আমি জানি আপনার লাগবে এমন একজন মানুষ, একজন পুরুষ মানুষ, যে কিনা হবে:

(১) physically capable but respectful to his counterpart,
(২) emotionally supportive and caring, and
(৩) strong in personality.

যার কাছে আপনার মন ও শরীর আপসে নত হয়ে আসবে, অথচ সে সুযোগ নেবে না আপনার দুর্বলতার; যার কাছে নিজেকে আপনি তুচ্ছ মনে করতে পারবেন, অথচ সে আপনাকে সম্মান করবে বিশেষ একজন হিসেবে, আপনার প্রয়োজন এমন একজন মানুষের।

আমার দেখায়, ম্যারিটাল অথবা নন-ম্যারিটাল রিলেশনশিপে যে সব নারীরা অসুখী, তাদের পুরুষ সঙ্গীদের মধ্যে এই তিনটা বৈশিষ্ট্যের কমপক্ষে কোনো একটাতে রয়েছে সিরিয়াস রকমের ঘাটতি।

একজন স্বাধীন, স্বাবলম্বী এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী হিসেবে আপনার চাই এমন একজন পুরুষ, যার মাঝে বিদ্যমান রয়েছে এই বৈশিষ্ট্যগুলো ন্যূনতম মানে হলেও। এর কোনো একটিরও যদি ঘাটতি থাকে তাহলে কোনো পুরুষমানুষ একজন নারীর দৃষ্টিতে একজন আদর্শ পুরুষমানুষ হয়ে উঠতে পারে না। এবং এই ধরনের দুর্বল পুরুষের সাথে একজন নারী ততদিন পর্যন্ত সুখে থাকে, যতদিন না সেই নারী অধিকতর যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো পুরুষের সংস্পর্শে আসে।

মি. সেভেন্টি পার্সেন্টকে পেলে যে কোনো নারী, মিস্টার সিক্সটি পার্সেন্টকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে চাইবে না, এটাই স্বাভাবিক। একে বিট্রে হিসেবে দেখাটাই বরং ভুল বলে মনে করি। ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও ম্যাথমেটিক্সের নিয়মের মতো নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য এটি সত্য।

এখন আসেন সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বিয়ে না করে অর্থাৎ ‌‘যাচাই’ না করে একজন নারী কীভাবে বুঝবে, কোনো একজন পুরুষ উপযুক্ত কিনা? তৃতীয় এবং দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যদ্বয় বিবাহের পূর্বে যাচাই করে নেয়া সম্ভব হলেও প্রথমটা যাচাই করার কোনো পদ্ধতি নাই।

বাস্তব জীবনে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক স্থাপন করার আগেই যদি আপনি ‌‘যাচাইপর্ব’ সম্পন্ন করে ফেলেন তাহলে, পুরুষটি আপনার কাছ থেকে খুব সম্ভবত কেটে পড়বে। অথবা আপনার প্রতি একপর্যায়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

তাই এটাকে ট্রায়াল-এন্ড-এররের ছকে ফেলে এগোতে হবে। বাকিটা, ভাগ্যের উপর নির্ভর করতে হবে। তবে, একটা পথ আছে। সেটা হলো, দেখতে হবে পুরুষটা যথেষ্ট রেস্পেক্টফুল কিনা। যে পুরুষ তার নারী সঙ্গীটির ব্যাপারে রেস্পেক্টফুল, আশা করা যায়, সে হবে আপনার একজন সক্ষম সঙ্গী। রেস্পেক্টফুল হওয়ার ব্যাপারটা প্র্যাকটিক্যাল। সংশ্লিষ্ট পুরুষটির মন-মানসিকতা এবং নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি হতে আসে এই রেস্পেক্টফুলনেস।

উপরে উল্লেখিত তিনটি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কোনো পুরুষের সাথে আপনি যদি কমিটেড হতে পারেন তাহলে তাকে বিয়ে করে সংসার করেন, অথবা বিয়ে না করে ফ্রেন্ডশিপ সম্পর্কে থাকেন বা লিভ টুগেদার করেন, যা-ই করেন না কেন, কার্যত সেই পুরুষটাকে আপনি আপনার স্বামী বা স্পাউজ হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।

আমার একটা লেখার মধ্যে আমি দেখিয়েছি, বৈবাহিক সম্পর্ক এবং লিভ টুগেদারের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীসুলভ নেতৃত্ব ও আনুগত্যের সম্পর্ক ছাড়া আর কোনো পার্থক্য নাই।

কিছু কিছু ব্যক্তি বাংলা পড়েও ঠিকমতো অর্থ বুঝতে পারে না। তারা মনে করতে পারে, আমি এখানে লিভ টুগেদারের প্রতি একধরনের সমর্থন ব্যক্ত করছি। না, আমি লিভ টুগেদারের পক্ষে নই। আমি এটুকুই বলতে চাই, সামাজিকভাবে বিয়ে করলেই বৈবাহিক সম্পর্ক কায়েম হয়ে যায় না।

আবার নারী-পুরুষের মধ্যে যে ধরনের সম্পর্ককে ঐতিহাসিকভাবে আমরা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হিসেবে গণ্য করে আসছি, পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ত দু’জন নর-নারী যখন সামাজিকভাবে বিয়ে না করেও এ ধরনের সম্পর্ক বজায় রেখে জীবন যাপন করে, তখন তাদের মধ্যে ‌‘এক ধরনের বৈবাহিক সম্পর্ক’ আপনাতেই কায়েম হয়ে যায়।

হ্যাঁ, লিভটুগেদার যদি প্রকাশ্য না হয় তাহলে আপনি এই ধরনের সম্পর্ককে এক ধরনের গোপন বিয়ে বলতে পারেন, এবং সব ধরনের গোপন বিয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করতে পারেন, সে ব্যাপারে বরং আপনার প্রতি আমার সমর্থনই থাকবে। ইস্যু সেটি নয়।

এই আলোচনার বিষয়বস্তু হলো, নারীরা কেন পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ হারায়, নারীরা কেন দাম্পত্য জীবনে অসুখী হয়ে থাকে, এবং কেমন ধরনের পুরুষ হলে সেই পুরুষ তার জীবনে প্রাক্তন হিসেবে তালিকাভুক্ত না হয়ে চিরবর্তমান হয়ে থাকতে পারে, সেই ব্যাপারে কিছু কথা পরিস্কার করে বলে দেয়া।

আমার এই কথাগুলো থেকে পুরুষরা বুঝে নিতে পারবে, স্বামী হিসেবে কেমন ভূমিকা পালন করলে তারা দাম্পত্য জীবনে সফল ও সুখী হওয়ার আশা করতে পারে। ‌‘আশা করতে পারে’, কথাটা এভাবে বললাম এজন্যে যে, সুখ ও সফলতার ব্যাপারটি দ্বিপাক্ষিক। দাম্পত্য জীবনের সফলতার জন্য নারীদেরও রয়েছে অনুরূপ দায়িত্ব ও কর্তব্য।

আমাদের সমাজে আমার চেনাজানা অধিকাংশ পুরুষের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যগুলোর ব্যাপক ঘাটতি লক্ষ করা যায়। কোনো নারীর পুরুষ-সঙ্গী হিসেবে একজন পুরুষের মধ্যে এই বিষয়গুলোতে ঘাটতি থাকা যে সিরিয়াসলি প্রবলেমেটিক একটা ব্যাপার, সেটি সংশ্লিষ্ট পুরুষেরা স্বীকারই করতে চান না।

ওই যে একটা কথা আমি সব সময় বলি, ‌‘Identification of the problem, is half of the solution’, সেই কথাটা মনে রাখতে হবে। দাম্পত্য সঙ্কটের মূল কারণগুলো নির্ণয় করার কাজে এই লেখাটা কাজে লাগবে, আশা করি।

ইদানিং এই কথাটা আমি প্রসঙ্গক্রমে বলি, ‌‘Live your own life to become the best of you’। সুখী হতে হলে দাবি করতে হবে নিজের অধিকার। একই সাথে আদায় করতে হবে আপনার কাছ থেকে প্রাপ্য অন্যের অধিকার।

দাম্পত্য সম্পর্কে ভালোবাসা হলো একটা সুগার-কোটিং বা রেটরিক মাত্র। দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা কোনো মৌলিক দিক বা শর্ত নয়। পারস্পরিক অধিকার আদায় ও দায়িত্বপালন করার মাধ্যমে দম্পতিদের মধ্যে এক পর্যায়ে ভালোবাসা গড়ে ওঠে। দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত্তি হলো মিউচুয়াল রাইটস এন্ড ডিউটিজ।

সম্পর্ক মাত্রই হলো দেয়া-নেয়ার সম্পর্ক, এই মৌলিক কথাটা অস্বীকার করে সোশ্যাল রিলেশনগুলোর মধ্যে নানা মাত্রায় ফ্যান্টাসি তৈরি করার জন্য আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গের নানা ধরনের বকওয়াজমূলক কথাবার্তা অনেকাংশে দায়ী।

একটা সম্পর্ক থেকে আপনি কী চান এবং এর বিনিময়ে আপনাকে কী দিতে হবে, সে ব্যাপারে আপনার এবং আপনার বিপরীত পক্ষের ক্লিয়ার এন্ড এগ্রিড আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকা জরুরি। একজন নারী তার পুরুষ সঙ্গীর কাছ থেকে কী চান, আমি যতটুকু বুঝেছি, সেটা এখানে উল্লেখ করেছি।

আমার মেয়েরা, তোমরা সমাজ আরোপিত কৃত্রিম নৈতিকতার জড়তা ভেঙ্গে নিজেদের মনের কথাগুলো মুখ ফুটে বলো, দাবি করো নির্ভয়ে। আমার ছেলেরা, তোমরা পুরুষ হিসেবে নিজেদের সত্যিকারের যোগ্যতা কী, তা নিয়ে সচেতন হও, সচেষ্ট হও সেগুলো অর্জনে।

আজকের মত এইটুকু। ভালো থাকো। সুখী হও দেয়া-নেয়ার এই জান্তব জগতে।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Laila Arejuman: বিয়ে বা লিভটুগেদারে সঙ্গী ব্যাপারটা বুঝলাম, কিন্তু ফ্রেন্ডশিপে ঐ পুরুষ সঙ্গী হয় কেমন করে বুঝলাম না। ফ্রেন্ডশিপে মানসিক বোঝাপড়া থাকলেও শারীরিক বোঝাপড়া তো থাকেনা, সেক্ষেত্রে স্পাউস হয় কি করে?

এটা ছাড়া বাকি সব বিষয়গুলো খুব সুন্দর, সত্য, কঠিন সাহসি উচ্চারণ।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: ইয়াংদের সাথে আমার যে কথাবার্তা তাতে করে জানা যায়, এগুলো তাদের মধ্যে চলে। আমাদের জেনারেশন হয়তো ভাবতে পারে না বা বুঝতে পারে না।

সৌরভ আব্দুল্লাহ: সুখী বা সফল দাম্পত্য জীবনের জন্য একজন পুরুষ কেমন নারী আশা করে?

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: Marriage helper Kimberly Holmes এর ভাষ্যমতে, একজন নারীকে দাম্পত্য জীবনে তার পুরুষ সঙ্গীর সাথে চারটা দিক থেকে কানেক্টেড হতে হবে। তার ভাষায়, এটি PIES ফর্মুলা। P for physically, I for intellectually, E for emotionally, S for spiritually.

উনার এই লেকচারটা শুনতে পারো — 3 Tips After Your Spouse Files For Divorce

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *