স্ত্রীর ব্যাপারে স্বামীর ক্ষমতা কতটুকু?

মেয়েরা কি স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাপের বাড়ি যেতে পারবে? নফল রোজা রাখার ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি কি বাধ্যতামূলক? উলিল আমর হিসেবে স্বামীর ক্ষমতা কতটুকু?

প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে চাইলে এই লেখাটা পড়তে পারেন।

“‘মেয়ের বাবা মায়েদের পরীক্ষা বেশি! এজন্যই হয়তো এত পুরস্কার! নিজের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে স্বামীর হাতে তুলে দিতে হয়, যেই স্বামী অনুমতি না দিলে মেয়ে বাবা মাকেও দেখতে আসতে পারবে না। … স্বামীর অনুমতি ছাড়া, কিংবা অমতে, কোনো স্ত্রী বাবামা’কে দেখতে যেতে পারবে না। এমনকি একই শহরে, পাশাপাশি থাকলেও। স্বামী নিষেধ করলে তার গুনাহ হবে, তাই স্বামীর কথা অমান্য করা যাবে না।’

— এমন কথা বলা হয়। এটা ঠিক কিনা জানতে চাচ্ছি।”

একটা ফেইসবুক গ্রুপে একজন নারী উদ্যোক্তা এটি জানতে চেয়েছেন। জবাবে আমি বলেছি:

কম্পিউটারের প্রসেসর কীভাবে কমান্ড এক্সিকিউট করে সেটার উদাহরণ থেকে আমরা এই বিষয়টা সম্পর্কে আমাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিং ও করণীয় কী তা বুঝে নিতে পারি।

কম্পিউটারে যখন একটা হালকা কাজের কমান্ড দেয়া হয় এবং একই সাথে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ কোনো কমান্ড দেয়া হয় তখন কম্পিউটার অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ কাজটাকে প্রায়োরিটি দেবে। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ কাজকে প্রায়রিটি দিতে দিতে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ কাজটির গুরুত্বকে সে অটোমেটিক্যালি বাড়িয়ে নিতে থাকে। এক পর্যায়ে যত গুরুত্বপূর্ণ বা ভারী কমান্ড দেয়া হোক না কেন, কম্পিউটার সেগুলোকে ফেলে রেখে এতক্ষণ ধরে পড়ে থাকা সেই হালকা কমান্ডটিকে এক্সিকিউট করবে। এবং এটি করতে না পারলে এক পর্যায়ে কম্পিউটারটি হ্যাং হয়ে যাবে।

তারমানে, স্ত্রী সাধারণত স্বামীর কথা শুনবে। তবে সে কথাটা কার্যপরিচালনাগত দিক থেকে কিংবা নীতিগতভাবে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, সেটা বিবেচ্য।

স্ত্রী স্বামীর দাসী নয়। বরং সহযোগী। বলা যায়, সংসার নামক উড়োজাহাজের পাইলট যদি হয় স্বামী, তাহলে স্ত্রী হলো কো-পাইলট। স্বামী হলো স্ত্রীর জন্য উলিল আমর। একইভাবে স্ত্রী হচ্ছে সন্তানদের জন্য স্বামীর সাথে যৌথভাবে উলিল আমর।

একজন উলিল আমর বা সামষ্টিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি কোনো প্রয়োজনীয় বা করণীয় কাজকে অযথা দীর্ঘ সময়ের জন্য ফেলে রাখতে পারে না। অথবা কোনো সাময়িক ব্যবস্থাকে স্থায়ী রূপ দিতে পারে না। কর্তৃত্বশীল বা দায়িত্বশীল হওয়ার সুযোগ নিয়ে কেউ যদি এমন ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা করে তাহলে সেই উলিল আমর অন্তত ওই বিষয়ে তার অথরিটি বা লেজিটিমেসি হারিয়ে ফেলেন।

আশা করি এসব কথা থেকে আলোচ্য বিষয়ে আমরা একটা উত্তর খুঁজে পাবো। তবে বিষয়টা এমন, পরিস্থিতি বিবেচনা না করে এক কথায় হাঁ/না উত্তর এখানে দেয়া যাবে না। আমাদের সমাজে যে ধরনের নারী স্বার্থবিরোধী কথা প্রচলিত আছে তা বাড়াবাড়ি। আবার এর মোকাবেলায় পাশ্চাত্য সমাজ ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত যে সমান-সমান ব্যবস্থা বা ডেমকেয়ার সিস্টেম, সেটাও বাড়াবাড়ি।

‘পারিবারিক শৃঙ্খলা’ আর ‘দাসত্ব’ এই দুইটার মধ্যে কেউ যদি পার্থক্য করতে পারে, (সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান কাজ করলে এটি না করতে পারার কথা না) তাহলে সে সহজেই বুঝতে পারবে what is what।

স্বামী না চাওয়া সত্ত্বেও মেয়েদের বাইরে যাবার অনেক উদাহরণ হাদীসে আছে। মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া এর অন্যতম।

পরিবারে স্বামীর ভূমিকা উলিল আমরের বেশি কিছু নয়। উলিল আমর মাত্রই হচ্ছে সাময়িক কর্তৃপক্ষ। গাড়ির ড্রাইভারের মত। গাড়ির ড্রাইভার আমার গন্তব্য নির্ধারণ করে না। তবে আমার গন্তব্য পথের দিকে আমাকে পরিচালিত করে।

আমাদের দেশে উলিল আমর এর উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইসলামী আন্দোলন বলে পরিচিত ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলোতে উলিল আমরের ভুল অর্থকে প্রয়োগ করে একটা ভজঘট পাকিয়ে ফেলা হয়েছে। সামাজিক পারিবারিক ব্যাপারেও এই ধরনের malpractice ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যায়। এটি অনভিপ্রেত।

২.

“হাজব্যান্ডের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়া নফল রোজা রাখা যায়?” উক্ত ফেইসবুক গ্রুপ পোস্টে প্রশ্ন করেছেন একজন পুরুষ পাঠক।

প্রত্যুত্তরে আমি বলেছি:

নফল রোজা রাখার জন্য স্বামীর অনুমতির দরকার নাই। বরং স্বামী ‘প্রয়োজন’ বোধ করলে স্ত্রীর উচিত সেদিনকার নফল রোজাটিকে ভেঙে ফেলা। এ ধরনের জরুরত ছাড়া বিনা কারণে স্ত্রীকে কষ্ট দেয়ার জন্য, তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখার জন্য বিকারগ্রস্ত কোনো স্বামী যদি যদি তার স্ত্রীকে কখনোই নফল রোজা রাখার অনুমতি না দেয় সেক্ষেত্রে হাজব্যান্ডের অনুমতি ছাড়াই সেই নারী নফল রোজা রাখতে পারবে।

যৌন মিলনের ক্ষেত্রে স্ত্রীর সম্মতি একটি অত্যাবশকীয় শর্ত কিনা এই প্রশ্নের ওপর নির্ভর করছে, স্বামী চাইলেই স্ত্রী নফল রোজা ভেঙে ফেলতে বাধ্য কিনা এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজে পাওয়া।

স্ত্রীকে স্বামীর চাহিবামাত্র যৌনমিলনে সাড়া দেয়ার যে কথা হাদীসে বলা হয়েছে তার একটা ভুল অর্থ করা হয়। কিছু কিছু ধর্মবাদী লোকদের কথা থেকে মনে হয়, ইসলাম অনুসারে নারীরা যেন স্বামীদের এক প্রকার যৌনদাসী। ব্যাপারটা তা নয়। হাদীসে যা বলা হয়েছে তা তাগিদমূলক কথা। বলতে পারেন ওভারঅল গাইডেন্স। এ ধরনের নির্দেশনামূলক কথাকে নির্দেশমূলক কথার সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়।

নির্দেশ ও নির্দেশনার এই পার্থক্য বুঝতে না পারার কারণে বাহ্যত শরীয়ত মানতে গিয়ে আদতে শরীয়ত বিরোধী পথে অনেকে অগ্রসর হয়। নির্দেশ হলো একটা আইনী ব্যবস্থা। আর নির্দেশনা বা directives হলো একটা নৈতিক প্রস্তাবনা। আইন ও নৈতিকতার পার্থক্য বুঝতে না পারলে ইসলামের মতো একটা দ্বীনকে বোঝা ও অনুসরণের ক্ষেত্রে এ ধরনের হযবরল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, যেরকম পরিস্থিতি নারী অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে সমকালীন সমাজব্যবস্থায় ঘটছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রাচ্যের অবদমনমূলক সমাজব্যবস্থায় নারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট শরয়ী নির্দেশনাগুলোর মধ্য থেকে সিলেক্টিভ পোরশানকে (selective portion) পুরুষতান্ত্রিকতার স্টিমরোলার চালানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। নির্দেশনাকে সরাসরি নির্দেশ হিসেবে নারীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়। আলেম সমাজের বৃহৎ অংশ, আনফরচুনেটলি, এই অপকর্মের হোতা।

অন্যদিকে, পাশ্চাত্যের ভোগবাদী নারীবাদের স্বর্গরাজ্যে ইসলামী শরীয়াহ’র যেসব নির্দেশকে নারী অধিকারের পরিপন্থী বলে মনে করা হয়, সেখানকার মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে উক্ত প্রকারের নির্দেশগুলোকে ‘নির্দেশ নয়, বরং নির্দেশনা হিসেবে গণ্য’ করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এটি এপোলোজেটিক মাইন্ডসেটের বহিঃপ্রকাশ।

এবার মূল প্রসঙ্গে আসি, স্ত্রী যদি স্বামীর সাথে যৌন মিলনের বিষয়টিকে ক্রমাগত অগ্রাহ্য কিংবা অস্বীকার করে, তাহলে স্বামী তার উর্দ্ধতন উলিল আমরকে এ ব্যাপারে অভিযোগ করতে পারে। একইভাবে এ বিষয়ে স্ত্রীরও রয়েছে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অনুরূপ অভিযোগ দাখিল করার সমঅধিকার।

৩.

পারিবারিক বিষয়ে উলিল আমর তথা প্রধান কার্যনির্বাহী বা কর্তৃত্বশীল হওয়ার সুযোগ নিয়ে স্বামীরা অনেক সময় স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। স্ত্রীদেরকে তারা হাতের পুতুল বানিয়ে নেয়। পারিবারিক সব বিষয়ে তারা সব ক্ষমতা একাই ভোগ করে। স্ত্রীকে ক্ষমতাহীন করে তোলে। এভাবে একজন স্ত্রীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। পুরো ব্যাপারটিতে উক্ত নিবর্তক স্বামী পরিবারের ব্যাপারে তার কার্যনির্বাহী কর্তৃত্ব তথা উলিল আমার হওয়াটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।

এ প্রসঙ্গে অন্য একজন নারী পাঠক উক্ত ফেইসবুক গ্রুপ পোস্টে মন্তব্য করলেন। সেটার উত্তরে আমি বলেছি:

কেউ একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে অন্যরা ক্ষমতাহীন হয়ে যাবে এটা কোনো বিশেষ এলাকার সুনির্দিষ্ট কোনো কালচারাল ট্রেন্ড বা ঘটনা হতে পারে; তত্ত্ব কিন্তু সেটা বলে না।

বাস্তবে যখন কোনো গন্ডগোল দেখা দেয় তখন আমরা তত্ত্ব বা আদর্শকে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের বাস্তব কর্মকে সংশোধন করার চেষ্টা করি।

একজন উলিল আমরের উপর আরেকজন উলিল আমর থাকে। এবং তার অধীনস্থ কেউ তার নিজস্ব অঙ্গনে উলিল আমর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

এভাবে একটা চেক এন্ড ব্যালেন্সের মধ্যে দিয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হয় বা হওয়া উচিত কিম্বা হওয়ার কথা। কোথাও যদি সেটা না হয়ে থাকে সেটা সেখানকার বিশেষ সমস্যা।

কোনো কনসিস্ট্যান্ট থিওরির অপব্যবহার বা ভুল প্রয়োগ হচ্ছে, সেজন্য থিওরিটাকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হলো জাহাজের উপরেরতলার লোকেরা নিচেরতলার লোকদেরকে পানি দিচ্ছে না, সেজন্য নিচেরতলার লোকেরা জাহাজ ফুটো করে পানি সংগ্রহ করার মত অপরিণামদর্শী ব্যাপার।

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুনিয়ার কোনো মানুষই কোনো বিষয়ে একচ্ছত্র কর্তৃত্বশীল নয়। বরং প্রত্যেক কর্তৃত্বশীলের আছে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতা। কোনো বিষয়ে কোনো কর্তৃত্বশীল ব্যক্তি স্বীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে কিনা সেটা সুপারভাইজ করার জন্য আছে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ। এভাবেই একটা চেক এন্ড ব্যালেন্সের মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে। এই ভারসাম্য যদি কোথাও নষ্ট হয়ে যায় সেটাকে একটা লোকাল প্রবলেম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এবং সেটাকে সমাধান ও সংশোধন করার জন্য চেষ্টা করতে হবে।

থিওরি ঠিকমতো প্র্যাকটিস করা হয় নাই, সেজন্য থিওরিকে দোষ না দিয়ে বরং প্র্যাকটিস সংশোধন করার জন্য যেটা করার সেটা করতে হবে।

এসব কিছুর জন্য চাই, জরুর বলবৎ থাকা একটা প্রবল সামাজিক আন্দোলন। যেটা আমি করতে চাচ্ছি।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Ali Hussain: অনেকে বলে ইসলামে ‘মেয়েদের পক্ষ থেকে তালাক দেয়ার অনুমতি নেই কেন?’ অর্থাৎ বিশেষ কারণে যদি প্রয়োজন হয় আর স্বামী কোনোভাবেই এই তালাকে রাজি না থাকেন সেক্ষেত্রে স্ত্রী কি আজীবনই ঐ স্বামীর সংসারে থাকতে বাধ্য? জানাবেন স্যার।

Mohammad Mozammel Hoque: মেয়েরা তালাক দিতে পারে না। তবে চাইতে পারে। সেটি যে কোনো কারণেই হতে পারে। নিছক ভালো না লাগা বা পছন্দ না হওয়াটাই যথেষ্ট।

ছেলেদের মতো মুখে তালাক উচ্চারণ করে মেয়েরা তালাক দিতে পারে না। ওপরে যেটা বললাম, তাদেরকে তালাক চাইতে হয়। এটাকে বলে খোলা তালাক। তারমানে হচ্ছে, বিয়ের বন্ধনটাকে সে খুলে ফেলতে চায়।

এজন্য বিয়ের সময় প্রাপ্ত মোহরানা তাকে ফেরত দিতে হবে। যদি স্বামী মোহরানা ফেরত না নিয়ে স্বেচ্ছায় তালাক দিয়ে দেয়, অথবা কিছুটা কম পরিমাণের অর্থ-সম্পদ গ্রহণের মাধ্যমে তালাক প্রদানের জন্য রাজি হয়ে যায়, সেটি ভিন্ন কথা।

স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক দিতে না চায়, অথচ স্ত্রী তালাক নিতে চায়, সেক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অবশ্যই তালাক কার্যকর করা হবে। এখানে স্বামীর না চাওয়ার কোনো কার্যকারিতা নাই।

আমি যা বললাম তা কোরআন-হাদীস অনুসারে আমি যা বুঝেছি তাই বললাম। আমাদের দেশে বা কোন দেশে কী প্রচলিত সেটা ভিন্ন কথা।

যেমন, আমাদের দেশে স্ত্রী’রা তালাক দিলে তাদেরকে মোহরানার টাকা ফেরত দিতে হয় না। এটি ইসলামী শরীয়াহ অনুমোদিত যে আইন, সেটার বরখেলাপ।

আমাদের দেশে প্রচলিত আইন অনুসারে পুরুষেরা যে কোনো সময়ে নারীদের তালাক দিতে পারে। এটি ইসলামী শরীয়াহ’র সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যখন তখন ইচ্ছামত তালাক দেয়া যায় না। এবং কেউ যদি এভাবে তালাক দেয় তাহলে সেটা null and void হিসেবে গণ্য হবে।

অধিকাংশ বিবাহিত নারী-পুরুষ, এমনকি উচ্চশিক্ষিত লোকেরাও বিয়ে, তালাক ও পারিবারিক দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে তেমন সুস্পষ্ট ধারণা রাখে না। ব্যাপারটা দুঃখজনক।

আমরা এমন একটা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবো যেখানে এসব বিষয়ে লোকদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ইনশাআল্লাহ।

Mizan Rahman: স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রী নফল রোজা রাখতে পারবে না মর্মে একটা হাদীস পড়েছিলাম রিয়াদুস সালেহীনে। সম্পূর্ণ মনে নাই। এই মুহূর্তে হাতের কাছে রিয়াদুস সালেহীনও নাই। রেফারেন্স চাইলে এই মুহূর্তে দিতে পারবো না। আপনার কি সেই হাদিসটি পড়া আছে স্যার?

Mohammad Mozammel Hoque: হাঁ, আছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু করো।’ তার মানে, একাকী রুকু করা যাবে না। আয়াতটি মুহকাম বা সুস্পষ্ট। অথচ নারীরা একাকী নামাজ পড়ে এবং পুরুষদের একাকী নামাজ পড়ার অনুমতি আছে।

এটা কীভাবে সম্ভব হলো?

আমি শুধু উদাহরণ হিসেবে বললাম। এরকম আরো অনেক বিষয় আছে, যেগুলোকে বাহ্যত নির্দেশের মত মনে হলেও সামগ্রিক বিবেচনায় দেখা যাবে সেগুলো নির্দেশ নয়, বরং নির্দেশনা।

নির্দেশ ও নির্দেশনার এই পার্থক্য না বুঝার কারণে ইসলামী শরীয়ত বোঝার ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাপক সমস্যা হয়ে থাকে। নফল রোজা রাখতে পারা না পারার বিষয়টাও অনুরূপ।

Mohammad Mozammel Hoque: “নারী অধিকার প্রসঙ্গে শরীয়াহর নির্দেশ বনাম নির্দেশনা” সম্পর্কে জানতে পড়ুন: https://cscsbd.com/511

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Leave a Reply