আমরা কী দেখি, কেন দেখি, কীভাবে দেখি

প্রশ্ন: কোনো কিছু পর্য‌বেক্ষণ করার পূর্বশর্ত হ‌চ্ছে সম্ভাব্য অস্তিত্ব তথা ‘আছে’র সম্ভাবনা দি‌য়ে। যেমন, টে‌লি‌ভিশন বা ফোন ইত্যা‌দি আবিষ্কার। এখন এমন কি সম্ভাবনা আছে যে পর্য‌বেক্ষণ শুরু হয় সম্ভাব্য ‘নাই’ ধ‌রে? য‌দি সম্ভাব্য ‘নাই’ ধ‌রে পর্য‌বেক্ষণ করা সম্ভব হয়, তার দু-এক‌টি উদাহরণ য‌দি দি‌তেন উপকৃত হতাম।

উত্তর: ‘কোনো বর্গাকার বৃত্ত নাই’ – এই কথাটাকে সদর্থকভাবে গ্রহণ করে আমরা ভাবতে পারি, যা কিছু আছে তা নিজের মতো করেই আছে। অর্থাৎ

whatever exists, exists by itself, with its own actual or potential characteristics.

অস্তিত্ব মাত্রই এই যে অনন্যতা, এইটাকে বলা হয় principle of Identity বা অনন্যতার নীতি।

অন্টোলজিক্যালি বা তত্ত্বগতভাবে হোক সেটা বস্তুগত কিংবা অবস্তুগত, বাস্তব অস্তিত্ব আছে এমন সবকিছুরই একটা প্রতিরূপ কল্পনা আমরা করতে পারি।

অর্থাৎ, বাস্তব অস্তিত্ব নাই এমন কিছুকেও আমরা বাস্তব হিসেবে কল্পনা করতে পারি, বাস্তবের মতো করে গ্রহণ করতে পারি। বরং ক্ষেত্রবিশেষে বস্তুগত বাস্তবতার চেয়ে অধিকতর বাস্তব হিসাবে মনে করি।

যেমন, আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান আনি। সত্তাগতভাবে তিনি সকল ধরনের বস্তুগত বাস্তবতা, এমনকি আমাদের কল্পনারও ঊর্ধ্বে। অথচ তাঁকে আমরা সকল বাস্তবতার চেয়েও বেশি বাস্তব হিসেবে গ্রহণ করি।

এ’পর্যায়ে একটা প্রশ্ন আসতে পারে,

অবস্তুগত অথচ বাস্তব যেসব কল্পনার কথা আমরা বলি, সেগুলো সোনার পাহাড়ের কল্পনার মত নিছকই কল্পনা, নাকি বাস্তব, সেটা আমরা কীভাবে বুঝব?

খুব সংক্ষেপে এই প্রশ্নের উত্তর হল-

যেসব কল্পনাকে আমরা চাইলে ভিন্নভাবে কল্পনা করতে পারি, সেগুলো হলো নিছকই কল্পনা। যেমন, মাটির পাহাড়কে আমরা সোনার পাহাড় কিংবা পাথরের পাহাড় হিসেবে কল্পনা করতে পারি।

এর বিপরীতে, আমাদের যেসব কল্পনাকে চাইলেও আমরা বাধা দিতে পারি না কিংবা পরিবর্তন করতে পারি না, এই ধরনের অনিবার্য অনুমান/চিন্তাগুলো হলো অবস্তুগত বাস্তবতা।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমার মত অন্যদেরও একটা সত্ত্বা ও মন আছে, জগতে নীতি-নৈতিকতা বলে কিছু জিনিস আছে, যুক্তির কিছু মৌলিক নীতি আছে, জগতে এবসোলিউট এনটিটি আছে, ইত্যাদি।

শেষের কথাটা দিয়ে কিছু বলা যাক।

যারা এমনকি চূড়ান্ত আপেক্ষিকতায় বিশ্বাস করে তাদের কাছে আপেক্ষিকতাই চূড়ান্ত বিষয়। তার মানে, absolutism is a must।

কেউ যদি ইনফিনিটিজমে বিশ্বাস করে, আমরা বুঝতে পারি সেই ব্যক্তি তার অভিজ্ঞতার মধ্যে যা কিছু পেয়েছে, সবকিছু ফাইনাইট। অভিজ্ঞতায় পাওয়া সসীমতাকে তত্ত্বগত (অন্টোলজিকাল) সমর্থন দেয়ার জন্য তিনি ‘কনস্ট্রাক্ট’ বা ইনফার করেছেন অসীমতার ধারণা।

অস্তিত্বে বিশ্বাসের পাশাপাশি আমাদের মৌলিক বিশ্বাসের বিরাট অংশ হচ্ছে অনস্তিত্বের ধারণা। যেমন, আমাদের মৌলিক বিশ্বাস (priori belief) হলো শূন্য ব্যাসের কোনো বৃত্ত বাস্তবে (মানে, বস্তুগতভাবে) অস্তিত্বশীল হতে পারে না, বিবাহিত কোনো ব্যাচেলর থাকতে পারে না, বর্গাকার কোনো বৃত্ত হতে পারে না। ইত্যাদি।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *