নারীবাদ ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের রন্ধে রন্ধ্রে। Feminism is so deep rooted in our society …! নারীবাদী ফ্রেমের বাহিরে মানুষ ভাবতেই পারে না। নারীবাদী প্যারাডাইমের বাইরের কোনো কিছু যেন জাতে উঠার মতো নয়।
পেরালালি, নারীর প্রতি প্রবলবিদ্বেষ আমাদের সমাজব্যবস্থার এতটাই গভীরে প্রোথিত, বলতে হচ্ছে misogyny is not a fabricated thing. it’s a pervasive reality that obstructs you at every stage of life. নারীর অধিকার আর এজেন্সিকে যতভাবে নাই করে দেয়া যায়, তা সব করাতেই যেন পৌরুষত্বের ‘প্রমাণ’!
নারীরা যেন শিশুতুল্য, নারীর অধিকার যেন ‘প্রাণী অধিকার’এর মতো কোনো ব্যাপার!
আমার গতকালকের স্ট্যাটাস থেকে তৃতীয় যে ব্যাপারটা আমাকে খুব স্ট্রাইক করেছে তা হল, দেখলাম, ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন উচ্চশিক্ষিত লোকেরাও আজকাল ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় করবেন না এমন গালিগালাজ কথায় কথায় অন্যদেরকে করছেন।
তাঁরা গালিগালাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন!
আফসোস, শাহবাগ রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হলেও অন্তত এতোটুকুতে সফল, সে একটি ‘ইসলামী শাহবাগী’ সম্প্রদায় তৈরি করতে পেরেছে। শাহবাগী চরিত্রের ইসলামী সমাজকর্মীরা মনে করছেন, গালির মোকাবেলায় আরো কয়েকগুণ বেশি গালি দিতে না পারলে কাজ হবে না!
কি সাংঘাতিক চারিত্রিক আত্মহনন!
আরো দেখলাম, সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনায় যুক্তির অপকৌশল অবলম্বন তথা কমন fallacyগুলোর চর্চা এত বেশি কমন হয়ে পড়েছে, যা অকল্পনীয়! বিশেষ করে আলেম-ওলামা পর্যায়ের ইসলামী ভাবধারায় উঠতি বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ প্রবল।
গালি দেওয়া, বিকৃতভাবে নাম উচ্চারণ করা, slippery slope fallacy’র পরোয়া না করে মুহূর্তে মুহূর্তে straw man fallacy করা, এগুলো মোটেও ভালো কিছুর লক্ষণ নয়।
এক গর্ত থেকে উঠতে গিয়ে আমরা যেন পতিত হচ্ছি আরেক গহ্বরে!
আমরা কি এমন একটা বুদ্ধিবৃত্তিক জনপরিসর চেয়েছিলাম?

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Ataur Rahman Fahmid: আমার কাছে ইসলামপন্থীরদের এই আচরণের কারণ মনে হয়, আখলাককে ব্যাপক অর্থে না দেখাটা। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ইসলামী ঘরানার বিভিন্ন দলের মধ্যে একজন ব্যক্তি ভালো মানুষ হওয়ার অন্যতম মানদণ্ড হলো, বাহ্যিক ইবাদাত (হাক্কুল্লাহ) ও পরিধেয় বস্তু ঠিক থাকা।
এর ফলে মুআমালাত ও মুআশারাতের ক্ষেত্রে আখলাক বা ব্যক্তির সামগ্রিক কাজ আখলাক অনুযায়ী হওয়া গৌণ হয়ে যায়। বান্দার হক বাস্তবায়নের সাথে আখলাককে তুলনামূলক কম সম্পৃক্ত করা হয়। ভালো মানুষের মানদণ্ড হয় লেবাস ও আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পৃক্ত ইবাদাতগুলো।
আমি একবার এক ইসলামী দলের তরুণ এক কর্মীর স্মরণসভায় গিয়েছিলাম। এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছিল সে। ছেলেটা জেনারেল পড়ুয়া ছিল। আগে শার্ট প্যান্ট পরতো। দলের আসার পরে দাঁড়ি-টুপি-পাঞ্জাবিতে পরিবর্তন হয়ে যায় এবং ওই কর্মীর আচার- আচরণ ও সামগ্রিক কাজকারবারেও পরিবর্তন আসে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওই কর্মীর স্মরণসভায় নেতারা এসে শুধু তার শার্ট- প্যান্ট থেকে টুপি-পাঞ্জাবিতে রূপান্তর হওয়াকে ভালো মানুষ হওয়ার মানদণ্ড হিসেবে বারবার গ্লোরিফাই করতে লাগলেন। প্রায় ৭/৮ জন নেতা তাদের বক্তব্যে এটাই বলল, ছেলেটা ভালো ছিল। কারণ সে দাঁড়ি রাখতো, পাঞ্জাবি, টুপি পরতো।
অথচ তার মুআমালাত, মুআশারাতের আখলাকও সুন্দর ছিল, বান্দার হকের ক্ষেত্রে সচেতন ছিল, সে বিষয়টি কেউ গ্লোরিফাই করে নাই।
এই যে আখলাককে সংকীর্ণ অর্থে দেখার কারণে প্রতিপক্ষকে গায়েল করতে নিম্নস্তরের আচরণ করতেও দ্বিধাবোধ করে না। এটাও যে আখলাকহীনতা ও পাপের কাজ, তাদের মনে তা উদয় হয় না। খোদ আল্লাহ তায়ালাও মূর্তিকে গালি দিতে নিষেধ করেছেন কারণ এতে মূর্তিপূজারীরা উল্টো আল্লাহকে গালি দিবে। কারণ এইভাবে হক প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না।
وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ
(سورة الأنعام: 108)
(আর তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যাদেরকে তারা আহ্বান করে, তাদেরকে গালি দিও না। অন্যথায় তারা শত্রুতাবশত জ্ঞানের বাইরে গিয়ে আল্লাহকেই গালি দিবে।)
Mohammad Mozammel Hoque: You have nailed to the point.
Shafikul Islam: অবশ্যই দুঃখজনক। এর কারণ হচ্ছে এতদিন পর্যন্ত সত্য দিয়ে, সৎ আচরণ দিয়ে আপনাদের মত মানুষরা এখনো পর্যন্ত শাহবাগকে পরাজিত করতে পারেন নাই।এই কারণেই শাহবাগিরা যে ব্যবহার করতো এখন তাঁদের উপর সে একই ব্যবহার করছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এর মাঝে একদল গান্ডু, মূর্খ এরা সবাইকে শাহবাগী ট্যাগ দিয়ে শব্দটাকে মজলুম বানিয়ে দিচ্ছে।
এদের মধ্যে কয়েক ধরনের লোক রয়েছে।
১. উগ্রপন্থী যুবক যাঁরা বেশিরভাগই ইসলামপন্থী রাজনীতিকেও ঘৃণা করে, এঁদের মতবাদের বিরুদ্ধে গেলেই যে কাউকে শাহবাগী বানিয়ে দেয়।
২. দেওবন্দি ঘরনার যারা তাদের মতবাদের বাহিরে গেলেই শাহবাগী বানিয়ে দেয়।
৩. জাশি সমর্থক একদল গান্ডু এরাও নিজের মতের বাহিরে গেলেই যে কাউকে শাহবাগী বানিয়ে দেয়।
দোষ সবারই রয়েছে।
Mohammad Mozammel Hoque: কিন্তু ব্যাপার যাই হোক না কেন, ইসলামী মূল্যবোধ অনুসরণের দাবিদার কোনো ব্যক্তি তো কোনো অবস্থাতেই গালিগালাজ, ব্যাড নেইমিং, চরিত্রহননের কাজ করতে পারে না। এমনকি প্রত্যক্ষ যুদ্ধের ময়দানেও তো এগুলো করা নাজায়েজ। এই জায়েজ-নাজায়েজের সীমানা কীভাবে উঠে গেলো, সেটা আমার বুঝে আসে না।
