মানুষ মাত্রই বাইডিফল্ট নারী। কিছু কিছু ‘নারী’ অবিকশিত পুরুষ যৌনাঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বয়ঃসন্ধিকালে তাদের জন্মকোষের (zygote) ২৩তম জোড়ার গঠন অনুসারে একটা বিশেষ কমান্ড একজিকিউশন শুরু হয়।
এর ফলে কিছু কিছু নারী নারীত্বের পূর্ণতা লাভ করে এবং কিছু কিছু ‘নারী’ পুরুষে পরিণত হয়। কিশোর বয়সে ‘ছেলে বাচ্চাদের’ এই পরিবর্তন আমরা লক্ষ করে থাকি।
পরিণত বয়সেও মানুষ অন্তর্গতভাবে নারী থেকে যায়। পুরুষ মানুষের মধ্যেও আবেগ কাজ করে। বরং নারীদের থেকেও বেশি গভীরে গিয়ে তারা আবেগপ্রবণ হয়। আবেগের বহিঃপ্রকাশ এর ব্যাপারে যদিও পুরুষেরা অনেকখানি সংযত।
গভীর আবেগ একজন পুরুষকে মানবিক করে তোলে।
আবেগের কারণে আমরা আদর্শকে ভালোবাসি। প্রিয়জনদের ভালোবাসি। মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। মাতৃভাষাকে ভালোবাসি। প্রাণ ও প্রকৃতিকে ভালোবাসি। আমাদের অস্তিত্বের গভীরে গিয়ে স্রষ্টার অনুসন্ধান করি। তাঁকে ভালোবাসি নিজেদের প্রাণের চেয়েও বেশি।
ভালোবাসাহীন মানুষ পশুর চেয়েও অধম। নৈতিক চেতনা আমাদের বিশেষ আবেগের বহিঃপ্রকাশ। আবেগ না থাকলে আমাদের থাকতো না কিছু স্পেশাল। আমরা বরং হতাম ইট, কাঠ, পাথর। নিছকই বস্তুনিচয়।
মানুষ মানুষ হয়ে ওঠে একটা নারীসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণে। সেটি হল আবেগ। আবেগের সুষ্ঠুপ্রবাহ আমাদের বুদ্ধি ও কাণ্ডজ্ঞানের ভিত্তি। কেতাবি ভাষায় এটি হলো emotional intelligence।
(১) আত্মউপলব্ধি, (২) আত্মসংযম, (৩) সামাজিক বাস্তবতাকে বুঝতে পারা এবং (৪) ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্কগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা, এই চারটা কাজের মাধ্যমে আমরা আমাদের আবেগগত বুদ্ধিকে করতে পারি পরিশীলিত ও উন্নত।
ইমোশনলেস ইনটেলিজেন্স একটা অর্থহীন জিনিস। আবেগ হলো নদীর জলপ্রবাহ, ইন্টেলিজেন্স হলো নদীর পাড় এবং বাঁধ।
সাহস আর বিশ্লেষণী ক্ষমতা পুরুষসুলভ বৈশিষ্ট্য। এগুলো মিনিমালি অর্জন করার মাধ্যমে একজন নারী মানুষ হিসেবে উৎকর্ষতা লাভ করে। যেভাবে পুরুষেরা উৎকর্ষতা লাভ করে ইমোশন আর এমপ্যাথির মতো নারীসুলভ বৈশিষ্ট্যগুলোকে কাজে লাগিয়ে।
একটা বৃক্ষের শেকড় আর কাণ্ডের যে সম্পর্ক, ফুল ও ফলের যে সম্পর্ক; মানুষ প্রজাতির মধ্যকার নারী ও পুরুষের মধ্যে সে ধরনের সম্পর্ক। নারী ও পুরুষ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক।
মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Ayub Ali: But the question is ‘what is a woman?
Mohammad Mozammel Hoque: নারী হলো সেই ব্যক্তি যিনি মা হয়েছেন কিংবা হতে পারেন কিংবা হওয়ার অধিকতর কাছাকাছি। A woman is a person who has become or could be or closer to be a mother.
Ayub Ali: What about infertile ones without any baby or any future chances of baby birth?
Mohammad Mozammel Hoque: আমি মাতৃত্বের ৩টা পর্যায়ের কথা বলেছি: পূর্ণতা, সম্ভাবনা ও অপূর্ণতা। (পিতৃত্বসুলভ বৈশিষ্ট্যের তুলনায়) মাতৃত্বজনিত অপূর্ণতা মাতৃত্বের অধিকতর নিকটবর্তী।
Shoaib Hossain: “মানুষ মানুষ হয়ে ওঠে একটা নারীসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণে।” তবে কি মানুষ ও নারী দুটো আলাদা বিষয়? ‘আবেগ’ কি ওভারঅল মানুষের বৈশিষ্ট্য নয় যা নারী ও পুরুষ উভয়ের মাঝেই থাকে? নাকি শুধুমাত্র নারীরই বৈশিষ্ট্য, যা পুরুষের মধ্যেও কাজ করে? ‘আবেগ’ মানবসুলভ বৈশিষ্ট্য না হয়ে শুধুমাত্র নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য কেন? পুরুষসুলভ বৈশিষ্ট্য নয় কেন?
ইন ইয়োর পয়েন্ট অব ভিউ- মানুষ মাত্রই বাইডিফল্ট নারী, কারণ তার ভেতর নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য ‘আবেগ’ আছে। অপরদিকে সাহস আর বিশ্লেষণী ক্ষমতা পুরুষসুলভ বৈশিষ্ট্য। এগুলো মিনিমালি অর্জন করার মাধ্যমে একজন নারী মানুষ হিসেবে উৎকর্ষতা লাভ করে। অর্থাৎ পুরুষসুলভ বৈশিষ্ট্য ‘সাহস ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা’ অর্জনের মাধ্যমে নারী মানুষ হয়ে ওঠে। তাহলে, নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য আবেগ থাকার কারণে মানুষ যদি বাইডিফল্ট নারী হয়, পুরুষসুলভ বৈশিষ্ট্য সাহস থাকার কারণে মানুষ বাইডিফল্ট পুরুষ কেন নয়? পুরোটাই জানার জন্য প্রশ্ন ভুলত্রুটি মার্জনা করবেন এবং আশা করি তা শুধরে দিবেন।
Mohammad Mozammel Hoque: শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃক্তিক যে গঠন নিয়ে মানুষ জন্মগ্রহণ করে, বয়োসন্ধিকালের আগ পর্যন্ত তা অনেকখানি এক রকমের থাকে। তা নারীসুলভ। আবেগ বাইডিফল্ট থাকে। যুক্তি, সাহস ইত্যাদি পরবর্তীতে ডিভেলপ করে। নারীপুরুষ উভয়ের মধ্যেই। নারীদের মধ্যে কম। পুরুষদের মধ্যে বেশি। পরিণত বয়সে নারীসুলভ আবেগপ্রবণতা পুরুষদের মধ্যে ভেতরে চলে যায়। গভীরে। নারীদের ক্ষেত্রে তা ততটা গভীরে যায় না। যার কারণে তাদের মধ্যে আমরা আবেগ বেশি দেখি।
নারী আর পুরুষ দুইটা আলাদা ব্যাপার নয়। একই জিনিসের ক্ষেত্রবিশেষে আলাদা বিকাশ। এই ক্ষুদ্রতর স্বাতন্ত্র্য কর্মক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য তৈরী করে। এই স্বাতন্ত্র্যকে গ্রহণ করে নেয়াটাই ভালো। উভয়েরই জন্য।
Mahin Murtoza: “আবেগ” জিনিসটা শুধু নারীদের সম্পত্তি হইলো কবে থেকে? বরং বাস্তবতা হইলো, আবেগ বিবর্জিত সিদ্ধান্ত নিতে নারীরাই বেশি সিদ্ধহস্ত।
Mohammad Mozammel Hoque: আবেগ হলো মানবিক বৈশিষ্ট্য। আবেগের প্রাধান্য হলো নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য। সমকালীন নীতিবিদ্যায় একে বলে এথিক্স অব কেয়ার।
আদনান আশের: অথচ ইসলামের বিশ্বাসে পুরুষের জন্মই আগে। পুরুষের পাজরের হাড় দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় (পড়ুন আল্লাহর কুদরতে) নারীর সৃষ্টি। আপনার মত অনুযায়ী নারী বাইডিফল্ট। পুরুষ বাইপ্রডাক্ট আর ডাইভার্সিটি। এখানে বিশ্বাসের সাথে দ্বন্দ্ব হলো না?
Mohammad Mozammel Hoque: প্রথম সৃষ্টির ধরন সম্পর্কে আমরা আসলে পরিষ্কার নই। যতটুকু বলা আছে সেটাকেই আমরা বিশ্বাস করি। যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ তাঁর কুদরতে সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং সেটা যেভাবেই হোক তাতে করে কোনো সমস্যা নাই। আর পরবর্তীতে আমরা দেখি, বাবা ছাড়া সন্তান হয়েছে। যেমন ঈসা আলাইহিস সালাম। মা ছাড়া সন্তান হয়েছে এটি দেখা যায়নি।
