দুনিয়াটা আল্লাহতালা এভাবেই বানিয়েছেন, প্রত্যেক মানুষ গাইডেন্সের মুখাপেক্ষী। মানুষ হিসেবে সমান হওয়া সত্ত্বেও প্রত্যেক ধরনের মানুষ প্র্যাকটিক্যালি এন্ড বাইক্যাটাগরি গাইডেন্স-ডিপেন্ডেন্ট। কারো না কারো তত্ত্বাবধান এবং শাসনে মানুষকে থাকতে হয়। চলতে হয়।
ছোটদেরকে নির্ভর করতে হয় বড়দের উপরে। বড়দেরকে মানতে হয় লিডারদের কথা। শাসকদের কথা। ছাত্ররা শিক্ষকদের মানতে বাধ্য। সাধারণ জনগণকে মানতে হয় বিশেষজ্ঞদের কথা।
এ ধরনের বাধ্যবাধকতা দিয়েই দুনিয়াটা চলে। আন্দাজে আপনি এখানে সমতার দাবি তুলতে পারেন না।
সমতার ধারণামাত্রই নৈতিক এবং সামগ্রিক। আপ টু বটম।
পরস্পরের দিক থেকে দুনিয়ার সবকিছু অসম, স্বতন্ত্র এবং অসম্পূর্ণ। মিউচুয়ালি ডিপেন্ডেন্ট।
এ দুনিয়ায় প্রত্যেকেরই বিশেষ কিছু না কিছু আছে কিংবা থাকে। সমস্যা হল, যা কিছু তাঁর দরকার তার অনেকখানি তাঁর নাই। যা আছে তাঁর আশপাশের অন্যদের কাছে।
এই অসমতা তাকে উদ্বুদ্ধ করে পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন গড়ে তুলতে। অসমতার এই সিস্টেমের উপর নির্ভর করেই গড়ে উঠে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রসংঘ। অসমতাই হলো অর্থনীতির মূল থ্রাইভিং ফোর্স। ধর্মের সারকথা।
পশ্চিমা বিশ্ব থেকে আসা উল্টাপাল্টা কথাবার্তা শুনতে শুনতে মানুষের মাথা এতটাই খারাপ হয়ে গেছে, ক্রমসোপনমূলক (hierarchical) একটা জগতে বসবাস করে সে দিন-রাত স্বপ্ন দেখে,
‘সব সমান, সব সমান, সব সমান।
যা কিছু নয় সমতান্ত্রিক
তা সব ভেঙে ফেলো, গুঁড়িয়ে দাও।’
এই ডেমেইজিং ফ্যান্টাসির সবচেয়ে বড় শিকার হল সমকালীন পরিবার ও পারিবারিক ব্যবস্থা। সমাজের ক্ষুদ্রতম ইউনিট হিসেবে পরিবার নামক এই প্রতিষ্ঠানটি প্রপারলি ফাংশন করে একটা হায়ারআর্কিকেল সিস্টেমে। হায়ারআর্কিকে ধ্বংস করা মানে পরিবার ব্যবস্থার গোড়া কর্তন করা।
সমতান্ত্রিক ধারণায় অবসেসড লোকজন গণহারে ভিকটিমহুড মেন্টালিটিতে ভোগে। অলয়েজ সে মনে করে সে কোনো না কোনো ভাবে বঞ্চিত। তারা মনে করে, অসমতা মানেই অন্যায়, অন্যায্যতা, জুলুম ও অবিচার। অথচ ন্যায়, ন্যায্যতা আর সুবিচারের ধারণা গড়েই উঠেছে অসমতাকে রিয়েল এন্ড ফর গ্রান্টেড হিসেবে ধরে নেয়ার মাধ্যমে।
প্রকৃতিসংগত হতে চাওয়া মানেই হচ্ছে অসমতাকে মেনে নেওয়া।
যেখানে সবকিছু সমানে সমান সেখানে ন্যায়নীতির প্রসঙ্গ কেন আসবে? ন্যায্যতার কথা কেন আসবে? আদৌ বিচারের ধারণা কেন আসবে? সুবিচার তো পরের কথা।
Anything from the West, doubt it first.
মন্তব্য – প্রতিমন্তব্য
আহমেদ শাহরিয়ার: অসমতাই কিভাবে ধর্মের সারকথা? আর হায়ারআর্কি ধ্বংস হওয়া কিভাবে পরিবারকে ধ্বংস করে?
Mohammad Mozammel Hoque: আল্লাহর দুনিয়ায় আমরা সবাই তাঁর দাস। বাদবাকি সবকিছুর উপরে মানুষ খলিফা। আল্লাহর রাসূল আমাদের নেতা। এমনকি যে কোনো নেতাকে মানতে হয় যখন কাউকে আমরা নেতৃত্বের আসনে বসাই। ইমামের তাকবীর অনুসারে আমাদেরকে নামাজ পড়তে হয়।
পরিবার যদি একটা প্রতিষ্ঠান হয় তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের একটা নেতৃত্ব আছে। বড়রা ছোটদের উপরে নেতৃত্ব দেন। স্ত্রীর উপর স্বামী। সন্তানের উপর পিতা-মাতা। এভাবে পুরা দুনিয়াটা হচ্ছে একটা অসমতার জায়গা।
আহমেদ শাহরিয়ার: মানুষ যখন খলিফাই, মানুষের সারবইভালের জন্য যাবতীয় এসেনশিয়াল রিজিক বা মৌলিক অধিকার পাওয়ার চেষ্টা তদবির করাটাকেও কি অসমতার বিরুদ্ধে একশন বলে গণ্য করছেন?
তাই যদি হয়, নবীগণ কেন এক জায়গায় জমা হওয়া সম্পদ যাকাতের মাধ্যমে বন্টন করে অসমতা কমানোর চেষ্টা করছেনে বলে ইতিহাসে দেখতে পাই।
তাতে পুরোপুরি সমতা আসবে না, তবে অসমতার পরিমাণ কমানোর চেষ্টা দৃশ্যমান।
সমতার কথা বলা মানেই কি মিউচুয়াল ডিপেনন্ডেন্সিকে অস্বীকার করা? তা নয় সম্ভবত। মিথোজীবী রিলেশনশিপ বজায় রেখে ইনডিভিজুয়াল নিডগুলো উইন উইন সিচুয়েশনে লাভ করা যায়। যেটা অসমতা তো নয়ই, সমতাই বটে।
Mohammad Mozammel Hoque: এক কথায়, উপরের দিক থেকে দেখলে from top-down approach সমতা একটা বাস্তবতা। এছাড়া বাদবাকি সবকিছু অসম। অন্যায় মাত্রই অসম। কিন্তু অসম মাত্রই নয় অন্যায়।
