মানুষ যখন একদিকে দেখে কিছু একটাকে তখন বলে, ‘এটি বড় ওইটার চেয়ে। এইটা কাছের। ওইটা দূরের!’ কোনো কিছুকে যখন মানুষ চারিদিকেই দেখে, তখন কীভাবে বলবে, ‘এইটা বড়’, ‘ওইটা ছোট’? কীভাবে বলবে, ‘এইটা এখানে। ওইটা ওখানে?’ কোনো কিছুকে মানুষ ছোট কিংবা বড়, কাছের কিংবা দূরের তখনই বলতে পারে যখন সেটা থাকে কোনো এক দিকে।
কিছু কিছু জিনিস, কিছু কিছু মানুষ তাদের সামগ্রিক উপস্থিতি দিয়ে আমাদের সমগ্র সত্তা জুড়ে এমনভাবে থাকে, আমাদেরকে ঘিরে রাখে এমনভাবে, আমরা বুঝতে পারি না, বলতে পারি না, সেটি কত বড়, কত কাছের কিংবা দূরের …!
ছোটবেলায় আমাদের যে ভাইটি মারা গেছেন শৈশবে, তাঁকে ছাড়া আমরা নয় ভাই বোন। আমাদের ভাইবোনেরা পরস্পর পরস্পরের কাছে, বিশেষ করে বড়রা আমাদের এমন কিছু যাদের সম্পর্কে তেমন কিছু বলা কঠিন। তাদের স্নেহ, মায়া মমতাময় উপস্থিতি আমাদের কাছে সূর্যের চেয়েও বেশি দীপ্তিমান। তাদের ভালোবাসাপূর্ণ প্রবল উপস্থিতির মাঝে আমরা অনুভব করি নিরাপত্তা। প্রাণপ্রবাহ।
তেমনি একজন, মাহবুব-কুসুম দম্পতির বড় ছেলেসন্তান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক। আমাদের ভাই। হঠাৎ করে তিনি আমাদের ছেড়ে গেছেন। ক’দিন হলো তাঁকে দেখতে পাচ্ছি না, শুনতে পাচ্ছি না তাঁর কণ্ঠস্বর, হাসিমাখা মুখ।
তিনি নাই। অথচ নাই হয়েও তিনি আছেন আমাদের হৃদয়ে। আমাদের অস্তিত্বের খুব কাছাকাছি, আমাদের একান্ত আপনজন হিসেবে। তিনি আছেন, যেভাবে ছিলেন আমাদের অনুভবের সবটুকুতে। প্রতিটি মুহূর্তে, ক্ষণে তিনি আছেন আমাদের স্মরণে। আমাদের গোপন অশ্রুতে। আমাদের নিরব কান্নায় তিনি আছেন প্রগাঢ় বেদনার অনুভব হয়ে। তিনি আছেন আমাদের প্রার্থনায়, প্রেরণায়।
১২ আগস্ট ২০২৫, রাত ন’টায় যে প্রবল ভূমিকম্প ঘটে গেছে আমাদের পরিবারে, মনে হচ্ছে এরপরে কখনো আমরা আর ফিরব না সেই স্বাভাবিকতায়, সেই আনন্দময়তায়, সেই অনাবিলতায়, যেই স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দময়তায় আমরা বেড়ে উঠেছি। ডুবেছিলাম ছিলাম এতটি বছর।
প্রিয়জন চলে যায়। পৌঁছে যায় খোদার দরবারে। রেখে যায় আপন আত্মীয়-স্বজনদেরকে কষ্টের প্রহরে। স্মৃতির অসহ্য কারাগারে।
