মা-বাবা এবং শ্বশুরবাড়ির প্রতি বিবাহিত নারীর দায়িত্ব

১.‍ “মেয়ে সন্তানের” জান্নাত তাহলে কার পায়ের নিচে?

২. এসব যুক্তি দিয়ে কি তাহলে শ্বশুরবাড়ির যৌথ পরিবার এভয়েড করার সুযোগ আছে?

৩. যাদের ‍“ছেলে” সন্তান নেই, তারা বুড়ো বয়সে কী করবে?

একজন জনপ্রিয় সামাজিক-গণমাধ্যম লেখকের একটি লেখার সূত্রে একজন পাঠক উপর্যুক্ত প্রশ্নগুলো আমাকে পাঠিয়েছেন ফেইসবুক মেসেঞ্জারে। উত্তর হিসেবে আমি এই ভিডিও বক্তব্য ইউটিউবে ‌‘সামাজিক আন্দোলন’ চ্যানেলে আপ করেছি।

আপনারাও শুনতে পারেন। খুব বেশি খারাপ লাগবে না আশা করি।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Hasan Ibn Faruk Khan: তাহলে একটা প্রশ্ন এসে যায়। যৌথ পরিবারের কনসেপ্টটা যদি অর্থনৈতিক দিক থেকে হয় তাহলে এটা কীভাবে ইসলামে বৈধ হয়? এর পিছনে লজিকটা কীভাবে আসে? পর্দা প্রথা রক্ষা করাটা জটিল হয়ে যাবে। যদি পর্দা রক্ষা করে পারা যায় তাহলে ঠিক আছে। ধন্যবাদ।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: পর্দা রক্ষা করার বিষয়টাকে এক ধরনের ধর্মবাদী চেতনা দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে কেউ কেউ অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করছেন। স্বতন্ত্রভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এরকম বিষয়গুলো যখন একটার সাথে একটা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে তখন আমাদেরকে সেগুলোর মধ্যে এক ধরনের প্রায়োরিটি এবং কম্প্যাটিবিলিটি নির্ধারণ করতে হয়। পারিবারিক জীবনে নারীদের পর্দা করার বিষয়টি সেরকম একটা বিষয়।

পর্দার নামে যারা পারিবারিক জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পক্ষপাতী তারা সাধারণত ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা, যেটাকে আমরা ইংরেজিতে প্রাইভেসি বলি, সেটার সাথে পর্দার বিষয়টাকে গুলিয়ে ফেলেন। ইসলামের দৃষ্টিতে privacy of personal life is a must। সেজন্য কুরআনে বলা হয়েছে, দুপুরের পরে এবং রাত্রিকালীন নামাজের পরে তোমরা মা-বাবার কক্ষে প্রবেশের জন্যে অবশ্যই অনুমতি প্রার্থনা করবে।

যা হোক, একেবারে অনাত্মীয় লোকদের সাথে পর্দার বিষয়টি আর আত্মীয়দের সাথে পর্দা, এ দুটো বিষয় ঠিক এক নয়। আপনি যদি এসব বিষয়ে কোরআন হাদিসের দৃষ্টিভঙ্গি বিশদভাবে এবং সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জানতে চান তাহলে আপনি এটি বুঝতে পারবেন।

বর্তমান আলোচনা অর্থাৎ আমার এই ভিডিও বক্তব্যটি কিন্তু পর্দার বিষয়ে নয়। আপনি প্রশ্ন করেছেন তাই আমি কিছু কথা বললাম। এখানে এই নিয়ে আর কথা বাড়াতে চাচ্ছি না। এসব বিষয়ে আমার আলাদা লেখা আছে। আমার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে সেগুলো পাবেন।

Tanziya Islam Tanha: মসজিদে নামাজের ব্যাপারটায় হাদীসে ক্লিয়ারলি পুরুষদের নিষেধ না করার নির্দেশ আছে। উমার (রা) খলীফা হয়েও উনার ওয়াইফকে মসজিদে যেতে নিষেধ করতে পারেননি, কারণ পুরুষদের সেই রাইট নেই।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: ব্যাপারটা ঠিক এরকম ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট নয়। যে মহিলা সাহাবীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে না এসে ঘরের মধ্যে নামাজ পড়তে বলেছেন সেটার কারণ ছিল, তার স্বামী ছিলেন অত্যধিক ঈর্ষাকাতর। মেয়েদের ঘরে নামাজ পড়া উত্তম, এই কথাটা যারা জোর করে বলেন তারা এই হাদীসটিকে দলিল হিসেবে পেশ করেন। সিএসসিএস-এর একটি লেখায় এটি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

আপনার উত্থাপিত এই প্রসঙ্গটি আমাদের আজকের আলোচনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত নয়। তারপরও আপনি জিজ্ঞেস করেছেন বলে কিছুটা বললাম। আপনার আগ্রহ থাকলে এ বিষয়ে পরবর্তীতে কথা হতে পারে।

ফেইসবুক লিংক

Leave a Reply