েছে গত বছর, সেজন্যে ওরা আমার বসার জন্য একটা চেয়ারের ব্যবস্থা করেছে। সরাসরি মাটিতে দীর্ঘ সময় বসা আমার জন্য খুব ক্ষতিকর।

Akib Jabed: কোএডুকেশন না থাকলে স্টুডেন্টরা পড়াশুনায় মনোযোগী হবে। ভার্সিটি অনেকটা মেইটিং প্লেইস এর মত হয়ে গেছে। ভার্সিটির ছেলেমেয়েরা আনরিয়েলিস্টিক সমবয়সী সম্পর্কে জড়ায়। প্রচুর ছেলে ড্রাগ থেকে শুরু করে আত্মহত্যা পর্যন্ত করে, প্রেমে অসফল হওয়ার কারণে।

প্রথম বর্ষে আমার রুমমেট এক নারীর প্রেমে পড়ে প্রায় এক বছর নানা মেন্টাল ট্রমাতে ভুগেছে। কোএডে পড়া প্রচুর নারীসহপাঠী থেকে শিক্ষকের কাছে হেনস্থার নজির আছে। শিক্ষকরা নারীশিক্ষার্থীদের প্রতি বায়াসড থাকেন অনেক ক্ষেত্রেই, বিপরীত লিংগের আকর্ষণ তাদেরও আছে। অনেক নারী শিক্ষক একটা আইডেন্টির জন্যই শিক্ষক হয়ে বসে আছেন। কিন্ত শিক্ষক হবার জন্য যে প্যাশন, আগ্রহ, পরিশ্রমের দরকার তাতে তারা নেই। পুরুষ শিক্ষকও আছেন। কিন্ত নারী শিক্ষকদের মধ্যে এমন প্রবণতা বেশি দেখি ।

কো-এডে পুরুষরা কম্পিটিভ মাইন্ড সেটাপে থাকে না। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মধ্যে মেয়েলিপনা চলে আসে। ছেলে-মেয়েতে বেস্ট ফ্রেন্ড নামক ক্রিঞ্জ জিনিস কো-এডে হয়। ছেলের চক্ষু লজ্জা চলে যায়। নারীরা তাদের প্রত্যাশার লেভেল বাড়ায়, কারণ বয়স ২৫ হতেই তার প্রচুর ছেলের সাথে মেশা হয়ে গেছে। কো-এড যেটা করে সিস্টেম্যাটিক সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাদের ম্যানহুড কমিয়ে দেয় কিংবা কমাতে বাধ্য করে।

Mohammad Mozammel Hoque: আচ্ছা, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে ছেলেমেয়েরা একসাথে পড়বে, টিনএইজে তারা আলাদাভাবে পড়ালেখা করবে, এবং উচ্চশিক্ষায় তারা আবার একসাথে পড়বে, এমনভাবে, যেখানে উচ্চশিক্ষার শুরু আর বিয়ে হওয়া একসাথে চলে, সেকেন্ড ইয়ার, থার্ড ইয়ার উঠতে উঠতে অধিকাংশ স্টুডেন্ট অলরেডি মেরিড, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেরিড স্টুডেন্টদেরকে হেনস্থা করা হয় না, বরং লেখাপড়ায় ভালো করলে সহযোগিতা করা হয়, এমন কি হতে পারে না?

বাবর আজম: পাশ্চাত‍্যের ইউনিভার্সিটি গুলোতে ছাত্রছাত্রী একসাথে লেখাপড়া করা সত্ত্বেও তাদের অনেক স্টুডেন্ট সমকামিতায় লিপ্ত।

Mohammad Mozammel Hoque: সমকামিতা কিংবা যে কোনো ধরনের সামাজিক অভ্যাস কিংবা বদঅভ্যাস তৈরি হওয়া কিংবা চর্চা হওয়ার একাধিক কারণ থাকতে পারে। হতে পারে, এই কারণগুলো স্বতন্ত্র, ক্ষেত্রবিশেষে পরস্পরবিরোধী। পাশ্চাত্যের সমকামিতা বেশি হওয়ার বিষয়টি এই পোষ্টের বিষয়বস্তুর সাথে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট নয়।

Monir Hossain Shafin: আমি পড়াশোনা করেছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যেখানে শিক্ষাব্যবস্থা হচ্ছে সহশিক্ষা। বর্তমানে চাকরি করছি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে পৃথক (ছেলেমেয়ে আলাদা) শিক্ষা পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়। পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থার শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং মনুষ্যত্বের মানদণ্ডে খুবই ভালো।

Mohammad Mozammel Hoque:  ধন্যবাদ, আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য। তবে সহজীবনযাপনের মানসিকতা কিংবা অভ্যস্ততা যদি না থাকে, এটাও দেখেছি, এই ধরনের হাইব্রিড মোরালিটির লোকজন অপোজিট জেন্ডার এর সাথে নিতান্ত সৌজন্যমূলক বা নৈমিত্তিক সাধারণ মেলামেশাতেই অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।

এটাও তো একটা সমস্যা।

Israfil Miah: বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়টিকে অত্যন্ত ঠুনকো এবং সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করা হয়েছে। সহ-শিক্ষা ভালো নাকি খারাপ এটার বিচার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে মাপা উচিতই না।

বিশ্ববিদ্যালয় হলো শিক্ষাব্যবস্থায় এমন একটা পর্যায় যেখানে সমপর্যায়ে মেধাবীরা একই ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে থাকে বিশেষ করে আমাদের দেশে। যেমন: বুয়েট ইলেক্ট্রিক্যালে যেই ছেলে বা মেয়ে ভর্তি হোক তাদের একাডেমিক এক্সিলেন্স একই পর্যায়ের। একই লেভেলের মেধাবীরা একই ডিপার্টমেন্টে পড়ার মাধ্যমে নিজেদেরকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এখানে কে ছেলে, কে মেয়ে এই ভাগাভাগি করলে মাত্র ১০টা মেয়ে নিয়ে আলাদা ইলেকট্রিক্যাল এর ডিপার্টমেন্ট বানাতে হবে। এতে ঐ ১০টা মেয়ে বাকী ১০০ ছেলের সাথে কম্পিটিশন করার সুযোগ হারাবে, যা উচ্চতর জ্ঞানচর্চার অন্তরায়।

সোজা আলাপ, বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে সবাই আইনের দৃষ্টিতে এডাল্ট। নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে। শুধু সময় সেক্সুয়ালিটির কিছু টপিকস এনে জ্ঞানচর্চার এবং সমপর্যায়ের মেধাবীদের সাথে তুলনামূলক জ্ঞানচর্চার সুযোগ থেকে বিরত রাখার আলাপ আসলে কতটা যৌক্তিক?

Mohammad Mozammel Hoque:  আপনার কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ। অনস্বীকার্য। তবে এখানে বাস্তবে যা দেখা যায় তাও অনস্বীকার্য। আলোচনার দাবি রাখে।

Muhammad T Sobhan: দেশের সেরা কলেজগুলো দেখেন। নটরডেম, ভিকারুননিসাসহ টপলিস্টের অধিকাংশই কো- এডুকেশনাল ইনিস্টিটিউট না। কোএডুকেশন বরং তরুণদের পড়াশোনা কমিয়ে দেয়। সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি তাদের বেশি ভোগায়।

Mohammad Mozammel Hoque: প্রত্যেক ননকোএডুকেশন সিস্টেম সেরা, আর প্রত্যেক কোএডুকেশন সিস্টেম পিছিয়ে পড়া, ব্যাপারটা কি এমন? আপনি ফেভারেবল উদাহরণ আনছেন।

Mahmud Bhuiyan: বাংলাদেশে এমন বেশ কিছু প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে, যা শুধু মেয়েদের জন্যই। এমন শতশত স্কুল, কলেজ আছে যা শুধু মেয়েদের জন্যই। এমন হাজার হাজার পার্লার আছে যা শুধু নারীদের জন্যই। এমনকি নারী হসপিটালও রয়েছে।

আবার শুধু ছেলেদের জন্য ঢাকা কলেজ, ছোটখাটো আঞ্চলিক পাবলিক ভার্সিটি থেকেও বৃহৎ পরিসরে রয়েছে। সুতরাং পড়াশোনার জন্য ছেলে-মেয়েদের মিলনমেলা লাগবে, এমন চিন্তা বোকামি।

Mohammad Mozammel Hoque: এমনকি কোএডুকেশন ইউনিভার্সিটিতেও ছেলেমেয়েরা আলাদাভাবে থাকে। আবার ননকোএডুকেশন ইউনিভার্সিটি ছেলে-মেয়েরাও একই সমাজের সদস্য হিসেবে নানা সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরস্পরের সাথে নানা প্রয়োজনে মেলামেশা করে। ইন্টারনেট কানেকশনের সুপারহাইওয়ের কথা এই মুহূর্তে নাইবা বললাম।

তাই, একেবারে ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট কোনো কিছু করা সম্ভবও নয়, সঠিকও নয়। আলোচনা হোক।

Mohammed Borhan Uddin: ছেলেমেয়ে আলাদা ক্যাম্পাস পড়ালেখার জন্য উত্তম পরিবেশ। এক্ষেত্রে ছাত্রশিক্ষকের মধ্যে দূরত্ব কম থাকে অনেকটা। এছাড়াও এখন ইউনিভার্সিটিগুলোকে ডেটিং জোন হিসেবে দেখে অনেকে। এটা থেকে মুক্ত হবে। IUT, IIUC ভালো উদাহরণ। AWU যদিও মেয়েদের জন্য স্পেশ্যালাইজড, কিন্তু ওদের ওয়েস্টার্ন কালচার ধারণের জন্য হয়তো ওখানে সমকামিতা প্রবণতা থাকতে পারে।

Mohammad Mozammel Hoque: এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, কিংবা এই ধরনের ননকোএডুকেশন ইউনিভার্সিটিতে সমকামিতা প্রকোপ বেশি, আপনার এই ধারণার পক্ষে কোনো তথ্য প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান কি আছে?

Mohammed Borhan Uddin: এইরকম সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা প্রমাণ নেই। পাওয়াও হয়তো আমার পক্ষে অসম্ভব। আমি যদিও বলছিলাম থাকতে পারে একটা ধারণা থেকে। আর আমি মনে করি, এখানে কোএডুকেশন আর ননকো-এডুকেশন ইউনিভার্সিটি থেকে ওই ইউনিভার্সিটির অথোরিটির স্ট্যান্ডিংটা গুরত্বপূর্ণ। যেমন, ব্রাক বিভিন্নভাবে প্রমোট করে। অন্যদিকে IIUC ননকোএডুকেশনাল হওয়ার পরেও এত বছরেও এইরকম কিছু দেখা যায় নাই এদের ইসলামিক পরিবেশের কারণে।

Abdullah Al Arif: বাংলাদেশের সেপারেট স্কুলগুলোর দিকে তাকান। যেমন, ক্যাডেট স্কুল। সেখানে হয় শুধু পুরুষ, না হয় নারী। সেখানকার রেজাল্ট সবচেয়ে ভালো। শুধু ক্যাডেট নয়, “নটরডেম, হলিক্রস এরকম নামকরা স্কুল কলেজ যেগুলো আছে যেখানে সেপারেট এডুকেশন। তারাই ভালো রেজাল্ট করতেছে। এটা অলরেডি প্রমাণিত বাংলাদেশে। এরপরেও যারা কিন্তু কিন্তু করবে, নিঃসন্দেহে তাদের মধ্যে সমস্যা আছে

Mohammad Mozammel Hoque: উপরের একটা মন্তব্যে আমি বলেছি, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে প্রাথমিক শিক্ষা একসাথে, টিনএইজে মাধ্যমিক শিক্ষার সময়ে আলাদা এবং উচ্চশিক্ষা একসাথে হওয়া অধিকতর যুক্তিযুক্ত বলে মনে করি, provided that, higher education will be limited, and most of the students in the higher education level, will be married; and University shall facilitate married students on basis of their merits and needs.

Afifa Mostary: দেশীয় বাস্তবতায় প্রমাণ করে যে কো-এডুকেশন বেস্ট নাকি নন-কোএডুকেশন? এক্ষেত্রে জেনারেল শিক্ষার দিক দিয়ে নটরডেম, হলিক্রসের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর মাদরাসা শিক্ষার দিক দিয়ে দারুন্নাজাত, তামিরুল মিল্লাত এর মতো নন-কোএডুকেশনাল প্রতিষ্ঠান আর কোএডুকেশনাল জেনারেল স্কুল /মাদরাসাগুলোর অবস্থান দেখলেই বুঝা যায়।

Mohammad Mozammel Hoque: ননকোএডুকেশন সিস্টেমগুলো যেমন ভালো করছে, তেমনি করে কোএডুকেশন প্রতিষ্ঠানগুলোও অনেক ক্ষেত্রে ভালো করছে। যেমন, বুয়েট, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ইত্যাদি।

Shakib Bin Anwar: লাভ নাই। ইডেন কলেজ আর ঢাকা কলেজ এর পারফেক্ট উদাহরণ। বিল্ডিংয়ের দূরত্ব তাদের প্রেম ঠেকাতে পারেনি। তাদের মিলনস্থল হয়েছে রমনা থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত!

Mohammad Mozammel Hoque: প্রেম চাই না, ব্যাপারটা এমন না। বরং চাই দায়দায়িত্বসম্পন্ন প্রেম। বৈবাহিক সম্পর্ক হলো সামাজিক অবগতি ও পারস্পরিক দায়দায়িত্ব সহকারে প্রেমের সম্পর্ক।

Morshedul Islam Tasfin: নারীপুরুষশূণ্য ক্যাম্পাসগুলোতে কী কী হতে পারে, এটি অনুমান করার চেয়ে প্রাক্টিক্যালি দেখা সহজ।

কোনো ক্যাম্পাস পুরুষশূণ্য হয়ে পড়লে, সেখানে নারীরা সাজগোজ বন্ধ করে দিবে না, একইভাবে নারীশূণ্য হলে ছেলে শিক্ষার্থীরা আউটফিট ও ফ্যাশনসেন্স ছেড়ে দিবে না। উপরন্তু, গার্লস/বয়েস স্কুল/কলেজ এর শিক্ষার্থীদের ফ্যাশন সেন্স অন্যান্যদের তুলনায় পলিশড।

এর কারণ, মানুষ শুধুমাত্র বিপরীতলিঙ্গকে আকর্ষণ করতেই সাজগোজ করে না। বরং সাজগোজ দিয়ে পার্সোনালিটি, ক্লাস, ইন্টেলেকচুয়ালিটি প্রকাশ করে। একজন পুরুষ যতটা এগ্রেসিভ ফ্যাশন সেন্স ফলো করে কোনো সোশ্যাল/ ওয়ার্কপ্লেস গ্যাদারিং-এ, ততটা ডেটে যেতে করে না।

তেমনিভাবে, নারীরাও পুরুষদের তুলনায় অন্যান্য নারীদের থেকে এপ্রিশিয়েশন পেতেই অধিক মেধা খরচ করেন। বিপরীতলিঙ্গ থেকে একসেপ্টেন্স পাওয়া যতটা সহজ, সমলিঙ্গ থেকে ততটা না।

এই উদ্দেশ্যেই, নারী ও পুরুষশুণ্য ক্যাম্পাসে, নারী, পুরুষ ও ইউনিসেক্স কার্যক্রমগুলোর চর্চার সঠিক সমালোচক তৈরি হয়। সমালোচনার ভীতিতেই নিজেদের পলিশড করার ট্রাই করে, এই কার্যক্রমে তারা অংশগ্রহন করে।  

অপরদিকে, যারা বিভিন্ন ফিজিক্যাল ও ইন্টেলকচুয়াল এক্টিভিটিতে অংশগ্রহণ করেন না, এরা এরকম একলৈঙ্গিক প্রতিষ্ঠানে কোনাঠাসা হয়ে পড়ে। এছাড়াও, একলৈঙ্গিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিপরীত লিঙ্গের সমবয়সীদের প্রতি তুমুল কৌতুহল রয়ে যায়, সেটি ভালো এবং মন্দ দুই দিকেই পরিচালনা করতে সক্ষম।

তবে, আপনার লেখার মধ্যে যে ধারণাটি দেয়া আছে “সমকামী” হবার প্রবণতা, এটি কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়। বিশেষ করে এই একলৈঙ্গিক প্রতিষ্ঠানের ধারণায়। এইসমস্ত প্রতিষ্ঠানে স্বভাবতই নিজের পুরুষ/ নারী চরিত্রের সুপ্রেমেসি দেখানোর উদ্দেশ্যে নিজেদের মধ্যে সহানুভূতি, ভালোবাসা, স্নেহ ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক গড়ে তুলে; যেটিকে সেক্সুয়াল জেশ্চারে ব্লেন্ড করে দেখতে গেলে সমকামী মনে হতে পারে।

Mohammad Mozammel Hoque: সুচিন্তিত এবং বিস্তারিত মতামত দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

আসলে সামাজিক বিষয়গুলো বহুমাত্রিক। এমন কোনো ব্যবস্থা কিংবা ক্ষেত্র নাই, যেখানে সবকিছু ভালো কিংবা সবকিছু খারাপ। সমাজ নিয়ে যারা কাজ করে তারা সমাজের এই বৈচিত্র্যকে অনেক সময়ে স্বীকার করতে চান না। এটা একটা বিরাট সমস্যা।

Anindita Sarker Pratha: স্যার, সবচেয়ে ভালো হবে, সব শিক্ষক যদি ভালো করে পড়ান, তাহলে। আমি তেমন একটা ক্লাস না করতে পারলেও আপনার ক্লাস, মাসুম স্যারের ক্লাসসহ আরও কয়েকজনের ক্লাস এটেন্ড করার চেষ্টা করতাম। পড়াগুলো বুঝতাম তাই। ছেলে আছে পাশে, না মেয়ে, এটা দেখার সময় কোথায়, যদি আমার গুরু মুগ্ধ করে আমায়?

Mohammad Mozammel Hoque: একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে লেখাপড়া। সেটাই এখানে অবহেলিত। বাদবাকি বিষয়গুলো তো লেখাপড়াকে কেন্দ্র করেই হওয়ার কথা …!

একাডেমিক ফ্লো কতটুকু আছে, সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জীবন কাটিয়ে দিলাম, অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের স্বপ্নের কাছাকাছিও নিতে পারি নাই, বা দেখতে পারি নাই, এটা সবচেয়ে বড় আফসোস!

Shah Md Mahbubur Rahman: ছেলেদের ছেলে শিক্ষক পড়াবে, মেয়েদের মেয়ে শিক্ষক পড়াবে এমনটা হলে কেমন হয়?

Mohammad Mozammel Hoque: total segregation and no segregation, both are extreme positions.

Shah Md Mahbubur Rahman: Sir, I understand that you’re interested in understanding public opinion on coeducation versus gender-specific education. We must agree that both genders exist, and are dependent on each other in society. In an age where social, family, and moral values face challenges, would separating education by gender truly add value?

মাহদী হাসান কাউসাৱ: সব মেয়েরা ছেলেদেরকে দেখানোর জন্যই সাজে। এ জীবনে প্রথম শুনলাম। আর মেয়েরা না থাকলে ছেলেরা সমকামিতায় জড়াবে তাও হাস্যকর।

Mohammad Mozammel Hoque: কেউ নাই, তারপরও একটা মেয়ে নিজে নিজে সাজে। নিজেকে নিজে দেখে। গভীর মনোযোগ দিয়ে। তারপর সে ঘুমিয়ে পড়ে। এটি কতবার দেখেছি। কত জনের কাছ থেকে শুনেছি।

তবে এ প্রসঙ্গে আপনার সাথে একটা অভিজ্ঞতা আমি এখানে শেয়ার করি।

আমি জীবনে যত নারীর ছবি তুলেছি, হোক তারা অল্প বয়সী মেয়ে কিংবা পরিণত বয়সি কেউ, ছবি তোলার পর পরই তারা ছবিটা দেখতে চায় নাই, এবং নিরাপদ পরিসরে শেয়ার করতে চায় নাই, এমনটা আমি কখনোই দেখি নাই। এটি কেন?

মাহদী হাসান কাউসাৱ: ছবি তোলা এখন শখে পরিণত হয়েছে। তাই শুধু মেয়ে বলেই নয়। সেটা যে কেউ হোক না কেন, ছোট বড় সকলেই ছবিটা ওঠার পর সে দেখতে চায়। সে কেমন। সে ক্যামেরায় কতটুকু ফুটে উঠেছে। এর অর্থ এই না সে অন্য কাউকে ‘নিজেকে’ দেখাতে আগ্রহী। হ্যাঁ, অনেকে নিজেকে অন্যের তরে প্রকাশ করতে ব্যাকুল হয়ে যায়। এমন ব্যক্তিরাই হয়তোবা আপনার চোখে পড়েছে।

Rawzatus Shuhada Munshiganj: এ কারণে সমকামিতা বাড়বে না বরং এটাই উত্তম হবে। শিক্ষা এক‌ই কারিকুলামে হবে। তবে ‌পৃথক ক্যাম্পাস, সেই ব্যবস্থা প্রয়োজন।

Mohammad Mozammel Hoque: আচ্ছা একটা খোলামেলা আলোচনার জন্য বলছি, নন-কোএডুকেশন সিস্টেমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোএডুকেশন সিস্টেমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় সমকামিতার প্রকোপ বেশি। কথাটা কি সঠিক? নাকি, ভুল?

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *