এবসলিউট ট্রুথ আসতে পারে কেবলমাত্র কোনো এবসলিউট এন্টিটি হতে

খোদার দিক হতে জগৎ নামক এই প্রপঞ্চটা তেমন সিরিয়াস কিংবা তাৎপর্যপূর্ণ কিছু নয়। আমাদের দিক থেকে এটি আমাদের আশ্রয়। আমাদের জন্য অনস্বীকার্য এবং অপরিহার্য বাস্তবতা।

জগতকে আমরা আমাদের মত করে দেখি। অথচ আমরা জানতে চাই, জগত আসলেই কী রকম?

‘আসলেই কী রকম’ তা জানতে হলে জগতকে দেখতে হবে from no-where point of view থেকে, জাগতিক কোনো সত্তার পক্ষে যা অসম্ভব।

যা কিছু দেখতে হয় from inward to outward দৃষ্টিকোণ হতে, সেটাকে যদি আমরা from outward to inward দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে দেখার চেষ্টা করি, তাহলে আমাদের হিসাবটা মিলবে না। যেমনটি ঘটবে বটম-আপ অ্যাপ্রোচ প্রযোজ্য বিষয়ে কেউ যদি টপ-ডাউন এপ্রোচ গ্রহণ করে।

আমরা যদি from world to God এবং from God to world – এই দুই বিপরীত দৃষ্টিকোণের পার্থক্যকে গুলিয়ে ফেলি এবং আমাদের দৃষ্টিতে যা মনে হয় সেটাকেই চূড়ান্ত বলে দাবি করি, তাহলে তা হবে যুক্তির খেলাফ। অডাসিটি। নাস্তিক্যবাদীরা যা করে।

আমাদের পক্ষ থেকে জগতকে একটা খেলা বলে মনে হওয়াটা স্বাভাবিক। একই সাথে এই ‘মনে হওয়া’টা যে চূড়ান্ত কিছু নয়, সেটাও আমাদের কাছে একই সাথে সত্য বলে মনে হয়।

তাহলে প্রকৃত বাস্তবতা কেমন?

‘প্রকৃত বাস্তবতা’ যেমনি হোক, সেটি জানার জন্য কাউকে একজন ঈশ্বর হতে হবে। একজন ঈশ্বর হয়ে যাওয়ার পরে অথবা একজন ঈশ্বর থাকার পরে আর কারো পক্ষে ঈশ্বর হওয়া, বাই ডেফিনেশন, অসম্ভব। যেমন করে দুটি বৃহত্তম বৃত্ত একই সাথে থাকতে করতে পারে না। একই সাথে দুটি বৃহত্তম সংখ্যার ধারণা যেমন করে অসম্ভব।

আমরা বিশ্বাসীরা মনে করি, হ্যাঁ তিনি সত্যিই আছেন। অবিশ্বাসীদের দৃষ্টিতে দ্যা আইডিয়া অব গড নিছকই একটা ধারণা। গড একটা হাইপোথিসিস মাত্র, এমনটা যদি কেউ মনে করে তার দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি সত্য, একজন ঈশ্বর থাকা সাপেক্ষে আর কারো ঈশ্বর বা ঈশ্বরসমতুল্য হওয়ার সুযোগ নাই।

অতএব প্রকৃত বাস্তবতার জ্ঞান পাওয়ার জন্য আমাদের বা কারো খোদা হওয়ার সুযোগ যেহেতু নাই, সেহেতু খোদার অনুগত বান্দা হওয়াই হলো আমাদের একমাত্র উপায়। একমাত্র করণীয়।

প্রকৃত জ্ঞান আমরা পেতে পারি প্রকৃতি-ঊর্ধ্ব কোনো স্বয়ংস্বগত বাস্তব সত্তা থেকে, যদি তিনি থেকে থাকেন এবং যদি তাঁকে আমরা সুপ্রিম অথরিটি হিসেবে মেনে নেই।

‘প্রকৃত জ্ঞান আমরা পেতে পারি প্রকৃতি থেকে’ – এটি একটা বোকামিপূর্ণ কথা। এতক্ষণ ধরে এটাই ব্যাখ্যা করা হলো, আমরা সবকিছুকে দেখি আমাদের মত করে। প্রকৃত বাস্তবতা আমাদের জ্ঞানগত সীমাবদ্ধতার উপর নির্ভর করে না।

আমরা সবকিছু দেখি না। সবকিছু শুনি না। সবকিছু আমাদের অভিজ্ঞতা এবং বুদ্ধির মধ্যে পাই না। অথচ আমরা জানতে চাই সবকিছু। যা আসলেই বাস্তব, তা।

এজন্যই আমরা মুসলমানেরা, ওহীর উপরে নির্ভর করি। ওহী তথা ঐশীজ্ঞানকে চূড়ান্ত বলে মনে করি।

যে কোনো জ্ঞানের জন্য অথরিটি লাগে। অভিজ্ঞতানির্ভর জ্ঞানের জন্য অভিজ্ঞতা হলো অথরিটি। বুদ্ধিনির্ভর জ্ঞানের জন্য বুদ্ধি হলো অথরিটি। তেমনিভাবে সামগ্রিকভাবে জীবন ও জগত সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের জন্য প্রত্যাদেশ তথা ঐশীজ্ঞান হলো অথরিটি।

জ্ঞানের এই ক্রমসোপান বা হায়ারার্কি যদি আমরা মেনে নেই, তাহলে কেবল আমাদের অংকটা মিলে। পূরণ হয় আমাদের কাণ্ডজ্ঞান ও যুক্তিবুদ্ধির দাবি।

মন্তব্য – প্রতিমন্তব্য

Joynul Abeden Midhone: আল্লাহর কাছে এই দুনিয়ার মূল্য একটি মাছির ডানার চেয়েও কম, এরকম একটি হাদিস শুনেছিলাম।

Mohammad Mozammel Hoque: মাছির ডানার কথাটাও রূপক। মানে, একেবারে তুচ্ছ বোঝানোর জন্য বলা হয়েছে। যদিও মাছির ডানা, এটাও কিন্তু অনেক জটিল এবং মূল্যবান কিছু।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *