র্যাফেল ড্র’তে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে আপনি জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করলেন। ভেবেছেন কখনো?
না জেনে আমিও জীবনে ‘র্যাফেল ড্র’ নামক জুয়ায় অংশগ্রহণ করেছি। সেদিন ডিপার্টমেন্টের একটা প্রোগ্রামে যখন টিকেট নিতে স্টুডেন্টরা জোরাজুরি করছিল তখন সোজা বলে দিলাম, ‘আমার নীতিগত আপত্তি আছে’।
র্যাফেল ড্র’র ব্যাপারে আপত্তির জায়গা হলো-
১. টিকেট র্যাফেল ড্র:
মনে করেন, একটা অনুষ্ঠানে আপনি র্যাফেল ড্র’র টিকেট ক্রয় করলেন প্রতি টিকেট একটা নির্ধারিত মূল্যের ভিত্তিতে। এরপর লটারি হলো। এতে করে এক ধরনের zero-sum পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটলো।
অংশগ্রহণকারী অনেকের পুঁজি বিজয়ী অল্প কয়েকজনের কাছে চলে গেল বিজয়ীদের পক্ষ থেকে কোনো প্রকারের গঠনমূলক চেষ্টা, কৃতিত্ব, অবদান বা উপযোগতৈরী ছাড়া। এটি লটারির মাধ্যমে যে ধরনের জুয়া খেলা হয় তার সমতুল্য। তাই নাজায়েয।
লটারি জায়েয সেইসব ক্ষেত্রে যেখানে একটা counter-balanced পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, অথচ একটা সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরী। এ’ধরনের জায়েয লটারিতে কাউকে সুবিধা দেয়ার জন্য লটারি করা হয় না। বরং, বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসনে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়াটা সেখানে লক্ষ্য।
২. এন্ট্রি ফি র্যাফেল ড্র:
ধরা যাক, কোনো অনুষ্ঠানে র্যাফেল ড্র’র টিকেট বিক্রি হলো না। অথচ, অনুষ্ঠানের এন্ট্রি ফি হিসেবে শুরুতে যা নেয়া হয়েছে তারই মধ্য থেকে র্যাফেল ড্র’র পুরস্কার ক্রয় করা হয়েছে। এমন র্যাফেল ড্র উপরে বর্ণিত টিকেট র্যাফেল ড্র’র সমতুল্য। অতএব, নাজায়েয।
৩. স্পন্সর র্যাফেল ড্র:
হতে পারে কোনো অনুষ্ঠানে র্যাফেল ড্র’র জন্য অংশগ্রহণকারীদের কাছ হতে কোনো প্রকারের অর্থ গ্রহণ করা হয়নি। বরং বিজয়ীদেরকে কোনো স্পন্সর কোম্পানীর পণ্য বা সেবা গ্রহণ করার জন্য বিভিন্ন মানের টোকেন পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয়েছে।
এমন অবস্থায় দেখতে হবে, বিজয়ীদেরকে দেয়া পারচেইজ টোকেনের মাধ্যমে দেয়া পণ্য বা সেবার অর্থমূল্য উক্ত কোম্পানীর সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নির্ধারিত অর্থমূল্যের সমমানের, নাকি কিছুটা বেশি।
বেশি হলে নাজায়েয। অন্যথায় জায়েয।


রেফল ড্র “নির্দোষ কর্ম” হিসেবে সমাজের সর্বত্র প্রায় বিনাপ্রতিরোধে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। আজকাল হালাল-হারাম, জায়েজ-নাজায়েজ – এ সব বিষয় নিয়ে খুব কম মুসলমানই মাথা ঘামায়। বিষয়টা ক্লিয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।