লাভ, অর রাইটস অ্যান্ড ডিউটিজ

ভালোবাসা ডট কম। এটা একটা ব্যর্থ প্রকল্প। নাটক, সিনেমা, সাহিত্য, পত্রিকা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পরিবার, সমাজ সর্বত্র এই ভালোবাসা প্রকল্পকে হাইলাইট করা হয়। বলা হয়, দু’জন প্রাপ্তবয়ষ্ক নর-নারীর মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার ভিত্তিতে গড়ে উঠা দীর্ঘমেয়াদী ও আইনসম্মত ব্যবস্থা হচ্ছে পরিবার।

কথা ঠিকই আছে, একটা ছোট্ট কিন্তু খুব ভয়াবহ ভুল ছাড়া। সেটি হলো দাম্পত্য সম্পর্ক হলো ভালোবাসা ডট কম।

বিয়ে হলো একজন নারী ও পুরুষের মধ্যকার সুনির্দিষ্ট কিছু দেয়া-নেয়ার সম্পর্ক। পারস্পরিক দায়িত্ব ও অধিকারের এই সম্পর্ক ঠিকঠাক থাকলে তাদের মধ্যে গড়ে উঠে ভালোবাসা, সম্পর্কটা হয় বন্ধুত্বপূর্ণ। মিউচুয়াল রাইটস অ্যান্ড ডিউটিজ হলো এই সম্পর্কের ভিত্তি। মূল কাঠামো। বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা হচ্ছে এর আউটকাম বা পরিণতি। তাইতো বলেছিলাম,

Love grows; it can’t be made.

বিশেষ করে আমাদের মেয়েদের মাথা খারাপ করে দেয়া হচ্ছে, এই বায়বীয় বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার কথা বলে বলে। একটা মেয়ে যখন ভালোবাসা চায়, তখন বুঝতে হবে সে এর দ্বারা সুনির্দিষ্ট বস্তুগত কিছু চাইছে। সরাসরি না বলে ঘুরিয়ে বলছে। এইটা তাদের প্যাটার্ন অব ল্যাঙ্গুয়েজ। ভালোবাসা এইটা শুগার-কোটেড টার্ম।

এফিসিয়েন্টলি প্রোভাইড করা, প্রটেক্ট করা, পরিপূর্ণতা দেয়া, এই সব কিছুতে ঘাটতি হলে, দিন রাত ‘লাভ ইউ, লাভ ইউ’ করলেও ফায়দা হবে না। সম্পর্কের চিড়া মুখের কথায় ভিজে না।

দাম্পত্য সম্পর্ককে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার সম্পর্ক হিসেবে তুলে ধরার এই যে প্রবণতা, এর অন্যতম কারণ হলো, প্রজননকে নর-নারীর সম্পর্ক থেকে সম্পূর্ণরূপে অমিট করা বা একে সেটা সাইড করার ভোগবাদী সেক্সিস্ট টেন্ডেন্সি।

অথচ, sex is the reward for reproduction। বিশেষ করে মেয়েদের দিক থেকে প্রজনন একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। নারীর শরীর ও মননের প্রতিটি অনুষঙ্গ মাতৃত্বের উপযোগী করে তৈরি। একজন নারীর জীবনে maternity is the strongest instinct and most fulfilling thing।

নারীবাদের চূড়ান্ত ব্যর্থতা ঠিক এই জায়গাতে।

ভালোবাসা ভালোবাসা বলে চিৎকার করার এই যে হাইপ, এটার আরেকটা মোটিভ হলো ট্রেডিশনাল জেন্ডার রোলকে তুলে দেয়া। অস্বীকার করা।

অথচ ট্রেডিশনাল জেন্ডার রোল ব্যতিরেকে পারিবারিক ব্যবস্থা রীতিমত অকল্পনীয়। আপনার অভিজ্ঞতার সাথে আমার এই কথাটাকে মিলিয়ে নিবেন। এবং ভুল হলে সংশোধন করে দিবেন।

ট্রেডিশনাল জেন্ডার রোলের মধ্যে কিছু মাইনর মডিফিকেশন এক কথা, আর ট্রেডিশনাল জেন্ডার রোলকে মূলত অস্বীকার করা ভিন্ন কথা। এইটুকু শুধু মনে রাখবেন।

পরিবার একটা প্রতিষ্ঠান। সমাজের ক্ষুদ্রতম ইউনিট। অপরাপর সব প্রতিষ্ঠানের মতোই এটি লিডার-ফলোয়ার সিস্টেমে ফাংশান করে।

আমি বহু ইয়াং, এজ ওয়েল এজ ওল্ড কাপল দেখেছি, যারা জীবনে কখনো পরস্পরকে ‘তোমাকে ভালবাসি’ বলেনি, অথচ তাদের পারস্পরিক মেলবন্ধন ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। আমি বহু নারীকে দেখেছি স্বামীকে আপনি করে সম্বোধন করে বাচ্চাকাচ্চা বড় হয়ে যাওয়ার পরেও। অথচ তাদের পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সৌহার্দ্য ও সম্পর্ক সত্যিকারের ভালোবাসায় ঋদ্ধ।

আকর্ষণবোধ হলো ডেইটিং কালচারের ভিত্তি। বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা হলো লিভটুগেদার জাতীয় সম্পর্কের ভিত্তি। অধিকার ও দায়িত্ব হলো বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তি।

পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাসিক্যালি ফিজিক্যাল। সেক্স হলো তাদের কাছে an end in itself। যার কারণে সমকামিতা তাদের কাছে নয় অযৌক্তিক কিংবা অনাকাঙিক্ষত। তাদের লাইফস্টাইল তাদের ফিলসফির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সমস্যা আমাদের। আমরা ওদের লাইফস্টাইল চাই, কিন্তু ওদের ফিলসফি নিতে রাজি নই। আমরা ট্রেডিশনাল ফ্যামিলি চাই, ট্রেডিশনাল জেন্ডার রোলের দায় না নিয়ে।

পা উপরের দিকে দিয়ে মাথা আর দু’হাত দিয়ে হাঁটার এই ব্যর্থচেষ্টা না করে আমাদের উচিত প্রকৃতিসঙ্গত জীবনযাপন করা।

অর্থাৎ, তোমার অধিকারটুকু আদায় করে নাও, একইসাথে ইন রিটার্ন পালন করো তোমার দায়িত্ব। যে ধর্মের দোহাই দিয়ে তোমরা বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছো, সেটার আলোকে বুঝে নাও তোমার রাইটস অ্যান্ড ডিউটিজের পেরিফেরি।

আমরা সম্পর্ক করি সম্পর্কের গতিপথ ও সীমারেখা নির্ধারণ করা ছাড়াই। বিনা দরে কলা ছেঁড়ার মতো, শেষ পর্যন্ত আমরা পস্তাই। সো, ডু নট ক্রস বাট মেইনটেইন দ্যা রেড লাইনস। আত্মকেন্দ্রিক হওয়া এবং কারো জন্য অপ্রয়োজনীয় সেক্রিফাইস করতে যাওয়া, দুইটাই ভুল।

সেক্রিফাইস এবং ইনভেস্টমেন্ট ছাড়া কোনো সম্পর্ক টিকে না। বাচ্চাকাচ্চা হলো সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে বেশি টেকসই এবং মোস্ট ফ্রুটফুল কমন ইনভেসমেন্ট। দ্যা মোর, দ্যা বেটার।

গুড লাক ফর ইউ, মাই ডিয়ার। লেট লাভ টু গ্রো। ডু নট রান ফর ইট। অ্যান্ড নেভার ক্লেইম ইট ফার্স্ট।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *