বন্ধুগণ, কারা আছেন গালি দেন না কিম্বা দেয়ার লোভ সামলাতে পারবেন?

গালি দেয়া যাবে না। কোনো অবস্থাতেই না। গালি যাকে দেয়া হয় তার কাছে গালি পৌঁছে কিনা কিংবা সেই গালি তার কতটুকু গায়ে লাগে সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। কিন্তু, গালি যে দেয়, গালিগালাজ করার মাধ্যমে তার যে চরিত্র নষ্ট হয়, তা নিয়ে কোনোই সন্দেহ নাই।

গালি হলো ব্যক্তি আক্রমণমূলক নিন্দা। এতে লোকের মনে বিদ্বেষ তৈরি হয়। যারা সমাজকর্মী, যারা মানুষের সংশোধন চান, তাই তারা কোনো অবস্থাতেই কাউকে গালি দিতে পারেন না।

নাস্তিককে ন্যাস্টিক বলা, সেকুলারকে সেকু বলা, এগুলোও হালকামাত্রার গালি।

বাস্তবতা হলো, মানুষ যে ধরনের শত্রুকে মোকাবেলা করে সে ধরনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে গড়ে ওঠে। এই দৃষ্টিতে, A man is known by his enemies।

ইসলামের দৃষ্টিতে সকল ধরনের মোকাবেলা হলো impersonal। একজন কাফিরের কুফরের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করি। সেই ব্যক্তি মানুষটার বিরুদ্ধে নয়।

মোকাবেলার ধরন থেকে সেটা আমরা বুঝতে পারি।

আজকে যে আপনার শত্রু, হতে পারে আগামীকাল সে আপনার মিত্র হয়ে উঠবে। কিন্তু কাউকে যখন আপনি ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করেন, গালি দেন, সেটা আপনার এবং তার মধ্যে একটা দেয়াল তৈরি করে।

আমি খুব অবাক হয়ে দেখি, আমার সাথে নানাভাবে যোগাযোগ আছে এমন নিতান্ত ভদ্রলোকেরাও হালকা পাতলা গালি চর্চা করেন।

কোনটা গালি, সেটা যে দেয় এবং যাকে দেয়া হয় তারা কিন্তু ঠিকই বোঝে। সাধারণ দর্শক শ্রোতারাও বোঝে। তাই গালির একটা তালিকা এখানে দেয়ার দরকার নাই।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে মুখোমুখি কথায়, কর্ডিয়াল ডিসকাশনে আপনি কি ঐ কথাটা এভাবে বলতেন? অকপটে? যদি তা না হয় তাহলে বুঝে নেন, আপনি যা বলছেন সেটা গালি বটে।

অনৈতিক পন্থায় কোনো নৈতিক দায়িত্ব পালন হয় না। হারাম বা মাকরুহ কাজের মাধ্যমে দ্বীনি বা দাওয়াতি কাজের দায়িত্ব পালন হয় না। হক কায়েম হয় না বাতিল পন্থায়।

কাজটা সঠিক হওয়ার সাথে সাথে কাজের পদ্ধতিটাও সঠিক হওয়া জরুরী।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Tahmid Islam: স্যার, আমি আপনার সাথে ছোট্ট একটা বিষয়ে ডিসএগ্রি করি। খারাপ মানুষকে বিদ্রুপ করা জায়েজ না হলে আমর বিন হিশামকে আবু জাহেল কেন বলা হলো?

Mohammad Mozammel Hoque: আমর বিন হিশামকে আবু জেহেল বলা গালিচর্চার উদাহরণ নয়। কারণ, এটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। কাফের-মুশরেকদের অন্য কাউকে এবং তাদের সর্দারদের মধ্য থেকে অন্য কাউকে এভাবে নাম পরিবর্তন করে সম্বোধন করা হয়নি।

কথার কথা, হিশামকে আমাদের চট্টগ্রামের লোক হলে যেভাবে ‘ফেয়াক করে’, মানে বিকৃত করে ‘হিশাইম্মা’ বলতো সেভাবে বলা হয়নি।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *