দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মানুষটি বলেছেন, ‘অন্যায়কে সামর্থ্য থাকলে তুমি হাতে বাধা দাও, না পারলে মুখে প্রতিবাদ করো, তাও না পারলে অন্তরে ঘৃণা করো। এটা হচ্ছে বিশ্বাসের সর্বনিম্নস্তর’!
এটি বিশ্বাস করে কেউ ‘আমর বিল মারুফ, নেহি আনিল মুনকার’ এর দায়িত্ব পালনরত কাউকে মরাল পুলিশিং এর জন্য অভিযুক্ত করতে পারে না।
the so-called moral policing is itself a western “faltu’’ term. We believe in social morality and collective guidance.
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমার ভাইকে তুমি সহযোগিতা করো। হোক সে জালেম কিংবা মজলুম। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়া রাসুল আল্লাহ, মজলুমকে কিভাবে সাহায্য করবো, তা তো বুঝলাম। কিন্তু জালেমকে কিভাবে সাহায্য করবো?’
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বললেন, ‘তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখো।’
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আমি আদমের সন্তানকে সম্মানিত করেছি’!
অতএব ব্যক্তি যেই হোক, তার সমস্যা কিংবা ত্রুটি যা-ই থাকুক, তাকে সংশোধন করার জন্য সুসংগত, শোভন ও সুন্দর পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
এ সম্পর্কে অন্য আরেকটি আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকো হেকমত সহকারে এবং উত্তম পন্থায়।’
তার মানে, কাউকে গালি দেয়া যাবে না। কোনো অবস্থাতেই না।
‘অমুকের পুত’ কথাটা যেমন গালি, তেমন করে নাম বিকৃত করে বলাটাও গালি। যেমন, ‘গেহাদি’ (মানে, জেহাদি), ‘বাল্কায়েদা’ (মানে, আল কায়েদা), জাফর ইকবাল ষাঁড় (মানে, জাফর ইকবাল স্যার) – এই ধরনের কথাগুলোও গালি। সেকুলারকে ‘সেক্যু’ বলা, সমকামিতার সমর্থকদেরকে ‘পায়ু যোদ্ধা’ বলা, এগুলোও গালির সমতুল্য।
বিদ্বেষ তৈরিতে গালির জুড়ি নাই। বিদ্বেষ হল বিষের মত মরণঘাতী। আপনি কাউকে প্রবলভাবে বিরোধিতা করেন। করতে পারেন। বরং ক্ষেত্র বিশেষে করাই উচিত। কিন্তু কারো প্রতি কোন অবস্থাতে বিদ্বেষপ্রবণ হবেন না।
শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে প্রচারিত ঘৃণাচর্চা মানুষের চরিত্র নষ্ট করেছে। সহজ সরল মানুষেরা, এমনকি ইসলামী নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষেরাও বিরোধীপক্ষকে যেকোনো ল্যাংথে গিয়ে গালিগালাজ করে। এটি এক অকল্পনীয় বাস্তবতা!
কেন গালি দেয়া যাবে না, সে ব্যাপারে মহান আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, ‘তোমরা যদি তাদের দেব-দেবীদেরকে গালি দাও, তারাও আল্লাহকে গালি দিবে।’
কাউকে গালি দেয়ার মাধ্যমে তাকে যতটা অপদস্ত করা যায়, তার চেয়ে বেশি নষ্ট হয় গালি যে দেয়, তার চরিত্র।
আল্লাহর খলিফা হিসেবে সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের ব্যক্তিচরিত্রকে নষ্ট করা যাবে না। এই ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা যায়, আসুন এটা নিয়ে আমরা ভাবনাচিন্তা করি।
‘মরাল পুলিসিং করা যাবে না’ এটি পশ্চিমাবিশ্ব থেকে আসা একটি অন্যতম ক্ষতিকর কনসেপ্ট। westoxification থেকে বাঁচার জন্য আমার এই কথাটা হতে পারে একটা প্রাথমিক উপায়,
Whatever comes from the West, doubt it first.
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,
নৈতিক অনুশাসনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সকল কাণ্ডসম্পন্ন মানুষের হলেও শাস্তি প্রয়োগের অধিকার শুধুমাত্র উলিল আমর তথা যথাযথ কর্তৃপক্ষের। তাই মব জাস্টিস বা গণবিচার কোনো অবস্থাতেই সমর্থনযোগ্য নয়। একপাক্ষিক হওয়ার কারণে মিডিয়া ট্রায়ালও ইকোয়ালি আন-একসেপ্টেবল অ্যান্ড আনইসলামিক প্র্যাক্টিস।
পাশ্চাত্যের তুলনায় এখানকার প্রচলিত সামাজিক ব্যবস্থায় আমরা সামাজিক মূল্যবোধ এবং নিয়ন্ত্রণের ওপর অধিকতর গুরুত্বারোপ করে থাকি।
আমার অন্য লেখায় আমি সবিস্তারে বলেছি, ওয়েস্টার্ন সিস্টেমে ব্যক্তি সরাসরি রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কিত। সেখানকার পারিবারিক ও সামাজিক ব্যবস্থা আমাদের তুলনায় দুর্বল। তারা যে কোনো কিছুতে রাষ্ট্র ও আইনকে নিয়ে আসে। যার কারণে স্বভাবতই তারা মরাল পুলিসিংকে খারাপ বলে মনে করে।
উপরে যে সব রুলস রেগুলেশনস, অ্যান্ড ভ্যালুজ তথা সেফটিক্লজের কথা বলা হয়েছে সেগুলো বজায় রাখা সাপেক্ষে তথাকথিত মরাল পুলিসিং আমাদের জন্য একটা মূল্যবোধগত সামাজিক সুরক্ষা। এই সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে যে কোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখতে হবে।
মরাল পুলিসিংকে চেরি পিকিং করে আমি গ্রহণযোগ্য মনে করছি, ব্যাপারটা এমন নয়। বরং ‘মরাল পুলিসিং করা যাবে না’, এই দাবি তুলে আমাদের প্রচলিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার যে চেষ্টা করা হচ্ছে, আমি এর প্রতিবাদ করছি।
Any value-system is inherently political – আসুন, এই কথাটাও মনে রাখি।
মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Sawkat Al Imran: কিন্তু বর্তমানে নৈতিকগুণ সম্পন্ন মানুষের প্রচণ্ড অভাব। যাদের দেখে নৈতিক মানুষ মনে হয় তাদের একটা অংশ আবার সুযোগের অভাবে নৈতিক। অন্যদিকে, মরাল পুলিশিং ব্যাপারটা অনেক সময় মব জাস্টিস ধরনের হয়ে যায়। অনেকে আবার এটা করতে গিয়ে অপরজন যেন হেয় হয় সেদিকে নজর থাকে বেশি।
স্যার, আমি কিন্তু মোটেও মরাল পুলিশিংয়ের বিরোধিতা করছি না। আমি সবসময় নেহি আনিল মুনকারের পক্ষে। আমার মন্তব্যটি মূলত, আমার মন্তব্যের বিপরীতে আপনি কী ভাবছেন এটা বুঝতে চেষ্টা করা।
