যারা মনে করছেন, বিএনপি’কে দুর্বল করতে পারলে ডানপন্থী দল হিসেবে আমরা অধিকতর শক্তিশালী হয়ে উঠব, আপনাদের এই হিসাবটা ভুল।
বিএনপি দল হিসেবে প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হলেও এটি একই সাথে নিজেকে এবং বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিকে প্রতিনিধিত্ব করে। তাই, বর্তমান জাতীয় সংকটকালে বিএনপি দুর্বল হলে পরে সামগ্রিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে দেশের ডানপন্থী রাজনীতি।
এই সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যাবে এবং অধিকতর শক্তিশালী হবে বামলীগ। অর্থাৎ সুশিল বামপন্থী শক্তি ও পক্ষসমূহ। দেশে অধিকতর হারে ঘটবে সেকুলারাইজেশন। অলরেডি সেটি কিছুটা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন ভেটো ক্ষমতার অধিকারী চারটি পক্ষ:
(১) মিলিটারি,
(২) ক্ষমতায় যাওয়া ছাত্রশক্তির ভাইবেরাদর গোষ্ঠী,
(৩) বিএনপি ও
(৪) জামায়াত।
এই চার শক্তিকেন্দ্রের কোনো একটা পক্ষ বা কেন্দ্র যখন অপর কোনো একটার সাথে কোনো ইস্যুতে জুটি বাঁধবে, তখন অপর দুই পক্ষের কেউ এককভাবে তাদেরকে ঠেকাতে পারবে না।
একটা কিংস পার্টি করার তোড়জোর দেখে মনে হচ্ছে, যে অবাধ জাতীয় নির্বাচনের আমরা স্বপ্ন দেখি, যেমনটি হয়েছিল বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আর বিচারপতি লতিফুর রহমানের সময়ে, তা হয়তো হবে না। কিংস পার্টিকে ক্ষমতায় আনার জন্য একটা ইঞ্জিনিয়ারিং করা ইলেকশন হতে পারে।
আল্লাহ ভালো জানেন। দেখা যাক, কী হয়।
মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Obscure Hamidur: চুপ্পুর পদত্যাগ আর লীগের নিষিদ্ধকরণ ইস্যুতে কি বিএনপির জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পরার সম্ভাবনা দেখেন? মির্জা ফখরুল সাহেবের সাম্প্রতিক দেওয়া কিছু বক্তব্য বিতর্ক তৈরি করছে।
Mohammad Mozammel Hoque: চুপ্পু একটা ইস্যুমাত্র। বর্তমান সরকারকে ব্ল্যাংক চেক না দেওয়া এবং চাপে রাখা, এটা মনে হয় বিএনপির কৌশল। তাদের দিক থেকে এটি ঠিক আছে।
Mahmudul Kabir Anik: আপনার কথানুযায়ী বিএনপি যদি ভোটে হেরে যায় বা আশানুরূপ সিট না পায় তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় নাই। বিএনপিকে নির্বাচনে জিতিয়ে প্রমাণ করতে হবে এই সরকারের যে নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে।
Mohammad Mozammel Hoque: সূর্য আকাশে উঠলে যেমন কাউকে নোটিশ দিয়ে সেটা প্রমাণ করতে হয় না, তেমন করে একটা ভালো নির্বাচন যদি হয় তাহলে সেটা অপোজ করার কারো কোনো ক্যাপাসিটি থাকবে না। জাস্টিস শাহাবুদ্দিনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে সব লোকেরা একটা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য ভালো নির্বাচন বলে স্বীকার করে।
একটা স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা যদি প্রণয়ন করা হয়, ইভিএম এর মত প্রতারণা যদি না হয়, নির্বাচনের অন্ততপক্ষে তিন মাস আগে পূর্ণ ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে যদি আর্মি ডেপ্লয় করা হয়, এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হয়, আমার ধারণা সেটা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।
এগুলো করতে অসুবিধা কী? সে প্রক্রিয়া শুরু হোক। তারা একটা সম্ভাব্য সময়সীমা বলুক। সেটি হোক ছয় মাস, নয় মাস কিংবা বছর। বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি একসাথে চলতে অসুবিধা কী?
Md. Roman Rahman: করণীয় কী?
Mohammad Mozammel Hoque: করণীয় হলো, যার যার স্ট্র্যাটেজিক্যাল পজিশন হতে সোচ্চার হওয়া। মাঝে মাঝে ফ্রি অ্যান্ড ফ্র্যাঙ্ক হওয়াটা একটা কার্যকর কৌশল হয়ে উঠে।
Ahmed Rifat: দেশ ও জাতীয় স্বার্থের জন্য দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে বিএনপি-জামায়াত জোটের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আফসোস, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটা স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। একদল আরেক দলকে মাইনাস করে ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছে। তাদের বিভক্ত করতে পারলে আওয়ামী লীগ এইবারই ক্ষমতায় আসবে।
Mohammad Mozammel Hoque: বিএনপি-জামায়াতের কামড়াকামড়িতে মাঝখানে সুযোগ নিতে পারে ছোট ছোট দলগুলো। অসম্ভব নয়, ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে বাম-ডান মিলিয়ে একটা জোট হতে পারে। নির্বাচনের আগে কিংবা পরে। সে ক্ষেত্রে তারা ক্ষমতায় কিংবা ক্ষমতার কাছাকাছি যেতে পারে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটা অবাধ নির্বাচন হলে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে, আমার ধারণা। আল্লাহু আ’লাম!
Ahmed Rifat: আপনার সাথে একমত। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ডানদলগুলো ছাত্রশক্তির সাথে জোট করে যদি বিএনপি কে ক্ষমতায় যাওয়া রুখে দিতে চায়, তাহলে বিএনপি আওয়ামীলীগের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে যাবে। কারণ দিনশেষে সবাই ক্ষমতায় যেতে চাইবে। এতে করে এই বিপ্লবের উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যাবে। ধন্যবাদ।
Md. Somon Miah: উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়গুলো ভালো ঠেকছে না। বিশাল ষড়যন্ত্র মনে হচ্ছে।
Mohammad Mozammel Hoque: উপদেষ্টার সংখ্যা বাড়ানোটা ভালো। বিশেষ কারো সম্পর্কে সমর্থন বা আপত্তির বিষয়টা ভিন্নতর প্রসঙ্গ। এই সরকার গতানুগতিক কেয়ারটেকার সরকার নয়। যদিও ওদের যাত্রাটা ছিল সেই ধাঁচের। এই সরকার একটা বিশেষ মিশ্রপদ্ধতির সরকার। গতানুগতিক সরকার ব্যবস্থার সাথে তুলনা করলে, পুরোপুরি কোনোটাই না।
Fahad Shurzow: মাইনাস বিএনপি উপদেষ্টা পরিষদ।
Mohammad Mozammel Hoque: মাইনাস বিএনপি’র গোপন লক্ষ্যকে ফাঁস করে দিয়ে প্রকাশ্যে এর বিরুদ্ধে স্ট্যান্ড নেওয়াটা বিএনপি’র দিক থেকে গুড স্ট্র্যাটেজি হয়েছে। অপরদিকে বিএনপিকে মাইনাস করতে চাওয়াটা ‘মাস্টারমাইন্ড’ মাহফুজ আলমদের রাজনৈতিক লক্ষ্যের দিক থেকে সঠিক হয়েছে। মাইনাস বিএনপি জামায়াতের জন্য একটা ফাঁদ। ছাত্রশক্তির পাতা এই ফাঁদে পা দেয়াটা জামায়াত এবং সমমনা দলগুলোর দিক থেকে ভুল হয়েছে। দেখো, রাজনীতি বোঝার জন্য আমাদেরকে বুঝতে হবে গেইম থিউরি। এখানে যার যার কৌশল ও যোগ্যতাই শেষ কথা।
মোঃ আরাফাত হোসেন: ফখরুদ্দিনের নির্বাচন কি ভুল পথে ছিলো হুজুর?
Mohammad Mozammel Hoque: যে নির্বাচনে কাউকে ক্ষমতায় আনানো হয়, সেটা নামকাওয়াস্ত নির্বাচন। যে নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয় না, সেইটা নিরপেক্ষ নির্বাচন। বাংলাদেশে সবচেয়ে ভাল নির্বাচনটা ছিল জাস্টিস সাহাবুদ্দীনের সময়ে। এখন সে ধরনের নির্বাচন হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কোনো কিংস পার্টিকে জেতানোর নির্বাচন হতে পারে। নাও হতে পারে।
