নিরীহ জামায়াত নেতার উপর জঙ্গিবাদের অপবাদ ও বাস্তবতা

১. সময় টিভিতে পৌনে আটটার সময়ে দেখলাম, দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে হত্যার পরিকল্পনা, বিদেশী জালনোট ও অবৈধ পাসপোর্ট রাখার অভিযোগে আটককৃতদের সাথে বুলেট-প্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরা অবস্থায় ডা. ফরীদ ভাইকে। গত প্রায় বিশ দিন আগে আমার স্ত্রী মিতুল বলেছিল, ‘‘মুকুল ফোন করে জানাইছে, ঝিনু আপার জামাই ফরীদ ভাইয়ের নাকি কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না!” মুকুল আমার স্ত্রীর বড় বোন ও ডা. ফরীদ ভাইয়ের স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। যাক, আজ জানা গেল, তিনি অন্তত বেঁচে আছেন।

১৯৯৪ সালের প্রথমার্ধে আমার বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখলাম যাবতীয় আয়োজন হয়েছে, ‘সাংগঠনিকভাবে’! ডা. ফরীদ ভাই তখন মাদারীপুর জেলা জামায়াতের সভাপতি। ডা. ফরীদ ভাইয়ের ছোটভাই ডা. এহতেশামুল হক আমার বড়বোন তৎকালীন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষক ডা. ফাতেমা খানমের ছাত্র ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শিবির নেতা। আমরা তখন চট্টগ্রাম মেডিকেলের সামনে একটা বাসায় থাকি। এটি ১৯৮৫-৮৬ সালের কথা।

এসব বলার প্রসঙ্গ হলো জঙ্গীনেতা হিসাবে গ্রেফতার দেখানো শরিয়তপুর-মাদারীপুরে দীর্ঘদিন প্র্যাকটিস করা চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. ফরীদ ভাইকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি, জানি। তাঁকে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান তথা টিপিক্যাল জামায়াত হিসাবে দেখেছি। উনাদের বাসায় আমাকে দাওয়াত করা হলো। উনার পর্দানশীন স্ত্রী আমার সামনে খাবেন না, আবার আমার স্ত্রী উনার সামনে নেকাব খুলবে না। এহেন ‘পরিস্থিতিতে’ মেহমানরা নিজেরাই ভোজন পর্ব সেরে নিলেন! আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হওয়া তো দূরের কথা, তিনি কখনো মারামারি করেছেন, এমনটাও শুনি নাই।

জানি না, কত নাটক এই নিরীহ লোকটাকে নিয়ে মঞ্চস্থ করা হবে!

২. নোয়াখালীর সেনবাগের গ্রামের বাড়ি হতে আজকে চবি ক্যাম্পাসে ফিরেছেন এমন একজন জামায়াতপন্থী সহকর্মীকে বাড়ির খবর জিজ্ঞাসা করাতে, একটু আগে বললেন, “মন-দিল ভালো নাই।” ব্যাপার হলো, গত পরশু রাত্রে কে বা কারা এলাকার সব মন্দিরে ব্যাপকভাবে ভাংচুর করেছে। এলাকার সাধারণ লোকদের সাক্ষ্য ও বক্তব্য হচ্ছে ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের লোকেরা এসব করেছে। এতে নতুন করে এলাকার জামায়াতের লোকজনদেরকে গণহারে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

৩. সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বাড়ী এমন এক জামায়াতের রুকন পর্যায়ের সহকর্মীকে জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনার এলাকার লোকদেরকে তো সহজ-সরল হিসাবে জানতাম। সেখানের লোকদেরকে পুলিশ-র‌্যাব দিয়েও দমন করা যাচ্ছে না। ঘটনা কী?” তিনি নিজেও খুব আশ্চর্যান্বিত হয়েছেন বলে মনে হলো। বললেন, “আমাদের ওখানে সর্বমোট পনের জন রুকন আছেন। অথচ, বাজারে যখন মিছিল হয় তখন সেখানে গড়ে তিন শ’র বেশি উপস্থিতি থাকে!” যারা সেখানে জামায়াতের মিছিল করে তাদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ নাকি কখনো জামায়াতের কোনো মিটিংয়ে বসে নাই!

৪. এসব দমন-নিপীড়নের মাধ্যমে জামায়াত জনগণের মাঝে এক ধরনের গণসম্পৃক্ততা অর্জন করছে, অধিকতর জনপ্রিয় সংগঠনে পরিণত হচ্ছে। এটি স্পষ্ট। ডা. ফরীদ ভাই আর ঝিনু আপার জন্য খুব খারাপ লাগছে। ভাবছি, এই রাষ্ট্রীয় মিথ্যাচার ও সন্ত্রাসের শেষ কোথায়? কীভাবে?

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Faroque Amin: আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা) বলেছেন, কোনো দুর্যোগ যত মারাত্মক হয় তার প্রতিদানও তত বেশি হয়, প্রথম আঘাতের (ফার্স্ট শক) সাথে ধৈর্যধারণ করা কর্তব্য। যখন আল্লাহ তায়ালা কোনো জনগোষ্ঠীকে ভালোবাসেন তখন তাদেরকে তিনি পরীক্ষা করেন। তারপর যে সন্তুষ্ট থাকে তার জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি, আর যে অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ে তার জন্য আল্লাহর অসন্তুষ্টি।

পরিস্থিতি এমন অবর্ণনীয় যে কেবল টেক্সটের মাঝেই সান্তনা খুঁজছি।

Mohammad Main Uddin: অ্যাটলিস্ট ১৫ দিন আগে শুনেছি শাহানা চাচীর ভগ্নিপতিকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। কিন্তু কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। শাহানা চাচীর হাজব্যান্ড প্রফেসর আব্দুল ওয়াহিদ স্যারকে জিজ্ঞাসা করে ঘটনার সত্যতা জানতে পারলাম। এরপর দৈনিক সংগ্রামে নিউজ দেখলাম, মাদারীপুর জেলার সাবেক আমীরকে ঢাকার আদাবর থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। দুই সপ্তাহ খবর নেই। তারও এক সপ্তাহ পরে জঙ্গীনেতা হিসেবে উনার খোঁজ পাওয়া গেলো। এই নাটক সাজাতে পুলিশের ১৮ দিন সময় লেগেছে। তবে এসব করেও সরকার পার পাবে বলে মনে হয় না। আপনি সিরাজগঞ্জের যে কথা বললেন, দ্যাট ইজ গণপ্রতিরোধ। এটা শুরু হয়ে গেলে কেউ টিকতে পারে না।

Md Kabir: I think, there is only one solution, a huge revolution. I don’t know who will do that, but I am very much hopeful that it will happen. I know a revolution most often brings violence and takes away a lot of lives. But still, I want it happen very soon to reconstruct this nation. SOMETIMES, VIOLENCE IS NEEDED TO STOP THE EXISTING VIOLENCE OF A COUNTRY…

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *