ইসলামিস্টদের নারীবিদ্বেষ

ব্যতিক্রম বাদে, আলেমদের নারীবিদ্বেষ আমাকে খুব অবাক করে। নারীদের মসজিদে প্রবেশাধিকার দিতে উনাদের বেশিরভাগেরই প্রবল আপত্তি। পশ্চিমা নারীবাদের বাইরে নারী অধিকার নিয়ে উনাদের বাস্তব কর্মপন্থা মোস্টলি হিপোক্রেটিক, কৌশলী ও প্রতারণাপূর্ণ।

রাসূল (স.) এর চেয়েও উনাদের ‘পর্দা চেতনা’ অধিক। আল্লাহ মাফ করুন। গতকাল একজনের কাছ হতে এ’ধরনের একটা ঘটনা শুনে রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে গেছি।

একটা রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানে একজন বিখ্যাত আলেমকে দাওয়াত করে আনা হয়েছে অতিথি হিসেবে। যার কথা বলছি তিনি অতি বিখ্যাত। অনেক দূর থেকে বললেও আপনারা চিনে ফেলবেন, তাই উনার নাম পরিচয় কিছু বলা সমীচিন মনে করছি না। অনুষ্ঠানে আসার আগে উনি শর্ত দিয়েছিলেন, কোনো নারী বক্তা বা শ্রোতা থাকতে পারবে না। সে মোতাবেক অনুষ্ঠানটা আয়োজন করা হয়েছে।

সময়মতো উনি আসলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে আবার সাথে সাথে বের হয়ে গেলেন। আয়োজক দলের মহাসচিব ছুটে গিয়ে উনাকে লিফটে পেলেন। জানলেন, অনুষ্ঠানে নারী-উপস্থিতির প্রতিবাদে তিনি চলে যাচ্ছিলেন। আয়োজকরা তো অবাক। যে ক’জন নারী অতিথিকে দাওয়াত করা হয়েছিল উনাকে একোমোডেইট করার জন্য নানা কায়দায় শেষ পর্যন্ত তাদেরকে এক্সক্লুড করা হয়েছে। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এন্টি-আওয়ামী লীগ সকল রাজনৈতিক দলের অনেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

ঐ আলেম সাহেবেরও একটা রাজনৈতিক দল আছে। সে হিসেবে উনাকে দাওয়াত করা হয়েছিল।

উনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ছুটে যাওয়া নেতাকে হুজুর জানালেন, মঞ্চের ডানপাশের কোণায় একজন নারী বসে আছে। দেখা গেল, কথা ঠিকই। কী মুশকিল …! আয়োজকরা উনাকে বোঝালেন, শেষ অবধি উনাকে অনুষ্ঠানস্থলে ফিরিয়ে আনলেন। তারা বললেন, ’ঐ নারীকে তো আমরা দাওয়াত করে আনি নাই। বরং অমুক চ্যানেলের রিপোর্টার হিসেবে তিনি এসেছেন। অনুষ্ঠানের মিডিয়া কাভারেজের জন্য দাওয়াত দেয়ার পরে কোনো পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল কাকে পাঠাবে তার তো কোনো তালিকা আমরা আগেভাগে পাইনি। তাই এই ভুল হয়ে গেছে।’

দয়াপরবশ হয়ে তিনি মঞ্চে আসন গ্রহণ করার পরে দেখলেন, স্টেইজের বামদিকেও একজন নারী উপস্থিত আছেন। এবার উনাকে ফেরায় কে ….? ‘আমার একটু সমস্যা আছে’ বলে উনি বীরদর্পে মঞ্চ ত্যাগ করলেন। অথচ, উভয় নারীই ছিলেন শালীন পোশাকে। স্কার্ফ, প্রচলিত অর্থে হিজাব পরিহিতা।

বহু বছর আগে, চকবাজার এলাকায় আইআইইউসি’র তৎকালীন বিবিএ ফ্যাকাল্টিতে জামায়াতের একটা প্রোগ্রাম হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন সবাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সেখানে আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজের কয়েকজন শিক্ষকের প্রবল আপত্তির কারণে আমার স্ত্রী মিতুল ম্যাম আর ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের সালমা ম্যামকে অনুষ্ঠান হতে বের করে দেয়া হয়। আমি প্রচণ্ড অপমানবোধ করে উনাদেরকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসি।  

মিতুল আর সালমা কখনো বোরকা ছাড়া ফ্যাকাল্টিতে যায় নি। কিংবা বাহিরে কোথাও যায়নি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু নয়, পুরো দেশে পর্দানশীন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে এই দু’জন পাইওনিয়ার। ১৯৯৩/৯৪ সালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা শিক্ষিকা বোরকা পরে ক্লাসে আসবে, এটি ছিল অকল্পনীয়।

লক্ষ্য করেছি, মাদ্রাসা পড়ুয়া লোকজনের কিছু বিষয়ে মারাত্মক রকমের এলার্জি আছে। এটি উনাদের প্রায়-সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

কিছু কিছু বিষয় দেখামাত্রই উনারা ভায়োলেন্টলি ট্রিগার্ড হয়ে পড়েন। যদিও, দেশ ও জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন প্রতিটি মুয়ামালাত তথা বৃহত্তর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিষয়ে উনারা নিজেদেরকে মনে করেন, নিতান্তই মা’জুর। মানে, অপারগ।

নারীপ্রসঙ্গ হুজুরদের অন্যতম ট্রিগারিং পয়েন্ট। নারীপ্রসঙ্গ আসলেই তারা বীরপুরুষ বনে যান। যা বলছিলাম, তাদের পর্দাচেতনা দৃশ্যত স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (স.) থেকেও যেন বেশি। আল্লাহ মাফ করুক।

বাংলাদেশে ধর্মবিদ্বেষ, সুনির্দিষ্ট করে বললে ইসলামবিদ্বেষ যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা। তেমন করে ধর্মান্ধতাও এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা। বাংলা-ইংরেজীতে ‘দুই পাতা ইসলামী সাহিত্য পড়া’ স্কলারদের(?) দৌরাত্ম্য যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা, তেমন করে সমকালীন জীবন ও জগত সম্বন্ধে নির্লজ্জভাবে গাফেল আমাদের সম্মানিত ‘ওয়ারাসাতুল আম্বিয়াদের’ বাড়াবাড়িও এক নিন্দনীয় বাস্তবতা।

পাশ্চাত্য নারীবাদ যেমন করে আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে, তেমনি করে ধর্মপন্থীদের নারী বিদ্বেষ সমাজমানসের অনেক গভীরে প্রোথিত। এ’এক অনাকাঙ্ক্ষিত কিন্তু অনস্বীকার্য বাস্তবতা।

আমি শিউর, আমার এই কথাগুলো উনাদের বিরাট অংশের মাথার উপর দিয়ে যাবে। দেখবেন, একেকজন চৌদ্দ রকমের ফেলাসি করে মন্তব্য করবেন।

আসলে, বোকাকে বোকা বলা হচ্ছে সত্যিকারের বোকামি।

২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় চেতনাযুদ্ধে শাহবাগও জয়ী হয়নি, শাপলাও জয়ী হয়নি। আমরা যারা মধ্যপন্থী তাদের ভাগ্য ভালো, খেলা শেষ পর্যন্ত ড্র হয়েছে। এই পক্ষ হোক, ঐ পক্ষ হোক, কোনো একপক্ষ যদি নিরঙ্কুশ বিজয়লাভ করতো তাহলে বিজয়ী পক্ষ আমাদের মতো ‘অপরদেরকে’ নানা কায়দাকানুন করে ইতোমধ্যে খতম করে দিতো।

স্বাধীনতাবিরোধী ‘খেতাব’ পাওয়া আর তাকফিরের আওতায় থাকা, দু’টোরই পরিণতি তো এক।

আল্লাহ তাঁর বান্দাহদেরকে এভাবেই হেফাজত করেন। চরমপন্থীদের হাতে গেলে এই দুনিয়াটা ধ্বংস হয়ে যেত বহু আগে।

মন্তব্য – প্রতিমন্তব্য

Afsar Uddin: আমাদের দেশে এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অধিক বাড়াবাড়ি অথবা অধিক ছাড়াছাড়ি চলে। কোনোটিই আসলে আমাদের জন্য উপকারী নয়। আমজনতার মধ্যে কুরআন এবং সুন্নাহ এর বুঝ না আসা পর্যন্ত এসব চলবেই।

Mohammad Mozammel Hoque: আমি এক্ষেত্রে ড. তারেক রমাদান এর ফর্মুলাকে প্রাথমিকভাবে সঠিক মনে করি। According to Dr Tareq, we need both ‘men of text’ and ‘men of context’. এই উভয় গ্রুপের উচিত পরস্পর পরস্পরকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করা এবং যৌথভাবে কাজ করা।

Muhammad Saidul Islam: আমার ধারণা পর্দা সম্পর্কে আপনার তেমন জানাশোনা নেই। দ্বিতীয় কথা হেফাজতে ইসলাম যেই জন্য আন্দোলন করেছিলেন, সেই দাবি গুলোও আপনার জানা নেই। ইতিহাস বলে যারাই শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে তাদেরকে চরমপন্থী অপবাদ দেওয়া হয়েছে।

Mohammad Mozammel Hoque: হেফাজত ইসলামের ১৩ দফার পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের তরফ থেকে একটিমাত্র যৌথ লেখা তৎকালীন ‘নয়া দিগন্ত’ পত্রিকায় ছেপেছিল। আমি ছিলাম সেই লেখার মূল উদ্যোক্তা এবং অন্যতম লেখক। আমার বাসাতে বসেই সেই লেখা হয়েছিল। হেফাজতের লোকেরা সেই সময়কার মিডিয়া ক্লিপগুলো নিয়ে একটা বই বের করেছে, যেখানে আমাদের লেখাটি ইনক্লুডেড আছে। বইটা আমার কাছে আছে।

আর কিছু বলতে হবে?

Muhammad Saidul Islam: হেফাজতের কোন বিষয়টা আপনার কাছে কট্টর মনে হয়েছে। যার জন্য নাম ধরে চরমপন্থী বলে দিলেন।

Mohammad Mozammel Hoque: আমি তো এখানে ‘হেফাজত বিশ্লেষণে’ বসিনি। সেটা, মানে হেফাজতে ইসলামির পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। সেটি হতে পারে অন্য প্রসঙ্গে অন্য কোনো সময়ে।

আপনি হেফাজত প্রসঙ্গে বলেছেন, সে জন্য আমিও একটা প্রাসঙ্গিক তথ্যের কথা আপনাকে বলেছি। এখন আপনার সিনসিয়ারটির দাবি হলো, আপনার আগের মন্তব্যের হেফাজত পয়েন্ট তাতে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া।

আমার দেওয়া তথ্য থেকে আপনি বুঝতে পেরেছেন, হেফাজতের আন্দোলনের ব্যাপারে আমার বেসিক কন্ট্রিবিউশন আছে। শুধু একটার ব্যাপারে আপনাকে এখানে বললাম। আপনি এই পয়েন্টটাতে কিছু বললেন না। বরং নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করলেন!

আপনার আলোচনার প্যাটার্নটা fallacious। আপনি কি এটি বুঝতে পেরেছেন?

Muhammad Saidul Islam: আপনি চরমপন্থী বলতে বুঝিয়েছেন যে আলেম পরিপূর্ণ পর্দার হুকুম মেনে চলতে চাওয়া একজন আলেমকে। যদি আমি ভুল বুঝে না থাকি। সেই সাথে আপনি হেফাজতের নামটাও জুড়ে দিলেন।

আমি আপনার সব পোস্টই পড়ার চেষ্টা করি। আপনার লেখা আমার ভালো লাগে এবং অনেক কিছু শেখার এবং জ্ঞানের খোরাক পাই। কিন্তু একজন আলেমকে পর্দার হুকুম মানার জন্য চরমপন্থী লিখে দিবেন এটার সাথে আমি দ্বিমত করি।

Mohammad Mozammel Hoque: হেফাজতের কথাটা তো আপনিই তুললেন। আমি শুধুমাত্র রেসপন্স করলাম। তাহলে কেন আপনি বলছেন, ‘সেই সাথে আপনি হেফাজতের নামটাও জুড়ে দিলেন’?

হেফাজতের ২০১৩ সালের আন্দোলনে আমার যে কনট্রিবিউশন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে একমাত্র সমর্থনসূচক বিবৃতিটা আমি দিয়েছিলাম, সেটা কি আপনি স্বীকার করছেন?

خديجة طاهرة: এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে হাতের পাতা দৃশ্যমান থাকলেও মানুষ বলতে থাকে বেপর্দা, এমন ছবি দেয়, এটাতো শরীরের অংশ, এই ছবি কেন দিতে হলো ব্লা ব্লা ব্লা।

অনলাইনে কোনো সেশন হবে, দেখা যায় মহিলা বক্তার ছবি নাই, একটা নেকাবী ছবিও নাকি ভীষণ ফেতনার (ছেলেরা নিজেদের এতটুকু কন্ট্রোল করতে না পারলে মুসলমান পরিচয় দেয় কেন?)

মহিলারা কোথাও যেতে পারবে না। ঘরের ভেতর হলো শখ, আহ্লাদ, রাগ, জিদ থাকতে পারবে না। ঘরের বাইরে তো যেতেই পারবে না। বোরকা পরেও না।

Mohammad Mozammel Hoque: আমার একটা পোস্টার আছে, ventilation prevents explosion। কথায় বলে, ‘বাইন্ধা পিটাইলে বিড়ালও বাঘ হয়ে পড়ে’। জাহাজের নিচের অংশে থাকা লোকদেরকে উপরের লোকেরা যদি পানীয় জল সরবরাহ না করে তাহলে নিচে থাকা কেউ কেউ জাহাজের তলা ফুটো করে নদী বা সাগর থেকে পানি সংগ্রহ করতে চাইবে, এটি আর তেমন অস্বাভাবিক কী?

এসব কথা থেকে আমরা সহজেই বুঝতে পারি, কিভাবে এবং কোন প্রেক্ষাপটে নারীর অধিকারের নামে এখানে এত ব্যাপক বিস্তৃতভাবে পাশ্চাত্য নারীবাদের বিস্তার ঘটেছে।

Monirojjaman: কারো ব্যক্তিগত যুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলাম সমন্বয় করে না। নারীদের মসজিদে গমন নিয়ে আপনার আগের একটা লেখাতেও অনেকেই আপনাকে পর্দা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত পড়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু আপনি পড়েন নি। পড়লে সেই পয়েন্টেই আবার তুলে ধরতেন না।

নিজের যুক্তিতে অটল থেকে নিজের পক্ষে সাফাই গাইছেন। বিস্তারিত পড়াশোনা করে মন্তব্য করা উচিত বলে মনে করি। আমি পর্দা নিয়ে খুবই সামান্য পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছি। তাতেই আমার মনে হয়েছে আপনার পর্দা নিয়ে জানাশোনা খুবই কম এবং অপর্যাপ্ত।

Mohammad Mozammel Hoque: পড়াশোনার লেভেল, এটা একটা অনির্দিষ্ট কথা। মুখোমুখি বসলেই বোঝা যায়, কার এটিকেট এবং লেভেল অফ স্টাডি কতটুকু। সাধারণভাবে আমরা একেকজনের পজিশন অনুসারে অনুমান করি, তিনি কেমন হবেন। এ বিষয়ে আপনাকে শুধু এতটুকুই বলতে চাচ্ছি, আপনি আমার সম্বন্ধে ভুল বুঝেছেন। ভালো থাকুন।

Shaheda Naim: নারীদের অবমাননা ও অবজ্ঞা কিছু কিছু আলেম আমাদের চলমান সমাজ ব্যবস্থা থেকে পেয়েছেন, ইসলাম থেকে নয়। তাদের বেড়ে উঠার পরিবেশে নারীদের মূল্যায়নের নজির তারা পায় নি। বিষয়টি দৃশ্যমান এবং অবশ্যই বিরক্তিকর। ইসলাম উদারতার ধর্ম এবং নারীদের আত্মসম্মান জ্ঞান অবশ্যই রয়েছে। তবে, পুরুষের সব সমাবেশেই নারীরা যাবে, তা যেমন হয়ত হবে না, আবার নারীর উপস্থিতি আছে বলেই বয়কট তাও ঠিক না। তবে, তাদের মন, মগজ এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজে “নারীরা কি এমন” ভাবটা প্রকট।

Mohammad Mozammel Hoque: বৃহত্তর আলেম সমাজের পর্দা চেতনা যতটা শানিত ইসলামের। এর চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় তাদের কাছে কার্যত মূল্যহীন। সেগুলো নিয়ে তারা কখনো ভাবেন না, গালাগালি করা ছাড়া সিরিয়াসলি কখনো সেগুলো নিয়ে তারা প্র্যাকটিক্যালি এনগেইজ হয় না। নারীদের পর্দা হচ্ছে তাদের জন্য ট্রিগারিং পয়েন্ট।

নারীবাদ যেমন একটা অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা, নারীবিদ্বেষও তেমনি একটা অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা। ধর্মবিদ্বেষ যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা, ধর্মান্ধতাও তেমনি আমাদের সমাজে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা।

Jubair Ahmad: “বিদ্বেষ” শব্দটার প্রতি আপত্তি করছি। আলেমদের প্রতি আপনার ব্যক্তিগত “বিদ্বেষ” থেকে এই শব্দটা ব্যবহার করেছেন?

Mohammad Mozammel Hoque: আমি আলেমদেরকে সম্মান করি এবং প্রতিটা বিষয়ে তাদের মতামত জানার চেষ্টা করি। শুধুমাত্র সম্পর্ক নষ্ট হবে সেজন্য অনেক আলেম ভাইকে সরাসরি ও ব্যক্তিগতভাবে সংশোধনমূলক কোনো কিছু বলি না। তবে সামগ্রিকভাবে তাদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে মাঝে মধ্যে কথা বলি। মুশকিল হলো, চরমপন্থী যে কোনো গ্রুপের কাছে তাদের সমালোচনার মানে হচ্ছে আপনি তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন।

যেমন, নারীবাদীরা মনে করে, যারা নারীবাদের সমালোচনা করে তারা সবাই নারীবিদ্বেষী। এর বিপরীতে আমরা দেখতে পাই, নারী অধিকারের প্রসঙ্গমাত্রকেই পুরুষবাদীরা নারীবাদিতার ‘প্রমাণ’ হিসেবে মনে করে। প্রায়শঃই মানুষ তার কগনেটিভ বায়াসনেস নিয়ে সচেতন থাকে না। সুস্থ পরিবেশে কর্ডিয়্যাল আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এই ধরনের চিন্তাজটগুলোকে খোলা সম্ভব।

সেটার জন্য চাই ঐকান্তিকতা, ভদ্রতা এবং ন্যূনতম বুদ্ধিগত স্তর। সোশ্যাল মিডিয়ার দৃশ্যমান পরিসরে এ’সব বৈশিষ্ট্য কার কতটুকু আছে তা নির্ণয় করা ডিফিকাল্ট।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *