সমকালীন বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেট-আপটাই হলো পারিবারিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা। দুর্বল করা। ক্ষতিগ্রস্ত করা।
‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আসল শিক্ষা হয় ক্লাসরুমের বাইরে, করিডোরগুলোতে। বিস্তীর্ণ ক্যাম্পাসের অবাধ আড্ডায়। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আড্ডায়। নানা উপলক্ষ, সম্মিলনে’ – এই মূলনীতির আলোকে খেয়াল করলে দেখবেন, এখানে ‘শিক্ষা’ দেয়া হয় সে’সব কিছু যা ক্লাসিক্যাল এন্ড ট্রাডিশনাল পরিবারব্যবস্থা ও পারিবারিক মূল্যবোধ বলতে যা কিছু বোঝায়, সে সবকিছুর বিপরীত।
তাহলে করণীয় কী?
every adult should have the right to mate – এই মূলনীতির আলোকে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নরনারীকে দিতে হবে যূথবদ্ধ জীবনের সুযোগ। প্রত্যেক রিলেশনশীপকে আনতে হবে দায়স্বীকারের আওতায়। এরই নাম বিয়ে।
‘উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা পারিবারিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে। তাই, উচ্চশিক্ষা বন্ধ করে দিতে হবে। অথবা, সীমিত করতে হবে’ – এ’ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল কথাবার্তার উদাহরণ হলো মাথাব্যাথা হতে নিরাময় লাভের জন্যে মাথাটাই কেটে ফেলার মতো বোকামি।
একচাকার সাইকেল যেমন চলে না, তেমন করে জেন্ডার ডিসক্রিমিননেশন নিয়ে কোনো সমাজ ও রাষ্ট্র উন্নতি লাভ করতে পারে না। সবাইকেই এগোতে হবে সমানতালে। নিজের থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে কন্ট্রিবিউট করতে হবে সমাজের প্রত্যেক সদস্যকে, টু দ্যা হাইয়েস্ট লেভেল অব হিজ অর হার পটেনশিয়ালিটি। কেননা, বিশৃংখলাপূর্ণ সামাজিক ব্যবস্থায় সুষম উন্নয়ন অসম্ভব।
অতএব, কাজের কাজ হলো, বিয়েটাকে সহজ করা। চাইলে বিদ্যমান অবকাঠামোর ভেতরেই এটি সম্ভব। দরকার শুধু মন-মানসিকতার পরিবর্তন ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীর।
যে স্টুডেন্টটার বয়স কুড়ি পার হইছে, সে আর ছোট নয়। আর্লি টোয়েন্টিজে বিয়ে দেয়া কী করে ‘আর্লি ম্যারেজ’ হয় সেটি আমার বুঝে আসে না। চাইলেই তো মানুষের ফিতরত পরিবর্তন করা সম্ভবপর নয়। সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং করে একটা বিপুল জনগোষ্ঠীর সহজাত প্রবৃত্তিকে কেউ নাই করে দিতে পারে না।
যা সম্ভব তা হলো একটা জেনারেশনকে বিভ্রান্ত করা, স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা। একটা ভজঘট পাকানো। বিয়ের আগেই তাদেরকে বিকৃতি ও ট্রমার একগাদা বোঝা চাপিয়ে দেয়া। অথবা, প্রকৃতিবিরুদ্ধ প্রক্রিয়াকে বিকল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া। মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যাকে সমস্যা হিসেবে না দেখে প্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা।
এটি অমানবিক। যেভাবেই হোক না কেন, এই রিপ্রেশন-সাইকেল বন্ধ হওয়া জরুরী। কথা পরিষ্কার, ‘ক্যারিয়ার, অর ফ্যামিলি’, এই ব্রুটাল এন্ড ফলস বাইনরির মরনফাঁদ হতে আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীদেরকে বাঁচাতে হবে। লেট দেম বিল্ড এন্ড এনজয় দেয়ার লাইফ, বাট ইন আ ন্যাচারাল ওয়ে। তাদেরকে বাঁচাতে হবে শর্টটার্ম গ্রাটিফিকেশনের মরণ-ফাঁদ হতে।
অতএব, লেখাপড়া যা-ই করেন বা করান না কেন, জীবনে সফল ও সুখী হওয়ার জন্য যা জানা অপরিহার্য, সেই টিপসগুলো বা সেই পথটি বুঝে নিতে বা বাতলে দিতে ভুলবেন না যেন। নচেৎ বড় বড় ডিগ্রী অর্জন ও ক্যারিয়ার গঠন হওয়ার পরেও হয়তোবা দেখা যাবে ষোল আনাই মিছে।


