এক একটা মানুষের এক এক ধরনের অ্যাচিভমেন্ট। মানুষ মাত্রই আমার কাছে একটা বিস্ময়কর ঘটনা। প্রতিটা মানুষ কোনো না কোনো দিক থেকে অনুকরণীয়। ঈর্ষণীয়! তেমনি ক’জনার সাথে দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি সময় কাটিয়েছি গতকাল। অনির্ধারিত, বিরতিহীন, আড্ডায়। কী ছিল সেই আড্ডার বিষয়? ফিলসফি, পলিটিক্স, রিলিজিয়ন।
আড্ডা এক বিশেষ উপকারী জিনিস।
আড্ডাতে ‘সময় নষ্ট’ করতে না পারা বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বলতার পরিচয়। হ্যাঁ, আমি ঠিকই বলছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পক্ষ, সেই পক্ষ, কোনো পক্ষের কোনো ভালো শিক্ষক-গবেষককে দেখি নাই যিনি আড্ডা পছন্দ করেন না।
বসেছিলাম সাইন্স ফ্যাকাল্টি মসজিদের উল্টো দিকের ছোট্ট ঘাটলাতে। হেঁটেছি পাম বাগানের পুকুরপাড় থেকে জিরো পয়েন্ট। আড্ডাতে অংশ নেওয়ার জন্য শহর থেকে এসেছিলেন একজন বড় সরকারি কর্মকর্তা। তিনিও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছেলে-মেয়েদের সাথে আনারসের পাতার অংশ ধরে খেয়েছেন আনারস। গোড়ার দিক থেকে ছিলা রাঙ্গামাটির ছোট সাইজের আনারস।
এমনি কত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, বুদ্ধিবৃত্তিক আড্ডা, রাজনৈতিক মোকাবেলা, সংগ্রাম আর স্লোগানে কেটেছে আমার জীবন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।
সবচেয়ে বেশি এনজয় করি বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকা সাপেক্ষে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে তরুণ বয়সের ছেলেমেয়েদের সাথে ফিলসফি চর্চার অসাধারণ এই সুযোগটাকে। ক্লাস করতে আসা এই ছেলে-মেয়েরা তাদের দল, মত, ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ পরিচয় নির্বিশেষে তারা অনেক বেশি সৎ, সাহসী এবং নির্দোষ; স্বার্থপর, ভন্ড ও হিপোক্রেট শিক্ষক সম্প্রদায়ের তুলনায়।
গতকাল আলোচনা করেছি প্লেটোর রিপাবলিক, আর ভাষা দর্শনে vagueness এবং ambiguity’র পার্থক্য নিয়ে। প্লেটোর রিপাবলিকের আলোচনাটা ছিল আন্ডারগ্রাজুয়েট কোর্সে। ল্যাঙ্গুয়েজ ফিলসফির ক্লাসটা ছিল গ্রাজুয়েট কোর্সে।
যারা বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন যাপন করতে চায় তাদের স্বপ্নের জীবন আমাকে আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন।
আলহামদুলিল্লাহ!




