শূন্যতাবোধের সময়ে, তুমি

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে তুমি ঘরে ফিরলে। দেখলে, কেউ সেখানে তোমার জন্য অপেক্ষা করে নাই। অথবা তুমি ঘুমিয়ে আছো অবেলায়। তোমাকে জাগাবার মতো কেউ নাই। আশপাশের লোকজনার কাছে তুমি যেন অস্তিত্বহীন, অনাহুত।

জীবনের এমন শূন্যতাবোধের সময়ে তোমার জায়গায় হলে আমি যা যা করতাম-

আমি আপন করে নিতাম হাতের কাছে পাওয়া যে কাউকে, যার কাছে আমি মূল্যবান, কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি। তেমন কাউকে না পেলে আমি দেখতাম আকাশ। অনুভব করতাম প্রকৃতিকে। দূরের কোনো দ্বীপ কিংবা পর্যটন স্পটে সব সুন্দর, এমনটি ভাবতাম না। আমি দেখতাম যে কোনো কিছু, যা প্রাণময়, সুন্দর!

জনারণ্যে তুমি একা? এই জনারণ্য তথা পাবলিক প্লেইসটাকে নিয়েই তুমি ভাবো। দেখো, মানুষের স্রোত এখানে বয়ে যায় অবিরাম। যেন একটা নদী…! নিজেকে হারিয়ে যেতে দাও ক্ষণিকের জন্য। হতে পারে একটা বেলা। অথবা পুরো একটা দিন অথবা রাত্রি।

মাদকও আমাদেরকে এভাবে বিচ্ছিন্ন করে, আমাদের দুঃখবোধ থেকে। সমস্যা হলো, আমাদের হারিয়ে যেতে হয় ফিরে আসার জন্য। মাদক আমাদেরকে ফিরিয়ে দেয় না, টেনে নিয়ে যায় হারানোর অতলে। সমস্যা এখানে। 

হয়তো সবকিছুই সুন্দর। মনের অসুখের কারণে হতে পারে আমরা সৌন্দর্যটুকু দেখতে পাই না। এই দৃষ্টিতে আমাদের চোখ কোনো কিছুকে সুন্দর করে তুলে। পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর সৃষ্টি হলো মানুষ। যে কোনো মানুষ। একজন নিকৃষ্ট মানুষও সৃষ্টির সেরা জীব।

মানুষের সঙ্গ তাই মানুষের কাছে সবচেয়ে আনন্দদায়ক অনুষঙ্গ।

কিন্তু না পেলে কী করবে? জোর করে কাউকে ভালোবাসা দিতে যেও না। সম্পর্কমাত্রই আদতে দেয়া-নেয়ার মামলা। একপাক্ষিক ভালোবাসা দাতার মনে তৈরী করে বঞ্চনাবোধ। অযাচিত প্রাপ্তিকে মানুষ অবমূল্যায়ন করে অবলীলায়। লেট লাভ গ্রো……।

সম্পর্কের মাঝে একপক্ষ যখন entitled ফিল করে তখন সে প্রতিদান দানে কার্পণ্য করে। তারও যে প্রতিদায়িত্ব আছে তা মানতে অস্বীকার করে। আর তুমি? যে তুমি মনে করেছো, তোমার ভালোবাসা নিঃশর্ত, সেই তুমি-ই দেখবে, অপরপক্ষের স্বার্থপরতায় শেষ পর্যন্ত হতাশ। চরম বিরক্ত। আমি বাজি ধরতে পারি, এ’ধরনের একতরফা সম্পর্ক হতে এক সময়ে তোমার মন উঠে যাবে।

ঐ যে কথাটা বললাম, সম্পর্ক মাত্রই দেয়া-নেয়ার ব্যাপার। এটি ভুলা যাবে না কোনো মতে। আদায় করে নাও তোমার অধিকার। বিনিময়ে সম্পন্ন করো তোমার কর্তব্য। একটা উইন-উইন সিচুয়েশেনে তুমি সুখী হবে। happiness is something material, this way or that way – বস্তুবাদী না হয়েও এটি তুমি স্বাচ্ছন্দ্যে বিশ্বাস করতে পারো।

যাই হোক, যে কথা বলার জন্য আজকের এই প্রসঙ্গ,

Life is to work

Work gives meaning to life.

কাজ করো, দেখবে হতাশা দূর হয়ে যাবে। কেউ তোমার জন্য বসে নাই, তাতে কী? কত কাজই তো পড়ে আছে। ছোটবেলায় পাঠ্য বইয়ে পড়েছিলাম Tennyson এর এই কবিতাংশ,

‘Life piled on life

were all too little, and of one to me

little remains।

ছোট ছোট কাজে এনগেইজ হও। ঘরটা গুছাও। টেবিলটা পরিষ্কার করো। কিছু একটা করো। হাতের কোনো কাজ শেষ করো। অবসেসড না হয়ে কোনো একটা হবি গড়ে তোল।

আমি গ্যারান্টি দিতে পারি, ছোট ছোট এনগেইজমেন্ট, ছোট ছোট সাকসেস তোমার মধ্যে উৎসাহ তৈরী করবে, তোমার ডিটারমিনেশন বাড়াবে। সো, লেটস ডু ইট। ট্রাই টু ডু দ্যা বেস্ট ইন এভরি গিভেন সিচুয়েশান। বি দ্যা বেস্ট অব ইউ। গুড লাক।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *