আমাদের এক ছাত্রী। সনাতনী। পরপর বেশ কিছু ক্লাসে তাকে না দেখে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারি, তার চাচা মারা গেছে। হঠাৎ করে। সুচিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়নি। প্রিয়জনের আকস্মিক মৃত্যু তাকে এতটাই শকড করেছে সে রীতিমত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
চাচার সাথে পূরবী ভট্টাচার্যের সম্পর্ক ছিল খুব হৃদ্যতাপূর্ণ। ভালো। সনাতনীদের পারিবারিক সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে অধিকতর শক্তিশালী।
ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে, হঠাৎ করে নাই হয়ে গেলে, মানুষ কষ্ট পাবে, বেদনায় ভেঙ্গে পড়বে, এটি স্বাভাবিক। ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কেউ যখন থাকে, খুব একটা যোগাযোগ না থাকলেও মনে হয়, হ্যাঁ তিনি তো আছেন। ইটস ওকে। গেলেই তো দেখা হবে। ফোন করলেই তো কথা হবে।
এমনই আপন কেউ একজন যখন হঠাৎ করে হারিয়ে যায়, হয়ে পড়ে মূক চিরতরে, চলে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে, তখন প্রবল অপরাধবোধ চেপে বসে। নিজেকে মনে হয় অপরাধী, খানিকটা বেশি সময় না দেয়ার জন্যে।
কখনো এমন হয়, হারিয়ে ফেলার পরে বোঝা যায়, অসময়ে যে জন গেছে চলে জীবনের ওপারে, সে ছিল এত বেশি আপন, যা আগে বুঝতে পারিনি, অনুভব করিনি কোনোদিন, এতটা করে।
চোখে দেখাকে মানুষের অন্তর অস্বীকার করে এতটা প্রবলভাবে, ডিনায়েল হয়ে ওঠে রিয়ালিটি, অভিজ্ঞতা ছাড়া এটি অনুমান করা কঠিন। এমনি এক ডিনায়েলের মধ্য দিয়ে যাপন করছি প্রাত্যহিক জীবন, অগাস্ট দ্বাদশ দিবস দু’হাজার পঁচিশ এর পর থেকে।
যত লেখা লিখেছি, ২০১০ সাল থেকে এ’পর্যন্ত, তারমধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এই কথাগুলো,
জীবনের পরিণতি অনিবার্য।
তবু স্বপ্ন, তবুও স্মৃতি, তবুও বিস্মৃতি, বাঁচিয়ে রাখে আমাদের!
হ্যাঁ, স্মৃতির চেয়েও কখনো কখনো বেশি কার্যকরী ভূমিকাপালন করে বিস্মৃতি। মরফিন যেভাবে ভোঁতা করে দেয় আমাদের সংবেদন, ভুলিয়ে দেয় বেদনা; বিস্মৃতি সেভাবে মুছে দেয় প্রিয়জনহারা জীবনের গ্লানি, স্মৃতির যন্ত্রণা…!

