কেন আপনি বিয়ে করবেন, অথবা করবেন না

আপনার অপূর্ণতাকে পূর্ণ করার জন্য বিয়ে করবেন। আপনার পূর্ণতার স্বীকৃতির জন্য সমাজের বাদবাকি অনেক লোকজন আছে। আপনার একটা একান্ত মানুষ দরকার যে আপনাকে এমন সাপোর্ট দিবে যেটার জন্যে আপনি তার ওপর নির্ভরশীল। মুখাপেক্ষী।

আপনার ব্যক্তিগত জীবনে যদি অপূর্ণতা না থাকে, আপনি যদি সম্মতিসাপেক্ষে যে কোনো পর্যায়ে ‘সম্পর্ক’ করাকে খারাপ মনে না করেন, তাহলে আপনার উচিত বিয়ে না করা। এবং বিয়েহীন জীবনের ভালো-মন্দকে গ্রহণ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা।

পারস্পরিক নির্ভরতা ছাড়া কোনো সম্পর্ক সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে না। সুস্থভাবে বজায় থাকতে পারে না। শুধু আবেগ আর ভালোবাসা দিয়ে আপনার দাম্পত্য সম্পর্ক সুস্থ রাখতে পারবেন না। টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।

আপনি কেমিস্ট্রি বোঝেন, ফিজিক্স বোঝেন, বায়োলজি বুঝেন। সম্পর্কের কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স বা বায়োলজিটা শুধু বুঝতে চাচ্ছেন না। কেন? মিউচুয়াল ডিপেন্ডেন্সি ছাড়া কোনো বন্ডিং হয়? টেকে?

আপনারা যারা ইয়ং জেনারেশন, যারা ‘ভালোবাসাডটকম’ সাইটে লগইন করে বসে আছেন, (এই প্রত্যাশায়) ভালোবাসা আপনাদেরকে জীবনের সুখ শান্তি সবকিছু এনে দিবে, ভালোবাসার ভিত্তিতে আপনারা গড়ে তুলবেন লং টার্ম রিলেশন, হ্যাঁ আপনাদের জন্য বলছি-

ভালোবাসা এক বায়বীয় জিনিস। ভালোবাসা আর ভালোবাসার সম্পর্ক, দুইটা আলাদা। ভালোবাসা একপাক্ষিক। যে কেউ যে কারো জন্য ভালোবাসার উপস্থিতি অনুভব করতেই পারে। তাতে কিছু আসে যায় না।

এর বিপরীতে, ভালোবাসার সম্পর্ক হলো দুইতরফা, দ্বিপাক্ষিক ব্যাপার। যেকোনো সম্পর্কের মত মূলত দেয়ানেয়া আর কেনাবেচার ব্যাপার। তাই দোহাই দিয়ে, বাধ্য করে, উইশফুলনেস দিয়ে ভালোবাসা হয় না। ভালোবাসা তৈরি করা যায় না।

দাম্পত্য জীবনে, বৈবাহিক সম্পর্কে ভালোবাসার একটা পরিপূরক বিষয়।

বৈবাহিক ব্যবস্থা এসেছে ধর্ম থেকে। এবং দিনশেষে এটি নারীস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি সামাজিক কাঠামো। কখনো ভেবেছেন কি, কোনো ধর্ম বা আইন বিয়ের ভিত্তি তো দূরের কথা, অন্যতম শর্ত হিসেবেও ভালোবাসার শর্ত আরোপ করেনি। কেন?

আপনার অধিকার আপনি আদায় করবেন। আপনার দায়িত্ব আপনি পালন করবেন। এভাবে যখন দেনা-পাওনার একটা সুষম ভারসাম্য গড়ে উঠবে, তখন ভালোবাসার চারাটাও উদগত হবে। বেড়ে উঠবে। গড়ে উঠবে একটা সুস্থ, সুন্দর ও টেকসই সম্পর্ক।

হিসেবে গরমিল হলে, ভালোবাসার আবেগ উবে যেতে সময় লাগে না এতটুকু।

অতএব, ভালোবাসাডটকম থেকে লগআউট করেন। নিজেকে অপরপক্ষের কাছে আকর্ষণীয় ও যোগ্য হিসেবে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার দিকে মনোনিবেশ করেন। এবং স্যারের এই কথাটাও লিখে রাখেন ডায়েরিতে কিংবা আপনার মনের সদর দরজায় বড় বড় হরফে,

Love grows; it cannot be made. and when it is gone, nothing can back it again.

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Kamrun Nahar Mukta: যখন ক্লাস করতাম তখন আপনার ক্লাসগুলো বুঝতে সময় লাগতো।গুছিয়ে নিতে সময় লাগতো। এখন যতো লেকচার শুনি,লেখা পড়ি বুঝতে সময় লাগেনা।গুছানো, পরিপাটি।।

Mohammad Mozammel Hoque: হ্যাঁ মানুষের যত ম্যাচিউরিটি আসে, যে কোনো বিষয়কে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তত প্রসারিত হয়।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *