‘গার্মেন্টসের মেয়ে’ বলে কাউকে আমি খাটো করছি না। কথার কথা হিসেবে বলছি, একটা গার্মেন্টসের মেয়েও মা হওয়ার জন্য ছুটি পায়, নগদ অর্থ পায়। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রীরা মা হওয়ার আগে এবং পরে টিচারদের হাতে লাঞ্ছিত হয়। হেনস্থার শিকার হয়।
স্টুডেন্টলাইফে বিয়ে করাটা যেন অন্যায়…! মা হওয়াটা যেন অমার্জনীয় অপরাধ!
কী জঘন্য মনমানসিকতা …!
এ’ধরনের কুশিক্ষিত লোকদের সহকর্মী হওয়ার জন্য লজ্জাবোধ করছি।
মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Arufa Mahera Nuha: সন্তান হওয়ার পর ক্লাস করতে না পারা। যথেষ্ট এটেন্ডেন্স না থাকায় ক্লাসে অপমানের স্বীকার হওয়া। সম্মানিত শিক্ষকদের অনুরোধ করেও তেমন আশানুরূপ কোনো সমাধান না পাওয়া, অনলাইনে ক্লাস করার অনুরোধকে পুরোপুরি হেসে উড়িয়ে দেওয়া এসবকে কিভাবে দেখেন?একদিকে বিয়ে সহজ করার দাবী, অন্যদিকে বিবাহিত শিক্ষার্থীদের মা হওয়ার পর পড়াশোনা নিয়ে এত ভোগান্তি পোহাতে হলে মেয়েরা কেন বিয়ে বেছে নিবে?
Mohammad Mozammel Hoque: আমি বাজি ধরে বলতে পারি আগামী এক দশকের মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। সবার না হলেও অন্ততপক্ষে সিগনিফিকেন্ট অ্যামাউন্ট অফ স্টুডেন্টদের লাইফস্টাইল হবে এমন, এডুকেশন, ক্যারিয়ার এবং ফ্যামিলি, কোনোটার জন্য কোনোটা বাদ যাবে না, থেমে থাকবে না ইনশাআল্লাহ।
Rashedul Islam: আমার স্ত্রী নিজেই দুইজন শিক্ষকের আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার। অবাক হয়েছি দুইজনের মধ্যে আবার একজন ম্যাডাম। উনাদের মূল কথা “বিয়ে হয়ে গেছে, তাহলে আর পড়াশোনা করার দরকার কি? সংসার আর বাচ্চা সামলাও, লেখাপড়া করার দরকার নাই!” নিজেই শিক্ষক। তাই স্ত্রীর শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিইনি। কিন্তু একদিন মুখোমুখি হবার ইচ্ছে আছে।
Mohammad Mozammel Hoque: হ্যাঁ, পুরুষ শিক্ষকদের পাশাপাশি মহিলা শিক্ষকদের অনেকেও বিবাহিত নারী শিক্ষার্থীদেরকে নিপীড়ন করার ক্ষেত্রে কম যান না। এটি আমিও খেয়াল করেছি।
Sharmin Akther: এদিকে বাচ্চাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা চবি ক্যাম্পাস ক্লাব কমিটি। কি বলবো, মেয়েদের শিক্ষা জীবনে যেমন বাধা সৃষ্টিকারী নিয়ম তেমন পরবর্তীকালে কর্মক্ষেত্রেও নানা বাধা সৃষ্টি করতে একশ্রেণীর মানুষের ভালো লাগে।
Mohammad Mozammel Hoque: যারা বড়দেরকে সম্মান করতে জানে না, ছোটদেরকে স্নেহের দৃষ্টিতে দেখে না, বিশেষ করে যারা বাচ্চা সহ্য করতে পারে না, আমার দৃষ্টিতে এটা তাদের একটা মানসিক রোগ। কথা খুব পরিষ্কার। লিডারশিপে না বসিয়ে তাদেরকে উচিত ট্রিটমেন্টে পাঠানো। আমাদের সমাজে মানসিক সমস্যাগুলোকে সাধারণত এড্রেস করা হয় না, এজন্য অনেক মানসিক রোগী অনেক গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে গিয়ে বসে থাকে। আর নানা রকমের ঝামেলা পাকাতে থাকে।
Ummey Moon: প্র্যাগনেন্সিতে ক্লাস করা খুব কষ্টের, সেসময় স্যারদের কথা কি বলব সিনিয়র ম্যামরা পর্যন্ত হেল্পফুল হোন না। বাচ্চা নিয়ে আসা যাবে না কিন্তু ক্লাস এটেন্ডেন্স নিয়ে অপমান করবে।
কোথায় সংসার-বাচ্চা সামলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে এটার জন্য এপ্রিশিয়েট করবে। তা না উল্টো টিটকারী করে। “দুই নৌকায় পা দেয়ার কি দরকার? পড়াশোনার টাইমে বিয়ে করছে কেন? কলেজে না এসে যাও জামাইকে পিঠা বানিয়ে খাওয়াও।” এগুলোসহ নানারকম বাজে কথা শুনতে হয়েছে। তারা আশা করে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে মেয়েরা বিয়ে করবে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে করতে ২৬-২৭ বছর হয়ে গেলে অবিবাহিত মেয়েদের যে কি পরিমান বাজে কথা শুনতে হয় সেটা তারা ভাবেও না।
ফার্স্ট ইয়ার শেষে বিয়ে হওয়ার পর অনার্সের তিন বছর আমি এতো সাফার করেছি!
Mohammad Mozammel Hoque:

কেন চাই সহজ বিয়ে এই ছবি তুলেছে বাচ্চাটার মা। চবি দর্শন বিভাগে ৪র্থ বর্ষ ২০২১’র ছাত্রী। বিয়ে করেছে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার আগে এটি ওর ৩য় সন্তান। আমি আর্লি মেরেজের পক্ষে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সিস্টেমটাই এমন যেন মেয়েরা পড়াশোনা করা অবস্থায় বিয়ে না করে। ‘বিয়ে করা যাবে না’ এমন কোনো আইন না থাকলেও পুরো ব্যবস্থাটাই মাতৃত্বের জন্য চরম বিরূপ ও প্রতিকুল। পড়াশোনার অজুহাতে এখানকার মেয়েরা পারিবারিক জীবন ও মাতৃত্ব হতে মাহরুম থাকতে বাধ্য হয়’
Tauhidul Islam: ছোট সন্তান থাকায় আমার স্ত্রী চবিতে নিয়মিত ক্লাস করতে পারেনি। তাই পরীক্ষার অনুমতি পাচ্ছিল না। আমি সুপারিশ করতে গিয়েছিলাম বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে। উনি অনেক বাজে মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি আমাদের “অমানুষ” ডেকেছিলেন সন্তান নেওয়ার অপরাধে। আমার কথা হচ্ছে, অনুমতি না দিলে না দেন; সোজা চলে আসতাম। তাই বলে এতো দুর্ব্যবহার করতে হবে কেন?
Mohammad Mozammel Hoque: তোমাদেরকে এ ধরনের মন্তব্য যে করেছে সে নিজেই হচ্ছে একটা আস্ত অমানুষ
Tisha Noyon: কত কত দিন আমার বোন টিচার্সরুম থেকে কেঁদে বের হয়েছে অপমানিত হয়ে। এমনকি স্টাফরা পর্যন্ত বাজে ব্যবহার করে কথা বলে।
Mohammad Mozammel Hoque: বিবাহিত এবং মা হওয়া মেয়ে স্টুডেন্টদের প্রতি বিরূপ আচরণ, আমাদের সামাজিক অপসংস্কৃতির অন্যতম উদাহরণ।
