‘কথাটা হক হলেই হবে না, কথা বলার পদ্ধতিটাও হক হওয়া জরুরী’ – স্যারের এই কথাটা গুরুত্বপূর্ণ। ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার আশঙ্কায় স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবাঘরের সংস্কার থেকে বিরত ছিলেন।
ইসলামে কোনো পোশাক ডিজাইন করা নাই। কিন্তু পোশাকের মূলনীতি বলা আছে। মূলনীতি বজায় রেখে যে কোনো পোশাক ইসলামী হতে পারে। তৎসত্ত্বেও এলাকাভেদে প্রচলিত রেওয়াজ অনুসরণ করে যার যার জন্য প্রযোজ্য মর্যাদাপূর্ণ পোশাক পরতে ইসলামী শরিয়াহ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে।
আনুইন্ন্যা তাল করা, মানে আননেসেসারিলি সিম্বলিজমের চর্চা করাকে ইসলাম অনুৎসাহিত করে। একই সাথে ‘ইসলামের চিহ্ন’গুলোকে বজায় রাখা কিংবা সম্মান দেখানোর জন্যেও ইসলাম নিজের অনুসারীদেরকে উৎসাহিত করে।
রুটি ভাত তরকারি এগুলো না খেয়ে চিপস চানাচুর খেয়ে কেউ যদি ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা করে সে যেমন সব সময় খাই খাই করবে, তেমনি করে সমাজ পরিবর্তনের জন্য আসল যে কাজ করা দরকার, সেইটা করার দিকে অগ্রসর না হয়ে চান্স নেওয়ার চেষ্টাফিকিরে রত থাকলে সেই ব্যক্তি কিংবা সংগঠনের অবস্থা হবে দড়ি ছেঁড়া গরুর মতো।
তার কাজকর্মের মধ্যে থাকবে না কোনো লাইন অফ কন্সিসটেন্সি। চারিদিকে সে ছোটাছুটি করতে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।
বুঝতে হবে, একক ব্যক্তির পক্ষে যেমন সামাজিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো অসম্ভব, তেমনি করে একক কোনো দলের পক্ষেও কাঙ্খিত সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো, অসম্ভব।
কাজের পদ্ধতি হতে পারে এমন, কেউ সেকুলারিজমের সফট ভার্সনকে গ্রহণ করবে, কেউ সেকুলারিজমকে ডাইহার্ড অপোজ করবে। কেউ ইসলামী পরিচয়কে প্রকাশ্যে না এনে common ground of rationality’র ভিত্তিতে কাজ করবে। কেউ প্রকাশ্যে ইসলামী পরিচয় এবং চরিত্র ধারণ করে কাজ করবে।
এই সবকিছুই দরকারি। সব ধরনের কাজ চলবে সমানতালে। পাশাপাশি। এ’ধরনের স্বতন্ত্র কিন্তু সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে আসতে পারে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই পরিবর্তন।
নিজেদেরকে একমাত্র হক, বটবৃক্ষ মনে করার বোকামি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সমাজ পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে ‘উন্মুক্ত বাগান পদ্ধতি’তে।
অন্যদের কাজকে ‘খেদমতে দ্বীন’ মনে করার হীন মানসিকতা থেকে বের হয়ে সমমনা সবার কাজকেই স্বীকৃতি দিতে হবে। প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নিজেদের স্বকীয়তা বিসর্জন দেয়া যাবে না।
ইনক্লুসিভিটি ভালো, স্বকীয়তা বিসর্জন না দেওয়া সাপেক্ষে।
এতদিন যারা নিজেদেরকে ইসলামী পরিচয় দিয়ে এসছেন, তারা যখন তাদের লোগো থেকে ‘আল্লাহ’ লেখাকে বাদ দেয়, কোরআনের আয়াতকে বাদ দেয়, তখন নিজেদের সম্পর্কে তারা অন্যদের কাছে ভুল মেসেজ পাঠায়।
ইসলামবিদ্বেষী যেসব সেকুলার শক্তির মন জয় করার জন্য তারা এগুলো করছেন, তাদের নামের সাথে থাকা ইসলাম, এবং চর্চার মধ্যে ইসলাম যা যতটুকু আছে তা বাদ না দেয়া পর্যন্ত তারা আসলে সন্তুষ্ট হবে না। তাদেরকে বিশ্বাস করবে না। এবং তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হতে বিরত হবে না।
কাকের ময়ূর পুচ্ছ যেমন হাস্যকর, কয়লা ধুয়ে ময়লা পরিষ্কার করার চেষ্টা যেমন নিষ্ফল প্রয়াস, ইসলামী দলের সেকুলার হওয়ার চেষ্টাও তেমন হাস্যকর, ব্যর্থ চেষ্টা।
এই সহজ কথাটা কেন তারা বুঝছেন না, সেটাই আমার বুঝে আসছে না।
সাময়িক পলিটিক্যাল ভেকুয়ামের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়া, এইটা একটা মারাত্মক রিস্কি কাজ।
একবিংশ শতাব্দীর বিদ্যমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের মতো একটা দেশে ক্ষমতায় যাওয়া এবং টিকে থাকার মত অর্গানিক ডেভেলপমেন্ট কি তাদের আছে?
আল্লাহ মাফ করুক, কোনো ধরনের ওভারস্টেপের পরিণতিতে শেষ পর্যন্ত আম ছালা দুইটাই যেতে পারে…!

