ঘটনাটা খুবই সাদামাটা। একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছে, কিন্তু কোনো হত্যাকারী পাওয়া যায় নাই। মাত্র এক লাইনের এই গল্পটার তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী। আমরা জানি, সত্য হওয়া আর প্রমাণিত হওয়া এক না। কোনোকিছু ট্রু হলেও হতে পারে সেটি নয় এভিডেন্ট। ভাইস ভার্সা।
জ্ঞানের শর্ত সত্যতা। অথচ কোনোকিছু সত্য হওয়া সত্বেও হতে পারে সেটি অবৈধ। আবার হতে পারে কোনোকিছু বৈধ, কিন্তু অসত্য, কিম্বা মিথ্যা।
সত্যতা আর প্রমাণের এই সংঘাতের অন্যতম উদাহরণ হলো আইন ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব। হতে পারে কোনোকিছু নীতিবিরুদ্ধ কিন্তু আইনসম্মত। কিংবা এর উল্টো। প্যারাডক্সিক্যালি, আইন তৈরী করা হয় নৈতিকতার দাবীকে পূরণ করার জন্য।
‘সমাজ ও সংস্কৃতি কেন্দ্র’ (সিএসসিএস)-এর সাইটে ২০১৫ সালে আমরা একটা অনুবাদ-আর্টিকেল প্রকাশ করেছিলাম, যার শিরোনাম ছিল, ‘হালাল হলেই কি ইসলামিক হবে? ইসলামী নৈতিক চেতনার গুরুত্ব’।
ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং। তাই না?
ফেকাহ’র দৃষ্টিতে হালাল হওয়া আর ইসলামের আদাব আর আখলাকের দৃষ্টিতে সঠিক হওয়া, দুইটা এক না।
শুরু করেছিলাম যে কথা দিয়ে, সত্যতা আর প্রমাণের গড়মিল। এই ফারাকের শেকড় দৃশ্যমানতা (appearance) ও বাস্তবতার (reality) সংঘাতের মধ্যে নিহিত। ইমানুয়েল কান্ট এই কারণে জগতকে দুইভাগে ভাগ করেছেন, দৃশ্যমান জগত (phenomena) ও দৃশ্য-অতিবর্তী বা অতিন্দ্রীয় জগত (nuemena)।
জালে যে মাছ ধরা পড়ে তা ফেনোমেনার অন্তর্ভুক্ত। আমরা বুঝতে পারি, সাগরে আরো অনেক মাছ আছে। সেসব মাছ আছে। নুমেনাল ওয়ার্ল্ডে।
প্রমাণ, সাক্ষ্য আর আইনের সাথে সত্যতা ও বাস্তবতার এই দ্বন্দ্বমুখর সম্পর্ক তৈরী হয়েছে আমার আপনার যে কারো, জগতের সব কিছুর সসীম বা সবিশেষ (particular) হওয়ার কারণে।
আমাদের সসীমতা আমরা বুঝতে পারি আমাদের স্বজ্ঞাত অভিজ্ঞতা দিয়ে। আমাদের বুদ্ধি আমাদেরকে বলে, তোমার অস্তিত্বগত সীমাবদ্ধতাই প্রমাণ করে, কোথাও না কোথাও অসীমতা বলে কিছু একটা আছে।
অসীমতা থাকলে অসীম কোনো সত্তাও থাকবে, নিশ্চিত।
হতে পারে, সেই অসীম সত্তাকে তুমি প্রকৃতি বলো। কেউ বলে, খোদা। কিন্তু তিনি আছেন। তাঁকে থাকতেই হবে।
অসীমতার ধারণা না থাকলে তোমার আমার সসীমতা হয়ে পড়ে অর্থহীন। অসম্ভব।
পুনশ্চ: লেখাটা অসম্পূর্ণ। ইচ্ছাকৃতভাবে। এই কথাগুলোর সাথে আপনি যদি একমত হোন, তবে ভাবতে থাকুন। আমাদের শ্লোগান হচ্ছে, let people think ।
মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Shakil Mia: বিষয়গুলো কিছুটা হলেও জটিল। আমারা যারা দর্শনের ছাত্র কিংবা যারা দার্শনিক তাদের কাছে বিষয়গুলো স্বাভাবিক মনে হয়। তাহলে একদম তৃণমূলের মানুষ, যারা এতো কিছু বুঝতে পেরে না, তাদের কাছে কীভাবে এই সত্যতা, বৈধতার বা সত্য মিথ্যার দ্বন্দ্ব পৌঁছানো বা বুঝানো যাবে?
Mohammad Mozammel Hoque: সামগ্রিকভাবে ফিলসফিকে জনপ্রিয় করার মাধ্যমে।
Mohammad Tausif Rafi: সসীম থাকলে অসীম থাকবেই এই আইডিয়ার সাথে আমি একমত না। তবে আমার ধারণা, এই আইডিয়াটা বেশ ভালো। এই আইডিয়াটার সাথে অন্যের অস্তিত্ব ছাড়া নিজের অস্তিত্ব নাই এই ধরনের আইডিয়ার মিল আছে বোধহয়।
Mohammad Mozammel Hoque: অসীম যে আছে সেটার প্রমাণ হলো, সসীমতার এই জগতে অসীমের ধারণাবিহীন একটা জগতের কল্পনা আমরা কোনোভাবেই করতে পারি না।
