শিক্ষকের সন্তান, এটা কি কোনো অযোগ্যতা?

সম্প্রতি চবি কলা অনুষদের একটা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে একজন প্রার্থী ছিলেন যার সিজিপিএ ৩.৯৮, আউট অফ ফোর। অথচ, সেই প্রার্থীর ব্যাপারে বিভাগের কেউ, কোনো ছাত্র কিংবা শিক্ষক মনে করে নাই, উক্ত হাই সিজিপিএ ধারী প্রার্থী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভে অন্য সবার চেয়ে বেশি যোগ্য ছিলেন। সম্ভবত সেই প্রার্থী নিজেও নিজেকে ৩.৯৮ পাওয়ার উপযুক্ত মনে করেন না।

আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতির ত্রুটির কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

আপনিই বলুন, সিজিপিএ বেশি থাকা মানেই অধিকতর মেধাবী, শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভের জন্য অধিকতর যোগ্য, এটি কি বলা যায়?

এটি সত্য, পতিত ফ্যাসিস্টের আমলে বিশেষ করে, মূল্যবোধের ব্যাপক ঘাটতি এবং নানা ধরনের পুকুরচুরি টাইপের জালিয়াতির কারণে আমরা রীতিমত ট্রমাটাইজড, না জানি তেমন অযোগ্য কেউ ৪০ বছরের জন্যে শিক্ষকতার খাতায় নাম লিখিয়ে ফেলছে কিনা!

আবার, ‘সিজিপিএ কোনো ফ্যাক্টর নয়’, এই কথাটাও ভুল।

কথার কথা, ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে যার স্কোর এবং পজিশন ২৮তম, তারই চাকরি হলো, এমনটি হলে আমরা ধরেই নিবো, সেখানে দুর্নীতি ও জালিয়াতি হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মটা ভালো। সেখানে দরখাস্ত করার জন্য মেধা তালিকায় প্রথম সাত জনের মধ্যে থাকতে হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত একটা নিউজ পড়ে ভাবলাম, এ’বিষয়ে কিছু কথা বলা জরুরী।

প্রোভিসির মেয়ে, তাই তার নিয়োগবোর্ডে দুর্নীতি হয়েছে, এমন প্রোপাগান্ডা যারা ছড়াচ্ছেন তাদের কথাবার্তার মধ্যে বিদ্বেষ ছাড়া কোনো জেনুইন কন্টেন্ট আমি খুঁজে পাই নাই।

সম্প্রতি চবি ফিনান্স বিভাগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রো-ভিসির মেয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্যে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছে কিনা আমি জানি না। Trust me, upon GOD. HE is the WITNESS of my total disconnection and ignorance in this regard.

কিন্তু যেভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে সেটার প্রতিবাদ করা জরুরি বলে মনে করছি। আমার ধারনা, এক ধরনের হীনমন্যতাবোধ থেকে এসব বাজেকথা ছড়ানো হচ্ছে।

যারা জানেন না তাদের জন্য বলছি, এমনকি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়ার জন্য যে অ্যাপ্লিকেশন প্রফর্মা আছে সেখানেও দুইজন গণ্যমান্য শিক্ষকের রেফারেন্স লাগে। আপনি কোথাও স্কলারশিপ কিংবা এডমিশন পেতে চান, সেখানেও আপনার পক্ষে নামিদামি কারো রেফারেন্স/সুপারিশ লাগবে।

সুপারিশ ছাড়া বেহেশত লাভও হয় না। তবে সেই সুপারিশ হতে হবে যোগ্য কারো জন্যে। অযোগ্যদেরকে সুপারিশের ভিত্তিতে চাকুরী এবং সুযোগ সুবিধা দেয়ার সামাজিক অপসংস্কৃতির কারণে আমরা সুপারিশ শুনলেই ট্রিগার্ড হয়ে পড়ি সচরাচর। মনে করি, না জানি এখানে কোনো দুর্নীতি হয়েছে!

সমস্যাটা সুপারিশের না। সমস্যা হলো, স্বজনপ্রীতির কারণে অযোগ্য মানুষের জন্য সুপারিশ করার সামাজিক রীতি, প্রত্যাশা ও গ্রহণযোগ্যতার অপসংস্কৃতি। যোগ্য প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করা বরং আমাদের নৈতিক কর্তব্য।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Mohammad Mozammel Hoque: কেউ কেউ বুদ্ধিজীবী হত্যা সংক্রান্ত প্রো-ভিসির বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। সেটা তো এই পোস্টের বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট না। এই পোষ্টের বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট মন্তব্য যারা করেছেন তাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখার মধ্যেই আছে। আবার ভালো করে পড়লে আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। তারপরও যদি না পান তাহলে আমাকে আমার লেখার অংশবিশেষ কোট করে প্রশ্ন করতে পারেন।

Mofijur Lito: আপনার সব কথা যদি সঠিক ধরে নিই, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষকই অযোগ্য, তার বেশির ভাগই লবিংয়ে নিয়োগ, উত্তরাধিকার সূত্রেই প্রাপ্ত। রাজনৈতিক সুপারিশ ছাড়া যোগ্যতা দিয়ে যদি শিক্ষক নিতে হয় একটা ইউনিভার্সাল মেথডে কেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ হয় না? লোক দেখানো পরিক্ষা, সিন্ডিকেট লবিং, দলীয় পা-চাটা ছাড়া আজ পর্যন্ত প্রেজেন্টেশন, রেজাল্ট, ডিগ্রী দিয়ে শিক্ষক হয়েছে কতজন জনাব? লীগের সময় লীগ, জাশি বিএনপির আমলে এরা ছাড়া কে নিয়োগ পায়?

Mohammad Mozammel Hoque: এই একটা মন্তব্য পাইলাম যেটা সরাসরি উত্তর দেওয়ার মতো। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টা কেমন হওয়া উচিত সেটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কি কোনো আলাপ-আলোচনা আছে? আপনি করেছেন?

আমি লিখিতভাবে কোনো বক্তব্য না দিলেও অন-রেকর্ড অনেক জায়গাতে এসব বিষয়ে কথাবার্তা বলেছি। সুযোগ পেলে যে কোনো জায়গাতেই বলবো।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত বর্তমান নিয়ম কোনোভাবেই সঠিক নয়। আগের চেয়ে যদিও অনেক অনেক ভালো। তাহলে কেমন হওয়া উচিত, সেটা নিয়ে সামাজিক জনপরিসরে আলাপ আলোচনা হওয়া উচিত।

আপনি আগ্রহী হলে আপনার সাথে ওয়ান টু ওয়ান কিংবা কোনো একটা প্রোগ্রামে, অথবা যে কোনো জায়গাতে এসব বিষয়ে আমি কথা বলার জন্য আগ্রহী।

ধন্যবাদ।

Zavid Mynuddin: ব্যাপারটা হচ্ছে, স্কুল কলেজে যাইহোক, পিতা-মাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেই কোনো কোনো শিক্ষকের পুত্র কন্যার মেধাশক্তি ইতিহাসের সকল সীমারেখা ছাড়িয়ে যায়……!

Mohammad Mozammel Hoque: আপনি যা বলছেন সেটা অসত্য। আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি। আপনার এই ভুল ধারণার দুইটা কারণ:

(১) শিক্ষকদের ছেলেমেয়েরা কেউ ভালো করলে সেটা সবার চোখে পড়ে। আরো কতজন যে খারাপ করে, সেই ঘটনাগুলো শিক্ষকরা নিজেরাও চেপে যান, এবং অন্যরাও খেয়াল করে না।

(২) নিছক শিক্ষকের সন্তান হওয়ার কারণে ততটা ভালো স্টুডেন্ট না হওয়া সত্ত্বেও ভালো রেজাল্ট করেছে, টিচার হয়েছে, এমন ঘটনাও আছে।

তারমানে আপনি যেভাবে ঢালাওভাবে মন্তব্য করেছেন ব্যাপারটা সেরকম একতরফা নয়।

Shamim Rana Shamu: যে মেয়ে পোষ্য কোটায় ভর্তি হইছে ভার্সিটিতে, সে যদি শিক্ষক হয়ে যায় তাহলেও আমরা বলবো এটা ফেয়ার হইছে? ধন্যবাদ স্যার, আপনাকে এতোদিন আদর্শ মেনে আসছি!

Mohammad Mozammel Hoque: বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একমাত্র একাডেমিক বিবেচনার বিষয় হওয়া উচিত, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফলাফল।

কেউ কোনো কোটায় ভর্তি হয়েছে কিনা, কিংবা ভর্তির যে যোগ্যতা সেইটার ন্যূনতম মানে উত্তীর্ণ হয়ে দরখাস্ত করার জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছিল কিনা, এইসব কোনোভাবেই ডিসাইডিং ফ্যাক্টর হওয়া উচিত নয়।

আমি বহু সুপার ডুপার স্কলারকে দেখেছি যারা মেট্রিক ইন্টারে কোনোমতে (আমাদের সময়কালের) সেকেন্ড ক্লাস পেয়েছেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে অল থ্রু ফার্স্ট।

সর্বোচ্চ মানের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রী, হায়ার স্টাডিজে ইউরোপ আমেরিকার মাস্টার্স পিএইচডি, হিউজ পাবলিকেশন ইত্যাদি নিয়েও কেউ কেউ শিক্ষক হতে পারছেন না, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় তার যোগ্যতা উচ্চমানের ছিল না, সেজন্য।

কতটা আনফেয়ার এই সিস্টেম, ভাবা যায়? তাই পুরো ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের রিথিংক করা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া অধিকতর ফেয়ার প্রসেসে আসা উচিত।

আমাদের নানা ধরনের পাস্ট পলিটিক্যাল ট্রমা থাকার কারণে আমরা খুব বায়াজড এন্ড ইউটোপিয়ান ওয়েতে চিন্তা করছি। একটা খোলামেলা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এই ধরনের ভুল ধারণাগুলো দূর হতে পারে।

আমি প্রথম একটা ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনাটার সূত্রপাত করলাম। আলোচনা চলুক।

Shahid Shahab: অল থ্রু ফাস্ট ক্লাস ধারী ছাত্র-ছাত্রীরা ভালো শিক্ষক নাও হতে পারে।

Mohammad Mozammel Hoque: ভালো শিক্ষক হওয়ার জন্য ভালো রেজাল্ট, মেধা, ভালো বলতে পারা, ভালো বুঝতে পারা, পাবলিক স্পিকিং কোয়ালিটি, ব্যক্তিগত আমল আখলাক, এই সবগুলোই হচ্ছে সম্মিলিতভাবে নেসেসারি কোয়ালিটিজ বা কন্ডিশনস। এর কোনোটাই এককভাবে পর্যাপ্ত নয়।

Shakil Ahmad Srabon: গত কয়েকটি বছর সার্কুলার আটকিয়ে রেখেছে শুধু নিজের মেয়ের রেজাল্টের জন্য। সুপারিশ থাকবে, তদবির হবে এটা বাংলাদেশের সংস্কৃতি। তাই বলে অন্যের হক বছরের পর বছর নষ্ট করা কতটুকু যৌক্তিক?

Mohammad Mozammel Hoque: ‘সার্কুলার আটকিয়ে রাখা’ এই কাজটা জঘন্য। এটার একটা রাজনীতি আছে। এবং খুবই খারাপ রাজনীতি। এই রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে। অতীতেও চলেছে, এবং এখনো চলছে। চবি ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টে কী হয়েছে এইটা আমি সঠিক জানি না।

তবে এতটুকু নিশ্চিতভাবে জানি, অনেক ডিপার্টমেন্টে সার্কুলার আটকে রাখা হয়েছে। এর কারণ, বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন তারা তাদের মানে ডিপার্টমেন্টের টিচারদের অপছন্দপক্ষ।

আমার সম্বন্ধে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, একেবারেই শক্তভাবে আমি বলতে পারি, আমার শিক্ষকতা জীবনে আগাগোড়া, এমনকি আওয়ামী লীগের সময়েও, আমি সব স্যাঙ্কশান্ড সবগুলো পোস্টে সার্কুলার দেওয়ার পক্ষে ছিলাম। কখনো সার্কুলার আটকানোর পক্ষে ছিলাম না।

again, it’s up to you. please explore my claim. Can anybody put such a bold claim?

just check it. Never mind please!

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *