আদম (আ) থেকে মুহাম্মদ (সা) পর্যন্ত বংশ তালিকা প্রসঙ্গে

ইবনে ইসহাকের ইতিহাস গ্রন্থ ‘সীরাতে রাসূলুল্লাহ’য় নাকি বলা হয়েছে, আদম আলাইহিস সালাম হতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত বংশধারা ৫২ পুরুষে সীমাবদ্ধ। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ইসরাইলিয়াত তথা ইহুদী-খৃষ্টান সূত্র থেকে গৃহীত বর্ণনার অসংগতি নিয়ে ইসলামবিদ্বেষীদের একটা ব্লগে একটা পোস্ট দেয়া হয়েছে। সেটার রেফারেন্স দিয়ে এক পাঠক আমার মতামত জানতে চেয়েছেন। ইনবক্সে ওই পাঠককে আমি যা বলেছি:

“পড়লাম।

আমি তো ‘আদম থেকে মুহাম্মদ’ – এই বংশ পরিক্রমা সম্বন্ধে তেমন কিছুই জানি না। তাহলে আমি কি মুসলমান হতে পেরেছি? যদি পেরে থাকি তাহলে বোঝা গেলো, এসব বংশতালিকা ইসলামের কোনো অংশ নয়।

তাছাড়া আরেকটি বিভ্রান্তি এখানে রয়ে গেছে। সেটি হচ্ছে সীরাত এবং হাদীসের পার্থক্য। সীরাত হচ্ছে সাধারণ মানের ইতিহাস। আর হাদীস শাস্ত্র হচ্ছে যাচাইকৃত ইতিহাস। ‘হাদীস শাস্ত্রসমূহ পরবর্তীকালে সংকলিত হয়েছে। এ কারণে সেগুলো কম নির্ভরযোগ্য’ – এমন ধরনের ধারণা হলো ভুল।

হাদীস দিয়ে কোরআন খণ্ডিত হবে না। তেমনি করে সীরাতের বর্ণনা দিয়ে হাদীস খণ্ডিত হবে না। মুসলমানরা তো এভাবেই বুঝে। কোরআনের ব্যাখ্যা হলো হাদীস। আর হাদীসের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হলো সীরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাই, সীরাতের কোনো বিচ্ছিন্ন বর্ণনা দিয়ে ইসলাম বোঝার চেষ্টা করা হলো একটি ভুল পদ্ধতি।

কোরআন কোনো ইতিহাসের গ্রন্থ নয়। কিন্তু ইসলাম সম্পর্কিত ঐতিহাসিক বর্ণনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস। এভাবে হাদীসের গ্রন্থসমূহও নিছক বা সাধারণ ইতিহাস গ্রন্থ বলতে যা বোঝায় তা নয়। যদিও ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে জানার জন্য কোরআনের পরে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র হল হাদীসের গ্রন্থসমূহ। এরপরই হচ্ছে সীরাত গ্রন্থসমূহের স্থান।

ইসলামের ইতিহাস জানার জন্য এই বিশেষায়িত পদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ ইসলামবিদ্বেষীরা তেমন ধারণা রাখে না। তারা নিজেরা বুঝে না। এবং অন্য যারা তেমন জানে না তাদেরকে তারা নিজেদের অজ্ঞতা দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালায়।”

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্য

Abdus Salam Azadi: আমাদের নবী (সা) নিজের বংশলতিকা বলে গেছেন। মোটামুটি সহীহ সনদে ইসমাঈল (আ.) এবং ইবরাহীম (আ.) পর্যন্ত যায়। এর পরে আদম (আ.) পর্যন্ত পরম্পরা নিয়ে আমাদের নবী (সা) নিজেই বলেছেন– কাযাবান নাসসাবুন, বা ঐতিহাসিকরা মিথ্যা বলেছে।

লেখাটির ফেসবুক লিংক

এ ধরনের আরো লেখা

কী করবো? চাকরি ছেড়ে দেবো? চাকরি ছাড়লেও ফিলোসফি চর্চা থেকে মুক্তি পাওয়া কি আদৌ সম্ভব?

এক সিনসিয়ার পাঠক আমাকে সতর্ক করে বলেছেন: “ইসলামে ফালাসাফার চর্চা কড়াভাবে নিষিদ্ধ।...

ধর্মবিদ্বেষ আর ধর্মবাদিতা হলো একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

পর্ব-১: রোজার পবিত্রতা রক্ষার নামে ধর্মবাদী উগ্রতা ১৬ মে, ২০১৯ ধর্মপ্রবণ এই দেশে...

মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

প্লিজ, আপনার মন্তব্য লিখুন!
প্লিজ, এখানে আপনার নাম লিখুন

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকhttps://mozammelhq.com
নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলসফি পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম। থাকি চবি ক্যাম্পাসে। নিশিদিন এক অনাবিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি। তাই, স্বপ্নের ফেরি করে বেড়াই। বর্তমানে বেঁচে থাকা এক ভবিষ্যতের নাগরিক।

সম্প্রতি জনপ্রিয়

যুক্তিবুদ্ধির পক্ষে আল্লাহ তায়ালা

আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সা) বলেছেন, ‘আল্লাহ যাকে কল্যাণ দান...

যদি হও আমার ভালোবাসার মানুষ

আমার ভালোবাসার মানুষ কখনো হতাশায় ভুগতে পারে না। যারা...

ইসলামে ‘শ্বশুরবাড়ি’ ও ‘যৌথ পরিবার’ বিতর্ক প্রসংগে কিছু মন্তব্য

(১) সম্পত্তি বণ্টন ব্যবস্থা হতে শিক্ষণীয় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে চলার...

যুক্তিবুদ্ধির ব্যবহার নিয়ে কিছু ভুল বুঝাবুঝি

যুক্তিকে অতিক্রম করে যাওয়া, ইংরেজীতে exhaust করা বলতে যা...