এমন কি হতে পারে না, আমরা হলাম কোনো উপন্যাসের কাল্পনিক চরিত্র? আমরা যে আসলেই আসল, সেটার আসলে কোনো প্রমাণ কি আছে?
ম্যাট্রিক্স এর ভিতরে থাকা লোকজন তো সত্যি সত্যি বিশ্বাস করে, তারা একটা ‘সত্যিকারের জগতে’ আছে। ‘স্বাভাবিকভাবে’ জীবন যাপন করছে।
বাস্তবতা নিয়ে এই ধরনের অনেক প্রশ্ন আপনি তুলতে পারেন, যার খুব সংক্ষিপ্ত এবং অব্যর্থ একটা উত্তর আমার কাছে আছে।
এই কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনি নিজেই স্বীকার করবেন, আমার দেয়া উত্তরটি সঠিক।
আপনি নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন, perfectly simulated কোনো এন্টিটি কিন্তু কখনো ভাববে না, সে আসল নয়। সিমুলেশন যদি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে করা হয় তাহলে এর ভিতরকার এন্টিটিগুলো justifiably ‘মনে করবে’, তারা আসল। রিয়্যালি রিয়্যাল। evidentialism-এর মানদণ্ডে তাদের এই মনে করাটা সঠিক।
সিস্টেমের বাইরে থেকে, ফ্রর্ম আউটসাইডারস পয়েন্ট অফ ভিউ, আমরা বুঝতে পারি, they are in a dream, envated or simulated।
এই ধাঁচে চিন্তা করলে আপনি বুঝতে পারবেন, কেবলমাত্র সত্যিকারের বাস্তব কোনো অস্তিত্ব বা এন্টিটির পক্ষেই সম্ভব নিজেকে নিজে প্রশ্ন করা, নিজের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান হওয়া।
তারমানে, বাস্তবতা নিয়ে আমাদের এই যে প্রশ্ন, স্বয়ং এই সন্দেহ, এই প্রশ্নই প্রমাণ করে, আমরা আসলেই বাস্তব সত্তা।
সদ্যপ্রয়াত নাস্তিকতার পয়গম্বর Daniel Dennett এবং উনার অনুসারীদের মতে, আমরা ভুল করে মনে করি, আমাদের সত্যিকারের চেতনা আছে। আসলে আসল বা ইন্ট্রিঞ্জিক বলে কিছু নাই। আমাদের চেতনাবোধ, আমাদের আমিত্ববোধ, আমাদের ইনটেনশনালিটি, আমাদের নৈতিকতাবোধ, এক কথায় আমাদের সবকিছু হল derived, or as if।
আমরা ভুল করে মনে করি, আমাদের কনশাসনেস intrinsic।
এই ‘ভুল তত্ত্বের’ ভুলটা আমরা খুব সহজে বুঝতে পারি ontological method ব্যবহার করে।
প্রথমত, out there কোথাও না কোথাও কোনো সঠিক কিছু অস্তিত্বশীল থাকা ছাড়া ‘ভুল’ কখনো সত্যিকারের ভুল হয়ে ওঠে না। ভুলটা ভুল হওয়ার জন্য থাকতে হয় একটা খাঁটি সত্য। একটা সত্যিকারের কারণ।
যেমন, দড়ি দেখে কেউ সাপ মনে করতে পারে। অথবা সাপকে দড়ি মনে করতে পারে। যেখানে সত্যিকারের কোনো দড়িও নাই, সাপও নাই। সেখানে কেউ দড়িকে সাপ কিংবা সাপকে দড়ি মনে করার মত ভুল করবে না।
আফসোসের ব্যাপার হচ্ছে, যারা বিজ্ঞানবাদী, যারা দিনরাত অবজেক্টিভিটির কথা বলে, তাদের জগতে ইনট্রিনজিক্যালি অবজেক্টিভ কোনো কিছু নাই। তাদের জগতে সব আছে, কিন্তু কোনো সত্যিকারের সত্য নাই।
কেমন অদ্ভুত ব্যাপার, তাই না?
আমরা বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলি, এটাই প্রমাণ করে আমরা আসলেই বাস্তব। অবাস্তব কোনো সত্তার কাছে, বাস্তবতা বনাম অবাস্তবতার এই অন্টলজি অর্থহীন। epistemically inaccessible।
রিয়্যালিটি বনাম আনরিয়েলিটির সম্পর্ক তাত্ত্বিকভাবে অনিবার্য। unreality আনরিয়েলিটি হয়ে উঠে না, রিয়েলিটির সর্বাত্মক অনুপস্থিতিতে। আসলেই যে কিনা বাস্তব, সে-ই শুধু অনুমান করতে পারে বাস্তবতার বিপরীতে অবাস্তব, প্রতিবাস্তব কিংবা পরাবাস্তবকে।
যে আলো দেখে নাই তার কাছে ‘অন্ধকার’, অন্ধকার হয়ে উঠে না।
দিনশেষে বাস্তবতা হলো অস্তিত্বের নোঙ্গর।
মন্তব্য – প্রতিমন্তব্য
Shakil Mia: শেক্সপিয়ার তাঁর হ্যামলেট নাটকে বলেছেন, ” ভালো-মন্দ বলতে কিছু নেই, আমাদের মন তা সৃষ্টি করে”। আমাদের অস্তিত্বের মধ্যে যে বাস্তবতা, সেটাও কি আমাদেরই তৈরি?
Mohammad Mozammel Hoque: না, আমি এমনটা মনে করি না। বরং আমি মোরাল অবজেক্টিভিটিতে বিশ্বাস করি। অস্তিত্ব একটা ব্রুট ফ্যাক্ট। কনস্ট্রাকটেড জিনিস ফ্যাক্ট হয় না।
