মুক্তজীবনের নেশা

একটা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের অন্যতম প্রধান একটা জাতীয় প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক হিসেবে ইতোমধ্যে এখানে বিয়াল্লিশটি বছর কাটিয়েছি। কথা ছিল, এটি হবে একটা মুক্তচিন্তা কেন্দ্র। হয়েছে একটা মুক্ত ঘোরাফেরা কেন্দ্র।

আমার ব্যক্তিগত অধ্যয়ন কেন্দ্র সিএসসিএস-এর সহকারী দুই ছাত্র বললো, ‘স্যার, চলেন আপনাকে এক জায়গায় নিয়ে যাব। খাওয়াব।’ গাড়ির চাবি সৌরভের হাতে তুলে দিয়ে বললাম, চলো।

তখন রাত দশটা বেজে গেছে। চবি রেলস্টেশন দেখি পুরাই সরগরম। মনে হলো যেন বিকেল পাঁচটা-ছয়টার শহীদ মিনার সংলগ্ন লেডিস ঝুপড়ি এলাকা।

প্রায় আড়াই হাজার একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়। আমার বয়স আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স সমান। এখানে সব কিছু উন্মুক্ত, গতিশীল। শুধু চিন্তাগুলোই বদ্ধ, স্থবির।

ছবিগুলো তুলেছি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম হতে। ছবিতে যেমনটা দেখতে পাচ্ছেন, ধূমপানের ভয়াবহ ক্ষতির সচিত্র সতর্কবাণী ছাপানো আছে প্রতিটা প্যাকেটের গায়ে। কিন্তু ধূমপান চলছে অবিরত।

নীতিবোধ দিয়ে যদি মানুষের জীবন চলতো তাহলে কোনো ভদ্র মানুষ কখনো সিগারেট হাতে নিত না।

মুক্তজীবনের নেশা তরুণ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক নেশা। substance abuse-এর মতো বল্গাহীন জীবনযাপনের স্বাদও এক ধরনের মাদকাসক্তি। এই নেশা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কীভাবে ফেরানো যায়, তাই ভাবছি।

আমার এক সন্তান এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছে। আরেকজন পড়ছে। একজন গার্জিয়ান হিসেবে আমি রীতিমতো আতঙ্কিত, শঙ্কিত।

আমরা কী করতে পারি? এর শেষ কোথায়?

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *