প্রাথমিক শিক্ষা মানেই হচ্ছে চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা। ইংরেজিতে বললে কাইন্ড অফ indoctrination। কারণ, বাচ্চারা তো বোঝে না তাদের জন্য কী ভালো, বা কী মন্দ। বোঝে না বলেই তো তারা বাচ্চা।
সে ক্ষেত্রে উপায় হতে পারে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে তাদেরকে আদৌ কোনো শিক্ষা না দেওয়া। কিন্তু সেটা তো সম্ভব না।
উর্বর জমি ‘খিল’ রেখে দিলে, অর্থাৎ চাষাবাদ না করে ফেলে রাখলে সেই জমিতে আগাছা জন্মায়। পরবর্তীতে সেই জমিতে চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তেমনি করে সুশিক্ষা না দিলে বাচ্চারা অপশিক্ষায় ‘শিক্ষিত’ হয়ে উঠে। বয়সকালে তাদেরকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা কঠিন হয়ে যায়।
আমরা যদি Whole person development তথা সামগ্রিকভাবে মানবিক উন্নয়ন চাই তাহলে এর গোড়া পত্তন হতে হবে একেবারে ছোটবেলা থেকে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চাদেরকে যারা ধর্মশিক্ষা দেয়ার বিরোধী, তারা মূলত বাচ্চাদেরকে ধর্মহীনতায় গড়ে তুলতে চান। ধর্মনিষ্ঠ বিপুল জনগোষ্ঠীর কারণে কথাটা জাস্ট ঝেড়েকেশে তারা বলতে পারছেন না।
বাচ্চাদেরকে তারা মূল্যবোধ শিখাতে চান না, ব্যাপারটা এমন নয়। বরং আপনার আমার বাচ্চাকে তারা তাদের পছন্দ মোতাবেক ধর্মহীন, ও প্রগতিশীল মূল্যবোধের ছাঁচে গড়ে তুলতে চান।
এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা ললিত কলা এবং ধর্মশিক্ষাকে পরস্পর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেখাতে চান, ধর্মশিক্ষার চেয়ে ললিত কলার চর্চা অধিকতর উপযোগী। ইনক্লুসিভ।
অথচ ললিতা কলা এবং ধর্মশিক্ষা হলো পরিপূরক। প্রাথমিক শিক্ষায় দু’টাই থাকতে হবে। একটা থাকলে আরেকটা থাকতে পারবে না, বা রাখা যাবে না, ব্যাপারটা মোটেও সেরকম নয়।
এবার বুঝেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মশিক্ষার শিক্ষক থাকা না থাকার বিষয়টা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Ahsanol Hoque: প্রাথমিকে Child philosophy ধরনের একটা বিষয় যুক্ত করা প্রয়োজন মনে করেন কি?
Mohammad Mozammel Hoque: বাচ্চাদেরকে যেসব বিষয় শেখানো অত্যন্ত জরুরি তার মধ্যে অন্যতম হলো ক্রিটিকাল থিংকিং। আমাদের দেশেই আমাদের সহকর্মীদের মধ্যে একজন বাচ্চাদের জন্য উপযোগী দর্শনের বই লিখেছেন।
A Salam: কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের হতাশা। কওমি মাদ্রাসার অনেক ছাত্র গভীর হতাশায় ভুগে থাকে। লেখাপড়া শেষ করে যখন তারা বাস্তব জীবনের পথে পা বাড়ায়, তখন সামনে দাঁড়ায় এক কঠিন বাস্তবতা – থাকার কোনো স্থায়ী জায়গা নেই, আয়ের কোনো নিশ্চিত পথও নেই। ফলে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
ক্ষুধা ও অনিশ্চয়তার মুখে তাদের বিগত দিনের অর্জিত ইলম, মনন ও লক্ষ্য যেন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যায়। অবশেষে জীবিকার তাগিদে যে পথেই সুযোগ পায়, সেদিকেই ছুটে যায় তারা।
এর অন্যতম কারণ হলো— শিক্ষার দর্শন (Philosophy of Education) দুর্বল হওয়া।
ছাত্ররা জানে না কেন সে শিক্ষা অর্জন করছে, কীভাবে সেই শিক্ষা সমাজে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করবে, তার প্রতি আল্লাহ ও সমাজের দায়িত্ব কী, এবং জীবনধারণের বৈধ উপায়ে সেই দায়িত্ব পালনের পথ কী হতে পারে।
বাস্তব জীবনের এই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হয়ে তারা বিভ্রান্ত ও হতাশ হয়ে পড়ে।
অনেক মাদ্রাসায় কিতাব শিক্ষা গুরুত্বসহকারে দেওয়া হলেও, জীবনের এই বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবেলায় করণীয় কী সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় না।ফলে এক প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে যারা না দুনিয়ার কাজকর্মে সফল হতে পারছে,না দ্বীনের খেদমতে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারছে।
অথচ তাদের জন্যই মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এই সংকট যদি এখনই সমাধানের দিকে না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হবে। তাই এখন সময় এসেছে – মাদ্রাসাগুলোতে মোটিভেশনাল দিকনির্দেশনা ও জীবনমুখী আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করার।
ছাত্রদের উদ্দেশ্য, দায়িত্ব, আত্মমর্যাদা ও জীবনের বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করাই হবে এর মূল লক্ষ্য।
Mohammad Mozammel Hoque:

ফাতিক উদ্দীন ইমামী: প্রাথমিকের অর্ধেক শিক্ষক বিগত সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং অনেক ক্ষেত্রে অযোগ্য-অদক্ষ। এ কারণে সারাদেশে ছোট ছোট নতুন মাদ্রাসা খুব চলছে।
Mohammad Mozammel Hoque: এভাবে চললে প্রাইমারি স্কুলগুলো একসময়ে বন্ধ হয়ে যাবে, এবং তার জায়গায় এবতেদায়ী ও নূরানী মাদ্রাসাগুলো প্রাথমিক শিক্ষার মূলধারা হয়ে উঠবে।
