যদি না করে তাহলে সেটি অস্বাভাবিক ঘটনা। মাত্রাজ্ঞান থাকা সাপেক্ষে অ্যাডাল্ট নারী-পুরুষ পরস্পর পরস্পরের সাথে ফ্লার্ট করা একটা সুস্থ স্বাভাবিক ব্যাপার। অবিবাহিতরা ফ্লার্টিং বেশি করবে, এটা নিয়ে তো বলার কিছু নাই।
এ ব্যাপারে, প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, ‘সেই কাজ’ করার ব্যাপারে পুরুষের আগ্রহ বেশি থাকার কারণে তারাই বেশি ফ্লার্টিং করে, কিংবা তাদের বেশি ফ্লার্টিং করা উচিত।
আমার মতে প্রচলিত এই ধারণাটা ভুল।
আনলাইক মেইল পারসন্স, ফিমেইল সেক্সুয়ালিটি যদি হয় সাইকো-ফিজিক্যাল, তাহলে তো নারীদের তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণে ফ্লার্টনির্ভর হওয়ার কথা।
বাস্তবেও ব্যাপারটা তা-ই।
নারীরা ফ্লার্ট বেশি পছন্দ করে। গ্রাহক এবং উৎপাদক উভয় হিসেবে। sneaky behaviour বলতে নারীসুলভ যে ধরনের আচরণকে আমরা বুঝি সেটি মূলত তাদের flirtatious behaviour।
পবিত্র কোরআনে ফ্লার্টেইশাস আচরণের ব্যাপারে নারীদেরকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। ফ্লার্ট করতে নিষেধ করা হয়নি।
বরং পরপুরুষের সাথে ফ্লার্ট করার ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পর্দার আয়াত নাযিল করা হয়েছে। এমনকি মাথার চুল ঢেকে রাখার জন্য বিধান জারি করা হয়েছে।
সমস্যা হলো, ফ্লার্টিং এর উপায় উপকরণ এত বেশি, এই কাজে চুলের ব্যবহার ছাড়া প্রচলিত অর্থে পর্দানশীল যে কোনো নারীর পক্ষে পাবলিক প্লেসে ফ্লার্টেইশাস হওয়া সম্ভব।
আমরা জানি, লাস্যময়ী হওয়া আর ভদ্র আচরণ এক জিনিস নয়। এ দুটোর মধ্যে আছে গ্রে এরিয়া। তৎসত্ত্বেও আমরা বুঝতে পারি, কোনটা ফ্লার্টিং আর কোনটা নিছক কার্টেসি বেহেইভিয়ার।
ফ্লার্টিংকে কার্টেসি বিহেইভিয়ার হিসেবে দাবি করা সম্ভব। আবার নিছক সৌজন্যতামূলক আচরণকে অপরপক্ষ ফ্লার্টিং হিসেবে মনে করাও সম্ভব। পুরো বিষয়টা স্থান, কাল ও পাত্র বিবেচনাসাপেক্ষ।
ফ্লার্টিং এর ফজিলত বর্ণনা করে আলাদা একটা পোস্ট হতে পারে। এর পদ্ধতি ও উপকরণ নিয়েও একটা বিশাল লেখা হতে পারে। সেগুলো আপনারা অলরেডি ভালো করেই জানেন। বিশেষ করে আজকালকার হাইপার-সেক্সুয়ালিটির যুগে এসব ব্যাপারে মানুষজন অনেক বেশি ম্যাচিওরড।
অন্তত আমার থেকে আপনারা বেশি জানেন। আপনারা এসব স্পর্শকাতর বিষয়কে এড়িয়ে চলেন। আমি এগুলোকে আলোচনায় নিয়ে আসি, পার্থক্য এতোটুকু।
প্রসঙ্গক্রমে বলছি, বিরুদ্ধ-উদাহরণ প্রকৃতিবিজ্ঞানের আলোচনায় ড্যামেইজিং সামথিং। One counter-example collapses the whole thing. এর বিপরীতে, সমাজবিজ্ঞানের আলোচনায় বিরুদ্ধ-উদাহরণ একটি অনিবার্য ব্যাপার। এখানে থাকে একটি মূলস্রোত এবং একাধিক বিকল্পধারা।
তাই আমরা যখন কোনো শ্রেণী সম্পর্কে কোনো একটা ধারণাকে গ্রহণ করি তখন আমরা দেখি, ঐ ক্যাটাগরির বেশিরভাগ লোকজন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে কী করে।
হ্যাভিং সেইড দিস, ফ্লার্টিং প্রসঙ্গে আমার কিছু প্রশ্নের কথা এবার আপনাদেরকে বলি।
বিবাহিত নারীরা তাদের স্বামীদের সাথে চাইলেও(?) কেন ফ্লার্টিং করে না বা করতে পারে না, সেগুলো নিয়ে অনেকেই বলেছেন। এবার আপনারা বলেন, তারা ফ্লার্টিং যতটুকু যা করে, তা কি নিজের লোকটার সাথেই করে? নাকি, অন্যদের সাথেও করে?
কাদের সাথে নারীরা ফ্লার্টিং বেশি করে? কখন এবং কাদের জন্য তারা মূলত সাজে? মুডসুইং ইত্যাদি সত্ত্বেও কাদের সাথে মূলত তারা হাসিমুখে কথা বলে? সদাসর্বদা ‘সৌজন্যতা’ বজায় রেখে চলে? কাইন্ড, পজিটিভ এন্ড জেনারাস হয় বেশি?
স্বাধীনতার এই যুগে মতামতের স্বাধীনতাচর্চায় দেখি আপনারা কে কতটুকু সাহসী। আপনার একান্ত ব্যক্তিগত মতামতটাই আমি জানতে চাই।
সাজসজ্জা আর রূপচর্চা কি ফ্লার্টিংয়ের এর অংশ?
মন্তব্য – প্রতিমন্তব্য
Rakib Uddin: স্ত্রী চায় স্বামী তার সাথে চটুল এবং অন্য নারীর সাথে রাশভারি থাকুক। অথচ যিনি যে প্রকৃতির তিনি অন্য প্রকৃতি ধারণ করা কঠিন এক কাজ। নারী অন্য পুরুষের কাছ থেকেও চটুলতা কামনা করে যদি নিরাপদ পরিবেশ পায়। সাজগোজের বেলায় নারী-পুরুষ সবাই চায় বাইরে যাওয়ার সময় ফিটফাট থাকতে। ঘরে সাজগোজ কমই হয়।
Mohammad Mozammel Hoque: মাত্রাজ্ঞান বজায় থাকা সাপেক্ষে nonconjugal flirting অনুমোদনযোগ্য, কিংবা অনুচিত হিসেবে বিবেচিত হয়।
Akib Jabed: এখনকার জামানায় ফ্লার্টিং করা পুরুষের জন্য রিস্কি৷ বেশ কবছর আগে একটা আইন হয়েছিল সেটা হচ্ছে নারীকে সুন্দরী বলা হলে সেটা যৌন হেনস্থা হতে পারে৷ কোনটা ফ্লার্টিং হবে আর কোনটা যৌন হেনস্থা হবে পুরো জিনিস ডিপেন্ডস অন নারী৷ নারী অপছন্দের পুরুষের ক্ষেত্রে নির্দোষ ফ্লার্টিংকে যৌন হেনস্থা করে ফেলতে পারে৷ ু
আর পছন্দের পুরুষের ক্ষেত্রে সেটা এপ্রোচ/ ফ্লার্টিং। আর সমাজব্যবস্থার জন্য নারী চায় পুরুষ তাকে ফ্লার্ট করুক৷ সে বায়োলজিক্যালি চুজার৷ নানা রকম আইন আর নারীদের নানা ছলা-কলার জন্য ফ্লার্টিং পুরুষের জন্য রিস্কি গেইম৷
Mohammad Mozammel Hoque: রিস্কি বাট রিওয়ার্ডিং।
Taznil Tahura: বিয়ের আগেও সাজসজ্জার প্রতি খুব একটা আগ্রহ ছিলো না এবং বিয়ের পরেও নেই। আমার অর্ধাঙ্গ পরিপাটি থাকাকে খুব পছন্দ করে তাই ড্রেস আর অর্নামেন্টস নিয়ে তার পছন্দ মতো থাকি। এটা কি ফ্লার্ট এর অংশ হবে সেটা জানি না।
Mohammad Mozammel Hoque: হ্যাঁ, হবে।
Ferdous Tushar: স্বামীর কাছ থেকেই সব রোমান্টিকতা চায় বাঙালি নারী, নিজে কখনও রোমান্টিক হতে পারেনা। হঠাৎ স্বামীর জন্য একটু আবেদনময়ী রূপে সাজসজ্জা করবে এগুলো তারা আদিখ্যেতা মনে করে।
Mohammad Mozammel Hoque: এ ধরনের একপাক্ষিকতা সম্পর্ককে ধ্বংস করে। সম্পর্ক মাত্রই দ্বিপাক্ষিকতার ব্যাপার। কোনোকিছুকে ফর গ্রান্টেড ধরে নেওয়া মহা ভুল।
আমাদের সমাজে অনেক কিছু ভালো আছে বটে। যেটার সবচেয়ে বড় অভাব সেটা হলো, পারস্পরিক সম্পর্ক ও অধিকারের সীমানাগুলো সম্পর্কে লোকদের অজ্ঞতা, এবং সেই অজ্ঞতা স্বীকার করে সঠিক জ্ঞান অর্জন করার ব্যাপারে অনীহা।
গায়ের জোরে আমরা অনেক কিছু করতে চাই, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের কাছে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে। সম্পর্কের সীমানা ভাঙচুর করার চেয়ে, সীমানা মেনে চলাটা হচ্ছে অধিকতর লাভজনক।
Every relation is a matter of give and take. দায়িত্বপালন এবং অধিকার আদায় ঠিকঠাক মতো হলে ভালোবাসা এমনিতেই গড়ে উঠে। এর বিপরীতে, দায়িত্বপালনে অবহেলা হলে এবং প্রাপ্য অধিকার ঠিকমতো না পেলে ভালোবাসা হারিয়ে যায়।
Nazifa Afroze: চাইলে অনেক কিছু লেখা যায় কিন্তু অল্প কথায় শেষ করি। নিজেদের মধ্যে ভালোবাসা থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব। জানিনা একে ফ্লার্টিং বলা যায় কিনা। এটা ব্যক্তি বিশেষে নির্ভর করে আসলে। আমার মনে হয়না নিজের পছন্দের মানুষ ছাড়া ব্যক্তিত্ববান কোনো মেয়ে অন্য কারো জন্য সাজে। বিয়ে, অনুষ্ঠান এসবে সাজতে হয় তাই সাজা।
নিজের পছন্দের মানুষ ছাড়া অন্য কারো জন্য সাজা এটা চিন্তা করতেও তো রুচিতে বাধে। বিয়ের পরেও নিজেদের মধ্যে ভালোবাসার আদান প্রদান থাকলে ফ্লার্টিং খুব স্বাভাবিক এবং দরকার।
Mohammad Mozammel Hoque: ‘বিয়ে, অনুষ্ঠান এসবে সাজতে হয়’ – কেন? এর একটা গড়পরতা সীমা নির্ধারণের উপায়? কারণ সোশ্যাল নর্ম তো একটা আপেক্ষিক ব্যাপার।
Marzia Nijhum: রিলিজিয়াস নলেজ যথেষ্ট কম, বিয়ের আগে কয়েকজন প্রাক্তন আছে, অতিমাত্রায় খোলামেলা চালচলনের কারণে আগে থেকেই রূপের প্রশংসা পেয়ে অভ্যস্ত কিংবা যাষ্ট ফ্রেন্ডস কালচারে; অভ্যস্ত এক কথায় নারী অতিমাত্রায় চরিত্রহীন না হলে নারীরা অবশ্যই স্বামীর সাথে ফ্লার্ট করে।
আবার চরিত্র সংরক্ষণ করেছে কিন্তু পরিবার এমনই যারা কিনা বিয়ের সময় মেয়ের মতামত নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। যার সাথে বিয়ে দিয়েছে তাকে কোনদিক থেকেই তার পছন্দ হচ্ছে না। এমন হাজব্যান্ডের সাথেও ফ্লার্ট করতে ইচ্ছেই করবে না।
আবার সব কিছুই ঠিক আছে কিন্তু নারী ফ্লার্ট করে যেটা মিন করতে চাচ্ছে সেটা পার্টনার বুঝতে পারলো না এটাও প্রব্লেম। যেমন সাজুগুজু করেছে হাজব্যান্ডের প্রশংসা পাওয়ার আশায় বাট মন মত প্রশংসা না পেলে মেয়েরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। মেয়েরা অনেক বেশি অভিমানী। আর তারা চায় পুরুষরা উঠতে বসতে তার প্রশংসা করুক। স্বামীর চাইতে অফিসের বস কিংবা কলিগ বেশী প্রশংসা করলে মুড সুয়িং করার পরও সাব কনশাস মাইন্ড বলবে আজকেও অফিসে সেজে যা।
নারী তার প্রতিই কাইন্ড, পজিটিভ কিংবা জেনারাস হয় যে স্পেশালী তার রূপের প্রশংসা করে। আর না বলা ভাষা গুলোও বুঝার চেষ্টা করে। ছোট ছোট পছন্দের প্রতি খেয়াল রাখে। এটা খুব বেশি কঠিন কিছুও না।
আর যদি বলি নারী আগ বাড়িয়ে কার সাথে ফ্লার্ট করতে চায় তবে বলব ফর্মাল গেটাপসহ অতিভদ্র, উচ্চশিক্ষিত পুরুষ যিনি নিজে নারীদের কাছ থেকে দূরুত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করে। এটা একান্তই আমার পারসনাল অবজারভেশন।
Mohammad Mozammel Hoque: তোমার কথাগুলো অত্যন্ত বাস্তবসম্মত আমি তোমার কথার সাথে সম্পূর্ণভাবে এগ্রি করি। হাতের কাছের মোয়া পাওয়ার জন্য কেউ লাফালাফি করে না। বরং যা দুর্লভ এবং দামি সেটার জন্য মানুষ আগ্রহী হয়।
এমতাবস্থায় দম্পতিদের করণীয় হল, সম্পর্কের মধ্যে আলো ছায়া, কিছুটা টানাপড়েন আর সাময়িক দূরত্ব তৈরি করা। পরস্পর পরস্পরকে দূর থেকে হাতছানি দেয়া। নট অলওয়েজ। বাট অকেশনালি। আরেকটা কাজ করা দরকার সেটা আমি করি। সেটা নিয়ে লেখার ইচ্ছা আছে, তাই আপাতত এখানে না বলি।
