লজিকের শুরু হয় বিশ্বাস থেকে?

সর্বশেষ

লজিক আর ফেইথের পার্থক্য কি সবসময় স্পষ্ট? যেমন ধরুন বিজ্ঞানের রানী অংকশাস্ত্রের কথা, যার মধ্যে জ্যামিতি হলো সবচেয়ে যুক্তিনির্ভর। জ্যামিতির শুরু হয় কতগুলি স্বতসিদ্ধ দিয়ে যেমন–

বিন্দু: বিন্দু হলো এমন একটি জিনিস যার দৈর্ঘ-প্রস্থ কিছুই নেই, কেবল অবস্থান আছে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো জিনিস খুঁজে পাওয়া যাবে না যার কেবল অবস্থান আছে, কিন্তু দৈর্ঘ ও প্রস্থ নেই।

রেখা: এমন এক বস্তু যার কেবল দৈর্ঘ আছে, প্রস্থ নেই। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো রেখা নেই যার প্রস্থ নেই। কিন্তু জ্যামিতি পড়তে হলে আমাদের বিশ্বাস করে নিতে হয় বিন্দু আর রেখার সংজ্ঞাকে। কারণ, জ্যামিতের সমস্ত লজিক বিন্দু, রেখা ইত্যাদির উপর প্রতিষ্ঠিত।

এভাবে অনেক ক্ষেত্রে লজিকের শুরু হয় বিশ্বাস থেকে (axiomatic or Godly in a sense though axioms are not God in the religious sense, but Godly, i.e., axioms are self-justified)।

একইভাবে গণিতে শূন্য ও অসীমের ধারণা কল্পনাপ্রসূত। অথচ বিজ্ঞানের সৌধ দাঁড়িয়ে আছে এই কল্পনার উপর বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে!

নির্বাচিত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: কল্পনাপ্রসুত এইটা আসলে ভুল কথা। অনেকটা হাইপো বলা হয়, যেইটা আপনে বুঝেন নাই। কোরানে এমন অনেক আয়াত আছে যেখানে খোদাতালা সরাসরি কিছু বলেন নাই, অনেকটা হাইপোর মতোন বলে গেছেন। এই জন্যই বলেছেন সৃস্টি রহস্যের সন্ধান করতে!

মানুষের কাছে খোদা কনসেপ্ট বাদে সবকিছুতে আগে আসে লজিক বা কার্যকরন তারপর বিশ্বাস। শুধু খোদাতালার ক্ষেত্রে সবার আগে আসে বিশ্বাস, কারন ধর্ম আমরা পয়দা হবার পরই পাই যখন আসলে যুক্তি দিয়ে বিশ্বাস করানোর ক্ষমতা আমাদের থাকে না!

পারভেজ আলম: বিন্দু এবং রেখার ধারণা বিশ্বাস নয়, হাইপোথিসিস। বাস্তব রেখা বা বিন্দুর অস্তিত্ব না থাকলেও বিভিন্ন জ্যামিতিক সমাধান, মাপজোখের কাজে বিন্দু চিহ্নিত করে কাজ করা যায়, রেখা ধরে হিসাব করা যায়, এগুলো যে কোনো জায়গায় হতে পারে। রেখা, বিন্দু এইসব ব্যবহারিক একক। এই একক ব্যবহার করা যায় বাস্তব জীবনের বাস্তব কাজে।

বিজ্ঞান এবং গণিতে অনুমান বা ধরে নিয়ে কাজ করা হয়, অবশ্যই করা হয়। ধরে নিয়ে তারপর হিসাব-নিকাশ করে ঠিক-বেঠিক বের করা হয়। অনেক সময় অজানা সংখ্যাকে এক্স বা অন্যকিছু ধরে সমীকরণ করে এক সময় তার মান বের করা হয়। এখন ঐ অজানা সংখ্যাকে এক্স ধরা মানে এই নয় যে আমি বিশ্বাস করলাম ঐ অজানা সংখ্যা হলো এক্স।

তবে আপনি এখানে কী বলতে চেয়েছেন তা পরিস্কার করে বলেন। আপনার মতামত কি, বিশ্বাস থেকে লজিকের উৎপত্তি হয়– এরকম?

তাহলে কি কোনো লজিক ব্যবহার করার আগে সবসময়ই কিছু না কিছু বিশ্বাস করে সেই বিশ্বাসের পক্ষে লজিক খুঁজতে হবে?

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: প্রথমেই ‘উত্তর’ দিতে দেরি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করছি। আজ সকাল হতে আমি নেট থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। এই মাত্র খুলেছি। যাক, এই পোস্টের মূল বক্তব্য নিয়ে পুনরায় পোস্ট দিচ্ছি। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

পোস্টটির সামহোয়্যারইন লিংক

১টি মন্তব্য

একটি মন্তব্য লিখুন

প্লিজ, আপনার মন্তব্য লিখুন!
প্লিজ, এখানে আপনার নাম লিখুন

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলসফি পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম। থাকি চবি ক্যাম্পাসে। নিশিদিন এক অনাবিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি। তাই, স্বপ্নের ফেরি করে বেড়াই। বর্তমানে বেঁচে থাকা এক ভবিষ্যতের নাগরিক।

সম্প্রতি জনপ্রিয়

আরো পড়ুন

যুক্তি বলে বুদ্ধিবাদই সঠিক

law of identity বা সত্তাগত স্বাতন্ত্র্যতার সূত্রানুযায়ী অন্য কোনো ভেরিয়েবল বা শর্তের পরিবর্তন ব্যতিরেকে কোনো কিছু একইসাথে একাধিক সত্তা বা অস্তিত্বসম্পন্ন হবে না। তারমানে,...

Multiplicity of the understanding of truth, does not mean that truth itself is multiple

প্রশ্নটা ছিল ‌‘ঠিক-বেঠিক আর ভুলশুদ্ধের মাঝে পার্থক্য কী?’ একজন উত্তর দিয়েছেন, ‌‘পার্থক্য হলো আপনার অনুসরণ করা স্কেল। অন্যের স্কেলে যা ঠিক, আপনার স্কেলে তা বেঠিকও...

মানবীয় জ্ঞানের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা

‌‘কেন’ প্রশ্নটি আমরা তুলতে পারি, কিন্তু তত্ত্ব বা অন্টলজি হচ্ছে, সব ‌‘কেন’র উত্তর আমরা পাই না, বা পেলেও কনসিভ করতে পারি না; আমাদের সত্তা...