মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায় তার আবেগের ঠিকানায়। মানুষ বেঁচে থাকে তার আবেগের জগতে। যাপিতজীবনের সব অভিজ্ঞতা, সবকিছু তার এই আবেগের জগতকে নির্মাণ করে। এজন্য দেখবেন, এক সময়কার চরম শত্রুও তার কাছে এখন আর ততটা শত্রু হিসেবে বিবেচিত হয় না। শত্রুর জন্যও তার মায়া লাগে।
শত্রু হলো বর্তমানের শত্রু।
মানুষ তার অতীতকে কখনো ভুলতে পারে না। এমনকি অস্বীকার করার চেষ্টার মাধ্যমে সে তার অতীতকেই স্মরণ করে বারে বারে। চেতন কিংবা অবচেতনে।
যাদেরকে আপনি দেখছেন, দেখেছেন অতীতে, যাদের সাথে ছিল আপনার ওঠাবসা কিংবা মেলামেশা, ভালবাসা কিংবা শত্রুতা, তাদেরকে নিয়েই আপনার আবেগের জগত। আপনার মানস-গঠনের কনট্রিবিউটর।
নিতান্ত ব্যতিক্রম ছাড়া মানুষ অতীতকে ফিরে পেতে চায় যখন তখন। ভবিষ্যৎকে পেতে চায় অতীতকে হারানো ছাড়াই। বিশেষ করে মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি অধিকতর প্রযোজ্য।
হিউম্যান বন্ডিং এন্ড রিলেশনের বাইরে নিষ্প্রাণ পরিবেশ এবং প্রকৃতির সাথেও মানুষের এই আবেগের সম্পর্ক কতটা গভীর সেটা আমরা বুঝতে পারি যখন মানুষ তার চেনাজানা পরিবেশটাকেই খুঁজে ফিরে প্রতিনিয়ত।
চবি’র প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ আলী স্যার থাকতেন আমার এক বাসা পরে, এস ই-তেরো নম্বর বাসায়। স্যারের ওয়াইফ প্রফেসর খালেদা হানুম ম্যাডাম উনার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ১৩ নম্বর বাসায় বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করতে আসা প্রত্যেক শিক্ষককে অনুরোধ করেছেন, তার হাতে লাগানো আমগাছটা যাতে কাটা না হয়। এখনো সেই আম গাছটা আছে।
প্রত্যেকে আমরা চাই আমাদের আবেগের ঠিকানাগুলো অক্ষত থাকুক। আমাদের আবেগের নিদর্শনগুলো টিকে থাকুক।
যাদেরকে আমরা ভালোবাসি তাদের মতো যাদেরকে আমরা ঘৃণা করি তারাও আমাদের আবেগের অংশ।
একটা ইমোশনাল কমফোর্ট জোন আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখে। মানুষ তার আবেগের মাঝে বেঁচে থাকে। আবেগ হলো জীবনের বহিঃপ্রকাশ। জ্ঞানের উৎপত্তিস্থল।
