না পাওয়ার সুখ মধুময় বেশি

সম্পর্ক যত নিকটতর, সম্পর্কের দায় তত ব‍্যাপকতর, তিক্ততা তৈরির আশংকাও তত বেশি।

যত দূরের তত ভালো। যতটা কাছের সম্পর্ক ততটাই তা ঝুঁকিপূর্ণ।

সব সম্পর্কই মূলত দেয়া-নেয়ার ব‍্যাপার। নিঃস্বার্থ সম্পর্ক বলে কিছু নাই।

ভালোবাসার সম্পর্কও কিছু না কিছু দেয়া-নেয়ার ব‍্যাপার।

দুঃখজনক ব্যাপার হলো,

নিকটতর সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানুষ কেমন যেন নির্লিপ্ত হয়ে পড়ে।

সম্পর্ক রক্ষায় যত্নবান হয় না।

ব‍্যক্তিগত সম্পর্কের দায় মিটানোর ব‍্যাপারে মানুষ ততটা সিরিয়াস হয় না।

কারো সমর্থক বা ভক্ত হওয়া যতটা সহজ, যতটা মধুর, বাস্তবে তার অনুসারী বা সহযোগী হওয়া, হতে পারে, ততটা সুখকর নয়, নয় ততটা মধুর।

তাই, প্রেম করা সহজ, সংসার করা কঠিন।

নৈকট্য মাঝে মাঝে সম্পর্ককে ভঙ্গুর করে তোলে। ব‍্যাপারটা কেমন যেন গোলমেলে। প্যারাডক্সিক্যাল।

বাস্তব সাক্ষাৎ ও সম্পর্কের পরে ভালোলাগার মাদকতা অনেক সময়ে ফিকে হয়ে যায়।

অযত্ন আর অবহেলায়, অতি প্রত‍্যাশার চাপে পড়ে এক সময়ের সুসম্পর্ক ক্রমে অসুস্থ হয়ে পড়ে। নিরব মৃত্যু ঘটে ভালোবাসার।

নিহত সম্পর্কের বোঝা বয়ে কারো সাথে নিত‍্য বসবাস যে কতটা কষ্টের ব্যাপার, ভুক্তভোগী মাত্রই তা জানে।

তাই, সম্পর্ককে স্বাস্থ্যবান রাখার জন্য প্রত্যেকেরই উচিত সমাজস্বীকৃত সম্পর্ক সীমারেখাগুলোকে প্রত্যেকেরই মেনে চলা।

তা না হলে ‌‘কাছে আসার গল্পগুলো’ সমাপ্তি লাভ করে অনাকাঙ্ক্ষিত তিক্ততায়।

দায়-দায়িত্বহীন বন্ধুত্বের আবেগ সহসাই ফুরায়।

মাঝে মাঝে মনে হয়, distance is better; the closer, the bitter.

 

অতি কাছের একজন হতে পারতো যে,

সে থাকে বহু দূরে তোমার। তাতে ক্ষতি কী?

সাক্ষাতে আহত অনুভবের চেয়ে সাক্ষাৎ না হওয়া, দূরে থাকাই শ্রেয়তর।

তাতে করে অন্তত আশাটা বেঁচে থাকে।

নিহত সম্পর্কের বোঝা বয়ে বেড়ানোর চেয়ে

সুখস্বপ্নটা বাঁচিয়ে রাখাই তো ভালো।

মাঝে মাঝে, মিলনের চেয়ে বিরহ বেশি সুখের;

পাওয়ার চেয়ে, না পাওয়াটাই বেশি মধুময়।

 

প্রথম প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০১৭ || পুনর্লিখন: ৬ এপ্রিল ২০২০

Leave a Reply