দেশের লাভ:
১. প্রায় দুই দশক পরে দেশের রাজনীতি গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসা।
২. ড.ইউনুসের মতো মহীরূহের পরে বিএনপি’র মতো বড়, অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য দলের স্থিতিশীল সরকার গঠন।
৩. জামায়াতের মত ফার-রাইট পলিটিক্স করা দল সেন্টার-রাইট পলিটিক্সে শিফটেড হওয়া। এতে করে লোকজন আদর্শবাদী জামায়াত এবং ক্ষমতাপন্থী বিএনপি’র মাঝামাঝি একটা মডারেইটলি কনজার্ভেটিভ দল পেলো।
৪. জুলাই সনদ পাস হওয়া, এবং অন্যতম বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির প্রতিশ্রুতিশীল অগ্রযাত্রা।
দেশের ক্ষতি: শূন্য
বিএনপি’র লাভ:
১. উত্তরাধিকারের রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের অবস্থান পাকাপোক্ত হওয়া, এবং এর মাধ্যমে সামন্তবাদী মনমানসিকতার এই দেশে সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় দল হিসেবে রাজকীয় অভিষেক ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতা লাভ করা।
২. রাষ্ট্র ও সরকারের সুযোগসুবিধাদি বিলিবণ্টনের মাধ্যমে দলীয় লোকদেরকে তাদের দীর্ঘ ত্যাগ-তিতীক্ষার ‘উপযুক্ত পুরস্কার ও ক্ষতিপূরণ’ দেয়ার প্রত্যাশিত সুযোগ লাভ করা।
৩. সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ লাভ করা।
বিএনপি’র ক্ষতি:
১. আওয়ামী লীগের মতো চোরের দল, জাতীয় পার্টির মতো আঞ্চলিক দল, ও কমিউনিস্টদের মতো আস্থাভাজন পাপেটদের পরিবর্তে জামায়াত ও এনসিপি’র মতো শক্ত ও প্রতিশ্রুতিশীল দলকে বিরোধী দল হিসেবে পাওয়া।
২. অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে নানা ধরনের ‘কৃতকর্মের’ কারণে নিজস্ব ভোটব্যাংক হতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারের সমর্থন হারানো। সাপোর্ট বেইসের এই ক্ষতি আওয়ামী ভোটে আপাতত পূরণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি বিএনপি’র মধ্য-ডান রাজনৈতিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
৩. সকল ধরনের কায়দাকানুন করেও জুলাই সনদ নামক ‘গলার কাঁটা’ হতে শেষপর্যন্ত মুক্ত হতে না পারা।
৪. মাত্রাতিরিক্ত সন্ত্রাস, দুর্নীতি, আওয়ামী পুনর্বাসন আর ভারতপ্রীতির কারণে সম্ভাব্য পরবর্তী গণঅভ্যূত্থান মোকাবেলার ঝুঁকি তৈরি হওয়া।
জামায়াতের লাভ:
১. জুলাই গণঅভ্যূত্থান ও জুলাই সনদের পক্ষশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পুরস্কার হিসেবে ‘মৌলবাদী ও স্বাধীনতাবিরোধী’র তকমা হতে অনেকখানি নিষ্কৃতি লাভ।
২. ইসলামী শক্তিসমূহের এবং মডারেট-মাইন্ডেড ইসলামিক লোকজনের একক পলিটিক্যাল লিডার হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন।
৩. পাওয়ার পলিটিক্সের ময়দানে নিজেদেরকে নেক্সট পার্টি-ইন-পাওয়ার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ লাভ করা।
জামায়াতের ক্ষতি:
১. ইন্টেরিমের আমলে ‘ভাগে পাওয়া’ প্রশাসনিক পদ-পদবীর জায়গাগুলো বিএনপিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হওয়া।
২. ‘ইসলামী আন্দোলন’ ও ‘সংগঠন’ ধারণার পরিবর্তে সত্যিকার অর্থেই ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল তথা ‘পার্টি’তে পরিণত হওয়া। এবং এ’কারণে ‘ইসলাম কায়েম’ কিংবা ‘ইসলামি বিপ্লবে’র স্বপ্ন দেখিয়ে লোক রিক্রুট করার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়া।
৩. দলের ভেতরে ও বাইরে ক্ষমতাপন্থী রাজনীতির যত ‘নোংরামি’ তার সব অঙ্গ ও অনুষঙ্গকে অনস্বীকার্য বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হওয়া। Today or tomorrow, more or less.
আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট ঘরানার রাজনৈতিক দলসমূহ ও ইসলামিক ঘরানার ছোট রাজনৈতিক দলসমূহের লাভ-ক্ষতি:
১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট ঘরানার রাজনৈতিক দলসমূহ ও ইসলামিক ঘরানার ছোটখাট রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হয় নাই।
নিকট অতীতের জামায়াতের মতো এরা হবে এখনকার এবং ভবিষ্যতের পলিটিক্যাল ভিলেন। সফট-টার্গেট। নিজেদের রাজনীতি টিকিয়ে রাখার জন্যে এদের কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত আদর্শপন্থী রাজনীতির পথে হাটবে। অনেকে বিএনপিতে বিলীন হবে দ্রুত। আওয়ামী-বামের সমন্বয়ে ‘বামলীগ’ টাইপের কিছু একটা হবে, হয়তোবা।
সেন্টার-রাইট পলিটিক্স, উইথ ডিফারেন্ট শেইডস, দীর্ঘদিন, অন্তত আরো দুই দশক বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডমিন্যান্ট থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Mohammad Mozammel Hoque: গতকাল আমি যখন ভোটকেন্দ্রে গেছি তখন বিকেল সাড়ে তিনটা। বিএনপির লোকজন ছাড়া ভোটকেন্দ্রের সামনে তেমন কেউ ছিল না। তাদের সামনে আমি গত ২০১৮ সালের ইলেকশনের একটা স্মৃতিচারণ করেছি, যা গতকাল আমার টাইমলাইনে শেয়ার করেছি। তাদের সাথে ছবি তুলেছি কেন্দ্রের সামনে উপস্থিত জনতা হিসেবে, বিএনপি হিসেবে না। কেউ যাতে ভুল না বুঝেন সে জন্যে এই ক্ল্যারিফিকেশন।
Md. Rabiul Molla: আ’লীগ শেষ হওয়ার পরে বাংলাদেশের রাজনীতি কোন কেন্দ্রীক হতে পারে? দ্বিতীয় দল কে হবে জামায়াত নাকি এনসিপি? এনসিপি হলে জামায়াত কি আরো সংকুচিত হবে আস্তে আস্তে?
Mohammad Mozammel Hoque: এখন বিএনপি ১ নম্বর, জামায়াত দুইনম্বর, এনসিপি তিন নম্বর। এর পরে হবে জামায়াত এক নম্বর, বিএনপি ২ নম্বর, এনসিপির তিন নম্বর। এর পরে হবে এনসিপি ১ নাম্বার, জামায়াত কিংবা বিএনপি ২ নাম্বার। অবশিষ্ট দল হবে তিন নাম্বার। ইতিমধ্যে ‘বামলীগ’ গঠিত হবে, এবং তারা এই তিন দলের অপ্রত্যাশিত ব্যর্থতায় আশাতীতভাবে ভালো করতে পারে। ইট ডিপেন্ডস অন …!
Md. Rabiul Molla: জামায়াত ১ নাম্বার হওয়া হয়তো সম্ভব না। ৭৫% শিওর বলা যায়। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তে থাকবে সবসময়। আর স্যার বামলীগ হলেও তা বেশিদিন রান করবে বলে মনে হয় না। ক্রমে ক্রমে বাংলাদেশের রাজনীতি মধ্য -ডান থেকে পূর্ণ ডানে শিফট হচ্ছে মনে হয়। এটা আমার মতামত।
Mohammad Mozammel Hoque: ডানশক্তি ডমিনেইট করবে। কিন্তু প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য একটা খলনায়ক বামধারা বা শক্তি থাকতে হবে। কোনো না কোনোভাবে সেই স্টেইক গড়ে উঠবে। কেননা, ‘প্রকৃতি’ শূন্যতা পছন্দ করে না।
Nipun Chowdhury: ভাই বলি বা স্যার বলি, আপনার লেখার আমি একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ও লার্নার। আপনি অনেক ডিপ থেকে বলেন। ধন্যবাদ আপনার একটা বিশ্লেষণের জন্য।
জামায়াতের একজন জনশক্তি হিসেবে, আমার দুটি সম্ভাব্য সমাধান বা করনীয় আপনার কাছ থেকে জানতে চাচ্ছি। জামায়াতের ২ ও ৩ নম্বর ক্ষতি বা তৈরি হওয়া এই বাস্তবতায় জামায়াতের করণীয় কি? যেটা দ্বীন কায়েমের কাজকে কন্টিনিউ করবে ও সম্ভাব্য থ্রেটকে মিনিমাইজ করবে। প্লিজ লিখবেন।
Mohammad Mozammel Hoque: করণীয় ছিল ‘কামরুজ্জামান ফর্মুলা’। সেটা ‘ছিল’ বললাম এজন্যই যে এখন আর সেদিকে ফেরার পথ নেই জামায়াতের। জামায়াতের মুসলিম লীগ হয়ে ওঠাটা ছিল অপ্রত্যাশিত, কিন্তু অনিবার্য। যে পথে জামায়াত ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হয়েছে সেই পথে ‘ইসলামী আন্দোলন’ হিসেবে টিকে থাকা ছিল অসম্ভব।
খুব সংক্ষেপে এর মূল কারণ হলো, রাজনীতির মত জরুরী কাজকে দাওয়াতের মধ্য দীর্ঘমেয়াদী, এবং প্রশিক্ষণ ও সমাজসেবার মতো মধ্যমেয়াদি কাজকে একসাথে করা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জরুরী কাজ সব সময় প্রাধান্য পাবে। ক্রমান্বয়ে সংগঠনটি সেই জরুরী কাজনির্ভর বা কেন্দ্রিক হয়ে পড়বে, অংকের নিয়ম এ’টাই বলে। গার্ডেন ফর্মুলা কিংবা ক্লাস্টার ফর্ম অফ organization হচ্ছে এর একমাত্র তাত্ত্বিক সমাধান।
Sayeedur Rahman: ইন্ডিয়া কি বিএনপির উপর আস্থা রাখবে নাকি বিএনপিকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ফেরাতে চাইবে?
Mohammad Mozammel Hoque: of course, the second one. no doubt. But BNP may overplay India. Let’s wait and see.
Saifur Alif: আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত নিয়ে আরও বলেন।
Mohammad Mozammel Hoque: আওয়ামী লীগ হারিয়ে যাবে। তবে আওয়ামী লীগের শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য নতুন রাজনৈতিক দল এবং ধারা তৈরি হবে। এর মধ্যে কিছু প্রাক্তন আওয়ামী লীগার থাকবে, কিছু বাম দিকে আসবে, কিছু ডান থেকে যাবে।
Masum Af: Please, make a column on that how Awami league could back or not if there yes vote survive in national referendum. My question is if Muslim league is eradicated from politics, why not league?
Mohammad Mozammel Hoque: রাজনীতিতে দল অনেক সময় হারিয়ে যায় কিন্তু ধারা থেকে যায়। যেমন করে মুসলিম লীগের জায়গায় এসেছিল বিএনপি। তেমনি করে আওয়ামী লীগের জায়গায় হয়তো অন্য কেউ আসবে। আওয়ামীলীগ নাই হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো য়েন্ড অফ শেখ ডাইনেস্টি। শেখ ডাইনেস্টি যেহেতু আর ফিরবে না, তাই আওয়ামী লীগও আর থাকবে না। সমীকরণটা বেশ সরল, এবং আমার ধারণায় সঠিক।
Mma Secario: সবকিছুই মানলাম তবে লীগ প্রাসঙ্গিক এবং অস্তিত্বে থাকবে বলে আমার ধারণা।
Mohammad Mozammel Hoque: থাকবে, বিএনপি’র পাপেট তথা বি-টিম হিসেবে। বিএনপি’র এই আওয়ামীকরণ, বিএনপির রাজনীতিতে একটা প্যারাডক্স হয়েই থাকবে।
Mma Secario: কিন্তু সমস্যা হলো লীগ প্রাসঙ্গিক হলে বিএনপিকেই খেয়ে ফেলবে, খাল কেটে কুমির আনার মতো হবে।
Mohammad Mozammel Hoque: মনে হয় জামায়াত-এনসিপি’র চেয়ে আওয়ামী লীগ হলো বিএনপির কাছে বেটার এন্ড নেগোশিয়েবল অপনেন্ট। যতক্ষণ না আওয়ামী লীগ তাদের উপরে চড়াও হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের, মানে বিএনপির কাছে আওয়ামী লীগ ‘নিরাপদ শত্রু’ হিসেবে কদর পাবে।
Abdur Rahman Tawfir: জুলাই সনদ পাশ হচ্ছে না। সব বিএনপির লাভ।
Mohammad Mozammel Hoque: জুলাই সনদকে অবমূল্যায়ন করা, অবহেলা করা, জুলাইকেই অবহেলা করার শামিল। এটা জুলাইয়ে যারা নানাভাবে সম্পৃক্ত হয়েছে, তারা ভালোভাবে নিবে না মোটেও। বর্তমান প্রজন্মের বলা যায় বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরা জুলাইয়ের সেন্টিমেন্টকে ধারণ করে এবং সেটাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।
Śhì Hâb: এইসব বিশ্লেষণে লাভ কার? আর উদ্দেশ্য বা কি?
Mohammad Mozammel Hoque: আল্লাহতায়ালা মুমিনদের সম্পর্কে বলেছেন, তারা পরস্পরকে সত্য এবং ন্যায়ের ব্যাপারে পরামর্শ দেয়। হক কথা বলে।
Yousuf Bin Sultan: লেখাটা কি জামায়াত ট্যাগ পাওয়া থেকে বাঁচার জন্য লিখলেন? নাকি বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠে কিছু উপরের পদের প্রত্যাশায়? না হলে আমলাদের বিশাল ইলেকশন ইন্জিনিয়ারিং ব্যাপারটা সযতনে এড়িয়ে গেলেন কেন?
Mohammad Mozammel Hoque: আমলারা, আরো যারা বিএনপিমুখী হয়েছে, এটি বিএনপির ক্রেডিট নয় কি? please answer according to game theory. I don’t like blame game and conspiracy theory. Please be precise.
