সসীমের সাথে অসীমের বিরোধ অথবা সম্মিলন যাই হোক না কেন, আগে তো বুঝতে হবে, সসীম এবং অসীম দু’টোই আছে। অভিজ্ঞতায় আমরা সসীমকে পাই, ইংরেজিতে যাকে বলে পার্টিকুলার। অসীম তথা ইউনিভার্সালকে পাওয়া যায় না অভিজ্ঞতায়।
দেখতে গিয়ে, অভিজ্ঞতায় পেতে গিয়ে আমরা অসীমকে সীমায়িত করি। ডিফাইন করি আমাদের পার্সপেক্টিভ থেকে।
আমরা যখন আকাশের দিকে দেখি, তখন অসীম আকাশের একটা ক্ষুদ্র অংশকেই আমরা দেখি। পুরো আকাশকে দেখা আমাদের পক্ষে অসম্ভব।
অথচ আমরা অনুমান করি, যুক্তিসঙ্গতভাবেই অনুমান করি, আকাশটা অনেক বড়। আমরা যা দেখি তা আকাশের অংশ মাত্র। আউট দেয়ার আকাশ আছে তার অসীমতা নিয়ে।
আকাশকে আমরা যেভাবে দেখি তা যেমন মিথ্যে নয়, আমাদের সীমিত অভিজ্ঞতা দিয়ে আকাশকে জানার দাবি করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর দৃষ্টিতে, কণা হিসেবে দেখতে গেলে বস্তুর তরঙ্গ বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যায়। তরঙ্গ হিসেবে পেতে চাইলে আমাদেরকে ত্যাগ করতে হয় বস্তুর দৃশ্যমানতার দাবি। আমরা বাধ্য হই লোকেশন এবং ভেলোসিটির মধ্যে থেকে যে কোনো একটাকে নিতে।
অভিজ্ঞতায় না পাওয়া সত্ত্বেও আমরা আকাশের অসীমত্বকে স্বীকার করতে বাধ্য হই। আমাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি ইনফারেন্স বা অনুমান দিয়ে পূরণ করি। এই যে পদ্ধতি, এটাই হলো অন্টলজিক্যাল মেথড।
সসীম আর অসীমের তত্ত্বগত সম্পর্ক বা অন্টলজিক্যাল রিলেশন হলো অনিবার্য। অসীম ছাড়া সসীম, সসীম হয়ে উঠে না। যেভাবে অন্ধকারের অনুপস্থিতিতে আলো আলো হয়ে উঠে না, মিথ্যার অনুপস্থিতিতে সত্যের থাকে না কোনো তাৎপর্য।
অনিবার্য তত্ত্বগত সম্পর্ক তথা নেসেসারি অন্টলজিকেল রিলেশন হতে পারে দু’ধরনের: পজিটিভ এবং নেগেটিভ।
জীবনের সাথে দেহের সম্পর্ক প্রথম ধরনের এবং আলোর সাথে অন্ধকারের সম্পর্ক দ্বিতীয় ধরনের অনিবার্য তত্ত্বগত সম্পর্কের উদাহরণ।
এই দৃষ্টিতে দেখলে আমরা বুঝতে পারি, যার জীবনে নাই আলোর কোনো অভিজ্ঞতা তার কাছে অন্ধকার, অন্ধকার হয়ে উঠে না।
আলো অন্ধকারের যত ব্যাপার আছে তা সব নিয়ে একজন জন্মান্ধ ব্যক্তি পড়াশোনা করতে পারেন। তাত্ত্বিকভাবে অপটিক্সের ওপর এক্সপার্টাইজ ডেভলপ করতে পারেন।
এমন কোনো ব্যক্তি কোনোভাবে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলে সে কি আলো এবং আলোর বিপরীত হিসেবে অন্ধকার সম্পর্কে নতুন কিছু শিখবে?
আপনার কী ধারণা?
মন্তব্য – প্রতিমন্তব্য
Mohammad Tausif Rafi: আমার ধারণা তিনি নতুন কিছু শিখবেন না, তবে অভিজ্ঞতাটা অবশ্যই সম্পূর্ণ নতুন হবে।
Mohammad Mozammel Hoque: নতুন যে অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করবেন, সেটা কি নলেজে কোনো প্রভাব ফেলবে না? ইতোমধ্যে অর্জিত জ্ঞানের হ্রাস-বৃদ্ধি অথবা নতুন কোনো জ্ঞান লাভ কিংবা জ্ঞানের কোনো মাত্রা যোগ করবে না?
