বৃক্ষ তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলেম শ্রেণির লোকেরা এরোগেন্ট হয়ে থাকেন। কেন জানি সব সময়ে উনারা ক্ষিপ্ত। চিন্তাভাবনায় খুবই একরোখা। অনড়। সামগ্রিকভাবে কোনো বিষয়কে মূল্যায়ন করার বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা, অর্থাৎ ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ে উনারা এনমাস খুব দুর্বল।

মজার ব্যাপার হলো, এই সব বৈশিষ্ট্যকে উনারা বরং উনাদের এসেট বলে মনে করেন।

অনেক বছর আগে পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টের আবদুন নূর স্যার একদিন আমাকে বললেন, ‘এই শোনো, তোমাদের অমুক জুমআর খোৎবাপূর্ব আলোচনার সময়ে এমন চিৎকার করে কেন? এত ক্ষিপ্ত হয়ে কথা বলে কেন? কথাগুলোকে শান্তভাবে বলা যায় না?’

‘আমাদের অমুক’ বলার কারণ হলো ইমাম সাহেব ছিলেন আমাদের কাছাকাছি বয়সের আর আমাদের খুব কাছের মানুষ।

সোশ্যাল মার্জিনালাইজেশানের কারণে ভিকটিমহুড মেন্টালিটি, ভিকটিমহুড মেন্টালিটির কারণে সেন্স অব ইনফেরিওরিটি, সেন্স অব ইনফেরিওরিটিকে ব্যালেন্স করার জন্য রিএকশান হিসেবে গড়ে উঠা সেন্স অব সুপেরিওরিটি।

যার অনিবার্য পরিণতিতে আচার-আচরণে এগ্রেসিভনেস। (প্যাসিভ এগ্রেসিভনেস। একে আপনি stone walling-ও বলতে পারেন।)

একই ধরনের উদ্ধত মনোভাব দেখা যায় ভিকটিমহুড মেন্টালিটির যে কোনো ব্যক্তি, কমিউনিটি বা গ্রুপের মধ্যে। তারা শক্তের ভক্ত নরমের যম। এ’ধরনের সোশ্যালি মার্জিনালাইজড গ্রুপের লোকেরা হয় আইনবাদী বা লিগালিস্ট। যে কোনো কিছুতে তারা নিজেদের পক্ষে আইন বা নিয়মের কথা বলবে।

থাকলে সেটাকে ওভারফোকাস করবে, না থাকলে তাদের জন্য আইন বানানোর কথা খুব বলবে। যদিও বাস্তবে সুযোগ পেলে তারাই সবচেয়ে বেশি আইনভঙ্গ করে।

আলেমদেরকে হেয় করার জন্য আমি এটি লিখছি না। বরং একটা সোশ্যাল ফেনোমেনা সম্পর্কে আমার সেসব পাঠকদের জন্য লিখছি, যারা বলে, আমার লেখার মধ্যে তারা কিছু না কিছু নুয়ান্স, চিন্তাভাবনার কিছু খোরাক সব সময়ে পেয়ে থাকেন। তারাই আমার টার্গেটেড অডিয়েন্স।

সামাজিকভাবে কোনঠাসা হওয়ার কারণে তৈরী হয় আইন নির্ভরতা। আবার আইনি পক্ষপাত লাভের কারণে তারা হয় বৃহত্তর সমাজে অধিকতর কোনঠাসা। এটা একটা চক্র। এ’জন্যই দেখবেন, চারিদিকে নারীবাদীতার এত জয়জয়কার হওয়া সত্ত্বেও চরম নারীবাদী নারীও, নিজেকে নারীবাদী পরিচয় দিতে চায় না।

সংখ্যানুপাতে এত অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও সংখ্যালঘুদের দেখবেন পরিচয় গোপন করতে সচেষ্ট।

সমাজের মধ্যে ‘ইসলামী লেবাসের’ কদর না থাকলে আলেমদের উল্লেখযোগ্য অংশ আমার ধারণা সাধারণ পোষাকই পরিধান করতেন। এর লক্ষণ হিসেবে একটা ঘটনার কথা বলি।

কলা অনুষদ শিক্ষক লাউঞ্জে এক প্রফেসর ডক্টর যিনি আবার মাওলানাও, উনাকে আমি কারো সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলাম। ইনফরম্যাল একটি সাক্ষাতে। আমি বললাম, ‘আমাদের স্যার, ইসলামিক স্টাডিজের মাওলানা অমুক।’ উনাকে মাওলানা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য স্যার আমার সাথে মেহমানের সামনেই ক্ষেপে গেলেন। অরিজিনাল আঞ্চলিক টোনে আমাকে চার্জ করলেন। আমি তো অবাক…!

আমি শুধু বললাম, ‘স্যার, আমি ভেবেছি প্রফেসর, ডক্টরের চেয়ে উপাধি হিসেবে ‘মাওলানা’ বলা বেশি সম্মানের।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে কারো উচ্চতর ডিগ্রী না থাকলে সেই শিক্ষকের নামের সাথে জনাব, পিএইচডি থাকলে ড., আর ফুল প্রফেসর হলে লেখে প্রফেসর। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন প্রফেসর খুব কম ছিল তখন দেখেছি, স্যারেরা ফুল প্রফেসর হওয়ার পরে নামের সাথে ডক্টরকে বাদ দিতেন।

তখনকার সিনিয়র শিক্ষকগণ কাউকে নিজের নাম বলার সময়ে শুধু পিতৃপ্রদত্ত নামটাই বলতেন। নিজেকে নিজে প্রফেসর ড. অমুক, এভাবে বলতেন না। এখন টিচাররা অর্জিত সব টাইটেল একসাথেই লেখে। এবং শুনতে খুব পছন্দ করে।

এ’কথাটা এখানে বলার উদ্দেশ্য হলো নামের আগে উপাধি লেখাটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়, বরং প্রচলিত রীতি। তাই কেউ যদি তার নামের আগে জনাব, প্রফেসর বা ডক্টর লেখার পরিবর্তে মাওলানা লিখতে বা লেখাতে চান তিনি সেটা পারেন।

মাওলানা উপাধিধারী কোনো শিক্ষক নিজেকে মাওলানা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন কিংবা উনার নামের আগে শুধু মাওলানা বা প্রফেসর ড. -এর সাথে মাওলানাও লেখার জন্য রেজিস্ট্রারকে কোনো চিঠি দিয়েছেন, আজ পর্যন্ত শুনি নি।

বিষয়টা ছোট। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ।

দূর থেকে দেখছি, মাদ্রাসাগুলো হতে হারিয়ে যাচ্ছে ওস্তাদ, মুহতামিম এর মতো (কালচারালি ইসলামিক) পরিভাষাগুলো। তদস্থলে জায়গা করে নিচ্ছে এ’গুলোর সেকুলার টার্মস। বাংলা অথবা ইংরেজি।

আমার মনে হয় মাদ্রাসাগুলোতে একটা কোর কোর্স চালু করা জরুরী। যেই কোর্সে থাকবে আলেমদের মর্যাদা, অধিকার, দায়িত্ব, কর্তব্য ও ইতিহাস সংক্রান্ত কোরআন ও হাদীসের অংশসমূহ। এই কম্পালসারি কোর্সটাতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হবে আলেমদের ইতিহাস সংক্রান্ত কোরআনের আয়াতগুলোকে।

হ্যাঁ, আপনার অনুমান সঠিক। আমি বনী ইসরাঈলের আলেমদের ইতিহাস নিয়ে কোরআনে বলা কথাগুলোর কথা বলছি।

মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে জড়িত কেউ বলতে পারেন, ‘আপনি জাহেল। আপনি কেন আলেমদের সম্পর্কে বলবেন?’ স্বীকার করছি, জের-জবর ছাড়া কোরআন পড়তে না পারা আমি জাহেলই বটে। এতদসত্ত্বেও আমি আপনাদের একজন ভাই। দ্বীনি ভাই। পেশাগতভাবে একজন শিক্ষক।

আমি সাধারণ শিক্ষা নিয়েও কথা বলি, মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়েও বলি। যেমন নারী অধিকারের পক্ষে বলি তেমনি নারীবাদের সমালোচনাও করি। মাইনরিটির পক্ষেও বলি আবার সমালোচনাও করি। সুরা তাওবার ১২২নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা যে ধরনের লোকজনের কথা বলেছেন আমি সেই ধারার লোক।

আমি আপনাদেরই লোক। সমালোচনা করেছি বলে আমাকে আপনারা শত্রু ভাববেন না। ভাবলেও আমার কিছু করার নাই। কারণ, প্রফেট মুহাম্মদ (স.) বলেছেন অপ্রিয় হলেও সত্য কথা বলতে কুণ্ঠিত না হতে। আমি ডায়ালগে বিশ্বাসী। ধর্ম, আদর্শ ও মূল্যবোধব্যবস্থাকে কারো প্যাটেন্ট করা প্রডাক্ট বলে মনে করি না।

নামের সাথে সুফি লাগালে যেমন করে সত্যিকারের সুফি হওয়া যায় না, তেমন করে নামের সাথে প্রফেসর, ডক্টর লাগালেই কেউ শিক্ষিত হয়ে যায় না। একই কথা আল্লামাদের জন্যও প্রযোজ্য। প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে পাস না করার সুযোগ নাই। ভীড়ের মধ্যে যেমন করে দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ থাকে না।

প্রতিষ্ঠান কাউকে শিক্ষাদীপ্ত করতে পারে না। শিক্ষাটা অর্জন করতে হয়। বিশেষ করে যদি তা হয় অ-কারিগরি কোনো শিক্ষা।

কথায় বলে, ‘বৃক্ষ তোমার নাম কী? (বৃক্ষের উত্তর) ফলে পরিচয়’।

মন্তব্য – প্রতিমন্তব্য

Mohammad Mozammel Hoque: কোনো জ্ঞানই তুচ্ছ নয়, নয় উপযোগহীন। যে কোন বিষয় হতে সর্বোচ্চ উপযোগ প্রাপ্তির জন্য চাই নিরলস প্রচেষ্টা। সমকালীন বাংলাদেশে উগ্র ধর্মবিদ্বেষ আর ধর্মবাদিতা, দু’টাই অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা। দুটোই আমার কাছে পরিত্যাজ্য।

ধার্মিকতা মানুষকে নম্র করার কথা। ভদ্র বানানোর কথা। যদি তা নয় তাহলে বুঝতে হবে, কোথাও একটা গণ্ডগোল হচ্ছে। গণ্ডগোলটা বোধহয় এখানে –

পবিত্র কোরআনে বারংবার যে কাজটাকে গর্হিত হিসেবে বলা হয়েছে সেই পুরোহিত-প্রথা তথা ধর্মচর্চাকে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণী কর্তৃক অন্যান্য চাকরি-বাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো অন্যতম জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা।

এ ব্যাপারে ইসলাম কী বলে সেটা আমরা জানি-

ইসলাম প্রিস্ট-ক্লাস সিস্টেমকে বাতিল করে। এর পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চাকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করে।

ঐ যে শিরোনামে যে কথাটা বলেছি, (‘বৃক্ষ তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়’), সেই কথা অনুসারে আমাদেরকে দেখতে হবে, আলেম সমাজের ভূমিকা কতটুকু আলেমসুলভ আর কতটুকু যাজকসুলভ।

Jafar Ahmed: Many scholars (Ulema) often exhibit strict and legalistic attitudes. Due to social marginalization and a victimhood mentality, they tend to develop a sense of superiority and aggressive behavior.

Many scholars view their stubbornness and excessive focus on legal matters as virtues. They are strict about the law but do not hesitate to break it when given the opportunity. This passive-aggressive behavior further isolates them socially.

It is essential to educate students in madrasas about the dignity and responsibilities of scholars. The curriculum should include sections from the Quran and Hadith on the history and duties of scholars.

Ultimately, a person’s true worth is not determined by their title or attire but by their actions. Therefore, scholars or any professional should be judged by their deeds.

Mohammad Mozammel Hoque: ‘পাগড়িগুলো- কালো হোক বা সাদা- লোকদেরকে এ’গুলো আলিমও বানায় না, ফকীহও বানায় না। বহু মাথা রয়েছে, যেগুলো এ পাগড়ি ধারণের উপযোগী নয়, আবার এমন বহু মাথা রয়েছে, যেগুলো মহত্ত্বের চূড়ায় পৌঁছেছে। আল্লাহ তা‘আলা অন্তর এবং অন্তরিস্থ অবস্থা ও উদ্দেশ্যের প্রতিই তাকান; পাগড়ির প্যাঁচ ও বেশভূষার প্রতি তাকান না।”

লিখেছেন আমার খুব কাছের মানুষ চবি ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষক আহমদ আলী উনার বই ‘প্রকৃত আলিমের সন্ধানে’-এর মধ্যে। অনেক সুন্দর মন্তব্য করেছেন। তাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

Mamun Sayed: উস্তাদ আর মুহতামিম ইত্যাকার শব্দ মাদ্রাসা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে- এটা অবাস্তব একটা দাবী। আপনি কোর্স চালু করার পরামর্শ দিচ্ছেন মাদ্রাসাগুলোকে। মুহতারাম, আমিও আপনাকে বাস্তবতার নিরিখে একজন মুসলিম ভাই হিসেবে পরামর্শ দিচ্ছি-আপনি আমাদের নবীজি নাম উল্লেখের পূর্বে দয়া করে প্রফেট ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার না করে একজন মুসলিম হিসেবে ইসলামী পরিভাষার শব্দ “নবী” ব্যবহার করলে ভালো হয়।

Mohammad Mozammel Hoque: আমি তো ইংরেজিতে পড়ি, পড়াই। ইংরেজি চর্চা করি। আমি তো ইংরেজি বলবো-ই। প্রফেট না বলে নবী বলার মধ্যে কি কোনো অতিরিক্ত কিছু আছে?

Mohammad Abdul Hannan: পবিত্র কোরআনে ‘মাওলানা’ শব্দটা দ্বারা আল্লাহকে বুঝানো হয়েছে। শব্দটা মানুষের জন্য ব্যবহার করা যায় কি না জানালে খুশি হব।

Mohammad Mozammel Hoque: পবিত্র কোরআনে মালিক শব্দটা দ্বারা আল্লাহকে বুঝানো হয়েছে। কোনো ধরনের অস্পষ্টতা ছাড়াই। সে ক্ষেত্রে মালিক শব্দটা মানুষের জন্য ব্যবহার করা যায় কি? যারা বলে এই জায়গার মালিক অমুক, তারা কি শিরক করে?

Anupom Roy Chowdhury: আপনার প্রথম দিকে বলা কথা গুলো আমার মতো ভিন্ন ধর্মী আরো অনেকেরই প্রশ্ন। একজন ধর্মীয় বক্তা সুন্দর, সাবলীল, সুললিত কণ্ঠে সুমধুর ভাবে বললে কথা গুলো শোনার তৃষ্ণাও বাড়ে। কিন্তু তা না করে গায়ের জোরে গলা ফাটিয়ে বেসুরো গলায় চেঁচানো উনাদের কথায় কান ঝালাপালা হয়ে বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এটা তো ধর্মের সৌন্দর্য নষ্ট হয় বৈকি।

আপনার কিছু কমেন্ট আমি পড়েছি, আপনি বলেছেন পুরোহিত তন্ত্র বা ক্লাস সিস্টেম পরিত্যাগ করে পাশাপাশি জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা করতে হবে। কিন্তু আজকাল জ্ঞান বিজ্ঞান দর্শন বাদ দিয়ে ধর্ম ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুধু ধর্মান্ধতাকে সামনে তুলে নিয়ে আসছে। এটা কখনোই কাম্য নয়।

বাহির থেকে দেখে যদি ধর্মের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হওয়ার বদলে নিকৃষ্ট ভাবতে শুরু করে, সে দোষ ধর্মের নয়, তাঁর ধারকদের। আপনার ভাবনার বিপরীতে পড়া কিছু কমেন্ট দেখলাম, যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিটা আড়ষ্ট, চিন্তাচেতনা কুণ্ঠাগত। তবে আপনার লেখা পড়ে ভালো লাগলো।

Mohammad Mozammel Hoque: প্রতিটা মানুষের জীবনমুখী হওয়া উচিত। ঐ যে কথাটা, ‘চাই, জীবনের জন্য জ্ঞান। জীবিকার জন্য দক্ষতা’। সেজন্য পুরোহিততন্ত্র আমাদেরকে কখনো ভালো কিছু দেয় না। পুরোহিতদের কাছে ধর্ম একটা ব্যবসার উপায়, যেভাবে উকিলদের কাছে আইন কানুন হচ্ছে ব্যবসার উপায় ও উপকরণ। ডাক্তারদের কাছে যেমন ডাক্তারী বিদ্যা।

অপরপক্ষে, জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারটা এমন, আমাদের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানগুলো, বিশেষ করে মৌলিক জ্ঞানগুলো আমরা অনেক সময়ে অর্জন করতে পারি না। এবং সেজন্য যতটুকু ডেডিকেশন দেওয়া উচিত, সেটা আমরা দিতে পারি না। তাই জীবন চলার পথে জ্ঞানীদের উপর আমাদেরকে নির্ভর করতে হয়।

জ্ঞানী হওয়া আর পুরোহিত হওয়া, দুইটা দুই জিনিস। প্রথমটা ভীষণ জরুরী। দ্বিতীয়টার মধ্যে আমি কোনো উপকারিতা দেখি না।

যেই স্রষ্টাকে কোনো মাধ্যম ছাড়া ডাকা যায় না, তিনি স্রষ্টাই হতে পারেন না। আর মাধ্যম ছাড়া যদি তাঁকে সরাসরি ডাকা যায়, তাঁর সাথে সম্পর্ক করা যায়, তাহলে পুরোহিতদের কাজ কী?

সঠিক দোয়া কালাম বা মন্ত্র, এগুলো জানা দরকার। কিন্তু সেগুলো-ই শেষ কথা নয়। আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্কই হচ্ছে মূল কথা।

Muhammad Saidul Islam: মাদ্রাসাগুলোতে কোর্স চালু করার আগে আমি মনে করি আপনি যেই শিক্ষায় শিক্ষিত তাদেরকে চারিত্রিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য একটা কোর্স চালু করুন। সভ্য মানুষ গড়তে কাজ করুন। এমন কিছু শিখান আপনার অবর্তমানে আপনার জন্য দোয়া করবে।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, O you who have believed, protect yourselves and your families from a Fire whose fuel is people and stones.

Mohammad Mozammel Hoque: উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চরিত্র শিক্ষা দেয়ার জন্য নয়। বিশেষ বিশেষ বিষয়ে গভীরতর অধ্যয়ন করার জন্য। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান চরিত্র শিক্ষা দিবে, এটি উচ্চা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারনা। অতিপ্রত্যাশা।

চরিত্র শিক্ষা দিবে পরিবার ও সমাজ। প্রতিষ্ঠানে ঘটবে এর পূণরাবৃত্তি। প্র্যাকটিস। নৈতিক শিক্ষা মূলগতভাবে একটা সামাজিক বিষয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো রাষ্ট্রের অঙ্গ। রাষ্ট্র কাজ করে আইনের ভিত্তিতে। শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে। টপ-ডাউন এপ্রোচে। নৈতিকতা হলো বটম-আপ এপ্রোচের ব্যাপার। আইনের সাথে নৈতিকতার সম্পর্ক বিপরীত অনুপাতের।

নীতিবিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা আর নৈতিক শিক্ষা লাভ করা দুইটা দুই জিনিস। যেভাবে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা আর ইসলামের নৈতিক শিক্ষাকে ধারন করা দুইটা দুই জিনিস।

Ohidul Islam Khoka: সম্প্রতি এক প্রসিদ্ধ আলেমকে ‘আল্লামা এবং আলহাজ্ব’ শব্দ দুটো এক টানে কেটে ‘প্রফেসর’ লিখতে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছি। এরকম অসংখ্য বিষয় আশয় চোখে পড়ে। কিন্তু, সময় আর বাস্তবতার কারণে লিখি না। সময় আসুক, লিখবো ইনশা আল্লাহ।

Mohammad Mozammel Hoque: প্রসিদ্ধ আলেমগণ তাদের সন্তানদেরকে প্রসিদ্ধ আলেম হিসেবে গড়ে তুলতে চাননি। তারা চেয়েছেন তাদের ছেলেরা বড় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার আর প্রফেসর হোক। গত একশ’ বছরের ইতিহাস তাই বলে।

ইসলামী সংগঠনের নেতাদেরও একই হাল। মাওলানা মওদূদী আর অধ্যাপক গোলাম আযমের এতগুলো ছেলে সন্তান। তাদের একজনকেও তারা মাওলানা বানাননি। বাংলাদেশের সব কুখ্যাত নাস্তিক আলেম পরিবারের সন্তান।

Abu Bakar Siddique: একজন আলেমের মধ্যে কি কি শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা উচিত – এ বিষয়ে একটি লেখা লিখলে ভালো হয়।

Mohammad Mozammel Hoque: আলেমের সংজ্ঞা, আলেমের যোগ্যতা, এসব বিষয়ে আলোচনা করার আগে আমাদের বুঝতে হবে, আলেম কথাটা দ্বারা আমরা আসলে কী বুঝাচ্ছি। আমি যতটুকু বুঝেছি, আলেম কথাটার তিন ধরনের অর্থ হতে পারে। এক ধরনের অর্থ কথাটার আরবি শাব্দিক অর্থ। আরেক ধরনের অর্থ আলেম বলতে আমরা বাংলা ভাষায় সচরাচর যা বুঝি তা। তৃতীয় এক ধরনের অর্থ হতে পারে কোরআন হাদিসে আলেম বলতে যা বোঝানো হয়েছে সেগুলোর সমন্বয়ে যে ধারণা তৈরি হয় সেইটা।

কথার কথা, উত্তর নিয়ে কেউ যদি বলতে চায়, তাকে বুঝতে হবে, উত্তর বলতে এখানে আসলে কী বোঝানো হচ্ছে। উত্তর দিক? প্রশ্নের উত্তর? নাকি, কোনো কিছুর পরবর্তী।

আমি কিছুদিন আগে একটা আলোচনা করেছি, পৌনে এক ঘন্টার: কেন শূন্যতার পরিবর্তে বিশ্বের অস্তিত্ব রয়েছে। আলোচনার তিনভাগের দুই ভাগ সময় আমি ব্যয় করেছি শূন্যতা, বিশ্ব এবং এই প্রশ্নটা যারা আমরা করছি সেই আমরা, তাদের পরিচয় খুব বৈশিষ্ট্য কী, তা নিয়ে। Defendum তথা যেটার সংজ্ঞা দেয়া হয় সেটাকে একটা নির্দিষ্ট ফ্রেম এর মধ্যে না আনলে, প্রদত্ত সংজ্ঞা নিয়ে মতবিরোধ কখনোই শেষ হবে না।

আশা করি বিষয়টার গুরুত্ব এবং তাৎপর্য তুমি বুঝতে পেরেছো।

Bashar Mahmud Shuvro: কিন্তু পরিবেশগত একটা ব্যাপার আছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেমরা ডক্টর প্রফেসর টোনেই ভূষিত হবেন। সেখানকার অন্যসব শিক্ষকদের মতোই। আর মাদ্রাসায় সেটা কওমি বা আলিয়া যাই হোক আল্লামা, মাওলানা টোনেই ভূষিত হবে।

Mohammad Mozammel Hoque: অথচ এতবড় একটা সেকুলার বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরীরত মাওলানাদের হওয়ার কথা ছিল বাদবাকীদের জন্য একেকটা লাইটহাউজ। মান ও গুণের বাতিঘর। আযিমতের স্ট্যান্ডার্ড। তা না করে উনাদের একটা বিরাট অংশ যেভাবে স্রোতে গা ভাসিয়ে দিচ্ছেন সেটা কি ঠিক হচ্ছে?

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *