বলা হয়, a man is known by his company। আমি বলি, a man is known by the way he opposes his enemies।
আমি নারীবাদ পছন্দ করি না। এর অন্যতম কারণ, তারা গালিবাজ। আপনি যতই যুক্তি দিয়ে কথা বলেন না কেন, তারা আপনার কথা শুনতে চাইবে না। আপনাকে নাই করে দেয়ার সব (অপ)চেষ্টা নির্দ্বিধায় করবে। তারা ভীষণ অসহিষ্নু। ব্যক্তিআক্রমণ তাদের প্রধান অস্ত্র।
একই বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় নারীবাদবিরোধী অনলাইনে সক্রিয় আলেম-উলামা ও ইসলামপন্থীদের একটা বিরাট অংশের মধ্যে।
‘নবীর উত্তরাধিকারী’ দাবিদারদের একাংশ এমন, ‘মুখ খারাপ’ করার মাত্রায়, কুযুক্তি দিয়ে বিরোধীপক্ষকে ঘায়েল করার কাজে, বিরুদ্ধমত পোষণকারীর ব্যক্তিচরিত্রহনন এবং ব্যাড নেইমিংএর ব্যাপারে তাঁরা নারীবাদীদের মত নির্লজ্জ। বেপরোয়া। এহতেসাব (গঠনমূলক সমালোচনা) গ্রহণ করার ব্যাপারে নির্বিকার।
এটি সাম্প্রতিক ফেনোমেনা।
এর পাশাপাশি, মাদ্রাসাশিক্ষিত অর্থে আলেম এমন দু-একজন ভাইকে অনলাইনে দিনরাত simping করতে দেখি। ‘ইসলামী নারীবাদ’এর পক্ষে তারা অলওয়েজ অন দা স্পট। নাম না বলি। ইউ গাইজ নো, হু আর দে।
দু’একদিন আগে কোনো একজন শুভাকাঙ্ক্ষী আমার কাছে নারীবাদ খণ্ডন করে এমন একটা একাডেমিক বই পাঠিয়েছেন। সুন্দরবন কুরিয়ারে। বইটার নাম, ‘ব্রেইন সেক্স’। ভাল বই। আজকে বইটার ফেইসবুক প্রচারণা করে দেয়া একটা পোস্টের ইন্ট্রো পড়লাম। চমৎকার ইন্ট্রো। অত্যন্ত সুলিখিত।
মাগার, সেই পোস্টের নিচে দৃশ্যত ইসলামপন্থী এমন ভাইদের যে ধরনের ভাষা দেখলাম, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য!
ভাই, নারীবাদীকে ‘নেড়িবাদী’ বলার মাধ্যমে আপনি কি নিজের ইনটেগ্রিটিকে নষ্ট করছেন না? নারীবাদীকে ‘নেড়িবাদী’ বললে কি নারীবাদ খন্ডন কিংবা দুর্বল হয়ে যায়?
ওই পোস্টে একজন ‘অনলাইন মোজাহিদ’ লিখেছেন,
‘নেড়ীবাদি আইসা পরছে দেহি কমেন্টে। এদের প্রত্যেককে মোটরছাড়া ভ্যান গাড়ি কিনে চালাতে দেয়া প্রয়োজন…।’
সম্মানিত আলেম উলামা দোস্ত বুজুর্গ শায়েখ হযরত ভাই বন্ধুগণ, ‘দ্বীনের পথে ফিরে আসা’ শ্রদ্ধেয় এবং একান্ত স্নেহভাজন আমার ভাই সকল, আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন,
বাতিল ধর্ম, যুক্তি, মত, পথ ও তত্ত্বকে, বিরোধীপক্ষকে মোকাবিলা করার সুন্নাহসম্মত তরীকা কী?
একটু বলবেন?

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Maazharul Islaam: ভাই দেখেন ঐ প্রমোট পোস্টের কমেন্টটা আমার করা ছিল। আমি তো এমনি এমনি ঐভাবে কমেন্ট করি নাই। একজন নারীবাদী এসে পুরুষ জাতিকে কটাক্ষ করায় আমি ঐভাবে বলেছি। আর আপনি যে অনলাইন মোজাহিদ বলে কটাক্ষ করলেন বা গালি দিলেন সেই বিষয়টা?
জিহাদ, মুজাহিদ এই শব্দগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই শব্দগুলোর মাধ্যমে ইসলামের সুমহান মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হয়েছে একই সাথে আল্লাহর যমীনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী ভুমিকা রেখেছে। যার ফলে আমরা আমরা আজ মুসলিম বলে পরিচয় দিয়ে সম্মানিত বোধ করি।
আপনি যে এভাবে কটাক্ষ করলেন তার বিপরীতে তাওবা করুন। নতুন করে ঈমান নবায়ন করুন। আর পোস্টটি ডিলেইট বা ইডিট করুন। আমি এমন কিছুই করি নাই যার কারণে আমার ঈমান চলে যাবে কিন্তু আপনি স্পর্শকাতর শব্দকে কটাক্ষ করেছেন।
Mohammad Mozammel Hoque: কারো নাম না ধরে নৈর্ব্যক্তিকভাবে আপনাকে বা কাউকে ‘অনলাইন মোজাহিদ’ বলার কারণে আমাকে তওবা করে ঈমান নবায়ন করতে হবে? Is this what you want to say?
Maazharul Islaam: অবশ্যই করতে হবে। কেননা আপনি আমাকে নয় মুজাহিদ শব্দকে কটাক্ষ করেছেন। আপনি আপনার নিকটস্থ আলেমকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।
Maazharul Islaam: আর তারা যদি আল্লাহ ও তাঁর আয়াতসমূহ এবং তাঁর রাসূলকে নিয়ে ঠাট্টা করে তবে তোমরা জেনে রাখো, তোমরা কাফির হয়ে গেছ এর পর।” (সূরা আত-তাওবাহ, ৯:৬৫-৬৬)
এখানে বোঝা যাচ্ছে— আল্লাহর দ্বীনের কোনো বিষয় (যেমন জিহাদ, কুরআন, রাসূল ﷺ, শরীয়াহ) নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা কুফরি কাজ।
“আল্লাহর কাছে মুমিনদের মধ্যে যারা বসে থাকে তারা সমান নয় তাদের সাথে যারা আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে সংগ্রাম করে।” (সূরা আন-নিসা, ৪:৯৫)
এই আয়াত প্রমাণ করে যে মুজাহিদরা সম্মানিত। তাই তাদের নিয়ে বিদ্রূপ করা মানে কুরআনের সাথে বিরোধিতা করা।
যদি কেউ ঠাট্টা-বিদ্রূপের মাধ্যমে জিহাদ বা মুজাহিদকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কথা বলে – তবে সে ইসলামের মৌলিক বিষয়কে অস্বীকার করল, ফলে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। তাকে তাওবা করে নতুন করে ঈমান আনতে হবে।
Mohammad Mozammel Hoque: এর সাথে সাথে কাউকে গালি দেওয়া, বিকৃত নামে ডাকা ইত্যাদির ব্যাপারে কোরআন হাদিস কী বলে সেটাও একটু বলবেন কি?
Maazharul Islaam: আপনি প্রথমত সফট ইসলাম বিদ্বেষী বা মডারেট মুসলিম। কেননা আমার প্রফাইলে যদি খিলাফা কায়েমের ইচ্ছা বা কালিমার পতাকা না থাকতো তাহলে আপনি কখনোই “অনলাইন মোজাহিদ” শব্দ ব্যবহার করতেন না। শুধুমাত্র নিজেকেই একমাত্র চালাক বা জ্ঞানী মনে করেন!? জ্ঞান থাকা ভালো কিন্তু অযাচিত জ্ঞান থাকার কোনো মূল্য নেই।
ইসলামের একটা ফরজ বিধানের অগ্রনায়কদের কটাক্ষ্য করে এখনও বুলি আওড়ায় যাচ্ছেন।
Mohammad Mozammel Hoque: হ্যাঁ, ধরে নেন মানলাম, আপনার কথা অনুসারে আমাকে তওবা করতে হবে। still you are yet to answer my question.
“এর সাথে সাথে কাউকে গালি দেওয়া, বিকৃত নামে ডাকা ইত্যাদির ব্যাপারে কোরআন হাদিস কী বলে সেটাও একটু বলবেন কি?”
Maazharul Islaam: আগে তাওবা করে, নতুন করে ইমান নবায়ন করে নিজেই অথবা কোনো নিকটস্থ আলেমের নিকট জেনে নিবেন। অযৌক্তিক কথাবার্তা বাদ দেন। ঈমানের বিষয়টা যারা মডারেট এবং পশ্চিমাবাদী মুসলিম তারা সিলি ম্যাটার হিসেবেই দেখে।
